০৬:২০ পি.এম
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে বলেছেন, কোনো ফ্যাসিস্ট শাসকের পতনের পর তাকে আবার ক্ষমতা বা রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় না। তিনি মন্তব্য করেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে ফিরে রাজনীতি করতে চাইলে তা জনগণ মেনে নেবে না।’
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ঢাকার যাত্রাবাড়ী মোড়ে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস বাস্তবায়ন কমিটি।
রুহুল কবির রিজভী আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে জানিয়েছেন, ‘ফ্যাসিস্টের পতন হলে পরে তাকে ফেরত আনা যায় না। যে রক্তের আলপনা সে এঁকেছে, সেই রক্তের আলপনা মাড়িয়ে আবার সে এ দেশে রাজনীতি করবে—এটা কী করে সম্ভব? এটা সেই দেশ, যে দেশ বারবার প্রতিরোধ করেছে, প্রতিরোধ করতে জানে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা যদি এ দেশে ফেরত এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া খানের যে উত্তরসূরি আছে, টিক্কা খানের যে উত্তরসূরি আছে, তাদেরও আনতে হবে।’
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
এদিকে, বিএনপির এই নেতা শিশু, কিশোর ও তরুণ হত্যার দায়কে কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয় বলে দাবি করেন। তিনি ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘হিটলার কিংবা মুসোলিনির মতো শাসকদের পতনের পর তাঁদের রাজনৈতিক ধারাও আর ফিরে আসতে পারেনি।’ তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ রক্তপাত ও দমন-পীড়নের রাজনীতি মেনে নেয় না।
রুহুল কবির রিজভী শেখ হাসিনার আমলে বিরোধী মত দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। রিজভী বলেন, ‘মানুষের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতারণা ও জনগণকে বিভ্রান্ত করাই তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন কেউ কেউ দেখি টক শোতে একটু একটু করে гলা-আওয়াজ করছে, এই শেখ হাসিনার আমলে এই হয়েছে, সেই হয়েছে এত উন্নতি হয়েছে। কেন একটা বড় দল তাকে কেন ইয়ে (নিষিদ্ধ) দেওয়া হবে, রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না, শেখ হাসিনার চলে আসতে হবে, শেখ হাসিনা যদি এতই পাওয়ারফুল হন, তে পালালেন কেন?’
রিজভী বলেন, ‘মইন ইউ আহমেদ, ফখরুদ্দীন আহমদ সাহেব কত চেষ্টা করেছেন, থ্রেট করেছেন, হুমকি দিয়েছেন, নিজে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন তবে শেখ হাসিনার কাছে আত্মসমর্পণ করেননি।’
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এর পর জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ধর্মের নামে রাজনীতি করা দলটির আদর্শিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে সত্য, ন্যায় ও আত্মত্যাগের যে শিক্ষা রয়েছে, জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন নেই।’
রিজভী এই প্রসঙ্গে বললেন, ‘গোটা দেশের জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে, আপনারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন ’৭১ সালে।’ তিনি আরও বলেন, ‘৮৬ সালে আপনারা হাসিনার সঙ্গে গিয়ে এরশাদের অধীনে নির্বাচন করলেন, অথচ অঙ্গীকার ছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলনের। ৫ আগস্টের পরে বলে দিলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সব মাফ করে দেব। আবার বললেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলব।’
অনুষ্ঠানে, জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিকভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে বারবার সংকটে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি জামায়াতের ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন: ‘আপনারা কি আমাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন? আমাদের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন? আমাদের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বিশ্বাস করেন?’
অন্যদিকে, জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবেই।’
আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রশাসক আবদুস সালাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন