বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০১ পি.এম
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ এবং নাশকতার ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণের ভিডিও পাঠালে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রদান করা হচ্ছে। এই কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে খোলা বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে আসছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতার নির্দেশনায় নাশকতার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ডিবি জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে নাশকতায় মাদকাসক্ত এবং ভাসমান মানুষদের পাশাপাশি দলীয় পদ-পদবির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদেরও যুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ককটেল তৈরির গোপন কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে।
সাম্প্রতিক অভিযানে যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর এবং সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রায়হান উদ্দিন, রাসেল খান, আলা উদ্দিন এবং আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে দক্ষিণ দুনিয়া কাঁচাবাজার এলাকা থেকে ১০টি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়।
পরদিন, ১৯ সেপ্টেম্বর কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সাখাওয়াত হোসেন রায়হান এবং মোহাম্মদ সানমুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে বোমাবাজির ঘটনায় সন্দেহভাজন সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফকে মোটরসাইকেল এবং ককটেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে রায়হান দাবি করেছেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেনের নির্দেশে তারা যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর ঘটনাটির ভিডিও নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানো হলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হতো।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির সতর্ক করে বলেছেন, ভারতীয় নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হলেও ব্যবহারকারী যে ভারতে অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। রোমিং সুবিধা কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে এসব অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা সম্ভব।
এদিকে, নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার সন্দেহে উত্তরা থেকে রবিউল ইসলাম নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ডিবির রমনা জোনাল টিম। পাসপোর্ট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্যে গরমিল পাওয়ায় তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজার থেকে বাস পোড়ানো এবং বোমাবাজির সমন্বয়ের অভিযোগে ডেমরা থানা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার থাকায় নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে। নাশকতার মূল নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও ভেঙে দিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম ৬ দফা দাবিতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে শহরের দিনাজপুর রোডে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সৈয়দপুর শাখার সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যাংকের বিনিয়োগকারী ও সাধারণ গ্রাহকরা অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান, সদস্য রেজওয়ান হাসান, আবুল কালাম, আব্দুস সালামসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বক্তারা এ সময় ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেন।
ফোরামের নেতারা আরও উল্লেখ করেন, এস আলম শেয়ার ও পাচারকৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। মূল উদ্যোক্তাদের কাছে ব্যাংকের মালিকানা হস্তান্তর এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ গঠনের জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের আমানত ও আর্থিক নিরাপত্তা জড়িত। তাই ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
তাদের দাবিগুলো হলো:
১. চেয়ারম্যানের অপসারণ: অপেশাদার, ব্যর্থ ও এস আলম চক্রের সুবিধাভোগী বর্তমান চেয়ারম্যান জহির হোসেনকে অনতিবিলম্বে পদত্যাগ/অপসারণ করতে হবে।
২. স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠন: ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিংয়ে দক্ষ, যোগ্য, সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ (Board of Directors) গঠন করতে হবে।
৩. প্রকৃত মালিকানা ও শেয়ার বাজেয়াপ্তকরণ: এস আলমের অবৈধভাবে অর্জিত ৮২শতাংশ শেয়ার ও পাচারকৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের দায় শোধ করতে হবে এবং মূল উদ্যোক্তা/আদি মালিকদের কাছে ব্যাংকের মালিকানা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. চুক্তি নবায়ন ও স্থায়িত্ব: ব্যাংকের পরিচালনা বজায় রাখতে আগামী দুই বছর কোনো ঊর্ধ্বতন নির্বাহীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা যাবে না এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ নবায়ন করতে হবে।
৫. দালাল চক্রের বহিষ্কার: ব্যাংকের অভ্যন্তরে সক্রিয় এস আলমের চিহ্নিত দালাল ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের অবিলম্বে শনাক্ত করে ব্যাংক থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
৬. বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও আইনি ব্যবস্থা: ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এডিস মশাবাহিত এই রোগটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহীন দিনের সংখ্যা অত্যন্ত কম। এই অবস্থায় ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকরী এবং টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো উল্লেখ করে একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে।
বার্তায় জানানো হয়েছে, যদি কেউ ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনো একটি লক্ষণ অনুভব করেন, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
ডব্লিউএইচও’র উল্লেখিত ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তীব্র মাথা ব্যথা; চোখের পেছনের দিকে ব্যথা; হাড়ের জোড়া এবং মাংসপেশিতে ব্যথা; বমি বমি ভাব; বমি করা এবং চামড়ায় লালচে ছোট ছোট ফুসকুড়ি ওঠা।
এসব লক্ষণের যেকোনোটি দেখা দিলে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
এদিকে, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। শুধু চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২২ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১০৪ ডেঙ্গু রোগীর। সর্বশেষ বুধবারের (২৩ সেপ্টেম্বর) আপডেট অনুযায়ী, এডিস মশাবাহিত রোগটি ৬ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। একই দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ বছরে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু পরবর্তী ৭ বছর ৯ মাসে মশাবাহিত রোগটিতে ৩ হাজার ৪৬৬ জন মারা গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯১ জন; আগের দেড় যুগে যা ছিল ৫০ হাজার ২০৮।
অর্থাৎ, শেষ ৭ বছর ৯ মাসে আগের দেড় যুগের তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে ১১ দশমিক ৭১ গুণ এবং আক্রান্ত বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬৬ গুণ।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, আক্রান্তের সংখ্যা কম নথিভুক্ত হওয়া, হাসপাতালে ভর্তিতে দেরি করা এবং একই ব্যক্তি বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের পরিবেশের সঙ্গে এডিস মশা বেশ ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। তাই ডেঙ্গুকে এখন আর শুধুমাত্র মৌসুমি রোগ হিসেবে দেখা সম্ভব নয়। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও এই মশা বংশবিস্তার করতে সক্ষম। এমনকি ফেলে দেওয়া ছোট পাত্রের ভেতরেও এডিস মশার প্রজনন ঘটে। এর বিস্তার এখন আর কেবল শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, এটি ক্রমেই গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বারবার সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একজন ব্যক্তি একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। যেসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কম বা শূন্যের কোটায় ছিল, তারাও এখন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বল্পমেয়াদি অভিযানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত এবং জনকেন্দ্রিক জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে যাত্রী হিসেবে মো. শহিদুল ইসলাম (৪২) যাচ্ছিলেন। তার হাতে ছিল দুটি কোর্ট ফাইল। বাহ্যিকভাবে সাধারণ নথিপত্র রাখার ফাইল মনে হলেও, সেগুলোর ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ছিল ১৯ হাজার ৮৪৫ পিস ইয়াবা।
চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের এই ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৭)।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় এসআরবি।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. শহিদুল ইসলাম খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার দরগাপাড়ার আলী মিয়ার সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম শহর থেকে ইয়াবা কিনে বেশি দামে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে এসআরবি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি জানতে পারে যে, এক মাদক কারবারি চট্টগ্রাম শহর থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের লালবাগ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। পৌনে ১১টার দিকে মহিউদ্দিন মেরিন ইঞ্জিন স্টোরের সামনে স্টারলাইন পরিবহনের একটি বাস এলে থামার সংকেত দেওয়া হয়। পরে বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে যাত্রীবেশে থাকা শহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়।
সংস্থাটি জানায়, আটক শহিদুলের কাছে থাকা অ্যাশ রঙের দুটি কোর্ট ফাইলের ভেতর কসটেপ দিয়ে মোড়ানো নীল রঙের পলিজিপার প্যাকেট পাওয়া যায়। সেগুলোর ভেতর থেকে মোট ১৯ হাজার ৮৪৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এ মোজাফফর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলাম ও উদ্ধার করা ইয়াবা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সেপ্টেম্বর মাসের চতুর্থ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী রিমেম্বার মি থার্সডে পালিত হচ্ছে। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত এবং নতুন পরিবারের অপেক্ষায় থাকা অসংখ্য প্রাণীর প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। একই সঙ্গে, যেসব প্রাণী এখনও নিরাপদ ও স্থায়ী আবাস খুঁজে পায়নি, তাদের স্মরণ এবং প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয় এই দিনে।
একটি প্রাণীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে দত্তক নেওয়া মানুষের জীবনে আনন্দ ও পরিবর্তন আনতে পারে, পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীটিও একটি নিরাপদ ও ভালোবাসাপূর্ণ বাড়ি পেতে পারে। অনেক প্রাণী দীর্ঘ সময় ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার পরেও নতুন পরিবার খুঁজে পায় না। রিমেম্বার মি থার্সডে সেই প্রাণীদের কথা মনে করিয়ে দেয়।
যেভাবে শুরু হলো রিমেম্বার মি থার্সডে
রিমেম্বার মি থার্সডে একটি আন্তর্জাতিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হেলেন উডওয়ার্ড অ্যানিমেল সেন্টার এই উদ্যোগের সূচনা করে। প্রতিষ্ঠানটি সান দিয়েগো কাউন্টিতে অবস্থিত এবং দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের জন্য স্থায়ী ও নিরাপদ আবাস খুঁজে দেওয়ার কাজ করে আসছে।
প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবার দিবসটি পালিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দিবসের বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
দিবসটির প্রচারে ডায়ান কিটন, ইয়ান সোমারহাল্ডার ও ওয়াইনোনা জাডসহ বেশ কয়েকজন পরিচিত তারকাও যুক্ত হয়েছেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে। ২০১৭ সাল নাগাদ ৩৩ কোটিরও বেশি মানুষ প্রাণী দত্তক নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির এই উদ্যোগে যুক্ত হন।
দত্তক নেওয়ার মাধ্যমে একটি প্রাণীর জীবন বদলে যেতে পারে। রিমেম্বার মি থার্সডে পালনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কোনো প্রাণী দত্তক নেওয়া। ভালোবাসা ও যত্নের সঙ্গে একটি প্রাণীকে পরিবারের সদস্য করে নিলে তার জীবনও বদলে যেতে পারে।
যারা নতুন পোষ্য নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা স্থানীয় প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে দত্তক নেওয়ার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। একটি প্রাণী দত্তক নিলে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অন্য একটি প্রাণীর জন্যও জায়গা তৈরি হতে পারে।
পাশে দাঁড়ানোর আরও সুযোগ
সবাই প্রাণী দত্তক নিতে না পারলেও আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা যায়। প্রাণীদের খাবার দেওয়া, যত্ন নেওয়া, কুকুরকে হাঁটতে নিয়ে যাওয়া, তাদের শরীরচর্চার সুযোগ করে দেওয়া কিংবা আশ্রয়কেন্দ্র পরিষ্কার রাখার মতো কাজেও সহযোগিতা করা যায়।
এছাড়া প্রাণী দত্তকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে।
ছড়িয়ে দেওয়া যায় সচেতনতার বার্তা
রিমেম্বার মি থার্সডের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দত্তক নেওয়া প্রাণীর ছবি, গল্প ও অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়।
একটি পোষ্য কীভাবে জীবনে আনন্দ এনেছে, তার সঙ্গে কাটানো বিশেষ মুহূর্ত কিংবা দত্তক নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরলে অন্যরাও আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের কথা ভাবতে উৎসাহিত হতে পারেন।
নতুন ঘর না পাওয়া প্রাণীদের স্মরণ
রিমেম্বার মি থার্সডের আরেকটি প্রতীকী আয়োজন হলো আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কখনো নতুন বাড়িতে যেতে না পারা প্রাণীদের স্মরণে মোমবাতি জ্বালানো। কেউ বাড়িতে একাই মোমবাতি জ্বালিয়ে অংশ নিতে পারেন, আবার বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের নিয়েও ছোট আয়োজন করা যায়।
মোমবাতির আলো যেন মনে করিয়ে দেয়—আজও অনেক প্রাণী একটি নিরাপদ আশ্রয় ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবারের অপেক্ষায় রয়েছে।
রিমেম্বার মি থার্সডে তাই শুধু একটি দিবস নয়; এটি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রাণীদের কথা মনে করার, তাদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার এবং প্রাণী দত্তকের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।
উল্লেখ্য, বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার বিভিন্ন সমীক্ষা ও প্রাক্কলন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট কুকুরের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ, যার মধ্যে ৮৩ শতাংশের বেশি বা প্রায় ১৪–১৫ লাখ বেওয়ারিশ। বিভিন্ন সময়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের জরিপ এবং প্রাণিকল্যাণ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীর রাস্তায় আনুমানিক ৩৭ হাজার থেকে ৫০ হাজার বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে। তবে দেশে বেওয়ারিশ বিড়ালের সুনির্দিষ্ট সরকারি বা বেসরকারি পরিসংখ্যান নেই; প্রাণিকল্যাণ কর্মীদের মতে, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরের অলিগলি, কাঁচাবাজার ও ডাস্টবিন এলাকায় বিপুল সংখ্যক আশ্রয়হীন বিড়াল রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ