০৮:৪১ এম
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত একটি জাহাজ উল্টিয়ে দেয়ার পর, ইরানের হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এক জাহাজ নিজেদের অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থা আপাতত বন্ধ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছিল। এর পরেই সেই জাহাজটিতে হামলা চালিয়ে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো জানানো হয়েছে যে, কয়েকটি জাহাজ ‘অননুমোদিত পথ’ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি পারাপারের চেষ্টা করে এবং এই পথ পরিবর্তনের জন্য দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে, যা অগ্রহণযোগ্য।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
আইআরজিসির বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এবং ‘এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সমাপ্তি না ঘটা পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মন্তব্য করেছে যে, আইআরজিসি বাহিনী সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ইরানে নতুন হামলাগুলো শুরু হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে কয়েকটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, হামলার কারণে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে সেটি আর যাত্রা চালাতে সক্ষম হয়নি। এর সাথে আরো জানানো হয়েছে যে, জাহাজের এক বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে পূর্বে সংঘটিত হামলার জন্য জবাবদিহির পরও সমঝোতা স্মারক মেনে চলার আরেকটি সুযোগ ইরানকে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আবারও এই সুযোগটি নিতে ব্যর্থ হয়েছে।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওই বিবৃতি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এর ফল ভোগ করতে হবে।’ রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, অনুমোদিত নৌপথের বাইরে চলাচলের চেষ্টা করা একটি জাহাজের দিকে নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং এর পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় সতর্কতামূলক গুলি করে জাহাজটিকে থামানো হয়েছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের ‘আগ্রাসন’ চালায় তবে তার ‘কঠোর জবাব’ দেয়া হবে এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
যুদ্ধের ঘটনা ঘটার পূর্বে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরু করে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধের অবসানে, কয়েকটি দেশের সাথে ওমানও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
গত এক দশকে, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতো। তবে এ নৌপথে ইরানের অবরোধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও বৃদ্ধি করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন গতকাল (১১ জুলাই) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। এতে ওমানের জলসীমার দক্ষিণ করিডর দিয়ে অবাধ নৌচলাচলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং ইরানের জলসীমার উত্তর করিডর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে আগে থেকে ইরানের অনুমোদন নিতে হবে। তবে এ জন্য কোনো টোল দিতে হবে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন