বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:১২ এম
রিজার্ভ চুরি, অর্থ লোপাটসহ দুর্নীতির সহায়তার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আবদুর রউফের তথ্য চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো আকতারুল ইসলাম আজ বুধবার জানালেন, রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং ব্যাংকিং খাতে নানা অনিয়মের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এসব নথি চাওয়া হয়েছে।
তলব করা নথিপত্র বিশ্লেষণের পর প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদসহ পরবর্তী অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে দুদক।
দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযোগ অনুসন্ধানে উপ-পরিচালক মো. মোমিনুল ইসলাম, উপ-পরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার ও উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লার সমন্বয়ে একটি তিন সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
দুদকের তলবকৃত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের সুবিধা দিতে নীতিমালা প্রণয়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়ম ও জালিয়াতির সুযোগ সৃষ্টি করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
অনুসন্ধানের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের নাম, ঠিকানা, দায়িত্বকালসহ বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে দুদক। পাশাপাশি, ওই সময়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন সংক্রান্ত নথিও তলব করা হয়েছে।
চাওয়া নথির মধ্যে রয়েছে, ২০১৬ এবং ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন (ডিওএস) ও ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (বিআরপিডি) থেকে সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট এবং বড় ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের জন্য জারি করা সব অনাপত্তিপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি।
এ ছাড়াও, ২০২০ সালের বিআরপিডি সার্কুলার-৮ অনুযায়ী শিল্প ও সেবা খাতে বিতরণ করা প্রণোদনা ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও প্রণোদনার পরিমাণও চাওয়া হয়েছে।
কিছু ব্যাংকের মালিকানা দেওয়ার অনুমোদনপত্র, এ-সংক্রান্ত নোটশিটের সত্যায়িত অনুলিপি এবং সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময় বিশেষ গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংককে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনসংক্রান্ত নথিও তলব করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ছবি, সংগৃহীত
সরকারের উদ্দেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আজ বুধবার রায়েরবাজারে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে বলেন, “৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে। তা না হলে জনগণ নিজেদের উদ্যোগে জাদুঘর খুলে প্রবেশ করবে।”
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শুধু নামকাওয়াস্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পালন করা চলবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার করা জরুরি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সরকার শীঘ্রই কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
‘জুলাই হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এটি আরও দ্রুত করতে হবে। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফেরাতে হবে এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে’- উল্লেখ করেন তিনি।
এই সময় ১৪ দলীয় নেতা হাসানুল হক ইনুকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে এনসিপির নেতা বলেন, ইনুর ১০ বছরের সাজা হতে পারে না। আমরা আপিলের মাধ্যমে তার জন্য কঠোর শাস্তির প্রত্যাশা করছি।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা না হলে জনগণ নিজেদের উদ্যোগে সেটি খুলে প্রবেশ করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সরকারের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পালন করলেই হবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিরুদ্ধে ঘোষিত মামলার বিচার সম্পন্ন করে ফাঁসির রায় কার্যকর করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী সামনে থাকলেও সরকার এখনো কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। সরকার দ্রুত এ বিষয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে পবিত্র হজ পালনের জন্য আগ্রহীদের জন্য প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম আজ (১ জুলাই) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি সরকারের ঘোষিত হজ রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
আজ বুধবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। সৌদি সরকারের ঘোষিত হজ রোডম্যাপ অনুসরণ করে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইচ্ছুক যাত্রীদের তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৭ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া উল্লেখ্য, গত ২৯ মে সৌদি আরবের জেদ্দায় একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে ২০২৭ সালের হজের আনুষ্ঠানিক রোডম্যাপ প্রকাশ করে দেশটির হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হজের রোডম্যাপ গ্রহণ করেন।
ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ৮ নভেম্বর দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এরপর ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যুর কার্যক্রম শুরু হবে। পবিত্র হজ ফ্লাইট পরিচালনার সম্ভাব্য সময় ৮ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৫ মে (৯ জিলহজ) ২০২৭ সালে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে। ৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৫ মে (৯ জিলহজ) অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের পবিত্র হজ।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন না হলে পরবর্তী হজ কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আগ্রহী হজযাত্রীদের সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক দিন ধরে আলোচনা চলছিল। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন রঙয়ের পোশাকের মধ্যে গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙয়ের শার্ট এবং খাকি রঙয়ের প্যান্ট থাকবে। বিএনপি সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ বুধবার পুলিশ কর্মকর্তাদের নতুন ইউনিফর্মে গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙয়ের শার্ট এবং খাকি রঙের প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। আজ বুধবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে নতুন পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে গাঢ় নীল শার্ট ও খাকি প্যান্টে এবং হালকা জলপাই রঙয়ের শার্ট ও খাকি প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ জানান, আজ থেকে পুলিশ সদস্যরা নতুন পোশাক পরতে শুরু করেছেন। তবে সকল সদস্যদের কাছে নতুন পোশাক এখনও পৌঁছায়নি। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক সদস্যই নতুন পোশাক পাবেন।
যারা নতুন পোশাক পেয়েছেন তারা সেটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশ সংস্কারের দাবি উঠেছিল। পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের দাবি ওঠে। ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই অনুযায়ী পুলিশের শার্টের রঙ আইরন বা লোহা-ধূসর করা হয়, প্যান্টের রং কফি শেল বা কফি-বাদামি ধূসর রাখা হয়। নতুন পোশাকে গত বছর ২৫ নভেম্বর পুলিশ মাঠে নামলেও পোশাক নিয়ে সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক পুলিশ সদস্য পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি, পোশাকের রং নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নির্বাচিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠতে থাকে। ১৮ জুন পোশাকের রঙ পরিবর্তনের জন্য নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর। বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনে পুলিশের শার্ট ও প্যান্টের পাশাপাশি জার্সি, কার্ডিগান, পুলওভার, জ্যাকেট, নারীদের পোশাক, মাথার আবরণ এবং পূর্ণহাতা পোশাকের রং-সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তন সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা করা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগে লোহা-ধূসর রঙের শার্টের ওপর লোহা-ধূসর রঙের ফুলহাতা জার্সি বা পুলওভার ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল।
নতুন বিধানে নীল রঙয়ের শার্টের ওপর গাঢ় নীল রঙয়ের ফুলহাতা জার্সি বা পুলওভার যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা পুলিশ এবং এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে খাকি রঙের টিসি টুইল কাপড়ের ট্রাউজার থাকবে। শার্ট হবে গাঢ় নীল রঙের টিসি প্লেইন ফেব্রিক কাপড়ের। শার্টে সামনে চারটি পকেট থাকবে এবং সামনের পাশে সাতটি বোতাম থাকবে। প্রজ্ঞাপনে নারী পুলিশের পোশাক সম্পর্কেও বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নারী পুলিশ চাইলে শাড়ি পরে। জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে গাঢ় নীল ব্লাউজ পরা যাবে। মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে হালকা জলপাই রঙের ব্লাউজ পরা হবে। এছাড়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নারী পুলিশ সদস্যরা চাইলে মাথার আবরণ ব্যবহার করতে পারবেন। ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যরাও বছরের সকল সময়ে পূর্ণহাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন। গর্ভাবস্থায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে নারী পুলিশ সদস্য সাধারণ পোশাক পরিধান করতে পারবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের ইতিহাসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের ১২ মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।
আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুযোগ বাড়ায় প্রবাসীরা আগের তুলনায় বেশি বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করছেন। ফলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।
এদিকে অর্থবছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে আগের বছরের জুনের তুলনায়ও রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে চূঢ়ান্ত হিসাবে এ অঙ্ক কিছুটা বাড়তে পারে। এর আগে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের অক্টোবরে, তখন আসে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ২ দশমিক ৮০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮২৩ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে জুন মাসে রেমিট্যান্সে ০ দশমিক ৬ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এদিকে, ৩০ জুন একদিনে দেশে ১২ কোটি (১২০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। তবে এটি সাময়িক (প্রভিশনাল) হিসাব। ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্রে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার।
উল্লেখ্য, গত মে মাসজুড়ে দেশে ২৯৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।
এর আগে, সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামে। সেখান থেকে কমতে-কমতে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ পতনের সময় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়নে নেমে যায়। গত ১৪ জুন এডিবির ১০০ কোটি ডলার ঋণ যোগ হওয়ার পর ৩১ বিলিয়নের ঘর ছাড়িয়েছিল। আইএমএফের ঋণের শর্ত মেনে ২০২৩ সালের জুন থেকে বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ হিসেবে ওই সময় রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
দেশের ইতিহাসে রিজার্ভ সর্বোচ্ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তবে অর্থপাচার বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে সেখান থেকে দ্রুত কমতে থাকে। একই সাথে ওই সময়ে ৮৪ টাকা থেকে প্রতি ডলারের দর বেড়ে উঠে যায় ১২০ টাকায়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ কমে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নামে।
২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ রয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৫৩০ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ