রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৫ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার রোডম্যাপ পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। দুই দেশের চলমান উত্তেজনায় নতুন করে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের দেওয়া শর্তগুলো গ্রহণ করেনি। খবরটি রয়টার্সের মাধ্যমে এসেছে।
দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে সাত দিনের এই রোডম্যাপ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। প্রস্তাবে উল্লেখ ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দফায় তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ও প্রাথমিক শর্তগুলো মানলে সপ্তম দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।
ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটকে থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের হিমায়িত সম্পদ ছাড় করা। পাশাপাশি লেবাননসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছিল।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এই প্রস্তাব গ্রহণ করলে ইরান ভবিষ্যতে তাদের পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ীভাবে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য।
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হলেও কাতারভিত্তিক কূটনৈতিক মধ্যস্থতা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়নি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা পরোক্ষ বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’ সামনে রেখে খুলনা অঞ্চলে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে। পর্যটকদের সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে পর্যটনবাহী নৌযান এবং ট্যুর অপারেটররাও এখন ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
আসন্ন পর্যটন মৌসুমে সুন্দরবনে নতুন করে পর্যটকদের আগমন বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার জন্য আরও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে সাধারণত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটনের প্রধান মৌসুম থাকে। এই সময়ে আবহাওয়া অনুকূল থাকে এবং নদী ও খাল তুলনামূলক শান্ত থাকে।
সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন। তবে পর্যটনবাহী নৌযানে করে বনে প্রবেশ করেছেন প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক।
পরিবারের সঙ্গে সুন্দরবন ভ্রমণ করা ৯ বছর বয়সী সুমাইয়া তাবাসসুম বলেন, "আমি বাঘ দেখতে খুব আগ্রহী ছিলাম, কিন্তু দেখতে পারিনি। তবে হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী দেখেছি। সুন্দরবন ভ্রমণ সত্যিই আমি খুব উপভোগ করেছি।"
পর্যটক সাহিদা আক্তার লতা বলেন, "সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর প্রতি আগ্রহ থেকেই আমি এসেছি।" তিনি আরও বলেন, "সবুজের সমারোহ, নদী ও বনের নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা ব্যস্ত নগরজীবন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।"
সাহিদা আক্তার লতা আরও জানান, "সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, হরিণ, বানর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখার ব্যাপারে বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলাম। পাশাপাশি সম্ভব হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখব বলেও আশা করেছিলাম।"
পরিবারের সঙ্গে সুন্দরবন ভ্রমণ করা আরেক পর্যটক রুবেল বলেন, "সুন্দরবন ভ্রমণ শুধু আনন্দদায়কই নয়, শিশুদের জন্য শিক্ষণীয়ও। তারা বই ও টেলিভিশনে আগে যেসব প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সম্পর্কে জেনেছে, সেগুলো সরাসরি দেখার সুযোগ পায়।"
ট্যুর অপারেটররা জানান, সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার নিয়ে মানুষ সুন্দরবনে ভ্রমণে আসেন।
দ্য ইন্টারভাল ট্যুরসের পরিচালক সৈয়দ আতিক শাহরিয়ার তাকিম বলেন, "সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে। এ বছরও পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"
সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরও উপকার করে। এর মধ্যে রয়েছেন দোকানদার, মাছ ও সবজি বিক্রেতা, রিকশা ও অটোরিকশাচালক, পরিবহনকর্মী, হোটেল ও রেস্তোরাঁর কর্মচারী, মাঝি, গাইড এবং দিনমজুর।
তবে খুলনার ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, "সুন্দরবনে পর্যটন কমে যাচ্ছে।" তিনি বলেন, "গত বছর পর্যটনবাহী নৌযানে করে মাত্র প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক বনে প্রবেশ করেছেন। ছোট নৌযানে করে করমজলে যাওয়া পর্যটকের সংখ্যাও কমেছে। সব মিলিয়ে পর্যটকের সংখ্যা প্রায় এক লাখের বেশি ছিল না।"
কচির মতে, পর্যটন কমে যাওয়ার একটি কারণ সুন্দরবনের আশপাশে অননুমোদিত রিসোর্ট গড়ে ওঠা। তিনি অভিযোগ করেন, "কিছু রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ এমন সুযোগ-সুবিধা ও বিনোদনের বিজ্ঞাপন দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করে, যেগুলো সুন্দরবনের ভেতরে পাওয়া যায় না। ফলে অনেক দর্শনার্থী বনে প্রবেশ না করে রিসোর্টেই অবস্থান করেন।"
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এর আকর্ষণ বাড়াতে ২০ বছর মেয়াদি ‘সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি করা হয়েছে। প্রচলিত অবকাঠামো উন্নয়নের পরিবর্তে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে টেকসই পর্যটন বিকাশের একটি রূপরেখা দেওয়া হয়েছে এ পরিকল্পনায়।
মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে ডেপুটি চিফ অব পার্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম বলেন, "এটি প্রণয়নে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে।" তিনি বলেন, "মাস্টার প্ল্যানটি মূলত একটি কারিগরি রূপরেখা, যেখানে সুন্দরবনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক দিককে সমন্বয় করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ত্বরান্বিত হবে।"
তিনি বলেন, "পরিকল্পনাটির লক্ষ্য সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশবান্ধব পর্যটন, ব্যবস্থাপনা ও বিপণনকে উৎসাহিত করা। এর মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদান রাখা এবং স্থানীয় মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা হবে।"
পরিকল্পনাটির লক্ষ্য আরও বেশি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো। অধ্যাপক ওয়াসিউল ইসলামের মতে, সুন্দরবনের শান্ত, নিরিবিলি পরিবেশ এবং চাঁদনি রাত বিদেশি দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
এদিকে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’ উপলক্ষে খুলনা টোয়াস রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় একটি বিশেষ রোড শোর আয়োজন করেছে।
রোড শোটি বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও শহীদ হাদিস পার্ক হয়ে শিববাড়ী মোড়ে গিয়ে শেষ হবে।
টোয়াসের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবির ইমতিয়াজ বলেন, "এ আয়োজন কেবল একটি র্যালি নয়, বরং খুলনা ও সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি প্রতীকী উদ্যোগ।" তিনি বলেন, "শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত খুলনা এ অঞ্চলের পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারে। এ সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সুন্দরবন।"
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলেন, সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তারা যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন অবকাঠামো, গবেষণা সুবিধা, দক্ষ জনবল, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার এবং সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তারা বলেন, পর্যটক, ট্যুর অপারেটর, গাইড, নৌযান শ্রমিক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বন বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ সুন্দরবন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্লাস্টিক ও বর্জ্য অপসারণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগও নিয়েছে টোয়াস।
তাদের মতে, সুন্দরবন, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক স্থাপনা, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন, লোকসংস্কৃতি এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে একীভূত করে খুলনাকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশে ক্রিকেটারদের নামাজ আদায়ের সুবিধার জন্য একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মসজিদ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মুশফিক তামিমকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর জানা গেছে, প্রস্তাবিত স্থানটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে অনুশীলন কিংবা ম্যাচ চলাকালে নামাজ আদায়ের জন্য ক্রিকেটারদের বিসিবি প্রাঙ্গণের বাইরে যেতে হয়। এ কারণে তাদের সময়, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। ক্রিকেটারদের এই সমস্যা সমাধানে বোর্ডের নিজস্ব প্রাঙ্গণে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মুশফিকুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য পরিচিত। মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনায় তাকে সম্পৃক্ত রাখা হয়েছে।
তবে, মসজিদের নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে, এর আয়তন ও ধারণক্ষমতা কত হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে বিসিবির পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
চলতি বছর বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর, তামিম ইকবাল ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এবার সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিসিবি প্রাঙ্গণে ক্রিকেটারদের জন্য একটি নিজস্ব মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা যুক্ত হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সুস্থ থাকার জন্য শুধুমাত্র অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেওয়া যথেষ্ট নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তোলা অপরিহার্য। পর্যাপ্ত ঘুম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, যথেষ্ট পানি পান এবং মানসিক চাপ কমানোর অভ্যাসগুলি শরীর ও মনকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, দৈনন্দিন জীবনে নিচের অভ্যাসগুলো অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়। পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম শরীরের ইনসুলিন কার্যকারিতা, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন, শারীরিক সক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে ব্যক্তিভেদে ঘুমের প্রয়োজন কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
সন্ধ্যার পর কম আলো
রাতে অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো এবং মোবাইল ফোন বা অন্যান্য পর্দার আলো ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই ঘুমানোর ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে মোবাইল, কম্পিউটার বা অন্য পর্দা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা উচিত।
বাদাম ও বীজ খান
বাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের বীজে প্রোটিন, আঁশ, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান থাকে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে এসব খাবার খাওয়ার ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমে যায়, যা বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।
তৈলাক্ত মাছ রাখুন খাবারে
তৈলাক্ত মাছে ভালো মানের প্রোটিন এবং ওমেগা-৩ ধরনের চর্বি থাকে। নিয়মিত মাছ খাওয়ার ফলে হৃদ্রোগ, স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কিছু সমস্যা এবং শরীরের প্রদাহজনিত রোগের ঝুঁকি কমে যায়, যা বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে।
বেশি করে ফল ও সবজি
ফল ও সবজিতে আঁশ, ভিটামিন, খনিজ এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফল ও সবজি রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি ফল ও সবজি খাওয়ার ফলে দীর্ঘায়ু এবং হৃদ্রোগ ও স্থূলতার ঝুঁকি কমে।
পর্যাপ্ত পানি পান
শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন। পানি রক্তের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহায়তা করে। তাই তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত।
প্রোটিনের ঘাটতি নয়
শরীরের কোষ ও বিভিন্ন টিস্যু তৈরি ও মেরামতের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি হয় এবং ক্ষুধা ও অপ্রয়োজনীয় খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে। তাই প্রতিদিনের খাবারে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন রাখা জরুরি।
জলপাইয়ের তেল বেছে নিন
জলপাইয়ের অতিরিক্ত পরিশোধন না করা তেলে স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ২০২৫ সালের একটি পর্যালোচনায় এ ধরনের তেল খাওয়ার সঙ্গে হৃদ্স্বাস্থ্যের বিভিন্ন উপকারের সম্পর্ক উঠে এসেছে। তবে যেকোনো তেলের মতো এটিও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলুন
কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া ফলের পানীয় এবং মিষ্টি চা-কফিতে বাড়তি চিনি থাকে। নিয়মিত এসব পানীয় খাওয়ার ফলে হৃদ্রোগ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। এর পরিবর্তে চিনি ছাড়া চা, কফি বা পানি পান করা যেতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান
প্যাকেটজাত বিস্কুট, চিপস, ফাস্টফুড, মিষ্টি খাবার এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত প্রস্তুত খাবারে অনেক সময় বাড়তি চিনি, পরিশোধিত তেল, লবণ এবং বিভিন্ন সংযোজক থাকে। এসব খাবারে প্রয়োজনীয় আঁশ ও পুষ্টি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি, স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
বাড়তি চিনি কম খান
চিনি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও খাবার ও পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি যোগ করার অভ্যাস কমানো উচিত। বেশি চিনি খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
পরিশোধিত শর্করা কমান
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত শর্করাযুক্ত খাবারে আঁশ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান কমে যেতে পারে। এসব খাবার বেশি খেলে সহজেই অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ হতে পারে। তাই খাবারে পরিশোধিত শর্করার বদলে তুলনামূলক কম প্রক্রিয়াজাত ও আঁশযুক্ত খাবার রাখা উচিত।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
নিয়মিত শরীরচর্চা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়। হাঁটা, সাইকেল চালানো অথবা পছন্দের অন্য কোনো শারীরিক কাজও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করুন
শুধু হাঁটা বা দৌড়ানোর মতো ব্যায়াম নয়, পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন এ ধরনের ব্যায়াম করলে পেশির শক্তি, শরীরের গঠন এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত হতে পারে। নিজের শরীরের ওজন বা ব্যায়ামের রাবার ব্যবহার করেও এ ধরনের ব্যায়াম করা সম্ভব।
ভিটামিন ডি নিশ্চিত করুন
হাড় ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য ভিটামিন ডি অপরিহার্য। শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি আছে কি না, প্রয়োজন হলে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পরিবার ও বন্ধুদের সময় দিন
পরিবার, বন্ধু এবং কাছের মানুষের সঙ্গে সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো সামাজিক সম্পর্ক মানসিক চাপ কমাতে এবং সামগ্রিকভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো জরুরি।
মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান করুন
নিয়মিত মেডিটেশন বা ধ্যান মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সহায়তা করতে পারে। প্রতিদিন সকালে বা রাতে কয়েক মিনিট নীরবে বসে মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত উদ্বেগ বা মানসিক সমস্যায় প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য সব অভ্যাস একসঙ্গে পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। ধীরে ধীরে খাদ্য, ঘুম, শরীরচর্চা এবং দৈনন্দিন রুটিনে ভালো পরিবর্তন আনার চেষ্টা করলে তা দীর্ঘমেয়াদে অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।
সূত্র: হেলথলাইন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে সোনার দাম কমেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজুস সোনা ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করে। নতুন করে দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এই দরেই সোনা ও রুপার গহনা বিক্রি হবে।
বাজুসের নির্ধারিত দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকায়।
অন্যদিকে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৯৬৬ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্ধারিত দামেই দেশের বাজারে সোনা ও রুপার গহনা বিক্রি হতে থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ