১০:০০ পি.এম
যারা ইউরোপের দেশ গ্রিসে ঘুরতে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন ইসরায়েলি পর্যটক ভয়াবহ একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তাদের লাগানো সেই আগুন থেকে ভয়ংকর দাবানল ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।
ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে, যা গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে সংগঠিত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রায় ৪ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর, গ্রিসের পুলিশ ওই ইসরায়েলি পর্যটকদের একজনকে আটক করেছে।
সংবাদ সূত্র অনুযায়ী, রোববার (২৩ আগস্ট) ৩৫ বছর বয়সী আলী ওই ইসরায়েলি পর্যটককে আদালতে সোপর্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে। খবরটি দ্য জেরুজালেম পোস্ট থেকে পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনার সময়ের বিস্তারিত তথ্য জানায়। তারা জানায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে পর্যটন শহর প্লাকিয়াসের কাছাকাছি দক্ষিণ রেথিমনোর সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিসংযোগ তদন্ত ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল একটি ভাড়া করা ভিলার আঙিনা থেকে যেখানে কিছু ইসরায়েলি পর্যটক অবস্থান করছিলেন।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তীব্র বাতাস ও উচ্চ অগ্নিঝুঁকির সতর্কতার মধ্যেও তারা বারবিকিউ জ্বালিয়েছিলেন। ভিলার মালিক জানান, নিরাপত্তার কারণে ওই এলাকায় বারবিকিউ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল এবং সেই বিষয়ে তাদের লিখিতভাবে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছিল।
যদিও মেনে না চলেই, ইসরায়েলিরা বারবিকিউ জ্বালান। এরপর আগুনের স্ফুলিঙ্গ বাতাসে উড়ে শুকনো গাছপালায় পড়ে যায়। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের খোলা এলাকায়।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট পাঠানো হয়। তাছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পানি বহনকারী ট্যাংকার, হেলিকপ্টার এবং স্বেচ্ছাসেবকরা আগুন নেভানোর কাজে অংশগ্রহণ করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে, গ্রিস কয়েক সপ্তাহ ধরে ভয়াবহ দাবানলের সাথে সংগ্রাম করে আসছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে রেথিমনো এলাকায় বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল। ন্যাশনাল অবজারভেটরি অব অ্যাথেন্সের তথ্যমতে, মাত্র দুইদিনে রেথিমনোর দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৪৫ হাজার জমির গাছপালা পুড়ে যায়।
ওই সময় আট হাজারের বেশি বাসিন্দা ও পর্যটককে বাড়ি ও হোটেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে ২২৪ জন দমকলকর্মী, ৫৩টি ফায়ার ইঞ্জিন এবং ১১টি বিশেষ ইউনিট কাজ করেছিল। আকাশপথে আগুন নিয়ন্ত্রণে প্লেন এবং হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই অভিযানে দুই দমকলকর্মীর নিহতের ঘটনাও ঘটে। তখন বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত ওঠে। কিছু এলাকায় ঝোড়ো বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়, যা আকাশপথে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজকে কঠিন করে দেয়।
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
এ বছর একাধিক দাবানলের পর গ্রিসের কর্তৃপক্ষ আগুন প্রতিরোধের নিয়ম ভাঙার বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। উচ্চ অগ্নিঝুঁকির দিনগুলোতে বারবিকিউ জ্বালানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও, শুকনো গাছপালা পোড়ানো বা আগুনের স্ফুলিঙ্গ তৈরি করতে পারে—এমন যে কোনো কাজও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন