ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি: আয়াসসহ ৪ জনকে রিমান্ডে পাঠাল আদালত


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি: আয়াসসহ ৪ জনকে রিমান্ডে পাঠাল আদালত

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ চারজনকে আদালত পৃথক মেয়াদে রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য উসকানি এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিরোধী সৃষ্টির চেষ্টা করার।

রোববার (১১ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল গাফফার ঢাকার মহানগর আদালতে রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত মঞ্জুর হওয়া অপর আসামিরা হলেন মো. সাকিবুল হাসান (১৯), মো. সুজন মিয়া (১৮) ও খন্দকার মারজিয়া খন্দকার (২৭)। আদালত আয়াস (২৯) ও সাকিবুলের তিন দিন এবং সুজন ও মারজিয়ার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফার আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে আসামিদের পৃথক মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, আসামিদের কার্যক্রম সরকারের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করার মতো। তারা বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছে। আমাদের যে সম্প্রীতির সংস্কৃতি, সেটি তারা বিনষ্ট করছে। ‘মবের’ মাধ্যমে দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মারজিয়া বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতির মুখে কালি লাগিয়ে দিয়েছে। সামনে দুর্গাপূজা, এটি একটি উসকানি। সরকারের কাজ উন্নয়ন করা, আর তাদের কাজ হচ্ছে উন্নয়নে বাধা দেওয়া। তাদের লক্ষ্য ভাইরাল হওয়া। এজন্য তারা এলোপাতাড়িভাবে গালাগালি করে। সর্বশেষ ১০ তারিখে তারা যে কাজটি করেছে, তাতে করে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং ধর্মীয় উসকানি দিতে চেষ্টা করেছে। তাদের পেছনে একটি চক্র রয়েছে। তাদের সাথে আর কারা জড়িত, তা জানার জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, ১ নম্বর আসামি আয়াশ একটি রাজনৈতিক দলের সভাপতি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনেক আগে থেকেই ব্রাহ্ম ধর্ম পালন করতেন। রাষ্ট্রপক্ষের উসকানিমূলক বক্তব্যের যেসব কথা বলা হয়েছে, তা একেবারেই সত্যি নয়। আইনজীবী আরও বলেন, জুলাই আমাদের মুকুট। এটাকে অস্বীকার করা যাবে না। আয়াশ ও সাকিবুল জুলাই যোদ্ধা, তারা মাঠ পর্যায়ের কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা একেবারেই সত্য নয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, সবাই জুলাই যোদ্ধা। জুলাই যোদ্ধা বলে কি সকল অপরাধ ক্ষমা হয়ে যাবে? তার সকল অপরাধ কি মাপ হয়ে যাবে? উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমি এই আদালতের পিপি। তাই বলে কি আমি সব কিছু করতে পারব? আমি কি আইনের ঊর্ধ্বে? আপনারা দেশকে ভালোবাসুন, কিন্তু অরাজকতা করবেন না। কিছু কিছু দল মনগড়া। সকল রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত নয়। স্বামী সভাপতি, স্ত্রী সেক্রেটারি এমন অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম নামের একটি সংগঠনের সদস্যসচিব আয়াশসহ কয়েকজন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দিতে যান। পুলিশ সেখান থেকে আয়াশ ও তার সঙ্গীদের আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। আয়াশ এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে কর্মসূচি, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঘটনা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং নিজে হামলার শিকার হওয়াসহ নানা কারণে আলোচনা-সমালোচনায় এসেছেন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে। এরপর ফুটপাতের দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়। পরে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ফুটপাতে নতুন ডাস্টবিন স্থাপন, পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বেঞ্চ নির্মাণ এবং সীমানাপ্রাচীর সংস্কার করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মীরসরাইয়ে ৩৯৫ কেজি ইলিশ জব্দ, একজনকে ৭ দিনের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০০ পি.এম


মীরসরাইয়ে ৩৯৫ কেজি ইলিশ জব্দ, একজনকে ৭ দিনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬-এর অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বারইয়ারহাট এলাকা থেকে প্রায় ৩৯৫ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় মাছ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ছোট কাভার্ড ভ্যানও আটক করা হয়েছে। অভিযানে আবু তাহের নামে এক ব্যক্তিকে সাত দিনের কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় এ অভিযানটি পরিচালিত হয়। মিরসরাইয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে প্রসিকিউশন করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুর রহমান। জব্দ করা ইলিশ মাছ ২৮টি এতিমখানা, বিতরণের সময় উপস্থিত ২৭ জন দুস্থ ব্যক্তি এবং মিরসরাই ইউনিয়নের পশ্চিম কিসমত জাফরাবাদ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৯১টি দুস্থ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায়, সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা রহমান লিনা ও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জব্দ করা মাছ এতিমখানা ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, যাতে মাছগুলো নষ্ট না হয়ে মানুষের উপকারে আসে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ থেকে বিরত থাকা জরুরি। তিনি জানান, ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন সুরক্ষায় মৎস্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত মিরসরাই উপজেলায় অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০০ পি.এম


স্ত্রীর কাছে ব্যবসার জন্য টাকা চাওয়া যৌতুক নয়: হাইকোর্ট

শুধুমাত্র ব্যবসার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করাকে আইনগতভাবে যৌতুক হিসেবে গণ্য করা যাবে না, এমন রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সম্প্রতি যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলাকে ‘সাজানো ও ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করে নিম্ন আদালতের দেওয়া দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বাতিল করে মো. রাসেল উদ্দিন নামের এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।

মামলার বিবরণ অনুসারে, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী মো. রাসেল উদ্দিনের সঙ্গে ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। পরে ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের বাইতুশ শরফ মসজিদ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় আসামি রাসেল উদ্দিন তার ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তাকে কাঠের লাঠি দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

এই ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নম্বর-১ ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর মো. রাসেল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

মামলার নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের বিস্তারিত পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে রায় ঘোষণা করেন:

যৌতুকের আইনি সংজ্ঞা: ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২(ঞ) ধারা অনুযায়ী, কেবল বিয়ের শর্ত বা বিবেচনা হিসেবে বর বা বরপক্ষের দাবিকৃত অর্থ বা সম্পত্তিকেই ‘যৌতুক’ বলা যায়। বর্তমান মামলায় বাদী ও সাক্ষীরা জবানবন্দিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে টাকা চাওয়া হয়েছিল আসামির ব্যবসার উদ্দেশ্যে। সুতরাং ব্যবসার প্রয়োজনে টাকা চাওয়ার বিষয়টিকে যৌতুকের সংজ্ঞায় ফেলা যায় না এবং প্রসিকিউশন পক্ষ যৌতুক দাবির অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

মেডিকেল সাক্ষ্যের মারাত্মক বৈপরীত্য: বাদী জবানবন্দিতে দাবি করেছিলেন যে লাঠির আঘাতে তার ডান কাঁধ ও পিঠে জখম হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসক ও হাসপাতালের মেডিকেল সনদে আঘাতের স্থান হিসেবে বাম কাঁধের উল্লেখ রয়েছে। বাদীর মৌখিক বক্তব্য এবং ডাক্তারি সনদের এই স্পষ্ট বৈপরীত্য শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ সন্দেহজনক করে তোলে।

সার্বিক পর্যালোচনায় উচ্চ আদালত মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও সাজানো হিসেবে চিহ্নিত করেন। একইসঙ্গে কক্সবাজারের ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল করে আসামি মো. রাসেল উদ্দিনকে সম্পূর্ণ খালাস প্রদান করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে সরানো হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


ঢাকার সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে সরানো হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ঢাকার আবদুল গনি রোডে অবস্থিত সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরিত হবে। পাশাপাশি, বর্তমান সচিবালয় চত্বরে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।

গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও মেলেনি। সরকার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করতে চায়, সব প্রস্তুতি শেষ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি নকশা প্রস্তুত করেছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনা অনুসরণ করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের নকশা প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন এবং বিভিন্ন পরামর্শও দিয়েছেন। সেসব আমলে নিয়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি লে-আউট প্রস্তুত করেছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় এই প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রয়োজনীয় তথ্য গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে নির্মাণকাজ শুরুর আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী ডিসেম্বরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সের নকশা নিয়ে কাজ করছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিনটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে তিন বছরের মধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় নতুন স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে সব ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগতে পারে।

নতুন সচিবালয় নির্মিত হলে রাজধানীর প্রশাসনিক অবকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তবে প্রকল্পের ব্যয়, নকশা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যায় গুপ্ত শিবির জড়িত ছিল: আবু হানিফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যায় গুপ্ত শিবির জড়িত ছিল: আবু হানিফ

গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ মন্তব্য করেছেন যে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় গুপ্ত শিবিরের involvement ছিল।

তিনি রোববার (১১ অক্টোবর) সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে এই বিষয়টি তুলে ধরেন।

আবু হানিফ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালে শিবির সন্দেহে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ। তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু সেই সময় শিবিরের কোনো প্রতিবাদ দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, তখন অনেক শিবির নেতা ছাত্রলীগের মধ্যে গুপ্তভাবে অবস্থান করছিল।

গত কয়েকদিন আগে তিনি বলেছিলেন যে ফাহাদ হত্যার ঘটনায় গুপ্ত শিবিরের involvement থাকতে পারে। তার দুটি উদাহরণ তুলে ধরেন, প্রথমত, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার আসামির পক্ষের আইনজীবী সাবেক শিবির নেতা এডভোকেট শিশির মনির ছিলেন। দ্বিতীয়ত, সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছিল, তখন বর্তমান শিবির নেতা সাদিক কায়েম ছাত্রলীগের সাথে মিছিল করেছিল।

এগুলো থেকেই প্রমাণিত হয় যে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় গুপ্ত শিবির জড়িত ছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রলীগে থাকা অনেক গুপ্ত শিবির প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও গুপ্তরা এটাকে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে প্রচার করে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%