ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাদারীপুরে পদ্মার চরে স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা দুর্ভোগ


মাদারীপুরে পদ্মার চরে স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা দুর্ভোগ

পদ্মার বুকে জেগে ওঠা মাদারীপুরের শিবচরের চরজানাজাত ইউনিয়নে বর্তমানে কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা নেই। স্থায়ী হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক কিংবা চিকিৎসক না থাকায় প্রায় দুই হাজার দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দা চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে নদীপথে দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বিশেষ করে প্রসূতি, শিশু ও বৃদ্ধরা প্রতিনিয়ত জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চরজানাজাত ইউনিয়নের দুটি দুর্গম চরে নদীপথই একমাত্র যোগাযোগব্যবস্থা। সাধারণ জ্বর, সর্দি বা ডায়রিয়ার মতো রোগের চিকিৎসার জন্যও সেখানে কোনো সরকারি বা বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঝাড়ফুঁক বা অনভিজ্ঞ গ্রাম্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরজানাজাত ইউনিয়নের ভূমিহীন এলাকায় ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ভূখণ্ড পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। পরে ২০২১ সালে নতুন চর জেগে ওঠে এবং ২০২২ সাল থেকে সেখানে আবার বসতি গড়ে ওঠে। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাস হলেও স্বাস্থ্যসেবার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

চর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে নদীপথে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। বৈরী আবহাওয়া, তীব্র স্রোত এবং পর্যাপ্ত নৌযানের অভাবে অনেক সময় জরুরি রোগী পরিবহন করাও সম্ভব হয় না।

চরের বাসিন্দা জুলেখা বেগম জানান, ‘গত মাসে আমার প্রসববেদনা উঠলেও রাতে কোনো নৌকা পাওয়া যায়নি। ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করে নদী পার হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। মাঝরাতে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটত, তাহলে হয়তো আমি বা আমার সন্তান কেউই বাঁচতাম না। সরকার যেন দ্রুত একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে।’

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোতালেব বেপারী বলেন, ‘সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে আমরা সম্পূর্ণ বঞ্চিত। গুরুতর রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া যায় না। দ্রুত কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালুর ব্যবস্থা করা জরুরি।’

এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মতিউর রহমান জানান, ‘উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জনবল সংকটের কারণে দুর্গম চরাঞ্চলে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বর্তমানে উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার সপ্তাহে দুই দিন সেবা দিচ্ছেন। এছাড়া নতুন চরে মাসে অন্তত একদিন চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

তিনি আরও জানান, প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ মাতৃত্ব বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি স্থায়ী কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ৩০ শতাংশ জমি ইউএনও কমিটির মাধ্যমে পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশ আমাকে নিয়ে যাওয়ার সময় ফিসফিস করে বলছিল, এই সরকারকে হটান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৪ পি.এম


পুলিশ আমাকে নিয়ে যাওয়ার সময় ফিসফিস করে বলছিল, এই সরকারকে হটান

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের বাইরে কংগ্রেসের আকস্মিক বিক্ষোভ চলাকালীন যখন পুলিশ রাহুল গান্ধীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন বিরোধী দলনেতা একটি অপ্রত্যাশিত বার্তা তিনি পুলিশের কাছ থেকে পেয়েছেন বলে দাবি করেন। রাহুল জানান, আটকের সময় পুলিশ কর্মীরা তার কানে ফিসফিস করে বলেছিলেন, ‘এই সরকারকে হটান’।

বুধবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় ঘটে চলা ‘কারচুপি’ সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল এই ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। গত মঙ্গলবার, প্রধানমন্ত্রী মোদির ৭ নম্বর লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনের বাইরে নজিরবিহীন একটি দৃশ্য সৃষ্টি হয়। সেই সময়ে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেসের প্রবীণ নেতারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন, যা নিরাপত্তাকর্মীদেরও অপ্রস্তুত করে দেয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও, কারণ রাহুল সেখান থেকে সরতে রাজি হননি, দিল্লি পুলিশ এলাকা খালি করতে তৎপর হয়।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু নাটকীয় ভিডিওতে দেখা যায়, নাক থেকে রক্ত ঝরতে থাকা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে পুলিশ হাত ও পা ধরে জোর করে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাহুলের দাবি, এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই পুলিশ কর্মীরা তাদের মোদি সরকারের প্রতি ব্যক্তিগত অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, পুলিশ আমাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু তারা আমার কানে ফিসফিস করে বলছিল, এই সরকারকে হটান। তিনি জানান, আমি রাজস্থান থেকে এসেছি। আমি হরিয়ানা থেকে এসেছি। আমাদের তো শুধু উর্দি পরে থাকতে হয়।

বিরোধী দলনেতা বলেন, তাদের ওপর নির্দেশ আছে, তাই তারা সেই নির্দেশ পালন করছে। এমনকি পুলিশও বর্তমান পরিস্থিতিতে খুশি নয়। তারা জানে যে এখানে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে এবং তারা এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজেদের সন্তানদের দেখতে পায়।

উত্তর-পশ্চিম দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে আটক থাকা এই কংগ্রেস সাংসদকে মঙ্গলবার রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয়। বুধবার রাহুল তার বিরুদ্ধে পুলিশের এই পদক্ষেপকে বৃহত্তর স্বার্থের কাছে এক ‘সামান্য মূল্য’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি জোর দেন যে, তার মূল লক্ষ্য হলো ‘শিক্ষার্থী ও তরুণদের ইচ্ছা প্রকাশ করা’ এবং তিনি এই বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

জাপানি মার্শাল আর্ট আইকিডোতে ব্ল্যাক বেল্ট অধিকারী রাহুল জানান, আমি এসব ঘুষি-টুষি খাওয়ার অভ্যাস করেছি এবং এটি কোনো ব্যাপার না।

তিনি আরো বলেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে এটাই আমার কর্তব্য... যেখানে কষ্ট আছে, সেখানে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা আমার দায়িত্ব। এগুলো খুবই সামান্য মূল্য... তাই দু-একটা ঘুষি খাওয়া, এটি আমার জন্য বিষয় নয়। আমি আরও অনেক আঘাত সানন্দে নিতে প্রস্তুত।

বুধবার সংসদে বিরোধীদের উচ্ছৃঙ্খল কালো পোশাক পরিধানের সাথে নির্ভর করে, প্রতিবাদস্বরূপ একটি কালো আর্মব্যান্ড পরে রাহুল গান্ধী মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তার আক্রমণের পরিধি আরও বিস্তৃত করেছেন। ২০ জুলাই সংসদের দিকে পদযাত্রা করা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্মম দমন-পীড়ন ঘটনার মধ্যেই তার এই প্রতিবাদ সীমাবদ্ধ ছিল না। রাহুলের আক্রমণের মূল লক্ষ্য হল এনডিএ শাসনামলের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা, যা তার মতে সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাহুল দাবি করেন, গত এক দশকে ‘১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁস’ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, অথচ ‘কারও শাস্তি হয়নি’ এবং এর ফলে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার মানে প্রতি মাসে একটি করে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সরকার পুরো শিক্ষা বাজেটে যা ব্যয় করে, পরিবারগুলো একটি পরীক্ষার পেছনে তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করে।

নিজের বক্তব্যের শেষে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে আক্রমণ করে তাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ এবং ‘অযোগ্য’ বলেন। রাহুল দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। প্রধান একজন দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অযোগ্য মানুষ। তাকে অবশ্যই অপসারণ করতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যার্তদের সহায়তায় ব্র্যাক ব্যাংক, সহযোগিতা পেল ৪৫০০ পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ পি.এম


বন্যার্তদের সহায়তায় ব্র্যাক ব্যাংক, সহযোগিতা পেল ৪৫০০ পরিবার

আকস্মিক বন্যায় দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি ত্রাণ সহায়তায় দুই কোটি টাকা দিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।

ব্র্যাকের ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের সহায়তায় ৪,৫০০ পরিবারের ২২ হাজারেরও বেশি মানুষের জন্য জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও নগদ সহায়তা দিচ্ছে ব্যাংকটি।

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার হাজারও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।

এই উদ্যোগের আওতায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ব্র্যাকের সাত দিনের খাদ্য সহায়তা প্যাকেজ পাবে, যাতে থাকবে ৩,৫০০ টাকা মূল্যের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং ১,০০০ টাকার নগদ সহায়তা। দুর্যোগ-পরবর্তী সংকটময় সময়ে এই সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জরুরি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করে ব্যাংকটি।

এ বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “মানুষের পাশে দাঁড়ানো ব্র্যাক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্র্যাকের ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা বন্যাকবলিত হাজারও পরিবারের কাছে সময়োপযোগী সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি, যাতে তাঁরা নিজেদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে পারেন এবং বন্যা-পরবর্তী সময়ে নতুন করে শুরু করতে পারেন। বাংলাদেশের মানুষের প্রয়োজনে তাঁদের পাশে থাকতে আমরা সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

মানবিক সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশে সময়োপযোগী সহায়তা নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি এবং প্রয়োজনের সময়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে সোনা পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ, ৪৬ লাখ টাকার স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার এক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:১২ পি.এম


যশোরে সোনা পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ, ৪৬ লাখ টাকার স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার এক

যশোর-নড়াইল মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে ৪৬ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭০ টাকা মূল্যের দুটি সোনার বারসহ এক পাচারকারীকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আটক করেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) একটি বিশেষ অভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এবং তাকে আটক করে।

আটক করা ব্যক্তির নাম হচ্ছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নলকুরা লাপসা গ্রামের সাদিকুর রহমান সুমন (৩৩)।

বিজিবি জানায়, অভিযানের সময় আটক ব্যক্তির প্যান্টের পকেটে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ২২০ দশমিক ৪৯ গ্রাম ওজনের দুটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। এই সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে এবং নগদ ৫ হাজার ২৮৫ টাকা পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি বলেন যে, তিনি ঢাকা থেকে স্বর্ণের বারগুলো যশোর হয়ে সাতক্ষীরা সীমান্তের মাধ্যমে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া সোনার মূল্য ৪৬ লাখ ২৮ হাজার ৮৫ টাকা। এছাড়া জব্দ হওয়া মোবাইল ফোনের মূল্য ৩০ হাজার টাকা। নগদ টাকাসহ জব্দকৃত আলামতের মোট মূল্য ৪৬ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭০ টাকা।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তাকে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যমুনা নদীর জোড়া নৌ-বন্দর গঠনের মাধ্যমে নতুন আশা বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


যমুনা নদীর জোড়া নৌ-বন্দর গঠনের মাধ্যমে নতুন আশা বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে

স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন, বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদী বরাবর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া দুটি অভ্যন্তরীণ নৌ-বন্দরকে কেন্দ্র করে। তারা মনে করছেন, বন্দর দুটি চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। তাছাড়া, এর ফলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি যুক্ত হবে।

যমুনা নদী গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর তীরে সহস্রাধিক চর জেগে উঠেছে। যদিও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা, কৃষিপণ্য বিপণনের সুযোগের অভাব এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার অপ্রতুলতা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন লাভে বাধা দিচ্ছে।

বর্ষা কিংবা খরার সময়ে নদীপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ অনেক বেড়ে যায়। যদি নৌ-বন্দর দুটি বাস্তবায়ন করা হয়, তবে সারিয়াকান্দিঘাট থেকে জামালপুর এবং ময়মনসিংহ রুটের জামথল, মথুরাপাড়া থেকে দেঘিপাড়া পর্যন্ত নৌ-যোগাযোগ সহজ হয়ে যাবে। অপরদিকে, ধুনটের শহরাবাড়ী বন্দর থেকে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার টেকুরিয়াহাট ও বেশাঘীর চরে যাতায়াত সহজ হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে কৃষি উৎপাদন ও বিপণনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে, সেইসঙ্গে পর্যটন শিল্পের উন্নতি ঘটতে পারে।

থাকছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত, তারা জানাচ্ছেন, নদীবন্দর চালু হলে বড় নৌযান চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে মাঝনদীতে ঝড়-ঝঞ্ঝার সময়ে ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। ফলে মানুষ কম খরচে স্বাভাবিকভাবে পারাপার ও পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম হবেন।

ব্যবসায়ীদের মতে, নৌ-বন্দর চালু হলে চরাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত এড়িয়ে সরাসরি দেশের বড় পাইকারি বাজারে পাঠানো সম্ভব হবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে, কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বগুড়ার সভাপতি এম এস এম আতিকুর রহমান বাদল দাবি করেছেন, সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ আসবে। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য শুধু সড়কপথে নয়, নদীবন্দর ব্যবস্থার মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা সহ দেশের নানা স্থানে সহজে পাঠানো সম্ভব হবে। এতে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

শুধু স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন নয়, এই অভ্যন্তরীণ নৌ-বন্দরগুলোর মাধ্যমে বগুড়ার সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার নৌপথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এতে স্থলপথের তুলনায় কম খরচে এবং সুবিধার সঙ্গে পণ্যের পরিবহন ঘটবে।

বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম বলেছেন, আগামীতে এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে চান। সাধারণ মানুষের কাছে নদীবন্দরের সুবিধা পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। তিনি জানান, দীর্ঘকাল ধরে এই এলাকায় মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। নৌ-বন্দর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%