ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেরপুরে মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা, বিচার দাবি


শেরপুরে মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় ছাত্রদল নেতার ওপর হামলা, বিচার দাবি

শেরপুরে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কারণে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে শেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদল এবং ডা. সেকান্দর আলী কলেজ ছাত্রদল।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের গৌরীপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন শেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রায়হান ইসলাম রাব্বী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন যে, সম্প্রতি তিনি এবং ডা. সেকান্দর আলী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি স্বাধীন মিয়া সহ কয়েকজন মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর ফলস্বরূপ গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে গৌরীপুর ব্র্যাক অফিসসংলগ্ন এলাকায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় মো. খোকন মিয়া ও মো. কুরবান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এবং মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

শেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রায়হান ইসলাম রাব্বী বলেন, "ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স করতে চাই। যাতে করে আমরাসহ আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম মাদকের দিকে আর ঝুঁকে না পড়ে।"

এ সময় শেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল কোরাইশী, ডা. সেকান্দর আলী কলেজ ছাত্রদল সভাপতি মো. স্বাধীন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. সৌরভ হাসান, শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল সভাপতি মো. জুয়েল রানা, বিএম কলেজ ছাত্রদল সভাপতি স্বাধীনুর ইসলাম শ্রাবণ, কসবা বিএম কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ঝলক আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সম্পত্তি হস্তান্তরে নতুন আইনের দিগন্ত উন্মোচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


সম্পত্তি হস্তান্তরে নতুন আইনের দিগন্ত উন্মোচন

সম্পত্তি দান করার পরও নিজের জীবদ্দশায় তা ভোগ ও ব্যবহার করার পূর্ণ আইনি অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রেখে দেশে সম্পত্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলো এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’ পাস হওয়ার মাধ্যমে এ নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

নতুন আইনের আওতায় সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি কাঠামোয় ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে একটি নতুন পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সম্পত্তির চূড়ান্ত মালিকানা গ্রহীতার অনুকূলে হস্তান্তর হলেও দাতা যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিন ওই সম্পত্তি নিজের মতো ভোগদখল ও ব্যবহার করার অধিকার পাবেন।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একটা নতুন দিগন্ত আমরা উন্মোচন করলাম। এই আইন দ্বারা হেবা কিংবা গিফট বা অন্য কোনোভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরকে বাধাগ্রস্ত করবে না বা ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটা বিকল্প করোনারি আনছি। কেউ যদি হেবা করতে চায়, হেবা করতে পারবেন। সেখানে কোনো বাধা নেই। কেউ যদি অন্য আইনে সম্পত্তি ডিল করতে চান, সেটাও করতে পারবেন। সেখানেও কোন বাধা নেই।’

ইসলামী আইনের সঙ্গে বৈপরীত্যের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ‘ইসলামিক ল’ বা হেবা আইনের ওপর কারো হাত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। আমরা সেখানে হাত দিইনি। আমরা হেবাকে সংরক্ষণ করেছি। আইনের মধ্যে এক্সপ্রেসলি সেটা বলেছি।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘একটা গ্রুপ এটা নিয়ে পলিটিক্স করার চেষ্টা করছে। এগুলো সাধারণ মানুষ গ্রহণ করছে না। সাধারণ মানুষ এই আইনটাকে খুব পজিটিভলি দেখছে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-কে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ট্রান্সফার অব প্রপারটি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় এটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আইনটির সংশোধনীর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাবা-মা, দাদা-দাদি বা নানা-নানি, সন্তান-সন্ততি বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার নিজের কাছে রাখতে পারবেন। আইনটিতে এ বিধান সময়োপযোগী সংশোধনী।

সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত সংশোধনী আইনটি যথাযথভাবে যেন সর্বত্র প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয় এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর পিতা-মাতার করুণ পরিণতির বহু ঘটনা আমরা দেখেছি। পিতা-মাতার প্রতি নিজ সন্তানদের অবজ্ঞার বহু নজিরও আমাদের সামনে রয়েছে।

একলাছ ভূঁইয়া বলেন, আমাদের দেশ চলে সাংবিধানিক আইনের অধীনে। দেশে প্রচলিত ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত পুরনো আইনটির সংশোধন করে জাতীয় সংসদ যে বিধান নিশ্চিত করেছে, এজন্য সরকারকে স্বাগত জানান তিনি।

সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ্ মিয়া বলেন, ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬ অনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তর বা দানে দাতার জীবনকালীন নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। দাতা তার জীবদ্দশায় সম্পত্তির পূর্ণ ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার নিজের কাছে অক্ষুন্ন রেখেই পরবর্তী প্রজন্মের অনুকূলে মালিকানা হস্তান্তর করতে পারবেন।

বিশিষ্ট এই আইনজীবী বলেন, সংশোধিত আইনটি সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এটি পিতা-মাতার প্রতি সন্তানদের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা এবং পারিবারিক সম্পর্কের ভিতকে মজবুত করবে। পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্বহীন, অমানবিক আচরণ পরিহার ও সতর্ক করতে এ আইনটি সময়োপযোগী এবং আইনি ও সামাজিক সঙ্কটের টেকসই সমাধান।

তিনি বলেন, পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং প্রবীণ বয়সে নিজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা-এই দ্বৈত সংকটের একটি সুষম ও আইনি সমাধান দেবে এই বিধান।

জাতীয় সংসদে পাস ও রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর গত ৮ সেপ্টেম্বর আইনটি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়। এটি ২০২৬ সালের ১০৫ নং আইন, যা সম্পত্তি হস্তান্তর আইন তথা ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত আইন।

আইনটি সংশোধন করে প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়েছে, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর অধীন জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান সংক্রান্ত বিধান সুনির্দিষ্ট করা এবং ওই ভোগাধিকার সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়। আইনটি ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) এ্যাক্ট, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আইনটির ধারা ১২২ক-জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে বলা হয়েছে, এই আইনে বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো দাতা তার জীবদ্দশায় কোনো সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার নিজের জন্য সংরক্ষণ করে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দান করলে, সেই দান বৈধ হবে।

উপ-ধারা (১)-এর অধীন দান বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো-এই ধরনের দান করতে পারবেন পিতা বা মাতা তার সন্তান বা সন্তানদেরকে; দাদা-দাদি বা নানা-নানি তার নাতি বা নাতনিকে; সন্তান তার পিতা-মাতা বা দাদা-দাদিকে; নাতি-নাতনি তার দাদা-দাদি বা নানা-নানিকে; অথবা স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরকে। তবে, দানটি যদি স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত হয়, তাহলে এই ধারার অধীনে ঘোষণা করে এবং রেজিষ্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী নিবন্ধিত দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে দান করতে হবে।

দাতার জীবদ্দশায় যদি গ্রহীতা মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তিটি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে। তবে সম্পত্তির ওপর দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে এবং সম্পত্তির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। অর্থাৎ, দানগ্রহীতা মারা গেলেও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার নষ্ট হবে না।

এই ধারায় সম্পত্তি হস্তান্তরকে এই আইনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র বা পৃথক ধরনের হস্তান্তর পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে এই আইন বা অন্য কোনো প্রচলিত আইনে স্বীকৃত সাধারণ দান, হেবা অথবা অন্য কোনো বৈধ হস্তান্তর পদ্ধতির বৈধতা সীমিত, ক্ষুণ্ন বা প্রভাবিত হবে না।

ধারা ১২২খ-জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো দান একবার নিবন্ধিত হয়ে গেলে সাধারণভাবে তা অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে- দাতা ও গ্রহীতা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একটি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে দানের ফলে সৃষ্ট অধিকার পরিবর্তন, বাতিল বা অন্য কোনোভাবে ব্যবস্থা করতে পারবেন, যদি তা প্রয়োজন হয়-আর্থিক প্রয়োজনের কারণে; চিকিৎসাগত প্রয়োজনের কারণে; শিক্ষাগত প্রয়োজনের কারণে; পারিবারিক প্রয়োজনের কারণে; অথবা অন্য কোনো প্রকৃত ও যৌক্তিক প্রয়োজনের কারণে। অথবা কোনো পক্ষের সম্মতি নেওয়া সম্ভব না হলে-যেমন-সে অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে; নিখোঁজ থাকলে; মানসিকভাবে অক্ষম হলে; আইনগত অক্ষমতা থাকলে; অথবা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণ থাকলে, অন্য পক্ষ জেলা জজের কাছে আবেদন করতে পারবেন।

জেলা জজ ধারা ১২২ক-এর অধীনে সৃষ্ট অধিকার পরিবর্তন, বাতিল বা অন্য কোনোভাবে ব্যবস্থাপনার অনুমতি দিতে পারবেন, যদি উপ-ধারা (১)(ক)-এ বর্ণিত প্রয়োজনীয়তার কোনো একটি বিদ্যমান থাকে। জেলা জজের আদেশের আগে করণীয় (২) উপ-ধারা (১)-এর (খ) দফার অধীনে কোনো আদেশ দেওয়ার আগে জেলা জজকে-(ক) সম্পত্তি বা সংশ্লিষ্ট অধিকারে স্বার্থ রয়েছে এমন সব ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে (খ) প্রয়োজন মনে করলে যথাযথ তদন্ত বা অনুসন্ধান করতে হবে; এবং (গ) নিশ্চিত হতে হবে যে আবেদনটি সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সুষম আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা। বিদ্যমান পারিবারিক সংকট দূর করার পাশাপাশি প্রবীণদের আত্মমর্যাদা ও আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই নতুন আইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিলুপ্ত লোমশ হাতি ম্যামথদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৮ পি.এম


বিলুপ্ত লোমশ হাতি ম্যামথদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শুরু

বিজ্ঞানীরা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া লোমশ ম্যামথকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান কলোসাল বায়োসায়েন্সেস এশীয় হাতির জিনে পরিবর্তন এনে ম্যামথের মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রাণী তৈরির পরিকল্পনা করছে। তবে, কবে নাগাদ এ ধরনের প্রাণীর জন্ম হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা বিদ্যমান।

ম্যামথ ছিল বিশাল আকৃতির একটি হাতির প্রজাতি। তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল লম্বা বাঁকানো দাঁত এবং ঘন লোমে ঢাকা শরীর। বরফযুগের কঠোর ঠান্ডা পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এসব বৈশিষ্ট্য তাদের সহায়তা করেছিল। কিন্তু হাজার হাজার বছর আগে অধিকাংশ ম্যামথ বিলুপ্ত হয়ে যায়।

বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনা অনুসারে, এশীয় হাতির জিন সম্পাদনা করে ম্যামথের মতো ঘন লোম, ঠান্ডা সহ্য করার ক্ষমতা এবং অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য তৈরি করার চেষ্টা করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি ও আধুনিক জীবপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

এ প্রকল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও জিনগত তথ্য বিশ্লেষণের মতো প্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে, এশীয় হাতির জিনে পরিবর্তন আনলেই যে সম্পূর্ণ ম্যামথ তৈরি করা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই। বরং বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য হলো, বিলুপ্ত ম্যামথের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হাতি তৈরি করা।

প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে ম্যামথের মতো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শাবকের জন্ম দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ২০৩০ সালের মধ্যে এ ধরনের প্রাণীকে পৃথিবীতে দেখা যেতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এই উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য তৈরি, প্রাণীর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা এবং প্রজনন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করা সহজ নয়। পাশাপাশি, প্রচণ্ড ঠান্ডার পরিবেশে এসব প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখা এবং তাদের জন্য উপযুক্ত আবাসস্থল তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

বিলুপ্ত প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ সফল হলে তা জীবপ্রযুক্তি গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বিলুপ্ত প্রাণী পুনরুদ্ধারের নৈতিকতা, প্রাণিকল্যাণ এবং পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিজিএফআই পরিচয়ে চাঁদাবাজি, তিনজন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


ডিজিএফআই পরিচয়ে চাঁদাবাজি, তিনজন গ্রেপ্তার

রাজধানীর উত্তরায় ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের ভুয়া পরিচয়পত্র, ওয়াকিটকি, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ, মোটরসাইকেল ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. রাসেল মাহবুব ওরফে মাছুম (৪২), সোহেল মির্জা (৪১) এবং মো. সজিব (৩৬)।

ডিএমপির উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর পুলিশের একটি টহল দল উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের একটি বাড়ির দশম তলার ফ্ল্যাটে যায়।

অভিযোগের ভিত্তিতে, সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি ফ্ল্যাটের মালিক কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদীকে নিজেদের ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দেন। তারা তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ভুক্তভোগী ভয়ে তাদের ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা দেন। পরে তাদের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হলে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের একটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করে। পরিচয়পত্রটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা ভুয়া ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের একটি ভুয়া পরিচয়পত্র, একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল, নগদ ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, একটি ওয়াকিটকি ও এক জোড়া হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) জানান, এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাঁজাসহ আটক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


গাঁজাসহ আটক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, যাদের গাঁজাসহ আটক করা হয়েছিল। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

এই তথ্য বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিনের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়।

সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন—গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র কাজী রিয়াজুস ছলেহীন, এস এম তৌফিক আলম এবং মো. মুশফিক উল ইসলাম।

বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক দপ্তরের নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনে ওই তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তাদের তল্লাশি করে গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ করেছে ছাত্রবিষয়ক পরিচালক দপ্তরের সদস্যরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ৬(খ) ও ২৪ ধারা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক এহসান মজিদ মোস্তফাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, "নিয়মিত টহল কার্যক্রমের সময় তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের কাছে মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর শৃঙ্খলা কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%