রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৬ পি.এম
ঝিনাইদহে বিদ্যুতের তার চুরি করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে সদর উপজেলার বিষয়খালী গ্রামের উত্তরপাড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম রকি, তিনি কানুহরপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ওই গ্রামের উত্তরপাড়ায় একটি ঘাষের জমিতে রকি নামের যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, ভোররাতে বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে রকি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, "মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জন্মের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছেলে ও মেয়ের আচরণে সূক্ষ্ম পার্থক্য দেখা দিতে পারে, এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে নতুন একটি গবেষণায়। গবেষণায় দেখা গেছে, খেলনার তুলনায় মানুষের মুখের দিকে গড়ে বেশি সময় তাকিয়ে থাকে মেয়ে-ছেলেরা।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদল পরিচালিত এই গবেষণায় ১৩০ জন নবজাতক অংশগ্রহণ করে। তাদের বয়স ছিল আট ঘণ্টা থেকে তিন দিন পর্যন্ত। ফলে সামাজিক পরিবেশ বা লালন-পালনের প্রভাব পড়ার সুযোগ ছিল খুবই সীমিত।
নবজাতকদের সামনে ল্যাপটপের পর্দায় দুটি ভিডিও একসঙ্গে দেখানো হয়। একটি ভিডিওতে ছিল একটি তরুণীর মুখ, অন্যটিতে ছিল ‘নিউটনের ক্রেডল’ নামে পরিচিত দোল খাওয়া ধাতব বলের খেলনা। আই-ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করেন, কোন ভিডিওর দিকে শিশুরা কতক্ষণ তাকাচ্ছে।
ফলাফলে দেখা যায়, ছেলে ও মেয়ে উভয় শিশুই খেলনার তুলনায় মানুষের মুখের ভিডিওর দিকে বেশি সময় তাকিয়েছে। তবে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় মুখের দিকে আনুপাতিকভাবে বেশি সময় মনোযোগ ধরে রেখেছে।
গবেষণার প্রধান গবেষকদের একজন, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অটিজম রিসার্চ সেন্টারের পিএইচডি গবেষক ইউমনা খান বলেন, "আচরণে লিঙ্গভেদে পার্থক্যের কারণ এবং এর সূচনা কখন থেকে এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে।" নতুন গবেষণাটি অন্তত কিছু পার্থক্য জীবনের শুরুতেই দেখা দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গবেষকদের ধারণা, এত অল্প বয়সে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের সুযোগ কম থাকায় বংশগত বৈশিষ্ট্য কিংবা গর্ভাবস্থায় হরমোনের মাত্রার পার্থক্যের মতো জৈবিক কারণ এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই ফলাফল সব ছেলে বা সব মেয়ের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। গবেষণাটি দুটি দলের গড় পার্থক্য তুলে ধরেছে, যেখানে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দুই দলের শিশুর আচরণে যথেষ্ট মিল ও পার্থক্য থাকতে পারে।
জন্মের সময় দেখা এই পার্থক্য কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ আচরণ বা বিকাশ নির্ধারণ করে দেয়, এমন দাবি করা সম্ভব নয়। তবে গবেষকদের মতে, জীবনের শুরুতে থাকা কোনো প্রাথমিক প্রবণতা পরবর্তী বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে।
সাধারণভাবে মেয়েরা কিছু ভাষাগত ও সামাজিক দক্ষতায় ছেলেদের তুলনায় কিছুটা আগে এগিয়ে যেতে পারে। জন্ম থেকেই সামাজিক বিষয়ে মনোযোগের পার্থক্য থাকলে তা পরবর্তী বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটি ভবিষ্যৎ গবেষণায় খতিয়ে দেখা হবে।
এছাড়া নবজাতকের মনোযোগের এই পার্থক্যের সঙ্গে পরবর্তী স্নায়ুবিক বিকাশ বা মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও গবেষকদের আগ্রহের বিষয়। তবে বর্তমান গবেষণায় নবজাতকের এই আচরণের সঙ্গে অটিজম, এডিএইচডি, উদ্বেগ বা বিষণ্নতার সরাসরি কোনো সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি।
গবেষকদের মতে, গর্ভাবস্থায় হরমোনের পার্থক্যও এ ধরনের আচরণগত তফাতের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। আগের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থার প্রথম ও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ছেলে ভ্রূণ মেয়ে ভ্রূণের তুলনায় বেশি টেস্টোস্টেরনের সংস্পর্শে আসে।
এই হরমোনগত পার্থক্য জন্মের পর মনোযোগ ও মস্তিষ্কের বিকাশে কতটা প্রভাব ফেলে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
গবেষণাটির বিস্তারিত ফলাফল ‘Biology of Sex Differences’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, নতুন এই ফলাফল প্রকৃতি ও লালন-পালনের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে জন্মের সময়ের এই সূক্ষ্ম পার্থক্য কীভাবে পরবর্তী বিকাশের সঙ্গে যুক্ত হয়, তা জানতে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।
সূত্র: গার্ডিয়ান
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ ও কেপটাউন শহরে পৃথক দুই বন্দুক হামলার ফলে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২৬ জন। পুলিশ জানায়, উভয় ঘটনাই স্থানীয় দুটি বিনোদনকেন্দ্র ও পানশালায় (বার) সংঘটিত হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ সার্ভিস (এসএপিএস) জানায়, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে জোহানেসবার্গের পশ্চিমে একটি বারে একটি গোষ্ঠী অস্ত্রধারী ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। হামলাকারীদের হাতে ছিল একে-৪৭ রাইফেল ও পিস্তল। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১৭ জন নিহত হন এবং ১৫ জন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে পুলিশ আরও জানায়, গুলি চালানোর পর হামলাকারীরা কয়েকজন ক্রেতার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং দুটি গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত পুলিশ কাউকেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি।
অন্যদিকে, একই রাতে কেপটাউনের ল্যান্ডল এলাকার একটি বিনোদনকেন্দ্রে একই ধরনের হামলা সংঘটিত হয়। স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪৬ মিনিটের দিকে হওয়া এই হামলায় ১০ জন নিহত হন এবং ১১ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ৫ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ভিন্ন শহরের এই রক্তক্ষয়ী হামলার মধ্যে কোনো সরাসরি সংযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাবনা সদর উপজেলায় শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রভাব কাটতে না কাটতেই, এবার ১১ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির আরেক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল ইসলাম (৫০) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি চায়ের দোকানে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের কারিগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে চা দোকানি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আর শিশুটি সাদুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের দিকে ওই শিশুকে চায়ের দোকানের ভেতরে জোরপূর্বক নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা এ দৃশ্য দেখতে পেয়ে সেখানেই উপস্থিত হন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে সাইফুল ইসলাম সেখান থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তের চায়ের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেন এবং তার বাড়িঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে চায়ের দোকানের ভেতরে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযুক্ত পালিয়ে গেছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই চায়ের দোকানে আগুন দিয়েছে এবং অভিযুক্তের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৯ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে মোস্তফা প্রামানিক নামের এক মুদি দোকানি ধর্ষণের পর হত্যা করে। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোস্তফা প্রমাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়সিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর থেকে পাবনাবাসী ফুঁসে উঠে। অভিযুক্তের বহুতল ভবন ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। পুলিশের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন মোস্তফা। তবে ভাড়াটিয়া কোনটিই স্বীকার করেনি। সে হত্যার পর মোস্তফাকে সহযোগিতা করেছে বলে জানিয়েছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আরেক শিশু ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা আতঙ্ক ছড়িয়েছে অভিভাবকদের মনে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত আগামী ৩ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
ওই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। আহত ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পরে গত ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।
এর আগে, গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ।
তবে ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
ডিবির দাখিল করা চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে এবং বাকি ৬ জন পলাতক রয়েছেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ