ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নির্বাচনে জয় নিয়ে শঙ্কায় নেতানিয়াহু, ‘খুবই চিন্তিত’ বললেন


নির্বাচনে জয় নিয়ে শঙ্কায় নেতানিয়াহু, ‘খুবই চিন্তিত’ বললেন

ইসরাইলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে জয় নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, নিজের বিজয় নিশ্চিত নয়। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রেডিও নর্থকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, "নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।" তবে নিজের জয়ের বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং এ নিয়ে "খুবই চিন্তিত"।

নির্বাচনে পরাজিত হলে কিংবা সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, "না, আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব না।"

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

সাক্ষাৎকারে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট ও আবিগদোর লিবারম্যানের কঠোর সমালোচনা করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, তাদের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে তা আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

নেতানিয়াহুর ভাষ্য, "বিরোধীরা নির্বাচনি হিসাব যেভাবেই তুলে ধরুক না কেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তাদের আরব দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।" তিনি বলেন, "তাদের বাড়িয়ে বলা সংখ্যার হিসাব ধরলেও মনসুর আব্বাস ও আহমেদ তিবিকে ছাড়া গাদি আইজেনকোট কোনো সরকার গঠন করতে পারবেন না। ৬১টি আসন পূর্ণ করতে তাদের এই দুজনেরই সাহায্য লাগবে।"

ভোটারদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, "যারা এমন একটি ‘আত্মসমর্পণকারী ও অকার্যকর সরকার’ চান, যা ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে শত্রুদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে না, তারা যেন গাদি আইজেনকোটকে ভোট দেন।" এ বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের নেতৃত্বে সম্ভাব্য সরকার ইসরাইলের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যর্থ হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের সম্ভাব্য হুমকি নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, এ বিষয়ে আইজেনকোটের অবস্থান যথেষ্ট কঠোর নয়। নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, আইজেনকোট আগে "পারমাণবিক ইরানকে মেনে নিতে হবে" বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর হামলা চালানোকে ভুল সিদ্ধান্ত বলেছিলেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

নেতানিয়াহুর মতে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সামলালেই চলবে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, "দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি হলে কোনো আপস করা যাবে না।"

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইজেনকোটের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, "আইজেনকোট কি আমেরিকায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবেন? তিনি কি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবেন?" ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বমঞ্চে শক্ত অবস্থান নেওয়া একজন ব্যক্তিত্ব হতে হবে, যিনি জানেন অস্তিত্বের হুমকির মুখে কোনো আপস চলে না। গাদি বা তার সঙ্গীরা তা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান রোনেন বারের সঙ্গেও বিরোধের প্রসঙ্গ তোলেন নেতানিয়াহু। তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নেতানিয়াহু অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেন এবং বারকে "মিথ্যাবাদী" বলে আখ্যা দেন।

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে নথিপত্র থাকার দাবি করে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রকের কাছে প্রায় এক হাজার নথি জমা দিয়েছেন। তার দাবি, এসব নথির কয়েকটি ইন্টারনেটেও পাওয়া যায়। হামলার দুই দিন আগেও রোনেন বার একটি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। নেতানিয়াহুর অভিযোগ, ওই প্রতিবেদনে সুবিধার বিনিময়ে সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

তবে রোনেন বারকে নিয়ে নেতানিয়াহুর এসব বক্তব্য তার নিজস্ব দাবি। সাক্ষাৎকারে দেওয়া অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

নির্বাচনে নিজের জয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি বিরোধীদের নেতৃত্ব, ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানের সঙ্গে বিরোধের বিষয়গুলো সামনে এনে নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, গাড়িচালক গুলিবিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৫ পি.এম


টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, গাড়িচালক গুলিবিদ্ধ

মুম্বাইয়ের জুহু অঞ্চলে বলিউডের অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর একটি ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায়, একটি ফুটবল মাঠ থেকে বিএমডব্লিউ সেডানে বের হওয়ার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিনেতা অক্ষত থাকলেও, তার গাড়িচালক ফিরদৌস গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। মুম্বাই পুলিশ এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে করে আসা তিন ব্যক্তি হামলায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে দুজন টাইগার শ্রফের গাড়ির দিকে গুলি চালান। হামলার পর তৃতীয় ব্যক্তি প্রস্তুত রাখা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।

ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা গাড়ির সামনের কাচ ও পাশের জানালার দিকে গুলি চালাচ্ছেন। এক পর্যায়ে, একজন হামলাকারী গাড়ির জানালার কাছে গিয়ে শেষ গুলিটি চালানোর চেষ্টা করেন। তবে তার অস্ত্র জ্যাম হয়ে যাওয়ায় তিনি আর গুলি চালাতে সক্ষম হননি, যা ভিডিওতে দেখা যায়।

হামলার সময় গাড়িচালক ফিরদৌস গুলিবিদ্ধ হন। পরে টাইগার শ্রফ যাত্রীর আসন থেকে চালকের আসনে চলে যান। এ সময় আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে শোনা যায়।

এদিকে, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। হামলার পর একটি অডিও ক্লিপে অনিল পণ্ডিত নামে পরিচিত একজন ব্যক্তি নিজেকে গ্যাংটির সদস্য হিসেবে দাবি করেন। তিনি জানান, টাইগার শ্রফ তাদের ‘হিট লিস্টে’ রয়েছেন। তার অভিযোগ, টাইগার তাদের নির্দেশ মানছেন না এবং সালমান খানের সঙ্গে কাজ করছেন।

উল্লেখ্য, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এর আগে বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে একাধিকবার হত্যার হুমকি দিয়েছে। ১৯৯৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ক্ষোভের বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।

২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর, মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সাবেক মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিককে গুলি করে হত্যা করা হয়। সালমান খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ও বিষ্ণোই গ্যাং স্বীকার করেছিল।

টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর এই ঘটনা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। মহারাষ্ট্র সরকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রেটার নয়ডায় একই পরিবারের ৫ মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ প্রকাশ করলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ পি.এম


গ্রেটার নয়ডায় একই পরিবারের ৫ মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ প্রকাশ করলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশ সন্দেহ করছে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে রাতের খাবারে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো হয়ে থাকতে পারে। নিহত পরিবারের একজন সদস্যের মুঠোফোন থেকে উদ্ধার হওয়া একটি অডিও বার্তা তদন্তের জন্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মহেশ (৩৭), তার স্ত্রী ললিতা (৩৫), সাত বছর বয়সী মেয়ে মিষ্টি এবং দুই ছেলে লাড্ডু (১১) ও সাক্ষাৎ (৩)। গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে গ্রেটার নয়ডার নাগলা শ্রী পদম গ্রামের নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় একটি মেলায় গিয়েছিলেন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে তারা নুডলস খান। প্রথমে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, পরবর্তী তদন্তে খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে মহেশের মুঠোফোন থেকে উদ্ধার হওয়া একটি অডিও বার্তা পুলিশ পেয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই বার্তায় মহেশ তার দুই বোন ও এক ভগ্নিপতিকে পরিবারের এমন পরিণতির জন্য দায়ী করেছেন। এ ঘটনায় তাদেরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে। মহেশের ভাইয়ের স্ত্রী নীরজ এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে বিরোধ ও মানসিক অশান্তি চলছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তবে মহেশ তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিবারের সদস্যরা আবার একসঙ্গে বসবাস করবেন।

এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর সন্দেহের কথা জানিয়েছেন। খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওপি সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল থেকে নুডলসের প্যাকেট, খাবারের মোড়ক ও অন্যান্য উপাদান সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। তবে সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি।

ওপি সিংয়ের ভাষ্য, ঘটনাটি সাধারণ খাদ্য বিষক্রিয়ার চেয়ে খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর ঘটনা বলেই বেশি মনে হচ্ছে। সাধারণত খাদ্যে বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। তবে নিহতদের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপসর্গের তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ঘটনাস্থলে শিশুদের একজনের মুখ দিয়ে লালা বা ফেনা বের হতে দেখা গিয়েছিল।

তবে পাঁচজনের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল এবং পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসলিনের টেকসই উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ পি.এম


মসলিনের টেকসই উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

ঢাকাই মসলিনের টেকসই উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের জন্য ফুটি কার্পাস তুলার গবেষণায় সর্বোচ্চ আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকাই মসলিন তৈরির কাঁচামাল ফুটি কার্পাস তুলার জাত উন্নয়ন সংক্রান্ত সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

মো. শরীফুল আলম বলেন, পুনরুদ্ধারকৃত মসলিন তৈরির প্রযুক্তি দ্রুত ও কার্যকরভাবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকাই মসলিন বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস ও বস্ত্র ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণায় ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে ফুটি কার্পাস তুলার জাত, জিনগত বৈশিষ্ট্য ও আঁশের গুণগত মান নিয়ে চলমান গবেষণা মসলিনের টেকসই উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো পুনরুদ্ধারকৃত মসলিন তৈরির প্রযুক্তি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। দক্ষ তাঁতি, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করা গেলে মসলিনের বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্প্রসারণ সম্ভব হবে। এর স্বকীয়তা ও গুণগত মান বজায় রেখে উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব।

গবেষণায় সহায়তার বিষয়ে শরীফুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফুটি কার্পাস ও মসলিন গবেষণার অগ্রগতি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গবেষণার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মসলিনের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে একে আরও শক্তিশালী করা এবং দেশি-বিদেশি বাজারে ছড়িয়ে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে গবেষণার বিকল্প নেই। গবেষকেরা যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পান এবং নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন, সে বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

তাঁতশিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ খাতের উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপিত হয়।

প্রান্তিক তাঁতিদের আর্থিক সহায়তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার তাঁত ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এসব উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী তাঁতিদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উৎপাদন সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি আরও বলেন, ফুটি কার্পাসের গবেষণা, মসলিন প্রযুক্তির হস্তান্তর, তাঁতিদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রপণ্যের স্বকীয়তা সংরক্ষণের পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান বাড়াতে হবে।

গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞদের গবেষণা, সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ ঢাকাই মসলিনকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন ও মিসরের কটন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তুলা প্রজননবিষয়ক প্রধান গবেষক ড. আহমেদ মোহাম্মদ আবদেলমোঘনি আবদুলবাকি উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও সেমিনারে দেশি-বিদেশি গবেষক, বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিতে আগুনে পুড়ে বাংলাদেশির মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ পি.এম


সৌদিতে আগুনে পুড়ে বাংলাদেশির মৃত্যু

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানে আগুন লাগার ফলে মো. শামীম রেজা নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু ঘটেছে। তিনি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, দীর্ঘ প্রবাসজীবনের ইতি টানতে। কিছুদিন আগে তিনি ফাইনাল এক্সিট ভিসা নিয়েছিলেন। তবে দেশে ফেরার আগে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তার জীবন শেষ হয়ে যায়।

এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রিয়াদের ২২ নম্বর এক্সিটের কাছে।

নিহত শামীম রেজা সিরাজগঞ্জ জেলার চক খাদুলী গ্রামের মো. নিজাম উদ্দিন প্রামাণিকের পুত্র। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছোট ভাই নুরুল ইসলাম।

পরিবারের সূত্র অনুযায়ী, শনিবার রিয়াদের ২২ নম্বর এক্সিটের মাঝামাঝি এলাকায় শামীম রেজার কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলে আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু ঘটে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সিমুচি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন শামীম রেজা। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি ফাইনাল এক্সিট ভিসা নিয়েছিলেন। তার ভিসার মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশে ফেরার আগেই তার জীবনের এই করুণ পরিণতি পরিবার ও স্বজনদের জন্য শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবে অবস্থানরত নিহতের ছোট ভাই নুরুল ইসলাম শামীম রেজার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

কাভার্ড ভ্যানে আগুনের সূত্রপাতের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%