০৭:৫৭ পি.এম
প্রেমের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে। একসময় যে ব্যক্তির সঙ্গে প্রতিদিনের কথাবার্তা, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এবং গভীর আবেগ জড়িত ছিল, বিচ্ছেদের পর তিনি হয়ে যান প্রাক্তন। কিন্তু সম্পর্কের সমাপ্তির পরও অনেকের মধ্যে যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায় না। কখনো কখনো খোঁজ নেওয়া, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো অথবা সুযোগ পেলেই কথা বলা—এভাবেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় থাকে।
প্রেমের অভাব থাকা সত্ত্বেও বন্ধুত্ব কেন টিকে থাকে? মনস্তত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে এর একক কোনো কারণ নেই। পরিচিতির স্বস্তি, মানসিক নির্ভরতা, বাস্তব প্রয়োজন অথবা অপূর্ণ আবেগ—বিভিন্ন কারণে প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার পাশাপাশি অন্যান্য গবেষণার ভিত্তিতে দেখা গেছে, কেউ মানসিক স্বস্তির জন্য, কেউ প্রয়োজনের কারণে, আবার কেউ পুরোনো ভালোবাসার টানে সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
পরিচিত মানুষটির কাছেই স্বস্তি
আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন
দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ফলে দুজনের মধ্যে এক ধরনের মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি হয়। কে কখন মন খারাপ করেন, কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা করেন অথবা কখন কথা বললে ভালো লাগে—এসব সাবেক সঙ্গী অনেকটা জানেন।
তাহলে বিচ্ছেদের পরও তার সঙ্গে কথা বললে অনেকের কাছে অচেনা কারোর তুলনায় বেশি স্বস্তি অনুভূত হয়। প্রেমের সম্পর্ক শেষ হলেও পুরোনো অভ্যাস ও মানসিক নিরাপত্তার অনুভূতি একদিনে মুছে যায় না। যদি দুজন নতুন সীমারেখা মেনে চলতে পারেন, তবে এমন বন্ধুত্ব টিকে থাকা স্বাভাবিক।
যোগাযোগের পেছনে থাকতে পারে প্রয়োজন
প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পেছনে সবসময় পুরোনো আবেগ কাজ করে না। অনেক সময় পরিস্থিতির কারণে যোগাযোগ রাখা হয়। একই বন্ধু মহল, একই কর্মক্ষেত্র অথবা যৌথ দায়িত্ব থাকলে পুরোপুরি দূরে সরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ
সন্তানের দেখভাল, পোষা প্রাণীর দায়িত্ব, যৌথ আর্থিক বিষয় অথবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও দুজনকে যোগাযোগে রাখতে পারে। তাই এমন সম্পর্ককে সবসময় পুরোনো ভালোবাসার রেশ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। পরিস্থিতির প্রয়োজনেও যোগাযোগ বজায় থাকতে পারে।
ঝামেলা এড়াতেও যোগাযোগ রাখেন অনেকে
বিচ্ছেদ মানেই সবসময় ঝগড়া, রাগ বা শত্রুতা নয়। অনেকেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর নতুন কোনো বিরোধে জড়াতে চান না। বিশেষ করে যদি দুজনের বন্ধু, পরিচিতি বা সামাজিক পরিমণ্ডল একই হয়, তাহলে সৌজন্য বজায় রাখা সহজ মনে হতে পারে।
কেউ কেউ মনে করেন, হঠাৎ পুরোপুরি যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে অন্যজন আরও বেশি কষ্ট পেতে পারেন। তাই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ বজায় রাখেন। তবে এই যোগাযোগ সবসময় গভীর বন্ধুত্বে পরিণত হয় না। কখনো এটি শুধু স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার একটি উপায়।
আরও পড়ুন: স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, প্রেমিকা এআই জানালেন
মনের কোথাও কি রয়ে গেছে পুরোনো প্রেম?
কখনো বন্ধুত্বের আড়ালে অপূর্ণ আবেগ থাকতে পারে। একজন হয়তো সম্পর্কটিকে সত্যিই শেষ করে নতুনভাবে এগিয়ে যেতে চাইছেন, কিন্তু অন্যজন তখনও ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখছেন। তাই বন্ধুত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে যোগাযোগের দরজাটি পুরোপুরি বন্ধ করতে চান না।
আবার কেউ কেউ সাবেক সঙ্গীর জীবনে নতুন মানুষ আসা সহজে মেনে নিতে পারেন না। তখন ‘বন্ধুত্ব’ পুরোনো সম্পর্কের সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত থাকার একটি উপায় হয়ে উঠতে পারে।
সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন দুজনের প্রত্যাশা এক থাকে না। একজন যদি শুধু বন্ধুত্ব চান এবং অন্যজন যদি পুরোনো প্রেম ফিরে পাওয়ার আশা করেন, তাহলে বন্ধুত্বের আড়ালে নতুন করে কষ্ট তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: আজ নতুন বন্ধু বানানোর দিন, পুরোনো বন্ধুত্বের গুরুত্বও তুলে ধরা হচ্ছে
প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব কি খারাপ?
সবসময় নয়। কিছু বিচ্ছেদ তিক্ততা ছাড়াই ঘটে। সময়ের সঙ্গে অনেক সম্পর্কেই প্রেমের জায়গা বদলে গিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্ব তৈরি হতে পারে। তাই সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেই যে কেউ পুরোনো সম্পর্কে আটকে আছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
সাইকোলজি টুডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের অন্তত একজন সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়েছে। প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের একাধিক সাবেক সঙ্গীর সঙ্গেও বন্ধুত্ব আছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সীমারেখা ও প্রত্যাশার মিল। প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে কি না, তার চেয়েও জরুরি হলো—এই যোগাযোগ দুজনের জন্যই স্বস্তির, সম্মানজনক ও স্পষ্ট কি না।
আরও পড়ুন: পূজায় মিষ্টিমুখ, ঘরেই বানান সুস্বাদু নারকেলের নাড়ু
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন