প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কক্সবাজারের রামু উপজেলার পেচারদ্বীপ সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে তিন তরুণের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা তল্লাশি কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে নির্জন সৈকতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তিনজনের মধ্যে রোহান ও জিশান ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা। অপরজন আকাশ চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার বাংলাবাজারের বাসিন্দা। নিখোঁজ দুজন হলেন ঢাকার উত্তরার নিবিড় ও চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার হারুন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে আসা পাঁচ পর্যটক এবং ঢাকা থেকে আসা সাত পর্যটক ওই সময় সৈকতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের একজন সমুদ্রে ভেসে যেতে থাকলে বাঁচার জন্য চিৎকার শুরু করেন। তাকে উদ্ধার করতে অন্যরা এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তারা পরস্পরের হাত ধরে শিকলের মতো তৈরি করে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু হঠাৎ করে বড় ঢেউ আছড়ে পড়লে তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। ঢেউয়ের তোড়ে কয়েকজন একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পানিতে তলিয়ে যান।
বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে বিপদে
নিহত রোহানের খালু মো. জাহিদ বলেন, তারা সমুদ্রে গোসল করতে নেমেছিলেন। তাদের থেকে কিছুটা দূরে থাকা এক পর্যটক পানিতে ভেসে যাওয়ার সময় ‘হেল্প, হেল্প’ বলে চিৎকার করছিলেন। তখন তার চার-পাঁচজন বন্ধু তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যান। একে অপরের হাত ধরে শিকলের মতো তৈরি করে তাকে টেনে আনার চেষ্টা করেন।
জাহিদ আরও বলেন, উদ্ধারের চেষ্টা চলাকালীন হঠাৎ একটি বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে। তখন তারা পানির নিচে পা রাখতে পারছিলেন না। ঢেউয়ের ধাক্কায় একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সবাই স্রোতে তলিয়ে যেতে থাকেন। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সাঁতার না জেনেও সমুদ্রে নামেন পর্যটকেরা।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মো. আবু জাফর বলেন, সাঁতার জানেন না এমন ব্যক্তিদের জন্য, সাঁতার জানা ব্যক্তিদেরও বঙ্গোপসাগরের মতো উত্তাল সমুদ্রে নামার সময় সতর্ক থাকা উচিত। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
আবু জাফর জানান, পর্যটকদের তাঁরা সাঁতার জানেন কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন। তারা কেউই সাঁতার জানেন না বলে জানান। এরপর সাঁতার না জেনে এত সমুদ্রে কেন নেমেছেন, জানতে চাইলে পর্যটকেরা তাঁকে বলেন, ‘তারা যে রিসোর্টে উঠেছিলেন সেখান থেকে জানানো হয়েছিল, সেখানে নামলে কোনো সমস্যা হবে না।’
উদ্ধার অভিযান চলছে
রামুস্থ হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলাইমান বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি ও রামু থানার পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল কাজ করছে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের নিষেধ সত্ত্বেও পর্যটকেরা ওই স্থানে পানিতে নামেন। একপর্যায়ে দুর্ঘটনা ঘটলে অন্যান্য পর্যটকেরা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, দুজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইউএনও আরও জানান, সংশ্লিষ্ট রিসোর্টের মালিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। তাদের সঙ্গে জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরাও রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রিসোর্টগুলোর নিয়মকানুন না মানা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন