মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:১৭ পি.এম
রাজধানীর প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবি নজরুল সরকারি কলেজে বর্তমানে প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। কিন্তু কলেজের পুরো ক্যাম্পাসে বর্জ্য ফেলার জন্য কোনো নির্ধারিত স্থান বা ডাস্টবিন নেই। এ কারণে একাডেমিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণ, প্রশাসন ভবন এবং খেলার মাঠের আশপাশে প্লাস্টিকের বোতল, কাগজের কাপ, পলিথিন ও উচ্ছিষ্ট খাবার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এর ফলে একদিকে পরিবেশের অবনতি ঘটছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
সরেজমিনে কবি নজরুল সরকারি কলেজের প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে দেখা যায়, এখানে একটি জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর চিত্র বিরাজমান। কলেজের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ছড়াছড়ি। প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন এবং ঐতিহ্যবাহী লাল ভবনের কোণগুলোতে জমে আছে পলিথিন, অপচনশীল প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেট ও কাগজের কাপ।
ক্লাসের বিরতিতে বা অবসরে শত শত শিক্ষার্থী এখানে নাশতা বা চা-পান করলেও বর্জ্য ফেলার জন্য একটি ডাস্টবিনও খুঁজে পান না। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে ওয়ানটাইম গ্লাস, চায়ের কাপ ও খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ খোলা জায়গায় বা ড্রেনের ওপর ফেলে রাখছেন। বাতাস প্রবাহিত হলে এসব উচ্ছিষ্ট ও কাগজ পুরো মাঠ ও হাঁটার রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে, যা এক নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি করছে।
একই পরিস্থিতি দেখা গেছে কলেজের শ্রেণিকক্ষগুলো ও বাইরের বারান্দায়। কোথাও স্থায়ী তো দূরের কথা, অস্থায়ী বা প্লাস্টিকের কোনো আবর্জনা ফেলার পাত্র বা ড্রামও চোখে পড়েনি। বিশেষ করে বর্ষার দিনে ড্রেনের মুখে জমা প্লাস্টিকের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং জমে থাকা পচা ময়লা থেকে মশা ও মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এদিকে ক্যাম্পাসের এই বেহাল দশার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চরম অবহেলাকে দায়ী করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা থাকলেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না। নির্দিষ্ট কিছু স্থানে আবর্জনার স্তূপ জমে থাকলেও তা অপসারণের জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মী কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় বাজেট থাকা সত্ত্বেও কেবল দায়িত্বহীনতার কারণে ক্যাম্পাসের সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা আজ হুমকির মুখে পড়েছে।
ক্যাম্পাসের এই পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, "আমরা প্রতিদিন ক্লাসে আসি, কিন্তু কোথাও একটা ময়লা ফেলার ডাস্টবিন পাই না। চা বা নাশতা খাওয়ার পর বাধ্য হয়েই কাপ বা প্যাকেট মাটিতে ফেলতে হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবহেলা আর পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় পুরো ক্যাম্পাসের আশেপাশে ময়লা পড়ে থাকে। আমি মনে করি, এর একটি স্থায়ী সমাধান জরুরি।"
এ বিষয়ে কবি নজরুল কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী শরীফ হোসেন বলেন, "প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থীর এই ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক সময় আবর্জনা যত্রতত্র ফেলতে হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়মিত দেখা মেলে না। একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এটি অত্যন্ত মৌলিক একটি সুবিধা। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর ক্যাম্পাস নিশ্চিতে অবিলম্বে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপনের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, "কলেজে তো বেশ কয়েকটি ডাস্টবিন ছিল, সেগুলো এখন কোথায়? যাইহোক, ক্যাম্পাস ছোট হওয়ার কারণে ডাস্টবিন বসানোর পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তবে তোমরা যেহেতু বিষয়টি আমাদের অবগতির জন্য করছো, তাই আমরা কলেজের প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় একটি ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা করে দেব। আর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের অবহেলার বিষয়টি নিয়ে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার বরুড়ায় একটি বাস খাদে পড়ে যাওয়ার ফলে আতিকুল্লাহ সবুজ (২২) নামের এক হেলপার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের পাঁচ যাত্রী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার দেওড়া ফকিরা মোকাম এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত সবুজ বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের হাজারপাড় গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
বাসটির চালক মনিরের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টিয়ারিং লক হয়ে যাওয়ার কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার সময় বাসটি চালাচ্ছিলেন মনির, যিনি বাসটির মালিকও।
এদিকে, নিহত হেলপারের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতা আবদুল জলিল। তিনি জানান, বলাকা বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। আহত যাত্রীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ এবং বাসটি থানায় নিয়ে আসা হবে। দুর্ঘটনার ফলে পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার সোনাডাঙ্গায় বাসা ভাড়া নেওয়ার উদ্দেশ্যে এক গৃহকর্ত্রীকে অচেতন করে সাড়ে পাঁচ ভরির বেশি স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনা ঘটে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে নগরীর নবপল্লী স্কুলের বিপরীতে। পরে অসুস্থ গৃহকর্ত্রীকে নার্গিস মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর কয়েকজন বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে এক হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। ১ অক্টোবর তাদের ওঠার কথা থাকলেও তারা আসেননি। এরপর সোমবার সকাল ১০টার দিকে তিন নারী মাছ, দুধ ও পেঁপে নিয়ে বাসায় প্রবেশ করেন।
এ সময় গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে কথাবার্তা বলার এক পর্যায়ে ওই নারীরা তাকে লাচ্ছি বা অন্য কিছু খাওয়ান, যার ফলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর তার হাতের চুড়ি, কানের দুল, গলার চেইন ও আংটি খুলে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, এসব অলংকারের ওজন সাড়ে পাঁচ ভরির বেশি।
এদিকে, ভুক্তভোগী গৃহকর্ত্রীর কানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুত অলঙ্কার খুলতে গিয়ে ওই তিন নারী টানাহেঁচড়া করেছেন, যার কারণে এমনটি ঘটেছে।
ভুক্তভোগীর জামাতা জানান, দুপুরের পর থেকে ফোন করে শাশুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না তারা। বিকেল ৪টার দিকে বাসায় গিয়ে তাকে সোফায় অচেতন অবস্থায় পান। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি মাঝে মাঝে কথা বললেও আবার অচেতন হয়ে পড়ছেন।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ছবি নেওয়ার আগেই এ ঘটনা ঘটে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের একটি মোবাইল নম্বর পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, তিনি অনলাইনে ঘটনাটি দেখেছেন। তবে এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেননি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন বা সরকার বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না, এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর ভোট গ্রহণের জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের মধ্যে সরকারের লক্ষ্য হলো স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করা।
মীর শাহে আলম জানান, নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আগামী জুনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এছাড়া, প্রসঙ্গত উল্লেখ করা হয়, আগামী বছরে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের ভোট রোজার আগে ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপের ভোট ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপের ভোট রোজার পরে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপের ভোট ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা গৃহকর্মী রেহেনা খাতুনকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইউএনওর কার্যালয়ে রেহেনা খাতুনের কাছে এই আর্থিক সহায়তা হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় মাধবপুর-চুনারুঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাফিউর রহমান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৈত্রী রায় উপস্থিত ছিলেন।
সহায়তা গ্রহণের সময় রেহেনা খাতুন তার নির্যাতনের অভিজ্ঞতা, আর্থিক সংকট এবং ঋণগ্রস্ততার বিষয়টি কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সি ও দালালের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা নেওয়ার জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
রেহেনা খাতুন বলেন, "ইউএনও স্যারের এই সহযোগিতা আমি চিরদিন মনে রাখব। আমি অনেক ঋণগ্রস্ত। এই টাকা আমার অনেক কাজে আসবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"
ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, "রেহেনা খাতুন আমাদের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন। আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।"
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক এবং সাংবাদিক নেতা এমএম গউস মন্তব্য করেন, মধ্যপ্রাচ্যে নির্যাতিত নারীদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো কাজ করে থাকে। রেহেনা খাতুনকে ইউএনওর এই আর্থিক সহযোগিতাকে তিনি সাধুবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, "সাংবাদিকেরা সত্য তুলে ধরবেন, আর সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে এটাই বাস্তবতা।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ