ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাকসুতে দ্বন্দ্ব, এজিএসের ১০ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ জিএসের


চাকসুতে দ্বন্দ্ব, এজিএসের ১০ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ জিএসের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) এবং সাজিনাজ হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিত হওয়ার ঘটনায় চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব এবং সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিকের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে।

এজিএসের অভিযোগ, জিএসের হস্তক্ষেপের কারণে মেডিকেল ক্যাম্পটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে জিএস এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে, তিনি যদি প্রমাণ দিতে পারেন তবে ১০ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন এজিএস, যা এই বিরোধকে আরও জোরালো করেছে।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

শনিবার (১০ অক্টোবর) মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিত হওয়ার পর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্টের মাধ্যমে দুজনের মধ্যে এই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। পরে গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া বক্তব্যেও তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে চাকসু এবং সাজিনাজ হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে একটি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। তবে শনিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পটি স্থগিত করে। এরপরই কর্মসূচি স্থগিতের কারণ এবং এর আয়োজনের ক্ষেত্রে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে চাকসুর জিএস ও এজিএসের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক দাবি করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। এমনকি ক্যাম্পের জন্য নির্ধারিত স্থানে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছিল। কিন্তু জিএসের হস্তক্ষেপের কারণে ক্যাম্পটি স্থগিত হয়েছে। এতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে, এজিএসের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ১০ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

তিনি দাবি করেন, তিনি কিংবা তার মাধ্যমে অন্য কেউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ফোন করে মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিত করেননি। যদি এ ধরনের কোনো ঘটনার প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে তিনি চাকসুর সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং পৈতৃক সম্পদ বিক্রি করে হলেও এজিএসকে ১০ কোটি টাকা দেবেন।

জিএসের এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেন এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। প্রকাশিত পোস্টে তিনি অডিওতে অপর প্রান্তের বক্তাকে সাজিনাজ হাসপাতালের পরিচালক হাসান মাহমুদ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।

প্রকাশিত অডিওতে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের প্রাথমিক যোগাযোগ ও বৈঠকের বিষয়ে দুজনকে কথা বলতে শোনা যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে এজিএস বলেন, ‘উনি ১০ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ লিখছে সোশ্যাল মিডিয়াতে যে, যদি প্রমাণ করতে পারি।’

এর জবাবে হাসান মাহমুদ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি বলেন, কে বলছে, তোমাদের একটু বুঝাই বলি। আমাকে ফোন করছিল, তোমাদের কালো করে মোটা করে একটা ছেলে আছে না?

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা

তখন এজিএস বলেন, ‘হ্যাঁ, স্বাস্থ্য সম্পাদক।’ জবাবে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘এই ওই ফোন করছিল।’

কথোপকথনের একপর্যায়ে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা অস্বীকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এজিএস। তিনি বলেন, ‘কিন্তু দেখেন, আসলে আমি আপনাদের সাথে যোগাযোগ করছি। উনি বলতেছে যে, উনারা নিজেরাই যোগাযোগ করছে। মানে উনি এই জায়গায় আমার অবদান অস্বীকার করতেছেন। তো এইটা আমার খারাপ লাগবে না, বলেন?’

এর জবাবে অপর প্রান্তের ব্যক্তি বলেন, ‘স্বাভাবিক, স্বাভাবিক। এ তো অবশ্যই।’

পরে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের প্রাথমিক যোগাযোগ ও বৈঠক কিভাবে হয়েছে সেটি তুলে ধরে হাসান মাহমুদ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘এইডা তো সিকোয়েন্স কী বলে? সিকোয়েন্স হলো যে, তুমি আসছিলা, কথা বলছো, তারপর আমি আমরা ওদেরকে বললাম যে, তোমরা আসো, তোমরা আসলা, কথা বললা, ওইখানের ভিতরে সবাই একসাথে বসলো।’

আরও পড়ুন: ইবির সমাবর্তন ২ ফেব্রুয়ারি, রেজিষ্ট্রেশনের তারিখ ও ফি নির্ধারণ

এ বিষয়ে চাকসু এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক আরটিভি নিউজকে বলেন, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, আমি তা গ্রহণ করছি। এ সংক্রান্ত কল রেকর্ডও প্রকাশ করছি। সাধারণত কারও ব্যক্তিগত ফোনালাপ রেকর্ড বা প্রকাশ করা উচিত নয়। কিন্তু তিনি নিজেই একটি কল রেকর্ড প্রকাশ করেছেন। তাই আমিও বাধ্য হয়ে কল রেকর্ড প্রকাশ করছি। আশা করি, এর মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সবার কাছে স্পষ্ট হবে।

মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিতের জন্য জিএসকে দায়ী করে তিনি বলেন, এই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল শিক্ষার্থীদের স্বার্থে। এতে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইনি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। চাকসুতে দায়িত্ব পালনকালে আমি অনেক উদ্যোগ নিতে চেয়েছি। কিন্তু পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের অভাবে অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তারা কোনো বিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। বলা যায়, চাকসু চলছে তাদের মতো করে, আর আমি আমার জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

এজিএস আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যতটুকু সম্ভব, আমি কাজ করার চেষ্টা করেছি। এবার সবাইকে সম্পৃক্ত করে, চাকসুর অন্য সম্পাদকদের সঙ্গে নিয়ে একটি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু সেটি জিএসের পছন্দ হয়নি। ফলে তিনি তা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে আসা প্রয়োজন। এ কারণেই আমি তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি এবং সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ড প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ‘রাজনীতিকে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়ে ফেলা অত্যন্ত বিব্রতকর। দীর্ঘদিন পর একেবারে শেষ সময়ে এসে আমাকে নিয়ে এমন বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আমার কোনো কথাই হয়নি। এর প্রমাণও আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছি।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চুয়েট অধ্যাপক আরাফাতকে শিক্ষার্থীদের অবাঞ্চিত ঘোষণা

এজিএসের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলে জিএস বলেন, তৌফিক গত এক বছরে চাকসুর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখেনি। মাঝেমধ্যে চাকসুতে এসেছে এবং প্রশাসনের সঙ্গে কিছু আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। এর বাইরে তার কার্যক্রম কতটা ছিল, সেটি শিক্ষার্থীরাই বিবেচনা করবেন। তবে আমি ফোন করে কোনো কার্যক্রম বন্ধ করিয়েছি বলে সে যে অভিযোগ করেছে, তা স্পষ্ট মিথ্যাচার।

অভিযোগ প্রমাণের চ্যালেঞ্জ পুনর্ব্যক্ত করে সাঈদ বিন হাবিব বলেন, আমি তাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছি, সে যদি প্রমাণ করতে পারে যে আমি ফোন করে ওই কার্যক্রম বন্ধ করিয়েছি, তাহলে তাকে ছোট ভাই হিসেবে ১০ কোটি টাকা উপহার দেব এবং চাকসুর সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকেও পদত্যাগ করব। একই সঙ্গে তাকেও এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছি। নিজের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারলে তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বিব্রতকর বিষয় হলো, শেষ সময়ে এসে তৌফিক এমন একটি বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে, যেন আমার সঙ্গে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। বাস্তবে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই। সে তার মতো কাজ করেছে, আমি আমার মতো কাজ করেছি। অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে আমাকে জড়িয়ে নিজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা দুঃখজনক। ছোট ভাই হিসেবে তাকে বলব, মিথ্যা অভিযোগ করে এই সুন্দর সময়টাকে নষ্ট করো না।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের চাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের’ প্রার্থীরা জয়ী হন। অন্যদিকে, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয় পান ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। ভিন্ন রাজনৈতিক প্যানেল থেকে নির্বাচিত এই দুই প্রতিনিধির মধ্যে এর আগেও চাকসু ভবনে বসার কক্ষ নিয়ে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছিল। এবার মেডিকেল ক্যাম্প স্থগিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের সেই বিরোধ নতুন করে সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন: মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে জাবি শিক্ষার্থী সাময়িকভাবে বহিষ্কার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম

দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আগামীকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। সরকারের উদ্যোগে দেশের মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে এ কর্মসূচির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছে।

গত ৮ অক্টোবর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১২ অক্টোবর থেকে দেশের সব এলাকার থানা ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম একযোগে শুরু হবে। এ উদ্দেশ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড থানা তথ্যভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির জন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রচারণার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ে মসজিদগুলোতে এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায় সংযুক্ত বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রচারণার জন্য প্রস্তুত বার্তায় জানানো হয়েছে, সরকারের প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কোন পরিবারের সহায়তা বেশি প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হবে। তাই সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যে, তারা পরিবারগুলোর প্রকৃত আর্থ-সামাজিক অবস্থা তুলে ধরে সঠিক তথ্য প্রদান করুন।

মসজিদে জুমার নামাজের আগে তিন মিনিটের ঘোষণায় পরিবারের প্রকৃত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন থেকে সতর্ক থাকার বার্তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ টাকা চাইলে তা বিশ্বাস করা যাবে না। তথ্য প্রদানের জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে, মন্দির, গির্জা ও বিহারে দুই মিনিটের ঘোষণায় প্রকৃত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তথ্য সংগ্রহের সময় কেউ বাদ না পড়েন। কেউ অর্থ দাবি করলে ১০৯৮ নম্বরে জানানোর কথাও প্রচারণার বার্তায় উল্লেখ রয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চিঠির অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

এই সময় জামায়াত আমিরকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান সংগঠনের নায়েবে আমির জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির জনাব মো. সেলিম উদ্দিন।

গত ৭ অক্টোবর বুধবার, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।

তুরস্কে পৌঁছানোর পর, গত ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) তিনি তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসময় স্পিকারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তুরস্ক পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব আকিফ ইলমাজ এমপি প্রমুখ।

গত ৯ অক্টোবর, তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এতে বাংলাদেশের চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়া, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠন এবং তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সম্ভাবনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশবিষয়ক গবেষণা, নীতিনির্ধারণী সংলাপ এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।"

বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক কোনো সাম্প্রতিক বা কেবল কয়েক দশকের বিষয় নয়; তুরস্কের জনগণের সাথে আমাদের রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক। এবং এই সম্পর্ক আগামীতে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।"

তুরস্কে সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে জামায়াত আমির সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন করেন এবং আজ ১১ অক্টোবর সকালে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই বাংলাদেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই বাংলাদেশে

কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তিনি ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো কানাডা ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করা, যা শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারির মাধ্যমে সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই ঢাকা ও কক্সবাজারে কানাডার সহায়তায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করবেন। সফরের সময় কানাডার আন্তর্জাতিক সহায়তা কিভাবে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারী ও যুবসমাজের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করছে, তা তুলে ধরা হবে।

এসব উদ্যোগ টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে কানাডা ৬.৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারেরও বেশি উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করেছে। এর মধ্যে ব্র্যাক ও আইসিডিডিআর,বি’র মতো বাংলাদেশভিত্তিক এনজিও/সংস্থার কার্যক্রমে কানাডার দীর্ঘকালীন সমর্থন উল্লেখযোগ্য। পরবর্তীতে এসব প্রতিষ্ঠান বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ও সম্মানিত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

দীর্ঘদিনের এই উন্নয়ন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কানাডা বাংলাদেশে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা দেখছে।

২০২৫ সালে কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৪ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার ছাড়িয়ে যাবে। সুশাসন, নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নয়ন ও সংস্কার অব্যাহত থাকলে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বাড়বে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি হবে এবং উভয় দেশের জন্য পারস্পরিক সমৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণের এই সময়ে কানাডার অংশীদারত্ব স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জেন্ডার সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে যাচ্ছে।

কক্সবাজার সফরের সময় প্রতিমন্ত্রী সারাই রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং চলমান সংকট মোকাবিলায় নিয়োজিত অংশীজনদের কাছ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হবেন।

২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডা ৬০০ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারেরও বেশি সহায়তা প্রদান করেছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশের আশ্রয়দাতা জনগণের জন্য উল্লেখযোগ্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কানাডা মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে তার অঙ্গীকার অব্যাহত রাখবে এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল ও ক্যাম্পাস উৎসবে বাড়ছে গুলির আতংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল ও ক্যাম্পাস উৎসবে বাড়ছে গুলির আতংক

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ও কলেজের ফুটবল খেলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক উৎসবকে কেন্দ্র করে বন্দুক হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আনন্দ ও উল্লাসের পরিবেশে, গুলির শব্দ আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। গত ১৮ বছরের মধ্যে ফুটবল খেলা ও বার্ষিক উৎসবের সাথে সম্পর্কিত অন্তত ৮৬টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২০০৮ সাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুলির ঘটনা নিয়ে সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের ঘটনা আরও বেড়েছে। ৮৬টি ঘটনার মধ্যে ৬৩টি ঘটেছে ২০২১ সাল থেকে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের টাস্কেগি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ প্রাণ হারান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুলিতে অন্তত ১৬ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষার্থী আমায়া ওয়েমোন।

ঘটনার সময় তিনি বন্ধুর সঙ্গে ক্যাম্পাসের একটি আবাসিক ভবনের বাইরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিলেন। ভিড়ের মধ্যে অস্বস্তি বোধ করায় তারা এক বন্ধুর বাসার বারান্দায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু তার আগেই গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রাণ বাঁচাতে গাড়ির নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে পায়ে আঘাত পান আমায়া।

তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদ্‌যাপন আনন্দ, গর্ব ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা থাকার কথা ছিল। অথচ অচেনা একজন ক্যাম্পাসে এসে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়েছেন।"

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের চলতি বছরে ফুটবল খেলা ও বার্ষিক উৎসবের সাথে সম্পর্কিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে অন্তত তিনটি গুলির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে গত সপ্তাহে জর্জিয়ার একটি উচ্চবিদ্যালয়ের বার্ষিক উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে যে ব্যাপক গুলির ঘটনা ঘটে, সেটি এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ, ঘটনাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে ঘটেনি।

শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, নিরাপদে আনন্দ করার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তাদের মতে, ফুটবল খেলা বা উৎসব নিজে বন্দুক হামলার কারণ নয়। বরং এসব আয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। আগে থেকে থাকা ব্যক্তিগত বিরোধ বা স্থানীয় সংঘাত সেখানে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্দুক সহিংসতাবিষয়ক অধ্যাপক সোনালি রাজন বলেন, "ফুটবল খেলা নিজেই বিপজ্জনক—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। বরং রাতে আয়োজিত অনুষ্ঠান, মানুষের ভিড় এবং কখনো কখনো মদ্যপানের কারণে বিরোধের সূত্রপাত হতে পারে। সাধারণ কোনো বিবাদে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।"

গবেষকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুলির অধিকাংশ ঘটনাই আগে থেকে পরিকল্পিত হামলা নয়। ব্যক্তিগত বিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা, অপরাধী চক্রের সংঘাত কিংবা ছোটখাটো অপরাধ থেকে এসব ঘটনা ঘটতে পারে। দারিদ্র্য, সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাও সামগ্রিক সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক উৎসব ঘিরে গুলির ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা সংস্থা এভরিটাউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজ পর্যায়ে বার্ষিক উৎসবের সপ্তাহে সংঘটিত গুলির ৮০ শতাংশের বেশি ঘটনা ঘটেছে ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে।

সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষণেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০০৮ সাল থেকে বার্ষিক উৎসবের সাথে সংশ্লিষ্ট, তবে ফুটবল খেলার বাইরে সংঘটিত ১৪টি গুলির ঘটনার মধ্যে মাত্র একটি ছাড়া বাকি সবই ঘটেছে ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

টাস্কেগি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার এক সপ্তাহ আগে উত্তর ক্যারোলাইনার শ ইউনিভার্সিটিতে গুলিতে একজন আহত হন। ২০২৪ সালের অক্টোবরের আগের মাসে নর্থ ক্যারোলাইনা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি, আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইন ব্লাফ শাখা এবং জর্জিয়ার আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বার্ষিক উৎসব ঘিরে গুলির ঘটনায় একজন নিহত ও ১০ জন আহত হন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে এক সপ্তাহের মধ্যে মেরিল্যান্ডের মরগান স্টেট ইউনিভার্সিটি ও বোয়ি স্টেট ইউনিভার্সিটির বার্ষিক উৎসবেও গুলির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মরগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ২০২২ সালেও উৎসব ঘিরে গুলিতে একজন আহত হয়েছিলেন।

এভরিটাউনের গবেষণা উপপরিচালক মেগান ও’টুল বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা ও আশপাশের এলাকার মধ্যে সহিংসতার যোগসূত্র রয়েছে। তাই ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আশপাশের এলাকার সহিংসতা মোকাবিলার দিকেও নজর দিতে হবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় স্কুল পর্যায়ের ফুটবল খেলায় গুলির ঘটনা বেশি। সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফুটবল খেলার সাথে সংশ্লিষ্ট মাত্র চারটি গুলির ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। বিপরীতে প্রাথমিক থেকে উচ্চবিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুটবল খেলা ঘিরে এমন ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৭০।

এসব ঘটনায় কখনো খেলোয়াড় ও দর্শকদের প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে দেখা গেছে, কখনো শিক্ষার্থীরা গ্যালারির আসনের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। মাঠে থাকা খেলোয়াড়েরাও গুলি থেকে বাঁচতে নিচু হয়ে পড়েছেন।

গবেষক ডেভিড রিডম্যানের মতে, বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় সাধারণত নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু অনেক উচ্চবিদ্যালয়ের খেলায় গুলির ঘটনা ঘটে গাড়ি রাখার জায়গায়। ফলে মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও আশপাশের এলাকায় হামলার ঝুঁকি থেকে যায়।

শুধু ফুটবল নয়, শীতকালে বাস্কেটবল খেলাকে কেন্দ্র করেও গুলির ঘটনা ঘটেছে। ২০০৮ সাল থেকে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাস্কেটবল খেলা সংশ্লিষ্ট অন্তত ৩৪টি গুলির ঘটনা শনাক্ত করেছে সিএনএন। এসব ঘটনায় অন্তত নয়জন নিহত এবং ৪৫ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরের এক শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে তরুণদের ফুটবল খেলা ঘিরে তিনটি পৃথক গুলির ঘটনায় দুজন নিহত ও দুজন আহত হন। ২০০৮ সাল থেকে তরুণদের ফুটবল আয়োজন ঘিরে অন্তত ১০টি গুলির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্থানীয় পুলিশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া আয়োজকদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রয়োজন। পাশাপাশি সহিংসতার মূল কারণগুলো মোকাবিলা এবং বিপজ্জনক ব্যক্তিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছানো ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা দরকার।

ডেভিড রিডম্যান মনে করেন, বড় পেশাদার ফুটবল সংস্থাগুলো চাইলে স্থানীয় পুলিশ, স্কুল ও তরুণদের ক্রীড়া আয়োজকদের সহায়তায় নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশিকা তৈরি করতে পারে।

টাস্কেগি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমায়া ওয়েমোনের মতে, সহিংসতা ঘটার পরই কেবল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়; অথচ স্বাভাবিক সময়ে, কোনো ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করছেন আমায়া। ভবিষ্যতে আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছা তার। ২০২৫ সালের বার্ষিক উৎসবে তিনি অংশ নেননি; হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জননীতি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। তবে এ বছরের উৎসবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

সূত্র: সিএনএন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%