প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশ সন্দেহ করছে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে রাতের খাবারে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো হয়ে থাকতে পারে। নিহত পরিবারের একজন সদস্যের মুঠোফোন থেকে উদ্ধার হওয়া একটি অডিও বার্তা তদন্তের জন্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি পুলিশের সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মহেশ (৩৭), তার স্ত্রী ললিতা (৩৫), সাত বছর বয়সী মেয়ে মিষ্টি এবং দুই ছেলে লাড্ডু (১১) ও সাক্ষাৎ (৩)। গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে গ্রেটার নয়ডার নাগলা শ্রী পদম গ্রামের নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় একটি মেলায় গিয়েছিলেন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে তারা নুডলস খান। প্রথমে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, পরবর্তী তদন্তে খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে মহেশের মুঠোফোন থেকে উদ্ধার হওয়া একটি অডিও বার্তা পুলিশ পেয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই বার্তায় মহেশ তার দুই বোন ও এক ভগ্নিপতিকে পরিবারের এমন পরিণতির জন্য দায়ী করেছেন। এ ঘটনায় তাদেরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে। মহেশের ভাইয়ের স্ত্রী নীরজ এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে বিরোধ ও মানসিক অশান্তি চলছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তবে মহেশ তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিবারের সদস্যরা আবার একসঙ্গে বসবাস করবেন।
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও খাবারে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর সন্দেহের কথা জানিয়েছেন। খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওপি সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল থেকে নুডলসের প্যাকেট, খাবারের মোড়ক ও অন্যান্য উপাদান সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। তবে সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি।
ওপি সিংয়ের ভাষ্য, ঘটনাটি সাধারণ খাদ্য বিষক্রিয়ার চেয়ে খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর ঘটনা বলেই বেশি মনে হচ্ছে। সাধারণত খাদ্যে বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। তবে নিহতদের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপসর্গের তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ঘটনাস্থলে শিশুদের একজনের মুখ দিয়ে লালা বা ফেনা বের হতে দেখা গিয়েছিল।
তবে পাঁচজনের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল এবং পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন