বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:২৫ পি.এম
দুলাল হোসেন নাটোরের সিংড়া থেকে পায়ে হেঁটে সৌদি আরবের মক্কায় গিয়ে পবিত্র হজ পালনের স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। যদিও তিনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হন, তবে ভারতীয় ভিসা না থাকার কারণে তার যাত্রা আপাতত থেমে গেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তিনি বাধ্য হয়ে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন।
দুলাল হোসেন সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের তাড়াই বড়ইচোরা গ্রামের মৃত মকসেদ আলী ও পিয়ারা বেগমের সন্তান। তিনি গত ৪ আগস্ট মক্কা নগরীর উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু করেন।
যাত্রাপথে বেনাপোল সীমান্তে পৌঁছানোর পর, প্রয়োজনীয় ভারতীয় ভিসা না থাকায় তিনি আর সামনে এগোতে পারেননি। বাধ্য হয়ে তিনি গ্রামে ফিরে আসেন।
গ্রামে ফিরে আসার পর, প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তিনি যাত্রাপথের নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। স্থানীয়রা তার মুখে সেই অভিজ্ঞতার গল্প শুনতে চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে ভিড় করছেন।
দুলালের প্রতিবেশীরা জানান, তার এই উদ্যোগ গ্রামবাসীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তারা আশা করছেন, আল্লাহ তার ইচ্ছা পূরণ করবেন এবং তার হজ কবুল করবেন।
দুলাল হোসেন বলেন, "আল্লাহর ঘরে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা থেকেই পায়ে হেঁটে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" তিনি জানান, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় তিনি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেই বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছেছেন। তবে ভারতীয় ভিসা না থাকায় তিনি সেখানে থেকে ভারতে প্রবেশ করতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় ভিসা ও কাগজপত্র প্রস্তুতের জন্য একজন ব্যক্তি তাকে সহযোগিতা করছেন। তিনি দ্রুত ভিসা পাওয়ার আশা করছেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পেলেই আবারও পায়ে হেঁটে হজের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ বাঁশখালী উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবারের ঘর নির্মাণ ও পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গৃহ পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসন সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা প্রদান করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এ সহায়তার অর্থ বিতরণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সভাপতিত্ব করবেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম উল্লেখ করেছেন, চট্টগ্রাম জেলার সবচেয়ে বেশি বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোর মধ্যে বাঁশখালী অন্যতম। সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং ৪ হাজার ৫১৯টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বাঁশখালীর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবারকে ঘর নির্মাণ ও পুনর্বাসনের জন্য এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক জানান, এর আগে বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ ও পুনর্বাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলাতেই ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ঘর পুনর্নির্মাণের অংশ হিসেবে জেলা পরিষদ প্রতিটি উপজেলাতেই এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সেজন্য নগদ আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। জেলা পরিষদ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং পরিবারগুলোকে দ্রুত পুনর্গঠন ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি উপজেলায় এ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগকবলিত মানুষের পুনর্বাসনে সার্বিক সহায়তার জন্য আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। মানুষের দুর্দিনে জেলা পরিষদ সবসময় তাদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দিয়ে যাবে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ এবং শিশুদের বেবি জেলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ (৪০) এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলার অধিবাসী হলেও বর্তমানে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করছেন। সেখানে তার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ নামে একটি কারখানা রয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান, মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের ফলে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং সামগ্রী উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটি অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। সেখানে শিশুদের জন্য বেবি জেল, বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযানের সময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার এবং জব্দ করা হয়েছে।
অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খাঁন মন্তব্য করেন, "অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের আপস নেই। দলের কোনো সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কেন্দ্রকে জানানো হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড দাবদাহ, তীব্র খরা, দাবানল এবং পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটি এই আশঙ্কার কথা জানায়।
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্যান্য স্বাভাবিক বছরের তুলনায় এ বছরের জুন থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাবে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের তাপমাত্রাজনিত মৃত্যু হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে দরিদ্র দেশগুলোতে, যেখানে ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন এবং ইরান যুদ্ধের কারণে খাদ্যসংকট ও জ্বালানির অতিরিক্ত মূল্যের সঙ্গে লড়াই চলছে।
গবেষণার সহলেখক ও ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, ফেব্রুয়ারি নাগাদ এল নিনোর প্রভাব শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গরমের ঝুঁকি ফেব্রুয়ারির পরও থাকতে পারে। আবহাওয়ার এই চরম পরিবর্তনের প্রভাব আগামী বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই গবেষণা স্পষ্ট করে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বিশেষ করে সেসব স্থানে বেশি বিপজ্জনক, যেগুলো আগে থেকেই তুলনামূলক উষ্ণ ও দরিদ্র।
গ্রিনস্টোন বলেন, "আপনি যদি আগে থেকেই কোনো তপ্ত অঞ্চলে থাকেন, তাহলে তাপমাত্রা আর কয়েক ডিগ্রি বাড়া মানেই তা জীবনের জন্য বহু গুণ বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠা।" ধনী দেশগুলোতে সাধারণত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি), নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহ এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বেশি থাকে।
গবেষণায় বিশ্বজুড়ে ২৪ হাজারের বেশি অঞ্চলের স্থানীয় তাপমাত্রার প্রাক্কলন এবং তা মানুষের মৃত্যুতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা গত তিন দশকের গড় তাপমাত্রার মৃত্যুর হারের সঙ্গে চলতি ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত পুরো এল নিনো সময়ের সম্ভাব্য মৃত্যুর হারের তুলনা করে এই অতিরিক্ত প্রাণহানির হিসাব বের করেছেন।
গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর জলবায়ুর এই অতিরিক্ত গরমের সবচেয়ে বড় ধকল যাবে বলে গ্রিনস্টোন ও তার সহকর্মীদের গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তের শুষ্ক 'সাহেল অঞ্চল' সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেখানে এল নিনোর কারণে সৃষ্ট গরমে অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। এছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষকরা বলেছেন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলিয়ে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জন; ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০; ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ জন মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে। এত বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কার বিপরীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য কিছু পদক্ষেপের কথা সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এর মধ্যে রয়েছে দাবদাহের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, শীতলীকরণ কেন্দ্র, বিনামূল্যে খাবার পানির বুথ স্থাপন, উন্মুক্ত স্থানে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বয়স্ক ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষের বাড়তি নজরদারির আওতায় আনা। পাশাপাশি, তাপমাত্রা চরম আকার ধারণ করার আগেই যেন সরকারগুলো জরুরি অর্থ ছাড় ও সম্পদ তৈরি রাখতে পারে, সে জন্য 'পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের' আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।
এই গবেষণার বাইরে থাকা ভারতভিত্তিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অভিযন্ত তিওয়ারি বলেন, প্রতিবেদনটি আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য নয়, বরং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, ভারতের মতো দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা এক জিনিস, আর তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ অন্য চ্যালেঞ্জ।
এল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। তবে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতোমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে থাকা এই পৃথিবীতে চলতি বছরের অস্বাভাবিক শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হয়ে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব বলেছে, এল নিনোর সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা সাধারণ বছরের চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে, যা স্বাভাবিক বছরের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি চরম দাবদাহের দিন তৈরি করবে। সংস্থাটি বলেছে, এ বছরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির চিত্রে বোঝা যাচ্ছে, আজ থেকে প্রায় ২০ বছর পর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর স্বাভাবিক আবহাওয়া কেমন হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে কারণেই পৃথিবী আরও উত্তপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে, এই এল নিনো তারই একটি আগাম বার্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি একটি সুযোগ, ঠিক কোন কোন জায়গায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব, তা চিহ্নিত করা। গবেষকেরা বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতিকে ভবিষ্যতের জলবায়ুর একটি 'আগাম বার্তা' হিসেবেও দেখছেন। তাদের মতে, এর ফলে যে মাত্রার তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে, জলবায়ু সংকটের কারণে প্রায় ২০ বছর পর সেটিই স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পরিণত হতে পারে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইংল্যান্ডের ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে গুগল রেটিংয়ে শীর্ষে রয়েছে লিভারপুলের অ্যানফিল্ড। ঐতিহাসিক এই স্টেডিয়ামের রেটিং ৪.৭, যা ৫৪ হাজার ৫৪৬টি ভোটের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে। একই রেটিং অর্জন করেছে টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়াম এবং নটিংহাম ফরেস্টের সিটি গ্রাউন্ড। তবে, অ্যানফিল্ডের ভোটের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এটি তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে।
ফুটবল লিগের প্রতিটি দলের হোম গ্রাউন্ডের গুগল রেটিং সংগ্রহ করে তৈরি করা তালিকায় সর্বোচ্চ রেটিং ৪.৭ এবং সর্বনিম্ন ৪.০। সমান রেটিংয়ের ক্ষেত্রে বেশি ভোট পাওয়া স্টেডিয়ামকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
অ্যানফিল্ডের পর ৪.৭ রেটিং নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়াম, যেখানে ভোট পড়েছে ২৬ হাজার ৫৪৫টি। অন্যদিকে, নটিংহাম ফরেস্টের সিটি গ্রাউন্ড ২ হাজার ২৪৫ ভোটের ভিত্তিতে ৪.৭ রেটিং পেয়েছে।
৪.৬ রেটিং নিয়ে পরবর্তী সারিতে রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওল্ড ট্রাফোর্ড, আর্সেনালের এমিরেটস স্টেডিয়াম, ম্যানচেস্টার সিটির সিটি অব ম্যানচেস্টার স্টেডিয়াম, চেলসির স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ, নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সেন্ট জেমস পার্ক এবং লিডস ইউনাইটেডের এল্যান্ড রোড।
চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ রেটিং পাওয়া মাঠ হলো উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের মলিনিউক্স, যার রেটিং ৪.৬ এবং ভোটের সংখ্যা ৭ হাজার ৪০৮। লিগ ওয়ানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে লেস্টার সিটির কিং পাওয়ার স্টেডিয়াম, যার রেটিং ৪.৬। লিগ টুতে সর্বোচ্চ রেটিং পেয়েছে এক্সেটার সিটির সেন্ট জেমস পার্ক, যার রেটিং ৪.৫।
প্রিমিয়ার লিগের স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম রেটিং রয়েছে হাল সিটির এমকেএম স্টেডিয়ামের, যা ৩ হাজার ৬৭৬টি ভোটে ৪.৩ রেটিং পেয়েছে। চ্যাম্পিয়নশিপে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের লফটাস রোডের রেটিং ৪.১।
পুরো ইংলিশ ফুটবল লিগে মাত্র দুটি মাঠের রেটিং ৪.০। সেগুলো হলো অক্সফোর্ড ইউনাইটেডের কাসাম স্টেডিয়াম এবং স্টিভেনেজের স্পোর্টা অ্যারেনা।
সিরি আতে পাঁচ রাউন্ডে কোনো গোলশূন্য ম্যাচ হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সিরি আতে পাঁচ রাউন্ড শেষ হলেও এখনো কোনো ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়নি। গত ৩০ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটি ২০১৫-১৬ মৌসুমের সমান, যখন পঞ্চম রাউন্ডে প্রথম ০-০ ড্র হয়েছিল।
তবে ইংলিশ ফুটবলে গোলশূন্য ড্রয়ের জন্য অপেক্ষার নজির আরও দীর্ঘ। ১৮৮৯-৯০ মৌসুমে ইংল্যান্ডের শীর্ষ স্তরে প্রথম ০-০ ড্র হয়েছিল ১৭তম রাউন্ডে। দ্বিতীয় স্তরে ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে প্রথম গোলশূন্য ম্যাচের দেখা মিলেছিল ২৫তম ম্যাচে। স্কটল্যান্ডের তৃতীয় স্তরে ২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথম ০-০ ড্র হয়েছিল ২৫তম রাউন্ডে।
ফুটবল সমর্থকদের রেপ্লিকা জার্সি পরার ইতিহাসও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। ১৯৭৩ সালে লিডস ইউনাইটেডের জার্সিকে সমর্থকদের জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক রেপ্লিকা কিট হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পাঠকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকের আরও আগের কিছু উদাহরণের সন্ধান পাওয়া গেছে।
ছোট মাঠে শিরোপা জয়ের নজির
লিগ জয়ের সময় সবচেয়ে কম ধারণক্ষমতার মাঠ নিয়ে থাকা ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগ যুগে ১৯৯৫ সালে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের এউড পার্কে দর্শক ধারণক্ষমতা ছিল ৩১ হাজারের কিছু বেশি। ২০০৪ সালে আর্সেনালের হাইবারিতে ধারণক্ষমতা ছিল ৩৮ হাজার ৪১৯।
২০১৬ সালে লিগ শিরোপা জয়ের সময় লেস্টার সিটির কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণক্ষমতা ছিল ৩২ হাজার ২৫৯। এরও আগে, ১৯৬১-৬২ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ইপসউইচ টাউনের পোর্টম্যান রোডকে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে লিগ শিরোপা জেতা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট মাঠ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ২৯ হাজার দর্শক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ