রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৬ পি.এম
ভারতের ভোটার তালিকায় নতুন ভোটার হিসেবে জেন-জিদের অন্তর্ভুক্ত করার বার্ষিক হালনাগাদ প্রক্রিয়া থমকে গেছে। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণে ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে এই কার্যক্রম নির্ধারিত মে-জুন সময়সীমার মধ্যেও শুরু হয়নি বলে জানানো হয়েছে দ্য ইকোনমিক টাইমস ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর দেশজুড়ে নিয়মিত বার্ষিক ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়া আর চালু হয়নি। ২০২৫ সালে বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী নিয়মিত হালনাগাদ প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, বিশেষ নিবিড় সংশোধন চললেও নতুন ১৮ বছর বয়সী ভোটারদের তালিকায় যুক্ত করতে নিয়মিত হালনাগাদ প্রয়োজন।
ভারতে সাধারণত প্রতি বছর ভোটার তালিকার খসড়া প্রস্তুত ও সংশোধনের পর জানুয়ারির শুরুতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় নতুন ভোটার হিসেবে জেন-জিদের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি ভোটারদের তথ্যের ভুল, অসংগতি ও অমিলও যাচাই করা হয়। ১ জানুয়ারির পর ১৮ বছর পূর্ণ করা নাগরিকদের জন্য ১ এপ্রিল, ১ জুলাই ও ১ অক্টোবর—এই অতিরিক্ত যোগ্যতার তারিখগুলোও রাখা হয়েছে, যাতে ভোটার হওয়ার জন্য তাদের পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে না হয়।
তবে ২০২৬-২৭ সালের হালনাগাদ প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় জেন-জিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৭ সালে যেসব রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, সেসব রাজ্যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের পর কমিশন জানিয়েছে, গত এক বছরে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পূর্ণ কমিশনের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মতপার্থক্যের প্রভাব কমিশনের প্রশাসনিক কাজেও পড়েছে। প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা ও উপ-নির্বাচন কমিশনারের বার্ষিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন প্রতিবেদনও আটকে থাকার কথা জানিয়েছে দ্য ইকোনমিক টাইমস।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মশার উৎপাত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগের আতঙ্ক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
সম্প্রতি হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম সাকিব ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জানা গেছে, সাকিব ২১ সেপ্টেম্বর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে এবং শরীরের প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেছে।
মশার অস্বাভাবিক বিস্তারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে যত্রতত্র জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের আশপাশে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়া এবং বিভিন্ন জায়গার ড্রেনের খোলা অবস্থায় পানির প্রবাহ না থাকার কারণে সেখানে মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। পচনশীল আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার বংশবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে, যা পুরো ক্যাম্পাসের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, বিকেলের পর আবাসিক হল, রিডিং রুম, ডরমেটরি, দোকানপাট, ক্যাফেটেরিয়া এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির আশপাশে মশার কামড় অসহনীয় হয়ে উঠছে। এর ফলে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে, এমনকি অবসরে ক্যাম্পাসে আড্ডা দেওয়ার মুহূর্তও নষ্ট হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের শিক্ষার্থী রিফাইয়া ইসলাম সূচনা বলেন, "মশার উপদ্রব একদম অস্বাভাবিক। সবসময় মশার প্যানপ্যানানি শব্দ আছেই। মনে হয় যেন সব সময়ই কনসার্ট চলে বিশ্ববিদ্যালয়ে!" তিনি আরও জানান, সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। কয়েল জ্বালিয়ে বা মশারি টাঙানো ছাড়া পড়ালেখা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে কয়েল জ্বালিয়েও কোনো কাজ হয় না। রাতে ঘুমাতেও অনেক সমস্যা হচ্ছে। মশার কামড় থেকে বাঁচতে সব সময় সতর্ক থাকতে হচ্ছে। এভাবে নিয়মিত মশার উপদ্রবে থাকা খুবই বিরক্তিকর এবং পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যা হচ্ছে।
বিদ্রোহী হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, "আমরা যারা নিচের তলার রুমগুলোতে থাকি, তারা মশার সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছি।" তিনি বলেন, হলের চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এর মূল কারণ। এই বিষয়ে হল প্রশাসনের উদ্যোগ নেই বললেই চলে, ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মশাবাহিত রোগের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে।
শিউলিমালা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশানিধন স্প্রে করা এবং হলের নিচের ড্রেনসহ চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অতীব জরুরি।"
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের অতিরিক্ত চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাদেরকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি টাঙাতে হবে এবং বাসা-বাড়ি বা ক্যাম্পাসের টব ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা ময়লা পানি দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া, কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে পর্যাপ্ত ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, "সম্প্রতি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং একজন আক্রান্ত হওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদারকি করছে।" তিনি জানান, গত দুই মাস আগে মাত্র শিউলিমালা হলে ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সরঞ্জাম না থাকা এবং পৌরসভার নানান জটিলতার কারণে অন্যান্য হলে ওষুধ হলেও, সম্ভব হয়নি। তবে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুততম সময়ে বাকি হলগুলোতে পুনরায় সমন্বিতভাবে মশক নিধন কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে পৌরসভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ অভিযোগ করেছেন যে, সালমান মুক্তাদির ইস্যুতে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে জামায়াত, এনসিপি ও নিষিদ্ধ লীগ। তিনি এই অভিযোগটি রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেন।
আবু হানিফ তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন, "প্রথমত, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় নিন্দা জানাই।" তিনি দাবি করেছেন, "যে বা যারা এই ঘটনায় জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "দ্বিতীয়ত, সালমান মুক্তাদির তার বক্তব্যে স্পষ্ট বলেছে কেউ তার কাছে চাঁদা দাবি করে নাই।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সালমান মুক্তাদির জানিয়েছেন, মূলত জমির মালিকের সঙ্গে বিরোধের কারণে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে।
পুলিশও এই ঘটনার তদন্তে জানিয়েছে, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের ফলস্বরূপ এ ঘটনা ঘটেছে। তারা নিশ্চিত করেছে যে, এখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও টার্গেট ছিল না।
আবু হানিফ বলেন, "মূল ঘটনা হলো দুই জমির মালিকের মধ্যকার চলমান বিরোধের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, অথচ ছড়ানো হচ্ছে সালমান মুক্তাদির চাঁদা দেয়নি বলে এই হামলা।" তিনি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জামায়াত, এনসিপি ও নিষিদ্ধ লীগ সালমান মুক্তাদির ইস্যুতে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের প্রকৌশল শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে অবস্থিত। এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষক সংকট মোকাবেলা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং একাডেমিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ১৫২ একরের এই ক্যাম্পাস সবুজ বৃক্ষরাজিতে ঘেরা।
১৯৯৯ সালে রুয়েটে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। এরপর তিনি সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ, ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সম্প্রতি আরটিভির রুয়েট সংবাদদাতা তৌফিক আহমেদ তার সাক্ষাৎকার নেন। সাক্ষাৎকারে উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাকের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ১ বছর ১১ মাসের মধ্যে রুয়েটের সংকট, সম্ভাবনা, পরিকল্পনা ও প্রত্যাশার বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে রুয়েটে একটি শিক্ষাবান্ধব এবং সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর, কার্যকরী ওয়ার্ক টিম, অবকাঠামোগত স্থবিরতা, চলমান প্রকল্পে অর্থসংক্রান্ত জটিলতা ইত্যাদিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, বিগত প্রশাসনের সময় রুয়েটের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না হওয়ায় ২০১৭-২০২৪ সালে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় ফেরত যায়। এর ফলে প্রকল্পের অর্থায়নে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে, এ অর্থ ছাড়ের জন্য প্রকল্প সংশোধনের আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজগুলো দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, প্রাতিষ্ঠানিক কাজ পরিচালনায় কার্যকরী ওয়ার্ক টিম গঠন করা প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করেন তিনি।
শিক্ষক সংকট নিয়ে উপাচার্য বলেন, "রুয়েটে শিক্ষক সংকট আছে এটা সত্য।" তবে, তার দায়িত্ব গ্রহণের সময় শিক্ষক সংখ্যা ছিল ৩০০ জনের মতো। গত দেড় বছরে তিন ধাপে ১২০ জন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা ৪৩০-এর বেশি। যদিও বুয়েট ও কুয়েটের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা এখনও কম, তবে ধারাবাহিকভাবে এ ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে।
আবাসন ও অবকাঠামোগত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "রুয়েটে চলমান প্রকল্পের কাজ এ বছর ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নতুন ৪টি হল নির্ধারিত সময়ের আগেই চালু করা সম্ভব হয়েছে।" ইতোমধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে বর্তমান প্রশাসন। লিফটসহ কিছু সাময়িক সমস্যা রয়েছে, তবে প্রকল্প শেষ হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গবেষণা ও উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে রুয়েটের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন উপাচার্য। তিনি জানান, সীমিত বাজেটের মধ্যে গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে শিক্ষক ও গবেষকদের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রুয়েটকে একটি শক্তিশালী একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ল্যাব ও শ্রেণিকক্ষের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কাজ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে চান।
ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তা ধরে রাখা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব।" র্যাঙ্কিংয়ের সূচকগুলোর উন্নতির সঙ্গে একাডেমিক সুনাম ও ভবিষ্যত প্রকৌশলীদের মূল্যায়নের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থীদের কোডিং ব্যবস্থার দাবির প্রসঙ্গে তিনি জানান, "এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলমান রয়েছে।" কোথাও সমস্যা থাকলে ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে তা সমাধান করা হবে।
উপাচার্য বলেন, বর্তমানে পরীক্ষার ব্যবস্থায় খাতা দেখা, প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশনে একাধিক পর্যায়ের শিক্ষক যুক্ত থাকেন। একটি কোর্সে একজন শিক্ষক এককভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন না। শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার খাতা পর্যালোচনার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। ফলে, কোনো শিক্ষার্থী প্রাপ্য নম্বরের চেয়ে কম পেয়েছে মনে করলে তা দেখার সুযোগ পাবে। এর ফলে নির্ধারিত কারো খাতা অবমূল্যায়নের সুযোগ অনেকাংশেই নেই।
একইসঙ্গে বিগত প্রশাসনের একাডেমিক অস্থিরতা ও সেশনজটের বিষয়গুলোতে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, "একাডেমিক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ধরে রেখে প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য।"
ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, "ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মতামতকে আমরা প্রাধান্য দিতে চাই।" তিনি একটি শিক্ষাবান্ধব ও সুস্থ পরিবেশ গড়তে চান, যেখানে সবাই নিজের কথা বলতে পারবে এবং মতের পার্থক্য থাকলেও পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় থাকবে।
তিনি বলেন, "ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলে তা প্রকাশ্যে বা গোপনে—উভয়ভাবেই নিষিদ্ধ।" তবে, বিশ্ববিদ্যালয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা গোয়েন্দা সংস্থা নয়; তাই কোনো কার্যক্রম গোপনে হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করতেও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে রাজনীতি না চাইলে প্রশাসন তাদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে।
এ সময় সরকারের কাছে শিক্ষাখাতে দেশের বাজেট বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "একটা দেশের জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে রাখা স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরা হয়।" তিনি আশাবাদী যে বর্তমান সরকার আগের তুলনায় বাজেট বাড়িয়ে ২ শতাংশে উন্নীত করেছে। বর্তমান অর্থমন্ত্রীও আগামী বছর সেটাকে ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন এবং সেটাকে ৫ শতাংশে কীভাবে নিয়ে যাওয়া যায়, সেটাও সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া। একইসঙ্গে রুয়েটের চলমান প্রকল্পে প্রয়োজনীয় বাজেট দ্রুত পাওয়া এখন সময়ের দাবি।
সব মিলিয়ে সংকট ও ঘাটতি কাটিয়ে গবেষণা, একাডেমিক কার্যক্রমে অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশে রুয়েটকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক ও তার প্রশাসন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর মহিপুরে ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে মেহেদী হাসান ফারুক, যিনি ছাত্রদল নেতার পদে রয়েছেন, তাকে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব ফাহিম, রাশেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুক বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর বাজার থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ফারুককে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। পরে তাকে কলাপাড়ার একটি হোটেলের পূর্ব পাশে নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, একটি বিয়েতে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফারুককে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে।
মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি জানতে পারেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তার সহযোদ্ধা ফারুককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর রাত ১টার দিকে কলাপাড়ার রুবান হোটেলের পাশ থেকে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
অভিযোগের বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহিম বলেন, "মারধরের বিষয়টি আমি জানি। তবে ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।" অভিযুক্ত মাসুদ রানাও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওয়াকিটকি হাতে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাকে দেখা গেছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি তুষার বলেন, "ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজ বিষয়টি দেখেছি। ১৭ সেপ্টেম্বর আমি পারিবারিক কাজে চট্টগ্রামে ছিলাম। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।"
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার জানান, এ ঘটনায় তারা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ডিবি পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ