মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫২ পি.এম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। এই সম্মাননা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন বিভাগের ৩৪ শিক্ষককে পুরস্কৃত করা হয়। তাদের মধ্যে অধ্যাপক ড. ইমরানুল হকও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
পুরস্কার পাওয়ার পর অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক মন্তব্য করেন, এই স্বীকৃতি তাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো গবেষণায় উৎসাহিত করবে। তিনি নতুন জ্ঞান তৈরির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ সমৃদ্ধ করতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আরও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধুমাত্র শিক্ষাদান ও ডিগ্রি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; জ্ঞান সৃষ্টিও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষকদের চিন্তার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। এ জন্য তিনি গবেষণায় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ চালু ও প্রদান করতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনন্দিত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য গবেষণার পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপাচার্য আরও বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তাদেরও গবেষণামুখী কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ছয় শিক্ষাবর্ষে মোট ৩৪ শিক্ষক এই পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ১১ জন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ১১ জন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৫ জন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ৫ জন, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ১ জন এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ১ জন রয়েছেন।
গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, অধ্যাপক, গ্রন্থাগারিক, প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিবহন প্রশাসক ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। পরে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর পবা উপজেলায় ‘পবা সার ডটকম’ নামের একটি ডিজিটাল ওয়েবসাইট সেবা চালু করা হয়েছে, যা কৃষকদের মধ্যে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে সহায়তা করবে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ডিলারের কাছে সারের মজুত, বিক্রি ও অবশিষ্টের তথ্য অনলাইনে পাওয়া যাবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী এই সেবার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান।
ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন জানান, সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ দিচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে তদারকি করতে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকার পরও সারের সুষম বণ্টন না হওয়ায় অনেক কৃষক তাদের ন্যায্য পরিমাণ সার পাচ্ছেন না। আবার কিছু কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার নেওয়ার কারণে অন্য কৃষকরা তাদের প্রাপ্য সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে ‘পবা সার ডটকম’ চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কৃষকদের নতুন কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে না। তারা আগের মতোই ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনবেন, তবে ডিলারদের তাদের মজুত ও বিক্রির তথ্য ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করতে হবে। এর ফলে প্রশাসন অনলাইনে জানতে পারবে, কোন ডিলারের কাছে কত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে।
ইউএনও আরও জানান, পবা উপজেলার প্রায় ২৫ জন ডিলারের মজুতের তথ্য ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে। কোনো এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ সার বিক্রি হলে ওয়েবসাইটে সতর্কতামূলক বার্তা আসবে। তখন সংশ্লিষ্ট এলাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে।
সারের বিতরণব্যবস্থা তদারকির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার পাওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। তাদের পরিদর্শন জিপিএস লোকেশনের মাধ্যমে নথিভুক্ত হবে। এরপর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের ১০ জন ট্যাগ কর্মকর্তা তাদের কার্যক্রম তদারকি করবেন। উপজেলা প্রশাসনও পুরো ব্যবস্থাটি পর্যবেক্ষণ করবে।
ইউএনও জানান, ‘পবা সার ডটকম’ মূলত একটি প্রগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ। এটি ওয়েবসাইট হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে অ্যাপের মতো যুক্ত করা যাবে। বর্তমানে এটি পাইলট ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এতে পরিবর্তন ও নতুন সুবিধা যুক্ত করা হবে।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রান্তিক কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরও কখনো কখনো কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা ঠেকানোর পাশাপাশি কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। বর্তমানে পবায় পাইলট ভিত্তিতে এটি চালু করা হয়েছে। সফল হলে পর্যায়ক্রমে রাজশাহী জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।
বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলোর একটি সার। ফসলের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধারণের জন্য সারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সারের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, শুধু ডিলারদের কাছে কী পরিমাণ সার মজুত আছে, সেই তথ্য থাকলেই হবে না। কোন এলাকায় কতজন কৃষক আছেন, তাঁদের কতটুকু চাষযোগ্য জমি রয়েছে, কোন মৌসুমে তাঁরা কী ফসল চাষ করছেন এবং ওই ফসলের জন্য কী পরিমাণ সার প্রয়োজন—এসব তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা প্রয়োজন।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, আমন মৌসুমে কোনো ব্লকে কতজন কৃষক কতটুকু জমিতে চাষ করছেন, তা জানা থাকলে ওই এলাকার সম্ভাব্য সারের চাহিদা আগে থেকেই নির্ধারণ করা সম্ভব। ফসলভেদে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও টিএসপির চাহিদাও নির্ধারণ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ব্লকের কৃষকদের তালিকা ও তাদের সারের চাহিদার তথ্যের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ডিলার নির্ধারণ করে দেওয়া যেতে পারে। তাহলে কোন কৃষক কোন ডিলারের কাছ থেকে সার নেবেন, সেটি আগে থেকেই জানা থাকবে। এতে সার নিয়ে কৃষকদের বিভ্রান্তি কমবে এবং বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে।
বর্তমানে সারের মজুত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার জানান, সরকারি পর্যায়ে বাফার গুদাম ও বিসিআইসি-বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে ডিলারদের গুদামে থাকা মজুতের ওপরও নজরদারি প্রয়োজন। কোনো কৃষক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার নিয়ে বাড়িতে মজুত করছেন কি না, সেটিও মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সরকারের সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃত্রিম সার সংকট দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পবা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘পবা সার ডটকম’ চালু হয়েছে। প্রকল্পটির নকশা, পরিচালনা ও কারিগরি উন্নয়ন সহায়তা করেছে সিল্কোরা কনসালটেন্সি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় সার বরাদ্দ, মজুত, বিক্রি ও বিতরণের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। এতে কৃষক, ডিলার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে দেখতে পারবেন। অনিয়ম শনাক্ত করা এবং সঠিক সময়ে সঠিক কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোও সহজ হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারের ডিলার, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ প্রদান করেছে। কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি (ইয়েস) প্রোগ্রামের স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে দেশটি। চলমান আবেদন প্রক্রিয়া ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে শেষ হবে।
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সোমবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে এক সেমিস্টার পড়াশোনা করার পাশাপাশি দেশটির সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানার সুযোগ লাভ করবেন। আবেদন করার জন্য সময়সীমা আগামীকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।
ইয়েস প্রোগ্রামে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিবারের সঙ্গে বসবাস করবেন এবং তারা একটি আমেরিকান হাইস্কুলে পড়াশোনা করবেন।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইয়েস প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণ নেতৃত্বের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারবেন। একই সঙ্গে, তারা নিজেদের সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতা মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগও পাবেন।
মেধার ভিত্তিতে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে। ২০০৪ সালে ইয়েস প্রোগ্রাম চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৫৩০ জন শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসোর্স নেটওয়ার্ক (আইইএআরএন) বাংলাদেশের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে জানতে [email protected]
অথবা [email protected] ই-মেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া আবেদনের জন্য www.iearnbd.org
এখানে ক্লিক করতে বলা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার পাইকগাছার লতা ইউনিয়নের চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে একটি করে গাছের চারা প্রদান করা হয়েছে, এবং তাদের পরিচর্যার দায়িত্বও অর্পণ করা হয়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক, মসজিদ-মন্দির, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পরিষদ প্রাঙ্গণে মোট ১ হাজার ২০০ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে লতা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা হয়। ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে এসব চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়।
কর্মসূচির আওতায় চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছের চারা দেওয়া হয়। গাছের সুরক্ষার জন্য প্রতিটি চারার সঙ্গে নেটের বেড়া দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্কুল প্রাঙ্গণ ও রাস্তার পাশে চারা রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
চারা বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলা হয়, গাছের পরিচর্যার বিষয়টি যেন তারা একটি অ্যাসাইনমেন্টের মতো গুরুত্ব দিয়ে পালন করে। তাদের দায়িত্ব হবে শুধু চারা রোপণ নয়, বরং গাছটি বাঁচিয়ে রাখা।
লতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বী শিক্ষকদের অনুরোধ করেন, শিক্ষার্থীদের বৃক্ষ পরিচর্যায় উৎসাহিত করতে। তিনি গাছ বাঁচিয়ে রাখার বিষয়টি কৃষিশিক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষার মূল্যায়নে বিবেচনার জন্যও শিক্ষকদের অনুরোধ জানান।
এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মধ্যে চারা বিতরণ করা হয়। তারা নিজ নিজ এলাকায় মসজিদ-মন্দির ও সড়কের পাশে এসব চারা রোপণ করবেন। ইউনিয়ন পরিষদের পেছনের অংশেও নেটের বেড়া দিয়ে গাছ লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিষদ প্রাঙ্গণ, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সময় শিক্ষার্থীদের নিম, কদবেল, আমলকী, তেঁতুল, অর্জুন, সিরিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করা হয়। গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও লতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. ফজলে রাব্বী, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাব সহকারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করা একটি ভিডিওতে লাইক দেওয়ার অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মিঠাখালী পিজিএস আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নুরুল আমিন কামাল স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক মো. মামুন অর রশিদ তালুকদার ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত)। তার ইনডেক্স নম্বর ঘ১১১৮০২৮।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ‘ভোলা মিশন’ নামে একটি পেজে ‘সন্ত্রাসীদের বাপের নাম তারেক রহমান’ ও ‘খেলা জমে গেছে’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ওই ভিডিওতে মামুন অর রশিদ তালুকদার লাইক দেন।
পরে এ ঘটনায় তাকে দুই দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ২১ সেপ্টেম্বর স্মারক নম্বর ৩৬/২৬-এর অফিস আদেশে তদন্ত ও অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বরখাস্তকালীন সময়ে তার বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক মামুন অর রশিদ তালুকদার বলেন, ৯ আগস্ট রাতে ফেসবুক নিউজফিডে স্ক্রল করার সময় অসাবধানতাবশত তার আঙুলের ডাবল ট্যাপে ভিডিওটিতে লাইক পড়ে যায়। পরে ভিডিওটি আপত্তিকর বুঝতে পেরে তিনি লাইক প্রত্যাহার করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নুরুল আমিন কামাল বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করা ভিডিওতে লাইক দেওয়া নৈতিকভাবে অন্যায়। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ