০৭:৫৯ পি.এম
পদ্মার বুকে জেগে ওঠা মাদারীপুরের শিবচরের চরজানাজাত ইউনিয়নে বর্তমানে কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা নেই। স্থায়ী হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক কিংবা চিকিৎসক না থাকায় প্রায় দুই হাজার দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দা চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে নদীপথে দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বিশেষ করে প্রসূতি, শিশু ও বৃদ্ধরা প্রতিনিয়ত জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চরজানাজাত ইউনিয়নের দুটি দুর্গম চরে নদীপথই একমাত্র যোগাযোগব্যবস্থা। সাধারণ জ্বর, সর্দি বা ডায়রিয়ার মতো রোগের চিকিৎসার জন্যও সেখানে কোনো সরকারি বা বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঝাড়ফুঁক বা অনভিজ্ঞ গ্রাম্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরজানাজাত ইউনিয়নের ভূমিহীন এলাকায় ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ভূখণ্ড পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। পরে ২০২১ সালে নতুন চর জেগে ওঠে এবং ২০২২ সাল থেকে সেখানে আবার বসতি গড়ে ওঠে। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাস হলেও স্বাস্থ্যসেবার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
চর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে নদীপথে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। বৈরী আবহাওয়া, তীব্র স্রোত এবং পর্যাপ্ত নৌযানের অভাবে অনেক সময় জরুরি রোগী পরিবহন করাও সম্ভব হয় না।
চরের বাসিন্দা জুলেখা বেগম জানান, ‘গত মাসে আমার প্রসববেদনা উঠলেও রাতে কোনো নৌকা পাওয়া যায়নি। ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করে নদী পার হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। মাঝরাতে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটত, তাহলে হয়তো আমি বা আমার সন্তান কেউই বাঁচতাম না। সরকার যেন দ্রুত একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে।’
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোতালেব বেপারী বলেন, ‘সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে আমরা সম্পূর্ণ বঞ্চিত। গুরুতর রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া যায় না। দ্রুত কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালুর ব্যবস্থা করা জরুরি।’
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মতিউর রহমান জানান, ‘উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জনবল সংকটের কারণে দুর্গম চরাঞ্চলে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বর্তমানে উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার সপ্তাহে দুই দিন সেবা দিচ্ছেন। এছাড়া নতুন চরে মাসে অন্তত একদিন চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার
তিনি আরও জানান, প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ মাতৃত্ব বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি স্থায়ী কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ৩০ শতাংশ জমি ইউএনও কমিটির মাধ্যমে পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন