০৯:০১ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ঢাকার আবদুল গনি রোডে অবস্থিত সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরিত হবে। পাশাপাশি, বর্তমান সচিবালয় চত্বরে পুরান ঢাকার নিম্ন আদালত স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও মেলেনি। সরকার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করতে চায়, সব প্রস্তুতি শেষ করে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি নকশা প্রস্তুত করেছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনা অনুসরণ করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের নকশা প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন এবং বিভিন্ন পরামর্শও দিয়েছেন। সেসব আমলে নিয়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ভবনগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করে একটি লে-আউট প্রস্তুত করেছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় এই প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রয়োজনীয় তথ্য গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে নির্মাণকাজ শুরুর আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী ডিসেম্বরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সের নকশা নিয়ে কাজ করছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সামনে তিনটি বিকল্প নকশা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে তিন বছরের মধ্যে কয়েকটি মন্ত্রণালয় নতুন স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে সব ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগতে পারে।
নতুন সচিবালয় নির্মিত হলে রাজধানীর প্রশাসনিক অবকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। তবে প্রকল্পের ব্যয়, নকশা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন