ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন মাকছুদা, আটকে রাখার আবেদন


রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন মাকছুদা, আটকে রাখার আবেদন

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলাম রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানিয়েছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

আবেদনে ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন উল্লেখ করেছেন, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে এই বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম।

রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি নিয়ে নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে জানিয়েছেন। এর মধ্যে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন।

সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ। তিনি এজাহারে লিখেছেন, লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপরে তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরের পদ্মার চর কাশফুলের শুভ্রতায় বদলে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


ফরিদপুরের পদ্মার চর কাশফুলের শুভ্রতায় বদলে গেছে

"শরৎ রানী যেন কাশের বোরখাখানি খুলে, কাশবনের ওই আড়াল থেকে নাচছে দুলে দুলে"—কবি নির্মলেন্দু গুণের এই পঙ্‌ক্তির মতো শরতের শুভ্রতায় সেজেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মার বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর। চারদিকে এখন কাশফুলের অপার সমারোহ। মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা হাজারো কাশফুল যেন ঢেউ তুলছে সাদা সমুদ্রের বুকে। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজ-বাদামি মাটির বিশাল প্রান্তরজুড়ে প্রকৃতি আপন হাতে বিছিয়ে দিয়েছে শুভ্রতার চাদর। নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর কাশফুলের মিতালি মিলিয়ে পদ্মার চরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে শরতের এক অপার্থিব সৌন্দর্য।

শরৎ এলেই বাংলার প্রকৃতি বদলে যায়। নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘের ভেলা, হালকা বাতাস আর মাঠ-ঘাটজুড়ে দুলতে থাকা কাশফুল জানান দেয় ঋতুর পরিবর্তনের কথা। সেই চিরচেনা শরতের রূপ এবার যেন আরও মোহনীয় হয়ে ধরা দিয়েছে সদরপুরের পদ্মার চরে।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ২ নং আকোটেরচর ইউনিয়নের আকোট বাজারসংলগ্ন পদ্মার বুকে জেগে ওঠা একটি বিস্তীর্ণ চরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কাশবন। যতদূর চোখ যায়, শুধু কাশফুল আর কাশফুল। বাতাসের মৃদু দোলায় সাদা কাশফুলগুলো যখন একসঙ্গে দুলতে থাকে, তখন পুরো চরটি যেন ঢেউ খেলানো শুভ্র সমুদ্রের রূপ নেয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল চরটির বিভিন্ন অংশজুড়ে ঘন হয়ে জন্মেছে কাশবন। কোথাও কাশফুল কোমরসমান, কোথাও আবার তার চেয়েও উঁচু। সাদা কাশফুলের মাথাগুলো বাতাসে দুলে দুলে তৈরি করছে অপরূপ দৃশ্য। নীল আকাশের নিচে সাদা কাশফুলের এই বিস্তীর্ণ সমারোহে পদ্মার চরটি যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক ছবি।

স্থানীয়দের দাবি, সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একসময় শরতের মৌসুমে এমন কাশবন চোখে পড়ত। নদীর চর, ফসলের মাঠের প্রান্ত, খালের পাড় কিংবা পতিত জমিতে শরতের বাতাসে দুলত অসংখ্য কাশফুল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মানুষের বসতি, কৃষিকাজ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনেক জায়গা থেকে হারিয়ে গেছে সেই কাশবন। ফলে পদ্মার এই চরে গড়ে ওঠা বিশাল কাশবন এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

প্রকৃতির এই সৌন্দর্যের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসছেন কাশফুল দেখতে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে আসছেন। কাশবনের মধ্যে হাঁটছেন, ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন এবং স্মৃতির পাতায় ধরে রাখছেন শরতের এই শুভ্রতা।

বিশেষ করে বিকেলের দিকে কাশবনের দৃশ্য হয়ে ওঠে আরও মনোমুগ্ধকর। পশ্চিম আকাশে সূর্যের আলো যখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসে, তখন সেই আলো কাশফুলের সাদা রঙে পড়ে তৈরি করে অন্যরকম এক আবহ। পদ্মার বাতাসে কাশফুলের দোল আর দূরে নদীর জল— সব মিলিয়ে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে প্রশান্তিময়।

ঘুরতে আসা কয়েকজন জানান, ব্যস্ত জীবন ও শহুরে কোলাহল থেকে কিছু সময়ের জন্য প্রকৃতির কাছে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করেছে এই কাশবন। তাদের মতে, শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বড়দেরও প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য এমন জায়গার প্রয়োজন রয়েছে।

তারা বলেন, কালের পরিক্রমায় ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় সদরপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে শরতের কাশবন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় গ্রামের পর গ্রামজুড়ে কাশফুলের দোলা দেখা গেলেও এখন অনেক জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কাশবন দেখা যায়। পদ্মার চরের এই বিস্তীর্ণ কাশবন তাই শুধু সৌন্দর্যের নয়, প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রত্যাশা, পদ্মার চরের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন অযত্নে নষ্ট না হয়। কাশবন ধ্বংস না করে এর স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ দেওয়া হলে প্রতিবছর শরৎ মৌসুমে এটি হয়ে উঠতে পারে সদরপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক স্থান।

প্রকৃতির এই অপরূপ আয়োজন দেখতে আসা মানুষেরাও চান, কাশফুলের এই শুভ্রতা শুধু তাদের প্রজন্মেই সীমাবদ্ধ না থাকুক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও যেন পদ্মার চরে এসে দিগন্তজোড়া কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে— এটাই তাদের প্রত্যাশা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ায় নির্বাচনে পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির নিরঙ্কুশ জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


রাশিয়ায় নির্বাচনে পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির নিরঙ্কুশ জয়

রাশিয়ার পার্লামেন্ট ডুমা-র নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি বিশাল জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর রোববার পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ভোটগ্রহণের পর সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে। তবে এই নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনে ক্রেমলিন বা ইউক্রেন যুদ্ধের সমালোচক—এমন কোনো দলের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না।

রাশিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এলা পামফিলোভার দেওয়া প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ডুমার ৪৫০ আসনের মধ্যে ৩৫৫টিতে জয়লাভ করেছে ইউনাইটেড রাশিয়া। গত পঁচিশ বছর ধরে রাশিয়ার রাজনীতিতে এই দলের আধিপত্য রয়েছে।

এই বিজয় পুতিনের দলের ক্ষমতাকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে। পূর্ববর্তী ৩৪৩ আসনের রেকর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফলে, প্রয়োজনে তারা সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর এটি রাশিয়ার প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। ক্রেমলিনের দাবি, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, ১৯৯৯ সালের নববর্ষের প্রাক্কালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে পুতিনের পেছনে পুরো রাশিয়া একত্রিত হয়েছে।

এই যুদ্ধের ফলে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। রাশিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনেও এর প্রভাব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে। মস্কো সামরিক অভিযানের সমালোচনা নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো একমাত্র দলটিকেও নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানান, "এই পরিসংখ্যানগুলো রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি রুশ সমাজের সর্বোচ্চ ঐক্যের প্রমাণ।"

পুতিনের অধীনে নির্বাচনের প্রক্রিয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই ইউনাইটেড রাশিয়ার বিজয় নিয়ে রাশিয়ায় কারো মধ্যে সন্দেহ ছিল না।

ইউক্রেনে থাকা সেনাদের সমর্থনে ভোট দেওয়ার জন্য রুশদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন পুতিন। মস্কোর দখলে থাকা ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটের আয়োজনও করা হয়েছিল।

পামফিলোভা জানান, এবার ভোট পড়েছে ৫৯ শতাংশের বেশি—যা গত এক দশকের মধ্যে যেকোনো পার্লামেন্ট নির্বাচনে সর্বোচ্চ। "রাশিয়ার ওপর প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক চাপ" থাকা সত্ত্বেও ভোট দেওয়ার জন্য নাগরিকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি ইলেক্ট্রনিক ভোটিং সিস্টেমের বিরুদ্ধে চালানো "হাজারেরও বেশি" সাইবার হামলার নিন্দা করেন এবং এর জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেন।

পামফিলোভা আরও জানান, ইতিমধ্যে ৯৫ শতাংশেরও বেশি ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে; চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

ইউক্রেন অভিযানের কারণে পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক কার্যত ছিন্ন হয়ে গেছে। ভোটের শেষ দিন, রোববার মস্কোতে যুদ্ধের ব্যাপক পরিসরে ড্রোন হামলা চালায় কিয়েভ। এতে দুজন নিহত হন এবং একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়।

মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে পামফিলোভা বলেন, "চরম পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমরা এই নির্বাচনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সফল হয়েছি।" ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করার জন্য তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।

এই নির্বাচনের ফল পুতিনের ক্ষমতা আরও দৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিছু মানুষের শঙ্কা রয়েছে যে, রাশিয়ায় নতুন করে সামরিক সেনা সমাবেশ শুরু হতে পারে। পুতিন অবশ্য এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে কিয়েভের অভিযোগ, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে সেনা ডাকার পরিকল্পনা করছে মস্কো।

নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি, যারা ৪০টি আসন পেয়েছে। জাতীয়তাবাদী দল এলডিপিআর ২৫টি এবং নিউ পিপল পার্টি ২০টি আসন লাভ করেছে।

কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার সময় এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কিছু কিছু অঞ্চলে আঞ্চলিক প্রধানদের বেছে নিতেও ভোটগ্রহণ হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মুসলিম অধ্যুষিত চেচনিয়ায় ৯৯.৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন রমজান কাদিরভ। তিনি এই প্রজাতন্ত্র শাসন করার জন্য পরিচিত।

পুতিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নির্বাসনে, কারাগারে, অথবা মৃত অবস্থায় রয়েছেন। ২০২৪ সালে আর্কটিকের এক কারাগারে আলেক্সেই নাভালনি মারা যান।

অধিকাংশ বিরোধী প্রার্থীকেই এবারের নির্বাচনে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছিল রাশিয়ার একমাত্র উদারপন্থি ও যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকো। তাদের পুরোপুরি ব্যালট থেকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং কেবল সিঙ্গেল-ব্যালট লড়াইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

নির্বাচনি প্রচার শুরুর আগেই বেশ কয়েকজন যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিককে কারাবন্দি করা হয়, কেউ কেউ দেশ ছেড়ে চলে যান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামের একই ব্যাচের চার বন্ধুর চিকিৎসক হওয়ার বাজিমাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


চট্টগ্রামের একই ব্যাচের চার বন্ধুর চিকিৎসক হওয়ার বাজিমাত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার ধুরুং খুলশী লায়ন্স উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৭ ব্যাচের চার বন্ধু একসঙ্গে এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চিকিৎসক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।

এ চার মেধাবী শিক্ষার্থী হলেন— ইফফাত উদ্দিন ফাহাদ, কামরুল আল ফাহিম, শেফায়েত চৌধুরী সাকিব ও কেয়া বণিক প্রিয়া।

ইফফাত উদ্দিন ফাহাদ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ থেকে, কামরুল আল ফাহিম চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ থেকে, শেফায়েত চৌধুরী সাকিব চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ থেকে এবং কেয়া বণিক প্রিয়া বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন।

তাদের চিকিৎসক হওয়ার পথটি সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময়ের কঠোর অধ্যয়ন, নিয়মিত পরিশ্রম, পরীক্ষার চাপ ও নানা ত্যাগের মধ্য দিয়ে তারা এগিয়ে গেছেন। তাদের এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের নিরলস সমর্থন, পরিবারের ত্যাগ, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং নিজেদের অদম্য প্রচেষ্টা।

ইফফাত উদ্দিন ফাহাদ, কামরুল আল ফাহিম, শেফায়েত চৌধুরী সাকিব ও কেয়া বণিক প্রিয়া বলেন, "দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ত্যাগের পর এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। মাধ্যমিকে পড়ার সময় চার বন্ধু সবসময় একসঙ্গে আড্ডা দিতাম, প্রাইভেট পড়তাম। তখন থেকেই আমাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা ছিল। স্বপ্ন ছিল একদিন ডাক্তার হব। উচ্চ মাধ্যমিকে ভিন্ন কলেজে পড়লেও আমাদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল। পরে সবাই এমবিবিএসে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাই। এ অর্জনের পেছনে বাবা-মা, পরিবার, শিক্ষক ও বন্ধুদের অবদান সবচেয়ে বেশি। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। ভবিষ্যতে একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করতে চাই।"

ফাইনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর চার বন্ধুর সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবার, স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। একই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী একই সময়ে চিকিৎসক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করায় ধুরুং খুলশী লায়ন্স উচ্চ বিদ্যালয়ও পেয়েছে বিশেষ গৌরব।

কামরুল আল ফাহিমের মা মোরশেদা বেগম বলেন, "আমাদের প্রচেষ্টায় ও অনুপ্রেরণায় চার বন্ধুর স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। তারা ডাক্তার হয়েছে। এখন আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের সন্তানরা যেন মানবিক চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করে।"

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, "আমাদের চার শিক্ষার্থীর এ সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তারা বিদ্যালয়ে থাকাকালীনই মেধা, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও পারস্পরিক সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। তাদের এ অর্জন বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আমরা আশা করি, তারা ভবিষ্যতে দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবে এবং দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, "একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য শুধু তার নিজের নয়, এটি পুরো বিদ্যালয় ও এলাকার গর্বের বিষয়। এ অর্জনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের যথাযথ দিকনির্দেশনা ও মানসম্মত গাইডলাইন দিতে হবে। একই বিদ্যালয় থেকে চারজন শিক্ষার্থী চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া নিঃসন্দেহে ফটিকছড়ির জন্য একটি অনন্য ও গৌরবের অর্জন।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু না হোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


স্বাস্থ্যমন্ত্রী: চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু না হোক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নির্দেশনা দিয়েছেন যে, চিকিৎসার অভাবে কোনো মানুষের মৃত্যু না ঘটে, সেই লক্ষ্যে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সব সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতে হবে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৫০ শয্যার হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, "আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কোনো মানুষ মারা যাক।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা দিয়েই দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। গজারিয়ার ৫০ শয্যার হাসপাতালকে দ্রুত ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সাধারণ রোগীদের সেবার মান বৃদ্ধি পায়।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি চিকিৎসাসেবার মান, চিকিৎসক সংকট, রোগীদের খাবারের মান ও ওষুধের মেয়াদসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন।

মন্ত্রী সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেন। তিনি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সতর্ক করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এছাড়া, মন্ত্রী জানান যে, সরকারি হাসপাতালের আশপাশে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, "বিদ্যমান ক্লিনিকগুলো নিয়ম না মানলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

সাপের কামড়ের চিকিৎসা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। তবে সাপে দংশনের পর দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে, কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে।

পরিদর্শনকালে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আহমেদ তিথিসহ হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%