ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দাদির বাড়ি থেকে শটগান এনে স্কুলের সামনে গুলি ছুড়ল শিক্ষার্থী, আহত ১১


দাদির বাড়ি থেকে শটগান এনে স্কুলের সামনে গুলি ছুড়ল শিক্ষার্থী, আহত ১১

তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনা মঙ্গলবার সকালে মানিসা প্রদেশের তুরগুতলু জেলায় ঘটে। পুলিশ সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে আটক করেছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানিসা প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয় জানায়, হামলাটি একটি ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল হাইস্কুলের সামনে সংঘটিত হয়। ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম হাবেরতুর্কের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন হামলাকারী ইনচি উজমেজ ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল আনাতোলিয়ান হাইস্কুলের শিক্ষার্থী। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সে তার দাদির বাড়ি থেকে নিয়ে আসা একটি শটগান নিয়ে স্কুলের সামনে উপস্থিত হয়। এরপর আশপাশে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি স্কুলের কাছের সড়কে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে রয়েছে। অন্যান্য ভিডিওতে তাকে অস্ত্র হাতে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে দেখা যায়। তবে হামলার কারণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানান, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বিচারমন্ত্রী গুরলেক আরও জানান, ঘটনার তদন্তের জন্য দুজন প্রধান কৌঁসুলি নিয়োগ করা হয়েছে। স্কুলে ওই শিক্ষার্থীকে হয়রানি বা নির্যাতন করা হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মা-বাবা ও দাদাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যিনি অস্ত্রটির মালিক ছিলেন।

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা দ্রুত স্কুলে ছুটে যান। তবে পুলিশ স্কুলের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিলে অভিভাবকদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা বাগ্‌বিতণ্ডা হয় বলে তুরস্কের সংবাদপত্র জুমহুরিয়েত জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

ঘটনার পর তুরস্কের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই ঘটনায় ‘আমাদের জাতি এবং বিশেষ করে শিক্ষাঙ্গনের মানুষ গভীরভাবে মর্মাহত’। ঘটনার তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিনজন জাতীয় পর্যায়ের তদন্তকারীকে মানিসায় পাঠানো হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি বছর তুরস্কে আরও দুটি স্কুলে গুলির ঘটনা ঘটেছিল। গত সপ্তাহে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময় দেশটির সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছিল।

এপ্রিল মাসে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সানলিউরফা প্রদেশের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে সাবেক এক শিক্ষার্থী গুলি চালায়, যাতে ১৬ জন আহত হন। পরে ওই হামলাকারী আত্মহত্যা করে।

এর পরদিন কাছের কাহরামানমারাশ প্রদেশের একটি স্কুলের দুটি শ্রেণিকক্ষে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী গুলি চালায়, এতে আটজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হন এবং ১৩ জন আহত হন। পরে পুলিশের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হয়।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাওরের বুকে, শত প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


হাওরের বুকে, শত প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে

সকাল আনুমানিক সাতটা। কাঁধে স্কুলব্যাগ নিয়ে বাহেরবালী গ্রামের একজন কিশোরী হাওরের তীরে এসে দাঁড়ালেন। তার পাশে বাবা শক্ত করে হাত ধরে আছেন। অন্য হাতে একটি লাঠি দিয়ে তিনি সামনের পানির গভীরতা মাপছেন। নৌকা আসতে দেরি হচ্ছে। তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে আরও পাঁচ-ছয়জন শিক্ষার্থী—সবাই সেই একটিমাত্র নৌকার অপেক্ষায়।

স্কুল শুরু হতে তখন আর মাত্র আধঘণ্টা বাকি। কিন্তু প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য নৌকা রয়েছে মাত্র দুটি। বাহেরবালী ও আশেপাশের গ্রামের শিশুদের জন্য এটিই একমাত্র কাছাকাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

পানির বুকে বিদ্যালয়

দূর থেকে দেখলে মনে হয় এটি একটি আশ্রয়কেন্দ্র। চারদিকে বিস্তৃত থইথই পানি, আর তার ঠিক মাঝখানেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি তিনতলা ভবন। নিচতলা পুরোটাই ফাঁকা—বছরের অধিকাংশ সময়ই এটি হাওরের পানিতে ডুবে থাকে। শুধু দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পাঠদান চলে, ফলে পুরো ভবনটি পানির ওপর ভেসে আছে বলে মনে হয়। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই। পৌঁছানোর একমাত্র উপায় নৌকা।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নে অবস্থিত এটি 'বাহেরবালী এসইএসডিপি মডেল হাই স্কুল'। প্রতিদিন নিয়ম করে ক্লাস চলে এখানে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও আশেপাশের যেকোনো স্কুলের চেয়ে বেশি। বছরের প্রায় নয় মাসই স্কুলের চারপাশ জলমগ্ন থাকায় কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগেই দুটি নৌকার ব্যবস্থা করেছে। এভাবেই দুর্গম হাওরাঞ্চলের এই জলঘেরা পরিবেশে দিন দিন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিপা দাস বলেন, 'নৌকা ধরতে আমাদের অনেক ভোরে উঠতে হয়। কেউ নৌকা মিস করলে সেদিন তার ক্লাসও মিস হয়ে যায়।' বাহেরবালী, পুরাকান্দা, আয়নারগোপ, শিবপুর ও বোয়ালী—এই পাঁচটি গ্রামের তিন শতাধিক ছেলেমেয়ে এখন এই স্কুলে পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আশেপাশের গ্রামগুলোর মানুষের সামনে যেন এক নতুন সুযোগ খুলে গেছে—শিক্ষার মাধ্যমে সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার এক অনবদ্য সুযোগ।

রিপার বাবা রফিক উদ্দিন বলেন, 'স্কুলটা হওয়ার পর থেকে এখানকার মানুষের বাচ্চাদের পড়াশোনা করানোর আগ্রহ অনেক বেড়েছে।' শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালিন 'এসইএসডিপি' এবং বর্তমান 'সেসিপ' (সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম) প্রকল্পের অধীনে বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মিত হয়। প্রকল্পের আওতায় ২০০৭ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০১১ সালে শেষ হয় এবং ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়।

সুবিধাবঞ্চিত ও অনগ্রসর এলাকায় মাধ্যমিক শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রকল্পের অধীনে সারাদেশে মোট ৮৩টি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়, যার মধ্যে ভবন নির্মাণ, শ্রেণি কার্যক্রম চালু এবং সরকারি স্বীকৃতি প্রদানের পুরো প্রক্রিয়াটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিবিধ প্রতিকূলতার মুখোমুখি এক বিদ্যালয়

২০১৭ সালের জুলাই মাসে এই ৮৩টি বিদ্যালয়কে এমপিও (মান্থলি পে অর্ডার) ভুক্ত করা হয়। তবে বাহেরবালী স্কুলটি এখনো পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি পায়নি। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হলেও নবম ও দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেলেনি স্বীকৃতি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিাপন চন্দ্র দাস জানান, ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, 'সেসময় একটি চিঠি ইস্যু করা হলেও তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। আমরা এখন সব কাগজপত্র নতুন করে গুছিয়ে আবারও এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছি।'

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সারাদেশে নতুন করে এমপিও আবেদনের আহ্বান জানানো হয়। সেই সুযোগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইনে আবেদনও করে। বর্তমানে সরকারিভাবে প্রক্রিয়াটি স্থগিত থাকলেও প্রয়োজনীয় হার্ডকপি ও কাগজপত্র তারা সংরক্ষণ করে রেখেছেন। প্রক্রিয়াটি পুনরায় শুরু হলে স্কুলটি এর অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশাবাদী প্রধান শিক্ষক।

২০১৩ সালে যখন শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়, তখন মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ জনে। পাঠদানে নিয়োজিত আছেন ১০ জন শিক্ষক এবং দুইজন পিয়নসহ মোট তিনজন কর্মচারী কাজ করছেন। স্কুলে একটি ল্যাব রুম, একটি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং একটি শিক্ষক মিলনায়তন রয়েছে।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা মিলিয়ে ১৪টি সুবিশাল শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্ধেক ফি নেওয়া হয়, আবার অনেকের পুরো ফি-ই মাফ করে দেওয়া হয়। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ফি ১৫০ টাকা এবং নবম ও দশম শ্রেণির ফি ২০০ টাকা। মেধাভিত্তিক ফলের ওপর ভিত্তি করে অনেক শিক্ষার্থী বৃত্তিও পেয়ে থাকে।

প্রধান শিক্ষক জানান, ফি আগে আরও কম ছিল—ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির জন্য মাসে ৬০ টাকা, অষ্টম শ্রেণির জন্য ৭০ টাকা এবং নবম ও দশম শ্রেণির জন্য ৮০ টাকা।

কম্পিউটার শিক্ষক হাসান কবির বলেন, 'আমাদের মাত্র একটি ল্যাব রুম আছে। যা আছে তা দিয়েই আমরা শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করি। ডিসি অফিস থেকে দেওয়া তিনটি মাত্র ডেস্কটপ দিয়ে আমাদের সব ল্যাবের কাজ চলে। সম্প্রতি একটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেটি মেরামত করতে ৫,০০০ টাকা খরচ হয়েছে। আর একটি ডেস্কটপ একদম চুরিই হয়ে গেছে।' স্কুলটির পথচলা কোনোভাবেই সহজ ছিল না।

এর সবচেয়ে বড় সংকট হলো পানির ওপর দিয়ে ৩০০ শিক্ষার্থী পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত নৌকা না থাকা। ২০১৬ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন ৪০ জন ধারণক্ষমতার একটি নৌকা উপহার দেন। তিন টনের সেই লোহার নৌকাটি এখনও গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করে। নৌকাটি চালু রাখতে এবং দৈনন্দিন খরচ মেটাতে শিক্ষার্থীরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী দিনে ৫ থেকে ১০ টাকা করে দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা নূর ইসলাম বলেন, 'এখানকার রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও ভালো হলে শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সুবিধা হতো। খারাপ আবহাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে ভয় পায়, অভিভাবকরাও তাদের পাঠাতে চান না।' প্রতিদিন সকালে ক্লাস শুরুর আগে এবং বিকেলে ছুটির পর নৌকাটি কয়েকবার আসা-যাওয়া করে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ও ১০ জন শিক্ষককে পারাপার করে।

যে অনুপ্রেরণায় টিকে আছে বিদ্যালয়টি

একপর্যায়ে নৌকাটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়ে। তখন শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের যাতায়াত চরম হুমকির মুখে পড়ে। নৌকাটি মেরামত না করা হলে স্কুলে আসা-যাওয়া একেবারেই বন্ধ হয়ে যেত—তাই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় এলাকাবাসীকে নিয়ে বৈঠকে বসে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং সেই কমিটির উদ্যোগে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে অবশেষে নৌকাটি মেরামত করা হয়।

প্রধান শিক্ষক জানান, শুরুতে শিক্ষার্থীরা একটিমাত্র নৌকায় যাতায়াত করত। ২০১৯ সালে জনপ্রিয় টেলিভিশন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'ইত্যাদি' থেকে পাওয়া অনুদানের টাকায় দ্বিতীয় নৌকাটি তৈরি করা হয়।

২০১৯ সালের অক্টোবরে 'ইত্যাদি' এই বিদ্যালয়কে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেয়। সেই টাকায় স্কুল রং করা, দ্বিতীয় নৌকাটি তৈরি, ফ্যান বসানো এবং মেঝের কিছু অংশ টাইলস ও প্লাস্টার করে সংস্কার করা হয়।

তা সত্ত্বেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিদ বলেন, 'মাঝে মাঝে যখন বেশি শিক্ষার্থী থাকে, তখন আমাদের পুরোটা পথ নৌকায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আরও দু-একটা নৌকা থাকলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো।'

মাঝি রমিজ উদ্দিন বলেন, 'আমি একবারে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে পারাপার করি। এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। একবার নৌকাটি ডুবেও গিয়েছিল—তবে ছেলেমেয়েরা সাঁতার জানার কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।'

খেলার মাঠ ও সুপেয় পানির সংকটও এই বিদ্যালয়ের নিত্যসঙ্গী। মাঠটি বছরের পর বছর মাসজুড়ে পানিতে নিমজ্জিত থাকে, তাই শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা বা শরীরচর্চার সুযোগ পায় না। পানির অভাবও রয়েছে—আগে দুটি পানির ট্যাপ ছিল, যার একটি ভেঙে অব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়ে। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য নতুন একটি ট্যাপ বসানো হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক বলেন, 'মাঠটি ব্যবহারের উপযোগী করতে চারপাশ থেকে মাটি এনে পুরো মাঠ উঁচু করতে হবে। এতে অনেক টাকার প্রয়োজন, যা স্কুলের পক্ষে একা জোগাড় করা কঠিন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আমরা নতুন আরেকটি পানির ট্যাপের জন্যও আবেদন করেছি।'

মাঠ নিয়ে তার গলার স্বরে কিছুটা ক্ষোভ ও আক্ষেপ ফুটে ওঠে—মাটি কেটে উঁচু করা গেলে বাচ্চারা খেলতে পারত, যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি হতো; সেই সঙ্গে আরও কয়েকটি নৌকা পাওয়া গেলে মূল সমস্যাটি অনেকটাই লাঘব হতো বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এমনকি শুষ্ক মৌসুমেও বহেরবালী, পুরাকান্দা, বোয়ালী, আয়নারগোপ ও পারকচ্ছাপ্লা—এই পাঁচটি হাওরসংলগ্ন গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীদের ফসলি জমির সরু আইল ধরে এক থেকে তিন কিলোমিটার হেঁটে আসতে হয়।

রিপা দাস বলেন, 'মূল ভূখণ্ড থেকে স্কুলে আসার কোনো সংযোগ সড়ক নেই। তাই বর্ষা হোক কিংবা শুষ্ক মৌসুম, আমাদের কষ্ট একই থেকে যায়।'

বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো দূর করার জন্য জেলা শিক্ষা অফিসার তাদের লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানতে পেরেছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সমস্যাগুলো উল্লেখ করে গত ৯ সেপ্টেম্বর তিনি একটি আবেদন জমা দেন। তিনি বলেন, 'আমরা আশা করি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।'

জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুন নাহার মাকসুদা বলেন, বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবেন। তিনি বলেন, 'সময় লাগবে, তবে আমরা একটি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করব।' দুর্গম এই হাওরাঞ্চলে আর কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় এই স্কুলটিই স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে। দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হলেও বাহেরবালী হাই স্কুলের শিক্ষার মান কোনো অংশেই কম নয়—বার্ষিক ফলাফল নিয়মিতই ভালো হয়, যেখানে এসএসসির পাসের হার সাধারণত ৮০ শতাংশের ঘরে থাকে। এই দুর্গম হাওরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফলাফল মোটেও ছোট কোনো অর্জন নয়।

প্রধান শিক্ষক বলেন, 'এ বছর আমাদের এসএসসির পাসের হার ৭৬.০৬ শতাংশ। সাতজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৪ পেয়েছে। আমাদের পাসের হার কখনোই ৭০-এর নিচে নামেনি। সাধারণত ৮০ শতাংশের ওপরেই থাকে। এবার সব জায়গায় ফলাফল কিছুটা খারাপ হয়েছে, আমাদেরও তা-ই। তবে এবার বাজিতপুর উপজেলার সবকটি স্কুলের মধ্যে আমাদের স্কুল প্রথম হয়েছে।'

ভবনের ছাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিজেদের হাতে ফুল ও ফলের একটি সুন্দর বাগান তৈরি করেছেন। ওপর থেকে দেখলে মনে হয় যেন হাওরের বুকে ভেসে থাকা একটি ছোট সবুজ দ্বীপ। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিদ জানান, 'এত সুন্দর একটি স্কুলে পড়তে পেরে আমাদের খুব ভালো লাগে। আমাদের শিক্ষকরা খুব যত্ন নিয়ে পড়ান এবং নিশ্চিত করেন যেন আমরা প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন বুঝতে পারি।'

ঝুঁকিপূর্ণ নৌকা ভ্রমণ, পানিতে ডুবে থাকা খেলার মাঠ, সুপেয় পানির সংকট, এমপিও স্বীকৃতির দীর্ঘ প্রতীক্ষা—এই কষ্টগুলো নিত্যসঙ্গী হলেও বাহেরবালী হাই স্কুলের এগিয়ে চলা থেমে নেই।

বাহেরবালীর তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছে স্কুলে যাওয়া মানে এখনো নৌকার জন্য অপেক্ষা দিয়ে শুরু হওয়া এক যাত্রা। প্রতিদিন সকালে তারা পানি পার হয়ে পৌঁছায় সেই শ্রেণিকক্ষে, যেখানে দাঁড়িয়ে তারা হাওরের সীমা ছাড়িয়ে এক নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তারা জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কর্তৃক আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে (ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট) অংশগ্রহণ করেছেন।

এই প্রাতরাশের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের আনুষ্ঠানিক ও ব্যস্ত সফর সূচির সূচনা হলো। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে এই প্রাতরাশ সভার আয়োজন করেন।

প্রাতরাশের শুরুতে বিশ্বনেতারা একে একে তাদের সহধর্মিণীদের নিয়ে অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত হন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে সেই মঞ্চে ওঠেন এবং আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

প্রাতরাশ শেষে, সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন। এই অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত রয়েছেন।

সফর সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। এটি হবে জাতিসংঘে তাঁর প্রথম ভাষণ এবং প্রথা অনুযায়ী তিনি বাংলায় বক্তব্য রাখবেন।

জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জবিতে ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


জবিতে ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। এই সম্মাননা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন বিভাগের ৩৪ শিক্ষককে পুরস্কৃত করা হয়। তাদের মধ্যে অধ্যাপক ড. ইমরানুল হকও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

পুরস্কার পাওয়ার পর অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক মন্তব্য করেন, এই স্বীকৃতি তাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো গবেষণায় উৎসাহিত করবে। তিনি নতুন জ্ঞান তৈরির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ সমৃদ্ধ করতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আরও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধুমাত্র শিক্ষাদান ও ডিগ্রি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; জ্ঞান সৃষ্টিও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষকদের চিন্তার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। এ জন্য তিনি গবেষণায় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ চালু ও প্রদান করতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনন্দিত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য গবেষণার পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উপাচার্য আরও বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তাদেরও গবেষণামুখী কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ছয় শিক্ষাবর্ষে মোট ৩৪ শিক্ষক এই পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ১১ জন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ১১ জন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৫ জন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ৫ জন, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ১ জন এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ১ জন রয়েছেন।

গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, অধ্যাপক, গ্রন্থাগারিক, প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিবহন প্রশাসক ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। পরে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পবা উপজেলা প্রশাসনের অভিনব উদ্যোগ: সার সংকট মোকাবিলায় ডিজিটাল ওয়েবসাইট চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


পবা উপজেলা প্রশাসনের অভিনব উদ্যোগ: সার সংকট মোকাবিলায় ডিজিটাল ওয়েবসাইট চালু

রাজশাহীর পবা উপজেলায় ‘পবা সার ডটকম’ নামের একটি ডিজিটাল ওয়েবসাইট সেবা চালু করা হয়েছে, যা কৃষকদের মধ্যে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে সহায়তা করবে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ডিলারের কাছে সারের মজুত, বিক্রি ও অবশিষ্টের তথ্য অনলাইনে পাওয়া যাবে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী এই সেবার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান।

ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন জানান, সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ দিচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে তদারকি করতে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকার পরও সারের সুষম বণ্টন না হওয়ায় অনেক কৃষক তাদের ন্যায্য পরিমাণ সার পাচ্ছেন না। আবার কিছু কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার নেওয়ার কারণে অন্য কৃষকরা তাদের প্রাপ্য সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে ‘পবা সার ডটকম’ চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কৃষকদের নতুন কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে না। তারা আগের মতোই ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনবেন, তবে ডিলারদের তাদের মজুত ও বিক্রির তথ্য ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করতে হবে। এর ফলে প্রশাসন অনলাইনে জানতে পারবে, কোন ডিলারের কাছে কত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে।

ইউএনও আরও জানান, পবা উপজেলার প্রায় ২৫ জন ডিলারের মজুতের তথ্য ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে। কোনো এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ সার বিক্রি হলে ওয়েবসাইটে সতর্কতামূলক বার্তা আসবে। তখন সংশ্লিষ্ট এলাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে।

সারের বিতরণব্যবস্থা তদারকির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার পাওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। তাদের পরিদর্শন জিপিএস লোকেশনের মাধ্যমে নথিভুক্ত হবে। এরপর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের ১০ জন ট্যাগ কর্মকর্তা তাদের কার্যক্রম তদারকি করবেন। উপজেলা প্রশাসনও পুরো ব্যবস্থাটি পর্যবেক্ষণ করবে।

ইউএনও জানান, ‘পবা সার ডটকম’ মূলত একটি প্রগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ। এটি ওয়েবসাইট হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে অ্যাপের মতো যুক্ত করা যাবে। বর্তমানে এটি পাইলট ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এতে পরিবর্তন ও নতুন সুবিধা যুক্ত করা হবে।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রান্তিক কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরও কখনো কখনো কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা ঠেকানোর পাশাপাশি কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। বর্তমানে পবায় পাইলট ভিত্তিতে এটি চালু করা হয়েছে। সফল হলে পর্যায়ক্রমে রাজশাহী জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।

বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলোর একটি সার। ফসলের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধারণের জন্য সারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সারের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, শুধু ডিলারদের কাছে কী পরিমাণ সার মজুত আছে, সেই তথ্য থাকলেই হবে না। কোন এলাকায় কতজন কৃষক আছেন, তাঁদের কতটুকু চাষযোগ্য জমি রয়েছে, কোন মৌসুমে তাঁরা কী ফসল চাষ করছেন এবং ওই ফসলের জন্য কী পরিমাণ সার প্রয়োজন—এসব তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা প্রয়োজন।

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, আমন মৌসুমে কোনো ব্লকে কতজন কৃষক কতটুকু জমিতে চাষ করছেন, তা জানা থাকলে ওই এলাকার সম্ভাব্য সারের চাহিদা আগে থেকেই নির্ধারণ করা সম্ভব। ফসলভেদে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপির চাহিদাও নির্ধারণ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ব্লকের কৃষকদের তালিকা ও তাদের সারের চাহিদার তথ্যের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ডিলার নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে। তাহলে কোন কৃষক কোন ডিলারের কাছ থেকে সার নেবেন, সেটি আগে থেকেই জানা থাকবে। এতে সার নিয়ে কৃষকদের বিভ্রান্তি কমবে এবং বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে।

বর্তমানে সারের মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার জানান, সরকারি পর্যায়ে বাফার গুদাম ও বিসিআইসি-বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে ডিলারদের গুদামে থাকা মজুতের ওপরও নজরদারি প্রয়োজন। কোনো কৃষক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার নিয়ে বাড়িতে মজুত করছেন কি না, সেটিও মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সরকারের সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃত্রিম সার সংকট দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পবা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পবা সার ডটকম’ চালু হয়েছে। প্রকল্পটির নকশা, পরিচালনা ও কারিগরি উন্নয়ন সহায়তা করেছে সিল্কোরা কনসালটেন্সি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় সার বরাদ্দ, মজুত, বিক্রি ও বিতরণের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। এতে কৃষক, ডিলার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে দেখতে পারবেন। অনিয়ম শনাক্ত করা এবং সঠিক সময়ে সঠিক কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোও সহজ হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারের ডিলার, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%