শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০৪ পি.এম
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, যখন বাংলা নববর্ষ ভাতায় পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। নতুন বেতন কাঠামোর অধীনে বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা গ্রহণ করেন। নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হলে, প্রস্তাব অনুযায়ী, এ হার ১৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এর মানে হচ্ছে, বৈশাখী ভাতার হার বর্তমানের তুলনায় ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমতে পারে।
তবে নতুন পে স্কেলে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির প্রস্তাবও রয়েছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বজায় রেখে, গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে, ভাতার হার কমলেও মূল বেতন বৃদ্ধির কারণে বৈশাখী ভাতা হিসেবে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ অনেকের জন্য বর্তমানের তুলনায় বেশি হতে পারে।
নতুন বেতন কাঠামোয় বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, মোবাইল, যাতায়াত ও টিফিন ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধাতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি, পাহাড়ি ভাতা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চরভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এসব ভাতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের বিষয়টি রয়েছে।
এছাড়া, ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণও বিদ্যমান হারের তুলনায় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে মূল বেতন একসঙ্গে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যান্য ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর গেজেট এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে, বৈশাখী ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার চূড়ান্ত হার গেজেট এবং পরবর্তী বাস্তবায়ন নির্দেশনা প্রকাশের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কানাডাকে ‘সহযোগী সদস্য’ হিসেবে গ্রহণের উদ্যোগের পর, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা এই দুই গণতান্ত্রিক দেশকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন তার বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে কানাডাকে ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দেন। মেটসোলা সংবাদমাধ্যম ইউরোপ টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে বিশ্বস্ত বন্ধু থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ইতোমধ্যে বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে এবং আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, খনিজ সম্পদসহ নানা বিষয়ে অংশীদারত্ব বাড়াচ্ছি।”
প্রস্তাবিত এই ‘সহযোগী সদস্যপদ’ পূর্ণ সদস্যপদের সমতুল্য নয়। এসব দেশ ইইউর একক বাজারের কিছু অংশে প্রবেশাধিকার, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বিভিন্ন কৌশলগত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই ব্লকে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে জানান, তারা প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় ইউরোপের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
তবে, উরসুলা ভন ডার লিয়েনের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চরম বিরোধিতা করে এটিকে ‘হাস্যকর’ ও বৈরী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন। উত্তর ক্যারোলাইনায় সাংবাদিকদের তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, যদি এটিকে বৈরী উদ্যোগ মনে করা হয়, তাহলে ইউরোপ থেকে আসা পণ্যের ওপর আরও বড় আকারের শুল্ক আরোপ করা হবে।
জবাবে ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র ওলফ গিল জানান, এই বর্ধিত অংশীদারত্ব কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং নিজেদের সম্মিলিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের বাণিজ্য চাপ ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করতেই মূলত ইইউ-কানাডা-অস্ট্রেলিয়া জোটবদ্ধ হতে চাইছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাধবপুরের হবিগঞ্জে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মহসিনুর রহমান মুর্শেদের আবাসে একটি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা ভেন্টিলেটর ভেঙে প্রবেশ করে এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আইপিএস, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়।
এই চুরির ঘটনা ঘটে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে, উপজেলার বহরা ইউনিয়নের উত্তর শিক গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মহসিনুর রহমান মুর্শেদ তার পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করেন। তার ছোট ভাই মিশু পোল্যান্ডের নাগরিক। এই কারণে বাড়িটি বেশিরভাগ সময় ফাঁকা থাকে। স্থানীয়দের ধারণা, এই সুযোগ নিয়ে চোরেরা পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে চুরি করেছে।
চোরেরা ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে প্রবেশ করার পর বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে। এরপর তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আইপিএস, টেলিভিশনসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়।
চুরির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। স্থানীয় পুলিশ মাধবপুর থানার পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তবে, তাৎক্ষণিকভাবে চুরি হওয়া মালামালের তালিকা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা জানিয়েছেন, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) চীনের দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করেছে। সফরের অংশ হিসেবে তারা মাওলানা ভাসানীর মাজার এবং ভাসানী জাদুঘরে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ট্রাক্টরটি পরিদর্শন করেন, যা মাও সেতুংয়ের উপহার। তারা মাভাবিপ্রবির সাথে শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পৌঁছানোর পর, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম চীনের দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শাওফেং ও থার্ড সেক্রেটারি শিয়া ডাওজিং-কে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রতিনিধি দলটি মাওলানা ভাসানীর মাজার, মাওলানা ভাসানী রিসার্চ সেন্টার, ভাসানী জাদুঘর এবং সেখানে সংরক্ষিত মাও সেতুংয়ের উপহার দেওয়া ট্রাক্টর পরিদর্শন করেন। তারা ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স এবং মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ক্লাসরুম, গবেষণাগার, সেমিনার লাইব্রেরি, গ্যালারি রুম ও অতিথি ডরমিটরিও ঘুরে দেখেন।
কালচারাল কাউন্সিলর লি শাওফেং মন্তব্য করেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। মাওলানা ভাসানীর সঙ্গে চীনা জনগণের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মাভাবিপ্রবির সঙ্গে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও জোরদার করা সম্ভব। চীনা ভাষা কোর্স চালু, শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা এবং মাওলানা ভাসানী গবেষণা কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করার বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।’
লি শাওফেং জানান, তিনি এই বিষয়ে কিছু প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন, যা তিনি চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা করবেন। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং আধুনিক গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের স্থপতি ও তৎকালীন চেয়ারম্যান মাও সে-তুং ১৯৬৬ সালে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর চীন সফরকালে তাকে একটি ঐতিহাসিক ট্রাক্টর উপহার দিয়েছিলেন। এই ট্রাক্টরটি ১৯৬৭ সালে সমবায়ভিত্তিক কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। মাও সে-তুং-এর দেওয়া এই বিশেষ ট্রাক্টরটি তৎকালীন সময়ে আধুনিক কৃষির এক অনন্য প্রতীক ছিল, যা দিয়ে একসাথে প্রায় ৫০ একর জমি চাষ করা যেত এবং মওলানা ভাসানী নিজে এটি চালিয়ে স্থানীয় কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে উৎসাহিত করতেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও দুই শিশু প্রাণ হারিয়েছে। মৃতের সংখ্যা এখন ৯৪৮ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া, নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে একটি বার্তায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বার্তায় জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি, তবে সন্দেহজনক হামে দুজন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৮ জনে।
এছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৫২ জনের। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ২৪৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে। সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ৪২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সিলেটে ১৬৫, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭৪, বরিশালে ৫৯, খুলনায় ৪০ ও রংপুরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ