ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাসিক বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে দেন প্রধানমন্ত্রী


মাসিক বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে দেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বন্ধের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারের পরিবর্তে রাষ্ট্রের কাজ ও জনস্বার্থ রক্ষার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছে সরকার। সরকারের প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে এমনটি বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার ১০ শতাংশ অর্থাৎ, প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে যাচ্ছেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগে বিএনপি ৩১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে। জনগণের সমর্থন নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে।

এ উপলক্ষে সরকারের প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ ছিল আমদানিনির্ভর ও ঋণনির্ভর অর্থনীতি, ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং দুর্বল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্যে। সরকার প্রথম দিন থেকেই পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে। তবে প্রথম ১৮০ দিনে প্রতিটি খাতে শতভাগ সাফল্যের দাবি করেনি সরকার।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের শতভাগ আন্তরিকতা ছিল বলে ই-বুকে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, education ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ন্যায়, জবাবদিহি, মানবিক মূল্যবোধ ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিতে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের কাজ চলছে। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে ধৈর্য ও সহনশীলতার রাজনীতির কথা বলা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার বন্ধ, সরকারি অফিস, আদালত, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রয়োজনে নেতার ছবি টাঙানোর সংস্কৃতি বন্ধ, প্রধানমন্ত্রীর চলাচলে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং গাড়িবহরে প্রটোকলের বাড়াবাড়ি না রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দিচ্ছেন এবং দলীয় এমপিদের বাড়ি-গাড়ির সুবিধা নিতে নিষেধ করেছেন।

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বন্ধের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারের পরিবর্তে রাষ্ট্রের কাজ ও জনস্বার্থকে সামনে আনার দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সরকারি ব্যয় সংকোচন, প্রটোকল সরলীকরণ, ব্যক্তিবন্দনার অবসান এবং জনমুখী উদ্যোগের সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন ধরনের চর্চার কথা বলা হয়েছে।

সংসদীয় ও সরকারি ব্যয় কমাতে ভোজ, আপ্যায়ন, বিদেশ সফরের প্রতিনিধিদলসহ অপ্রয়োজনীয় খাতে কাটছাঁট করা হয়েছে। দেশীয় পণ্য ব্যবহারে অগ্রাধিকার, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সরল জীবনযাপন এবং প্রশাসনে অপচয় রোধে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি নিরুৎসাহিত করার কথাও বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

প্রবাসী কর্মীদের শ্রমিক ঋণ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ঋণ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতা, কৃষিঋণ মওকুফ, ‘ওয়ান স্টপ ওয়ান সার্ভিস’, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, খুদে বৈজ্ঞানিক প্রকল্প এবং ‘নজরুলবর্ষ’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এর ১০ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা তিনি সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন বলেও ই-বুকে উল্লেখ করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি সংকট দূর করার জন্য তিনটি পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানালেন সেতুমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৫ পি.এম


জ্বালানি সংকট দূর করার জন্য তিনটি পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানালেন সেতুমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বিগত সরকার ১৭ বছর ধরে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছিল। এই সংকটের একটি নেতিবাচক প্রভাব এখন দৃশ্যমান। বর্তমান সরকার এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। এর জন্য স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এই সমস্যার সমাধান হবে। তবে এটি রাতারাতি হবে না, এটি কিছু সময়সাপেক্ষ বিষয় হবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও জানান, মোংলা বন্দরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দরটিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার জন্য যথাযথ কাজ চলমান রয়েছে। মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে শুধু বাগেরহাট বা খুলনা অঞ্চল নয়, এর সুফল পুরো দেশই পাবে।

তিনি বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করার সুযোগ বর্তমানে রয়েছে। সেজন্য বন্দরের সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ওপর কঠোরভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় বাগেরহাটের বিভিন্ন উন্নয়ন ও যোগাযোগ অবকাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এছাড়া জেলার সড়ক যোগাযোগ, রেলপথ ও নৌপথের উন্নয়ন ঘটানোর মাধ্যমে বাগেরহাটকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার ওপর নজর দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, মন্ত্রী বাগেরহাটের গুরুত্বপূর্ণ দশানি–রামপাল–মোংলা সড়কের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন প্রত্যাশা ছিল। সড়কটির উন্নয়ন হলে রামপাল ও মোংলাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরে, তিনি সরকারি পি.সি. কলেজে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগ দেন। বাগেরহাট প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ আবু সাঈদ শুনু, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটনসহ সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠনে সহায়তার আশ্বাস এডিবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


বাংলাদেশে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠনে সহায়তার আশ্বাস এডিবির

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে পূরণে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেছে।

সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়িংমিং ইয়াং বলেন, এডিবি উৎপাদনশীল, বিনিয়োগনির্ভর ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে যাতে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং সবার জীবনমানের উন্নতি ঘটে।

গণমাধ্যমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়াবিষয়ক এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়িংমিং ইয়াং জানান, বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সহায়তা করাই এডিবির উদ্দেশ্য।

গত ৯ থেকে ১৩ আগস্ট বাংলাদেশের সফরকালীন সময়ে তিনি এডিবির পরবর্তী কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি (সিপিএস), গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও বিনিয়োগ অগ্রাধিকারের বিষয়ে নীতিগত আলোচনা এবং সমন্বিত প্রবৃদ্ধি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ইয়াং বলেন, শক্তিশালী প্রবাসী আয়, সেবাখাতের ধারাবাহিক কার্যক্রম এবং গতিশীল বেসরকারি খাতের কারণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা বা সহনশীলতা প্রদর্শন করেছে। এখন এই সক্ষমতাকে আরও গভীর অর্থনৈতিক রূপান্তরে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন, সামষ্টিক অর্থনীতির পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়া, মূল্যস্ফীতি কমে আসা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ার ফলে প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে বাড়বে। এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে।

তবে, গতি ধরে রাখতে কাঠামোগত সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন ইয়িংমিং ইয়াং। তিনি বলেন, কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, ব্যাংক খাতের সুশাসন উন্নত করা, খেলাপি ঋণ মোকাবিলা, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার মতো সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো ইতিবাচক।

এডিবির এই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, উন্নত বিনিয়োগ পরিবেশ, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানির সম্প্রসারণ, সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, নারী ও তরুণদের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথ তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং বাজারকে বিনিয়োগবান্ধব করে তোলা। এতে বেসরকারি মূলধন উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশের মানুষের জন্য এর অর্থ হবে আরও ভালো কর্মসংস্থান, প্রতিযোগিতামূলক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, উন্নত সেবা এবং প্রচলিত প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রের বাইরে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের জন্য এসব সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইয়িংমিং ইয়াং বলেন, বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা এবং উন্নয়নের লক্ষ্য অনুযায়ী এডিবির অংশীদারিত্বও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে।

তিনি জানান, নতুন কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে এডিবির লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে উন্নত, বহুমুখী, প্রতিযোগিতামূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করা। বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের ধাক্কা মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব বাংলাদেশ অর্থনীতিকে সহনশীলতা থেকে প্রকৃত রূপান্তরের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

ইয়িংমিং ইয়াং বলেন, আইজিএনডি উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহ ব্যয় কমানো, বড় শহরের বাইরে অর্থনৈতিক সুযোগ বিস্তৃত করা এবং ব্যবসা ও শ্রমবাজারকে বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে আরও প্রতিযোগিতামূলক, বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা উচ্চমানের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির সুফল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও জনগণের মধ্যে আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়াও সম্ভব হবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ ও দ্রুত বর্ধনশীল বাজারের মধ্যবর্তী অবস্থানে বাংলাদেশ বিশেষ কৌশলগত সুবিধা ভোগ করছে।

গত মে মাসে বাংলাদেশ সফরের সময় এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বাংলাদেশকে আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি ও ডিজিটাল সংযোগে বিশাল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

ইয়িংমিং ইয়াং বলেন, কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, আঞ্চলিক মূল্যশৃঙ্খলে যুক্ত হওয়া এবং প্রতিবেশী অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অপশন পাবে। এটিও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহনশীলতা থেকে রূপান্তরের পথে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

তবে এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। তিনি মন্তব্য করেন, সড়ক, রেলপথ, সমুদ্রবন্দর, সীমান্ত অবকাঠামো এবং জ্বালানি সংযোগ তখনই পূর্ণ সুফল দেবে, যখন সেগুলোর সঙ্গে দক্ষ শুল্কব্যবস্থা, সমন্বিত মানদণ্ড, পূর্বানুমানযোগ্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং নির্বিঘ্ন সরবরাহব্যবস্থা যুক্ত হবে। এক্ষেত্রে ভৌত অবকাঠামো এবং নীতিগত সমন্বয়কে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি জানান, আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।

এডিবির ২০ বিলিয়ন ডলারের এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল হাইওয়ে উদ্যোগ সম্প্রতি চালু হওয়া প্রেক্ষিতে ইয়িংমিং ইয়াং উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য ডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য ব্রডব্যান্ড সুবিধার সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল হাইওয়ে উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষক, উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক, তরুণ কর্মী এবং নারী উদ্যোক্তাদের চাহিদা আরও কার্যকরভাবে পূরণ করতে পারবে। এ ছাড়া আইজিএনডি ও দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) উদ্যোগও এসব লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।

তবে তিনি মনে করেন, আঞ্চলিক সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ কোনোভাবেই অভ্যন্তরীণ সংস্কারের বিকল্প হতে পারে না। বরং এটি সংস্কারকে আরও কার্যকর করে তোলে। দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সুযোগগুলো আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংযোগ বাড়লে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও সংস্কারের জন্য আরও শক্তিশালী প্রণোদনা তৈরি হবে।

ইয়িংমিং ইয়াঙ বলেন, এসব উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও সংযুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক এবং সুযোগসমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে বেসরকারি খাতের নেতৃত্বাধীন প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগই দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গোপসাগরে ডুবল একটি ট্রলার, ১০ জেলে নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


বঙ্গোপসাগরে ডুবল একটি ট্রলার, ১০ জেলে নিখোঁজ

মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়া এবং উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ১০ জন জেলেসহ একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। দুর্ঘটনার পর সাত জেলেকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ ছিলেন আরও তিনজন। পরবর্তীতে তাদেরও জীবিত উদ্ধার করা হয়।

এই দুর্ঘটনা সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গোপসাগরের হাইরের কাছাকাছি এলাকায় ঘটে।

ট্রলারটির মালিক সোহেল মীর, যিনি চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ট্রলারটি তিন দিন আগে রাঙ্গাবালীর কোড়ালিয়া এলাকা থেকে ১০ জন জেলেকে নিয়ে মাছ ধরতে বের হয়েছিল। তবে সোমবারের খারাপ আবহাওয়ার কারণে তারা ঘাটের দিকে ফিরছিলেন। এই সময় হাইরের মাঝামাঝি এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারের তলা ফেটে যায়। এক পর্যায়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

ডুবির সময় কাছাকাছি থাকা অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা দ্রুত সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে নিখোঁজ তিন জেলের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি চালানো হয়, এবং এক পর্যায়ে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা তাদেরও জীবিত উদ্ধার করেন।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন- মেহদি (২২), রিয়ান (২০), মাসুম মীর (২৫), ফরিদ (২৫), মো. মোস্তফা (৪৫), মো. মজনু (৩৮), মো. সাকিল (৩৫), আব্দুর খাঁ (৪৫), মো. সোহেল (৩৫) এবং মো. মনির (৩৬)।

দুর্ঘটনার শিকার মাছ ধরার ট্রলারটি অন্য ট্রলারের সাহায্যে ঘাটে আনার চেষ্টা চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত, যা জানা গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৮ পি.এম


পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত, যা জানা গেছে

আসন্ন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গঠিত সচিব পর্যায়ের কমিটি তাদের প্রস্তুতকৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছে। ইতোমধ্যে কমিটির সকল সদস্য প্রতিবেদনে স্বাক্ষরও করেছেন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট), সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক একটি ই-বুক প্রকাশ করেছে। এ ই-বুকে ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষ উপশিরোনামে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশিত এই ই-বুকের মাধ্যমে জানা গেছে, আসন্ন নবম পে-স্কেলে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে, নতুন এ পে-স্কেল বাস্তবায়ন দুই ধাপে হবে। এর প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করা হতে পারে। সচিব কমিটির সব সদস্য তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

বইয়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন–ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, এবং পেনশন গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন তৈরি করে। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। কমিশন প্রধান ছিলেন সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান। কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বজায় রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। এবং সর্বোচ্চ বেতন কাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল।

পরে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এর আগে, ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দেন। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%