মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৯ পি.এম
ব্রাজিল দল বিকেলে মাঠে নামছে, তাদের লক্ষ্য হলো প্রথম ম্যাচের অস্বস্তিকর ফলের পর ঘুরে দাঁড়ানো। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের আগে কোচ কার্লো আনচেলত্তি কৌশল ও একাদশে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ব(২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল চারটায় জাকার্তার মাঠে এই দুই দলের মধ্যে লড়াই অনুষ্ঠিত হবে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি স্বস্তির খবর রয়েছে—টেলিভিশনের সামনে না থেকেও যেকোনো স্থান থেকে স্মার্টফোনের মাধ্যমে ম্যাচটি সরাসরি দেখার সুযোগ থাকবে।
মোবাইলে ম্যাচটি দেখার জন্য জনপ্রিয় স্পোর্টস স্ট্রিমিং অ্যাপস ও বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নজর রাখতে হবে। সাবস্ক্রিপশন থাকলে সহজেই এবং এইচডি কোয়ালিটিতে পুরো খেলাটি সরাসরি উপভোগ করা যাবে। এছাড়া বেশ কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তাদের মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে।
প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর কারণে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের পারফরম্যান্সের আমূল উন্নতি ঘটাতে মরিয়া সেলেসাওরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেছেন যে, স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো সত্য, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।
এই বক্তব্য তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ, বিশ্ব গণতন্ত্র, নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে তুলে ধরেন। ফারসি ভাষায় তার বক্তব্য প্রদান করা হয় এবং পরে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়।
রাষ্ট্রদূত বক্তাদের ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান এবং ইরানের জনগণের প্রতি সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ইরানের মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুদ্ধ শুধুমাত্র সামরিক, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয় নয়; বরং গণমাধ্যমও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি উল্লেখ করেন, পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমে অনেক সময় যুদ্ধের ঘটনাগুলো একপেশেভাবে উপস্থাপন করা হয়।
স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল—কোনো পক্ষের হয়ে অবস্থান নেওয়া সাংবাদিকতার কাজ নয়। সত্য, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব।
আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, যুদ্ধের আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিশু, স্কুল, নারী ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় হামলা কতটা বৈধ। তিনি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত জানান, আত্মরক্ষার অধিকার আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত। ইরান নিজেদের দেশ ও জনগণকে রক্ষায় সেই অধিকার প্রয়োগ করছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সনদের ৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কোনো রাষ্ট্র হুমকি সৃষ্টি করলে নিরাপত্তা পরিষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে, যার মধ্যে বলপ্রয়োগের অনুমোদনও থাকতে পারে। তবে ইরানে হামলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদ এমন কোনো অনুমোদন দেয়নি।
বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ধরে নিন, আমরা সবাই সন্ত্রাসী। ইরানের শিক্ষার্থীরাও সন্ত্রাসী। তারপরও কি যুদ্ধের কোনো আইন থাকবে না? বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা করা কি বৈধ? হাসপাতাল কিংবা শিশুদের ওপর হামলা কি বৈধ?
যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরতে বিশ্বের স্বাধীন গণমাধ্যমগুলোকে ইরান সফরের আহ্বান জানান তিনি। সাংবাদিকদের সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং নিজেদের মতো করে যুদ্ধের পরিস্থিতি তুলে ধরার আহ্বান জানান ইরানি রাষ্ট্রদূত।
উল্লেখ্য, সেমিনারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল এবং এটি জনবান্ধব একটি সংগঠন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে জনগণ ভালো থাকে, ভালো রাখার চেষ্টা করি আমরা।" প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "বিগত একটি সরকার ছিল- ফ্যাসিস্ট সরকার। যারা খুন করেছে, গুম করেছে, হত্যা করেছে। শিশু বাচ্চাদের হত্যা করেছে, আলেমদেরকেও হত্যা করেছে।"
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের হল রুমে বকনা ও পশুখাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, "জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদেরকে বিতাড়িত করেছে। আজকে তারাও আবার বিভিন্ন রকম কথাবার্তা বলে, আসতে চায়। আরে ভাই আসবেন কেন? আপনার যে ফাঁসির রায় হয়েছে। ফাঁসি বাংলাদেশের জনগণ কার্যকর করতে চায়।" প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "ফ্যাসিস্টরা যে পরিমাণ খুন করেছে, গুম করেছে, হত্যা করেছে তবুও কোনো অনুশোচনা নাই। কথায় কথায় বলে এর চাইতে ভয়ংকর হবে। তাহলে তো এবার বাংলাদেশের মানুষ ছেড়ে দেবে না। অনুশোচনা তো করবে- যে ভুল হয়েছে মাফ করে দেন। এই কথা না বলে, হুমকি-ধামকি দেয়। হুমকি ধামকি দিয়ে কি বাংলাদেশের জনগণকে রোধ করা যায়?"
তিনি আরও বলেন, "যতবার গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে ততবার গণতন্ত্র রক্ষার জন্য বিএনপি আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে। দেশরত্ন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। আবার এই ফ্যাসিবাদের বিদায় আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সকল জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিস্টদের বিতাড়িত করেছে। কাজেই আজকে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আপনারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন আমাদের।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সেই জনগণের সরকারকে এত সহজে কি ষড়যন্ত্র করে কোনো ক্ষতি কি করতে পারবে? আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্র যাতে এদেশে কেউ করতে না পারে। আমরা যদি সজাগ থাকি ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না।"
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যদি স্বাবলম্বী হয় তাহলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে।" তিনি প্রধানমন্ত্রীর সব কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, তার মা-বাবার থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
তিনি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে এ ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বর্তমান সরকার কত সুন্দর সুন্দর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সেগুলোকে সমর্থন না দিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কোনো অপতৎপরতাই কাজে আসবে না, সরকার তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।"
এ সময় শহীদ আবু সাঈদের বাড়ি ও কবর সৌন্দর্য বর্ধন করার জন্য এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, "উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা দূর করতে সরকার কাজ করছে। আবু সাঈদের আত্মত্যাগ শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, এটি তরুণ সমাজ ও ছাত্র-জনতার জন্য অনুপ্রেরণা। তার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন সারা দেশের মানুষকে রাজপথে নামিয়েছিল, তা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।"
শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আবু সাঈদ গণ-অভ্যুত্থানের বীর। আমরা আবু সাঈদকে ছড়িয়ে দিতে চাই। তার বাড়ির উন্নয়ন ও কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে ঘোষিত এক কোটি টাকার কাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসককে নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।"
উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "একটি রাজনৈতিক দল বেহেশতের কথা বলে ভোট নিয়েছে, কিন্তু মসজিদ, মাদরাসা, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় শিক্ষকদের নিয়ে চিন্তা করেনি। তাদের নিয়ে চিন্তা করেছেন তারেক রহমান।"
প্রতিমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, স্বাস্থ্য কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান, খেলাধুলার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, "এটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।"
কৃষকদের ভূমিহীন, প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিবেচনা করে কার্ড দেওয়া হবে। এ জন্য তাদের তদবিরের প্রয়োজন হবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, "দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।"
ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে সম্মানীর অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।"
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে তেল-গ্যাসের বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য সরকার দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সাময়িক অসুবিধার কথা জানিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
বিরোধীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, "লংমার্চ করে কখনও সমস্যার সমাধান হবে না। আপনাদের কোনো সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলুন। একই সঙ্গে সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা মূল্যায়নের জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।"
এ সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবীর ডনসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোরের মণিরামপুরে স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের কারণে আব্দুল্লাহ মিথুন (২৮) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ তার নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতিবেশীকে তার স্ত্রীর বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে জানা যায়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে কাশিমনগর ইউনিয়নের মান্দারতলায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আব্দুল্লাহ মিথুন মশিয়ার রহমানের ছেলে এবং পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। নিহতের পরিবার এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছর আগে আব্দুল্লাহর মধুপুর গ্রামের সাথীর (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে, বয়স ৬ ও ৪ বছর। আব্দুল্লাহর প্রতিবেশী সুমন চার বছর আগে মালয়েশিয়ায় চলে যান। সম্প্রতি দেশে ফিরে ছুটি কাটিয়ে তিন মাস আগে পুনরায় মালয়েশিয়ায় ফিরে যান তিনি। এই সময়ের মধ্যে সাথী সুমনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানার পর স্ত্রীকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে আব্দুল্লাহ নিজেই কাজী অফিসে গিয়ে সাথীকে সুমনের সঙ্গে বিয়ে দেন। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবেও তিনি স্বাক্ষর করেন।
নিহতের মা রওশনারা অভিযোগ করেছেন, "বউয়ের মানসিক চাপে আমার ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। রোববার রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। কিছুক্ষণ পর বউ এসে বলে আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। আমার ধারণা, তাকে মেরে পরে মরদেহ আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।"
নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পল্লিচিকিৎসক মুবাশশের আল মুবিন জানিয়েছেন, ঘটনার তিন দিন আগে আব্দুল্লাহর মন খারাপ ছিল। তিনি ফোনে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চাচ্ছিলেন এবং ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়ে দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের স্ত্রীকে নিজে বিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
স্ত্রী সাথী অভিযোগ করেছেন, "আমার স্বামী নিজেই সুমনকে ফোন করে আমার দায়িত্ব নিতে বলে এবং চাপ দিয়ে রাজি করায়। পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়ার একটি কাজী অফিসে নিয়ে আমাদের বিয়ে দেয় এবং সে নিজেই সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করে। ঘটনার রাতে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ও গলায় গামছা জড়িয়ে আত্মহত্যা করে।"
তবে বিদেশে থাকায় অভিযুক্ত সুমনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুমনের ভগ্নিপতি রাকিব হোসেন দাবি করেছেন, আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর তারা বিষয়টি জেনেছেন এবং সুমন বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানিয়েছেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ