০৮:২৩ পি.এম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আগামীর সময় পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শেখ মামুনুর রশিদকে মারধর করার পাশাপাশি গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এ সময় তার কাছে থাকা টাকা ও স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
এর আগে শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ শিববাড়ী শহীদ মিনারসংলগ্ন চন্দনের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক শেখ মামুনুর রশিদ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বলরাম গ্রামের মো. আব্দুল মজিদ মিয়ার ছেলে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ এলাকার রাকিব মিয়া (৩০), সরফরাজ মিয়া (৩৮), মনির মিয়া (৩০) ও তুহিন মিয়া (৩৮)।
এজাহার থেকে জানা গেছে, ধান ব্যবসার সূত্রে রাকিব মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মামুনুর রশিদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি রাকিবের ভাই তুহিন মিয়ার স্ত্রী মোছা. নাইমা নিখোঁজ হলে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে তাকে নিয়ে দোষারোপ ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠে। পরে ওই নারীকে রংপুরে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। এর জেরে মামুনুর রশিদ তাদের বিরুদ্ধে সম্মানহানির মামলা করার কথা জানিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। এতে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
শনিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর মামুনুর রশিদ চন্দনের চায়ের দোকানে বসেছিলেন। এ সময় রাকিব, সরফরাজ, মনির, তুহিনসহ আরও দুই-তিনজন সেখানে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে দোকান থেকে বের করে মারধর করেন। এতে তার মাথা, ঘাড়, গলা, বুক ও মেরুদণ্ডসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মারধরের একপর্যায়ে রাকিব মিয়া তার পকেট থেকে ধান ব্যবসার ৪০ হাজার টাকা নিয়ে নেন। সরফরাজ মিয়া তার ডান হাতের আঙুলে থাকা প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি সোনার আংটি খুলে নেন। পরে সরফরাজ তাকে শহীদ মিনারের পাকা দেয়ালে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং রাকিব গলা চেপে ধরেন। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর অভিযুক্তরা আবারও মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ঘটনার সাক্ষী সবুজ মিয়া বলেন, "মামুন ভাইয়ের সঙ্গে একসঙ্গে চা খেয়ে আমি আমার দোকানে আসি। পরে দেখি রাকিব, সরফরাজ, মনির, তুহিনসহ কয়েকজন তাকে মারধর করছেন। আমি আটকানোর চেষ্টা করলে রাকিব আমাকে ঘুষি মারার চেষ্টা করেন এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।"
চায়ের দোকানের মালিক চন্দন বলেন, "মামুন আমার দোকানে বসে ছিল। রাকিব, মনির, সরফরাজ, তুহিনসহ কয়েকজন এসে তাকে জোর করে বাইরে নিয়ে যায়। আমি বাধা দিলে আমাকেও মারার হুমকি দেয়। এরপর তারা মামুনকে মারধর করে।"
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
অভিযোগের বিষয়ে রাকিব মিয়া, সরফরাজ মিয়া, মনির মিয়া ও তুহিন মিয়ার বক্তব্য জানার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো বক্তব্য দেননি। পরে তাদের ব্যবহৃত নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, "এর আগে আসামিরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সামাজিকভাবে সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলায় আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় আমার টাকা ও স্বর্ণের আংটি নিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সুন্দরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে থানায় এজাহার দিয়েছি।"
ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, "সাংবাদিক মামুনুর রশিদকে মারধর, টাকা ও স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন