বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:২৩ পি.এম
ক্যাম্পাস জীবনের শুরুতে একই ছাদের নিচে এক কক্ষে পড়াশোনা করতেন তিনজন বন্ধু। তারা নিয়মিত গ্রুপ স্টাডি করতেন। ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় একজন সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও, দুই বন্ধু দুইবার ব্যর্থ হলেও তারা চেষ্টা চালিয়ে যান। বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী ও সাদ্দাম হোসেন হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন— ১৬তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত আরিফ হোসাইন এবং সর্বশেষ প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত মো. আনোয়ার হোসেন ও শাকির আলম। সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষে এই তিন সহপাঠীর স্বপ্ন ও সংগ্রামের পথচলা একসূত্রে বাঁধা পড়েছিল।
১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় আরিফ হোসাইন প্রথম জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বাকি দুই বন্ধুর জন্য অনুপ্রেরণার দুয়ার খুলে দেন। তিনি বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ, মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাদের তিন বন্ধুকে এমন সম্মান দিয়েছেন। সকলের জন্য শুভকামনা ও ভালোবাসা।"
সর্বশেষ প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস-এ সুপারিশপ্রাপ্ত শাকির আলম বলেন, "প্রথমেই মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, যিনি আমাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। টানা দুইবার ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল ছাড়িনি। তৃতীয়বারের চেষ্টায় উত্তীর্ণ হয়েছি। কুরআনের সেই আয়াত মনে পড়ে যায় যে, শিগগিরই তোমার রব তোমাকে এত বেশি দেবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল যে একদিন বিচারক হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করব। পরিবার ও সমাজের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করতে অবদান আছে। পাশাপাশি উৎসাহিত হয়েছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই-আপুদের সুপারিশপ্রাপ্ত হতে দেখে। আমার সবচেয়ে বড় ভালো লাগা, সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষ থেকে আমরা তিনজনই জজ হয়েছি।"
তারা জানান, ক্যাম্পাস জীবনে সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষটি তাদের পড়াশোনা ও একে অপরকে সহযোগিতা করার মূল কেন্দ্র ছিল। গভীর রাতের দীর্ঘ পড়াশোনা, গ্রুপ ডিসকাশন এবং লক্ষ্যপূরণের অদম্য ইচ্ছা তাদের এই যৌথ সাফল্যের পেছনের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন বলেন, "আমাদের বিভাগ প্রতিবছরই জুডিশিয়ারিতে ভালো করে থাকে। এবার আরও ভালো করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে, আশা করি। যারা জুডিশিয়ারিকে প্রফেশন হিসেবে নিতে চান, তাদের গাইডলাইন দেওয়া থেকে শুরু করে তাদের বেজলাইন দৃঢ় করতে আমরা কাজ করব। জুডিশিয়ারি একটি মহৎ পেশা। আমাদের বিভাগের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। অন্যদিকে তিন রুমমেট বন্ধু জজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তারা ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তারা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।"
উল্লেখ্য, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ১৮তম জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল অনুযায়ী, সর্বশেষ তথ্য অনুসারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ১৪ জন, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ থেকে ৪ জন এবং আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ থেকে ১ জন সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৬৭ হাজার ২০০ কেজি মুরগির বিষ্ঠা ছিনতাইয়ের অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ছিনতাই হওয়া মুরগির বিষ্ঠার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, করেরহাট ইউনিয়নের হাবিলদারবাসা এলাকা থেকে ভয় দেখিয়ে মুরগির বিষ্ঠা ছিনতাই করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড়ের ৭নং ওয়ার্ডের আরাফাত হোটেলের পাশে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন করেরহাট ইউনিয়নের ভালুকিয়া এলাকার মামতো ভূঁইয়া বাড়ির মজল হক (৩০) এবং বরইয়া দিঘী এলাকার বদি মিস্ত্রি বাড়ির মো. শাকিল (২৪)।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, "করেরহাট ইউনিয়নের হাবিলদারবাসা এলাকা থেকে ভয় দেখিয়ে ৬৭ হাজার ২০০ কেজি মুরগির বিষ্ঠা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করি।" তিনি আরও জানান, "গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।" গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩৮৪/৩৮৭/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাতে প্রতিদিনই কেনাকাটার জন্য কোথাও না কোথাও যেতে হয়। তবে, কোনো মার্কেটে যাওয়ার পূর্বে ওই এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিনটি জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে আপনাকে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তারিখে কোন কোন মার্কেট, শপিংমল এবং এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে, তা দেখে নিন।
বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট, কৃষি মার্কেট, আড়ং, বিআরটিসি মার্কেট, শ্যামলী হল মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা সুপারমার্কেট, মাজার কো-অপারেটিভ মার্কেট, মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্স, শাহ্ আলী সুপারমার্কেট, মিরপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, আনারকলি মার্কেট, ফরচুন শপিংমল, আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, কনকর্ড টুইন টাওয়ার, ইস্টার্ন প্লাস, সিটি হার্ট, জোনাকি সুপার মার্কেট, গাজী ভবন, পল্টন সুপার মার্কেট, স্টেডিয়াম মার্কেট-১ ও ২, গুলিস্তান কমপ্লেক্স, রমনা ভবন, খদ্দর মার্কেট, পীর ইয়ামেনি মার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেট এবং সাকুরা মার্কেট।
যেসব এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে
মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলী, গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, আসাদগেট, ইস্কাটন, মগবাজার, বেইলি রোড, সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগের একাংশ, শাহজাহানপুর, শান্তিনগর, শহীদবাগ, শান্তিবাগ, ফকিরাপুল, পল্টন, মতিঝিল, টিকাটুলী, আরামবাগ, কাকরাইল, বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা, হাইকোর্ট ভবন এলাকা এবং রমনা শিশুপার্ক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনা মহানগরীর খালিশপুর এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে কামরুল শেখ নামের এক ব্যক্তির সেমিপাকা বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘুমিয়ে থাকা ৬ বছরের শিশু মরিয়ম দগ্ধ হয়েছে।
এই ঘটনা ঘটে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে, ক্রিসেন্ট মিল গেটের নিকটবর্তী স্থানে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স খুলনার সিনিয়র কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগুনের খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত একটি টিম নিয়ে ক্রিসেন্ট গেটের কাছে পৌঁছান। সেখানে একটি সেমিপাকা টিনশেড ঘরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। এ সময় গৃহকর্তা কামরুল শেখ তার দগ্ধ মেয়েকে কোলে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান।
তিনি আরও জানান, আগুন বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। আগুনে ঘরটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে।
খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলেন। আগুনের কারণে শিশু মরিয়ম দগ্ধ হয়েছে এবং তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দুলাল হোসেন নাটোরের সিংড়া থেকে পায়ে হেঁটে সৌদি আরবের মক্কায় গিয়ে পবিত্র হজ পালনের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। যদিও তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হন, তবে ভারতীয় ভিসা না থাকার কারণে তার যাত্রা আপাতত থেমে গেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তিনি বাধ্য হয়ে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন।
দুলাল হোসেন সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের তাড়াই বড়ইচোরা গ্রামের মৃত মকসেদ আলী ও পিয়ারা বেগমের সন্তান। তিনি গত ৪ আগস্ট মক্কা নগরীর উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেন।
যাত্রাপথে বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছানোর পর, প্রয়োজনীয় ভারতীয় ভিসা না থাকায় তিনি আর সামনে এগোতে পারেননি। বাধ্য হয়ে তিনি গ্রামে ফিরে আসেন।
গ্রামে ফিরে আসার পর, প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তিনি যাত্রাপথের নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। স্থানীয়রা তার মুখে সেই অভিজ্ঞতার গল্প শুনতে চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে ভিড় করছেন।
দুলালের প্রতিবেশীরা জানান, তার এই উদ্যোগ গ্রামবাসীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তারা আশা করছেন, আল্লাহ তার ইচ্ছা পূরণ করবেন এবং তার হজ কবুল করবেন।
দুলাল হোসেন বলেন, "আল্লাহর ঘরে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা থেকেই পায়ে হেঁটে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" তিনি জানান, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় তিনি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেই বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছেছেন। তবে ভারতীয় ভিসা না থাকায় তিনি সেখানে থেকে ভারতে প্রবেশ করতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় ভিসা ও কাগজপত্র প্রস্তুতের জন্য একজন ব্যক্তি তাকে সহযোগিতা করছেন। তিনি দ্রুত ভিসা পাওয়ার আশা করছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পেলেই আবারও পায়ে হেঁটে হজের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ