শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২১ পি.এম
‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের লেখক রবার্ট কিয়োসাকি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তার বিপুল ঋণের কারণে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই লেখকের রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের সঙ্গে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ জড়িত রয়েছে। কিয়োসাকি, যিনি আর্থিক সাফল্যের কৌশল শেখানোর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে তার ঋণের বিষয়টি তুলে ধরছেন।
৭৯ বছর বয়সী কিয়োসাকি দাবি করেন, তিনি ধনী ব্যক্তিদের জন্য আয় তৈরি করে এমন সম্পদ কেনার উদ্দেশ্যে ঋণ নেওয়ার একটি কৌশল ব্যবহার করছেন। সম্প্রতি ‘গেট রিচ এডুকেশন’ পডকাস্টে কিয়োসাকি বলেন, ‘আমি ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণে আছি।’ তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমি যা করি, আপনারা তা করবেন না।’
কিয়োসাকির সাবেক স্ত্রী এবং ব্যবসায়িক অংশীদার কিম কিয়োসাকি জানিয়েছেন, ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণের অঙ্কটি নিয়ে ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। কিম বলেন, এটি রবার্ট কিয়োসাকির ব্যক্তিগত ঋণ নয়। ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাদের অংশীদারদের সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইউনিটের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার বিপরীতে বিপুল ঋণ নেওয়া হয়েছে। ফলে যদিও ঋণের পরিমাণ ১.২ বিলিয়ন ডলার, এর খুব সামান্য অংশ কিয়োসাকির ব্যক্তিগত দায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিয়োসাকির বিনিয়োগ কৌশলের কারণেই এই বিপুল ঋণের সৃষ্টি হয়েছে। সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেই বর্ধিত মূল্যের বিপরীতে আরও ঋণ নেন। সম্পত্তি বিক্রি না করে ঋণ নেওয়ার কারণে এই অর্থ সাধারণত করমুক্ত ঋণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া, কিয়োসাকি তার বিভিন্ন বিনিয়োগ আলাদা আলাদা ‘লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানি’ বা এলএলসির অধীনে রাখেন। এর ফলে, কোনো একটি বিনিয়োগে সমস্যা দেখা দিলে অন্য সম্পদগুলোকে তার প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়। কিয়োসাকি তার কৌশল সম্পর্কে বলেন, সবকিছু যদি ‘নরকে’ও চলে যায়, তাহলে তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে হবে। ধনীরা এভাবেই ‘ফায়ারওয়াল’ তৈরি করে বিনিয়োগ করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এর হিসাব অনুযায়ী, কিয়োসাকি বছরে প্রায় ৩০ লাখ ডলার আয় করেন। এই হিসাব সঠিক হলে মোট ঋণের মধ্যে তার ব্যক্তিগত অংশ আনুমানিক ৩ থেকে ৬ কোটি ডলার হতে পারে।
‘ট্যাক্স মাভেরিক এআই’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী ডেভিড এ. পেরেজ কিয়োসাকির কৌশলকে ‘ভালো কৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, সম্পত্তির বিপরীতে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় অস্বাভাবিক নয়। তবে এতে বন্ধকের কিস্তি ও সুদের খরচ বাড়তে পারে এবং নগদ প্রবাহ কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে ‘জেপিটিডি পার্টনার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা জন পুল আরও সতর্ক করে বলেন, ঋণ ভালোও হতে পারে, খারাপও হতে পারে। তবে ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে একজনকে অবশ্যই জানতে হবে তিনি কী করছেন। তার মতে, ঋণের মাধ্যমে বিনিয়োগের কৌশল সম্পদের মূল্য বাড়ার সময় ভালো কাজ করে। কিন্তু সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা থেমে গেলে এটি ভয়াবহ আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রবার্ট কিয়োসাকি ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইকে কেন্দ্র করে বিশাল আর্থিক শিক্ষা সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। ১৯৯৭ সালে প্রথম প্রকাশিত বইটি বিশ্বজুড়ে ৪ কোটি ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে বলে ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ জানিয়েছে। বইটিতে কিয়োসাকি তার নিজের বাবাকে ‘পুওর ড্যাড’ এবং শৈশবের বন্ধুর বাবাকে ‘রিচ ড্যাড’ হিসেবে তুলে ধরে অর্থ ও বিনিয়োগ সম্পর্কে দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির তুলনা করেছেন।
কিয়োসাকি দীর্ঘদিন ধরে রিয়েল এস্টেটের মতো আয়-উৎপাদনকারী সম্পদে বিনিয়োগ, কর কমানো এবং বিনিয়োগের জন্য নেওয়া ঋণ ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে নেওয়া ঋণের মধ্যে পার্থক্য করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, "আপনারা নির্বিঘ্নে আপনাদের ধর্ম পালন করবেন। আমরা আমাদের ধর্ম পালন করব। কেউ বাধা দেবে না। এই সমাজ থেকে অপশক্তি দূর করতে চাই। সেই সংগ্রামে আপনাদের পাশে পাবো বলে আশা রাখি।"
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা রামগোপাল মন্দির চত্বরে পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’- এই চেতনা ধারণ করে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন— জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ, বিশিষ্ট শিল্পপতি বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আলোচনা সভা শেষে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে বোতলজাত তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে সরকার। তবে, দাম বৃদ্ধির পরও বাজারে বোতলজাত তেলের সরবরাহ সংকট এখনও কাটেনি। পাশাপাশি, পুরনো দামের তেলও রাজধানীর বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসারে ব্যয়ের চাপ নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সবজি ও মসলার বাজার নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, পোল্ট্রি মুরগির দাম ডাবল সেঞ্চুরি হাকাচ্ছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর খিলক্ষেত কাপ্তান বাজার, রায়সাহেব বাজার, বাবু বাজার ও কাওরান বাজার পরিদর্শন করে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরকার সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর পরও রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খিলক্ষেতের বাসিন্দা মো. রহিম বলেন, "সরকার সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের লাভ হবে। কিন্তু আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের তো আয় বাড়েনি। এমনিতেই সংসারে সব সময় চাপ থাকে। কোনো পণ্যের দাম বাড়লেই সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু তেলের দাম আর কমে না।"
শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরা ও কারওয়ান বাজারে ঘুরে দেখা যায়, এসব বাজারে সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫ টাকা বেশি, প্রতি লিটার ২০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, আজ প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, ঝিঙে ও জালি ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা এবং লাউ ও ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসার দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
দেশি শসার দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বেগুন ও টমেটোর দাম এখনও বেশ চড়া। বাজারে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দামের সবজির তালিকায় রয়েছে শিম। বাজারভেদে প্রতি কেজি শিম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরবরাহ বাড়ায় কাঁচা মরিচের দামও কিছুটা কমেছে। মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছ-মাংসের বাজারে সেই স্বস্তির ছাপ নেই।
রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিমের দামও আগের মতই রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং হালি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাইজ অনুযায়ী ১২০০ থেকে ২৪০০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গুণতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কলমাকান্দা উপজেলায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালনের উদ্দেশ্যে সার্বজনীন জন্মাষ্টমী পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে বিদ্যমান অন্যায়কে পরাস্ত করার লক্ষ্যে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৪ঠা সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি ও শ্রী শ্রী জগনাথ জিউর মন্দির কমিটির সহযোগিতায় এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।
শ্রী শ্রী জগনাথ জিউর মন্দিরে কৃষ্ণ পূজা ও গীতা পাঠের পর, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সনাতন ধর্মালম্বী ভক্তবৃন্দের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্রী শ্রী জিউর মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সার্বজনীন জন্মাষ্টমী পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি হীরালাল সাহা, শুভ্রত দাস, পূজা উদ্যাপন কমিটির কোষাধক্ষ, সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। নেতারা শ্রী কৃষ্ণের জীবনীর উপর আলোকপাত করেন এবং সন্ধ্যায় মন্দিরে লীলা কীর্তন ও মহাপ্রসাদ বিতরণের কথা জানান।
আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, সকল ধর্মের মূল শিক্ষা হচ্ছে সম্প্রীতি, মানবকল্যাণ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা। ধর্মপ্রচারকগণ যুগে যুগে মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথ প্রদর্শন করেছেন। শ্রী কৃষ্ণ পাপীদের দমন করে পৃথিবীতে ন্যায়, সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা আজও মানবসমাজের ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করছে। বক্তারা সমাজ থেকে অন্যায় ও পাপ দূর করে সনাতন ধর্মালম্বীদের শ্রী কৃষ্ণের আলোকে জীবন গঠনের আহ্বান জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মোট ৫১টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রান্তিক জনগণের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো স্থাপন করা হয়েছে। ফলে, প্রান্তিক জনগণের দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য বছরে ৩ থেকে ৪ বার ওষুধ সরবরাহ করা হয় এসব ক্লিনিকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর (ঈঐঈচ) সপ্তাহে ইচ্ছেমতো সময়ে ক্লিনিকে আসেন। তারা ক্লিনিক খোলেন এবং কখনো এক দুই ঘণ্টা চালু রাখেন। আবার কখনো তারা আসেনই না। এর ফলে সেবা নিতে আসা রোগীদের অনির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং পরে ফিরে যেতে হয়। এলাকাবাসীরা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছেন।
৩ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে মোহাম্মদপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সকাল ১০:১৫ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকের তালা বন্ধ ছিল। আবার ১:৫৩ মিনিটে ক্লিনিকের পাশে বাজারে (ঈঐঈচ) সাফিকুল ইসলামকে দেখা যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল, এর কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো সদোত্তর দিতে পারেননি। সাফিকুল ইসলাম কোনো উত্তর না দিয়ে ক্লিনিকে চলে যান। পরে ফিরে এসে জানান, "চা খাওয়ার জন্য গেছিলাম।" অফিসের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "নয়টা থেকে তিনটা।" আবার সকালে ক্লিনিকে আসার সময় সম্পর্কে তিনি জানান, "জানিনা, সময় দেখি নাই।" বুধবার গোয়ালের চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, "খুব একটা না তবে মোটামুটি আসে।"
পলাবান্দা ইউনিয়নে তিনটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে দুইটি বন্ধ পাওয়া যায়। শুধুমাত্র উত্তর সিরাজাবাদ কমিউনিটি ক্লিনিক খোলা ছিল। সেখানে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর (ঈঐঈচ) জেসমিন জানান, তিনি প্রতিদিন অফিসে আসেন এবং চিকিৎসা সেবা দেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ওষুধ অপ্রতুল। এ বিষয়ে পলবান্ধা ইউপির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান কমল বলেন, "পলাবান্দা ইউনিয়নের তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিক বেশীরভাগ সময় বন্ধ থাকে। ইচ্ছে হলে সপ্তাহে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর (ঈঐঈচ) দুইচার দিন আসেন। আবার অনেকেই আসেন না। রোগীরা এলে বলেন, 'ওষুধ নাই', এভাবে চলছে ক্লিনিক।"
সরকার প্রতিটি ক্লিনিকে টাকা খরচ করলেও প্রান্তিক জনগণের পর্যাপ্ত সেবা নিশ্চিত হচ্ছে না। তদারকির অভাবে সিএইচসিপি, এইচএ, এফডব্লিউএ দায়সারা ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রান্তিক জনগণের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিতে সরকারের উদ্যোগে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বছরে ৩ থেকে ৪ বার ওষুধ সরবরাহ করা হলেও রোগীরা যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর (ঈঐঈচ) নিয়মিতভাবে অনুপস্থিত থাকায় এবং চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র না থাকার কারণে এলাকাবাসী দিন দিন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মালমারার কমিউনিটি ক্লিনিকে যাওয়ার সময় অটোচালক জুয়েল শেখ বলেন, "কোথায় যাবেন?" মালমারা কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে জুয়েল শেখ জানান, "ওইখানে গিয়ে কি করবেন? সেখানকার (ঈঐঈচ) মাহফুজা বেগম অফিসে আসেন না। মাসে দেখি একদিন কি দুইদিন।"
কমিউনিটি ক্লিনিকের জমি দাতা নইমদ্দী চেয়ারম্যানের স্ত্রী সাযেদা বেগম জানান, "ওই মহিলা বারোটায় আসলে একটা চলে যায়। কেউ ওষুধ চাইলে ওষুধ দেয় না।" একই অভিযোগ ষাটউর্ধ্ব রাহেলা বেগম, সোনা মিয়া, অষ্টম শ্রেণীর সিয়ামও করেন। তারা সবাই বলেন, ক্লিনিকে গেলে কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ক্লিনিকের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শকের নিয়মিত তদারকির কথা থাকলেও কমিউনিটি ক্লিনিকের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত বলে মনে হচ্ছে। সিএইচসিপি, স্বাস্থ্য সহকারীর দায়িত্ব সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এই অনিয়ম বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ইসলামপুরের হাসপাতালের প প কর্মকর্তা আবু তাহেরকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, "তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ