মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৫০ পি.এম
ঢাকার শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ঢাকার শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন কর্ড লাইন স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ পুরোপুরি এলিভেটেড হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব কমবে ৮০ কিলোমিটার, ফলে ঢাকা থেকে যাতায়াতের সময় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা হ্রাস পাবে। পুরো রেলপথ এলিভেটেড হওয়ায় প্রায় ৩২২ একর জমি সাশ্রয় হবে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা এবং জমি অধিগ্রহণের পর প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগবে চার বছর।’
এলপিজির সরবরাহ ও বাজার তদারকিতে ডিসিদের নির্দেশনা
এলপিজির দামের ক্ষেত্রে কিছু এলাকায় অস্থিরতা রয়েছে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকার ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে জ্বালানি বিভাগের একটি ভার্চ্যুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে কয়েকটি পদক্ষেপ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
‘প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে তার অধিক্ষেত্রে কর্মরত সব এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছ থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও মাস্টার ডিস্ট্রিবিউটর কত পরিমাণ এলপিজি পেয়েছেন, সেই তথ্য পরিমাণসহ সংগ্রহ করতে হবে। সংগৃহীত তথ্যে সংশ্লিষ্টদের বিস্তারিত পরিচয়ও থাকতে হবে।’
জেলা প্রশাসকদের অবিলম্বে জেলার বিদ্যমান এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারদের সঙ্গে সভা করে সরবরাহ, বিতরণ ও বাজারজাতকরণের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে।
এলপিজি সরবরাহের পুরো চ্যানেল অনুসরণ করে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, যাতে সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত ও যাচাই করা যায়। কোনো অপারেটর, ফ্র্যাঞ্চাইজি বা ডিস্ট্রিবিউটরের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের ডিলারের পাওয়া তথ্যের উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য দেখা গেলে তা পৃথকভাবে চিহ্নিত করতে হবে।
এলপিজি সরবরাহে অস্বাভাবিক ঘাটতি, সরবরাহ চ্যানেলে বিচ্যুতি অথবা অপারেটর থেকে ডিলার পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ করা পরিমাণে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জ্বালানি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও জানান জাহেদ উর রহমান।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আশাকরি, জ্বালানি নিয়ে কিছুটা অস্থিরতা যেটা আছে, এলপিজি নিয়ে বিশেষ করে যেটা মানুষের খুব বেসিক একটা নিড, হাউজহোল্ড একটা প্রয়োজনীয় জিনিস, এসেনশিয়াল জিনিস আমরা এভাবে বলব, সে সংকট কেটে যাবে।’
২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্য মজুতের সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার উদ্যোগ
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের খাদ্য সংরক্ষণ বা মজুতের সক্ষমতা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ সক্ষমতা ২৪ লাখ টনের কিছু বেশি।
বর্তমান সক্ষমতার মধ্যে প্রায় ৯২ হাজার টন বিভিন্ন কারণে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে পুরোনো অবকাঠামো ও নদীভাঙনের মতো বিষয় রয়েছে বলেও জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, বর্তমানে খাদ্য মজুতের সক্ষমতা ২৪ লাখ টনের কিছু বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করা হবে।
৬০টি ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, ৬০টি ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২১টি ডে কেয়ার সেন্টারের কার্যক্রম বাস্তবায়নের অনুমোদন চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, নারীরা এখন ক্রমবর্ধমান হারে কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছেন। কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের দেখাশোনা করা একটি বড় সংকট। বেসরকারি পর্যায়ে যেসব ডে কেয়ার সেন্টার রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ভালোমানের প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ ব্যয়বহুল। ফলে কম আয়ের অনেক নারী ও মা এসব সেবা নিতে পারেন না।
সরকারি উদ্যোগে ডে কেয়ার সেন্টার চালু হলে তা মায়েদের জন্য বড় সহায়তা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ক্রিটিক্যালিটি অর্জন
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট সফলভাবে ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করেছে। ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে ইউনিটটির রিঅ্যাক্টরে সফলভাবে ক্রিটিক্যালিটি অর্জিত হয়।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টরের কোরে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও টেকসই নিউক্লিয়ার ফিশন চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হয়েছে। ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর চুল্লিপাত্রের গুরুত্বপূর্ণ সব মাপকাঠি নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে এবং নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া চালু হয়েছে।’
তিনি বলেন, খুব দ্রুতই প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। শুরুতে অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে, পরে তা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে এটি নিশ্চয়ই একটি ভালো খবর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি ও ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দ্বারা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী সৈকত হালদার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের (৫১ ব্যাচ) ছাত্র। তার ক্লাস রোল ১১৮৬ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২০২২২০৫৫৭৯২। তিনি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, ওই শিক্ষার্থীর মন্তব্যের কারণে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী তাঁকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অভিযোগের তদন্তের জন্য সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে একই অধ্যাদেশের ২(গ) ধারা অনুযায়ী একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুর।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ-জেইউ) অধ্যাপক ড. কে এম জাহিদুল ইসলাম এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের ওয়ার্ডেন ড. মো. আলমগীর কবির। কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (সাধারণ প্রশাসন) মো. মাহতাব-উজ-জাহিদ।
অফিস আদেশে তদন্ত কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়, যেখানে তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেন যে, সালাহউদ্দিন আহমেদ ছিলেন বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের একজন লড়াকু সৈনিক ও অকুতোভয় নেতা। দলের দুঃসময়ে তিনি সাহস, নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন ও দলীয় কর্মকাণ্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দেশ ও দলের প্রতি সালাহউদ্দিনের অবদান বিএনপি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির এই ত্যাগী নেতার মৃত্যুতে দল একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারাল, যা দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
প্রধানমন্ত্রী মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, যিনি বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন, আজ তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর তিনটি ভিন্ন স্থানে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
শ্যামপুর-কদমতলী এলাকার প্রভাবশালী এই নেতা ১৯৯১ সালে ঢাকা-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বিএনপির বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং সবশেষ বিকেল ৩টায় শ্যামপুর লাল মসজিদে তৃতীয় জানাজা শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদকে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা একটি বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, ‘দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সর্বস্তরের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপাচার্য হিসেবে সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও সর্বাত্মক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আন্দোলন কেবল একজন ব্যক্তিকে একটি পদে পুনর্বহালের দাবি নয়; বরং এটি চুয়েটের স্বার্থ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মর্যাদা এবং ন্যায়সংগত দাবির প্রতি সম্মান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।
অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি ও সম্মান প্রদর্শনের পরিবর্তে প্রফেসর ড. আরাফাত রহমান রানা স্যারের কিছু কর্মকাণ্ড আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে গভীর আস্থার সংকট তৈরি করেছে। আন্দোলনরত চুয়েট পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সর্বাত্মক আন্দোলন চলাকালে তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ও স্বচ্ছতা বজায় না রেখে শরীফ স্যার এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তারা আরও বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটময় মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রত্যাশিত। অথচ আন্দোলনরত চুয়েট পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যে অবিশ্বাস ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি ও সম্মিলিত অবস্থানকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা সংকট নিরসনের পরিবর্তে সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।
এছাড়া, প্রফেসর ড. আরাফাত রহমান রানা স্যারের বিরুদ্ধে অতীতেও ক্যাম্পাসে সম্মানিত শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং তাদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ ও এ-সংক্রান্ত প্রমাণাদি থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মান, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা স্পষ্টভাবে জানাতে চান, চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, সম্মিলিত অবস্থান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের অভিযোগকে তারা কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখছেন না। তারা চান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত, ন্যায়সংগত দাবি এবং পারস্পরিক সম্মানের প্রতিফলন ঘটুক। কোনো ধরনের গোপনীয়তা, একতরফা পদক্ষেপ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ভিন্নমত থাকতে পারে, সেটি আলোচনার মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালানো পর্যন্ত তার গণতান্ত্রিক অধিকারের মাঝে পড়ে। কিন্তু তার প্রত্যক্ষ মদদে ক্যাম্পাসের হৃৎপিণ্ড-ভিসি ভবনের মতো জায়গায় যখন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও বহিষ্কৃত সন্ত্রাসী প্রবেশ করে তখন সেটা ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সুন্দর পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তার এহেন আচরণ চুয়েটের শিক্ষার্থীসমাজ কখনোই মেনে নিবে না।
উপরোক্ত পরিস্থিতি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গভীর ক্ষোভ এবং তার ভূমিকা নিয়ে সৃষ্ট গুরুতর আস্থার সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে প্রফেসর ড. আরাফাত রহমান রানাকে চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চুয়েট ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হচ্ছে।
তারা পুনরায় স্পষ্ট করে জানাতে চান, চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষা এবং শিক্ষাঙ্গনে জবাবদিহিতা ও সম্মানজনক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তাদের অবস্থান সুদৃঢ়। তারা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ, স্বচ্ছতা এবং চলমান সংকটের ন্যায়সংগত সমাধান প্রত্যাশা করছেন।
চুয়েটের স্বার্থ সবার আগে।
শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের সম্মিলিত অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ