০৬:৪৩ পি.এম
গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট, হাসপাতালগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং রোগী সরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে হাজারের বেশি মানুষের জীবন। এর মধ্যে নতুন করে হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের অভিযানের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল পুরো গাজার স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে। উত্তর গাজার অধিকাংশ হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় আল-মাওয়াসি সহ হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসার চাপ সামলাতে হচ্ছে এই হাসপাতালে। তবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সীমিত সহায়তার মধ্যেও প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত যন্ত্রপাতির তীব্র সংকটের কারণে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
গাজায় বর্তমানে মাত্র একটি বিশেষায়িত কার্ডিয়াক মেশিন সচল রয়েছে, যার কারণে হৃদরোগীদের চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
চিকিৎসা সংকট আরও গভীর করেছে চলমান সামরিক অভিযান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবী, ইসরাইলি বাহিনী দুই দফা নাসের হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে। হাসপাতালে আটকে পড়া অনেক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে গণকবর দেয়ার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল মরদেহগুলো উদ্ধার করলেও, অনেক পরিবার তাদের স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এছাড়াও, অ্যাম্বুলেন্সে গুলিবর্ষণ, আগুন ও যন্ত্রাংশ ধ্বংসের কারণে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতার ফলে প্রায় ২১ হাজার মানুষকে চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে নিতে হবে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জরুরি চিকিৎসার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৫শ’রও কম মানুষ গাজা ছাড়তে সক্ষম হয়েছে, যা প্রতিশ্রুতির মাত্র ৩৬ শতাংশ।
জরুরি চিকিৎসার অনুমোদন পাওয়া হাজারো রোগী এখনও গাজায় অবরুদ্ধ আছেন, যাদের অনেকের সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
মঙ্গলবার (৩০ জুন) গাজায় একটি ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খান ইউনিসে একটি তাঁবুতে হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
একই সময়ে, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এল-বিরেহ শহরে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোর নিহত হয়েছে। নাবলুসের দক্ষিণে বেইতা শহরে এক ফিলিস্তিনি নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করেছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। একই সঙ্গে নতুন বসতি স্থাপনের উদ্যোগ, হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে নতুন পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন এলাকায় সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাগুলো ঘটছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন