প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যশোরের মণিরামপুরে স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের কারণে আব্দুল্লাহ মিথুন (২৮) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ তার নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতিবেশীকে তার স্ত্রীর বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে জানা যায়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে কাশিমনগর ইউনিয়নের মান্দারতলায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আব্দুল্লাহ মিথুন মশিয়ার রহমানের ছেলে এবং পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। নিহতের পরিবার এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছর আগে আব্দুল্লাহর মধুপুর গ্রামের সাথীর (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে, বয়স ৬ ও ৪ বছর। আব্দুল্লাহর প্রতিবেশী সুমন চার বছর আগে মালয়েশিয়ায় চলে যান। সম্প্রতি দেশে ফিরে ছুটি কাটিয়ে তিন মাস আগে পুনরায় মালয়েশিয়ায় ফিরে যান তিনি। এই সময়ের মধ্যে সাথী সুমনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানার পর স্ত্রীকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে আব্দুল্লাহ নিজেই কাজী অফিসে গিয়ে সাথীকে সুমনের সঙ্গে বিয়ে দেন। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবেও তিনি স্বাক্ষর করেন।
নিহতের মা রওশনারা অভিযোগ করেছেন, "বউয়ের মানসিক চাপে আমার ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। রোববার রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। কিছুক্ষণ পর বউ এসে বলে আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। আমার ধারণা, তাকে মেরে পরে মরদেহ আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।"
নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পল্লিচিকিৎসক মুবাশশের আল মুবিন জানিয়েছেন, ঘটনার তিন দিন আগে আব্দুল্লাহর মন খারাপ ছিল। তিনি ফোনে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চাচ্ছিলেন এবং ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়ে দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের স্ত্রীকে নিজে বিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
স্ত্রী সাথী অভিযোগ করেছেন, "আমার স্বামী নিজেই সুমনকে ফোন করে আমার দায়িত্ব নিতে বলে এবং চাপ দিয়ে রাজি করায়। পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়ার একটি কাজী অফিসে নিয়ে আমাদের বিয়ে দেয় এবং সে নিজেই সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করে। ঘটনার রাতে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ও গলায় গামছা জড়িয়ে আত্মহত্যা করে।"
তবে বিদেশে থাকায় অভিযুক্ত সুমনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুমনের ভগ্নিপতি রাকিব হোসেন দাবি করেছেন, আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর তারা বিষয়টি জেনেছেন এবং সুমন বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানিয়েছেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন