০২:৫০ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে, অ্যাটর্নি জেনারেল, উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল, এফবিআই পরিচালক এবং প্রেসিডেন্টের নিয়োগ পাওয়া অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত পরিচয়ে রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিতে, ভোটের প্রচার চালাতে এবং জাতীয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
এই নির্দেশনা চলতি সপ্তাহে বিচার বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জোলিন অ্যান লরির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, সিনেটের অনুমোদন নিয়ে প্রেসিডেন্টের নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি ছাড় দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অ্যাটর্নি জেনারেল, উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, এফবিআই পরিচালক এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নিসহ বিচার বিভাগের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার জন্য প্রযোজ্য হবে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
পূর্বে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি তার দায়িত্বকালে রাজনৈতিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের সমাবেশ ও তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়ে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছিলেন। নতুন স্মারকে সেই ছাড়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের নিয়োগ এবং সিনেটের অনুমোদন পাওয়া বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য অন্যান্য কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য কঠোর বিধিনিষেধ একইভাবে কার্যকর হবে না। এসব কর্মীদের মধ্যে প্রশাসনিক আইনবিষয়ক বিচারক এবং বিচার বিভাগের অপরাধবিষয়ক বিভাগের কিছু কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ গত সেপ্টেম্বরে রিপাবলিকান দলের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্মেলনে বক্তব্য দেন। তিনি উত্তর ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান দলের এক সিনেট প্রার্থীর নির্বাচনী সমাবেশেও অংশ নেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, বিচার বিভাগকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখার দীর্ঘদিনের রীতির সঙ্গে এসব উপস্থিতি সাংঘর্ষিক।
তবে ব্ল্যাঞ্চ দাবি করেছেন, তিনি এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কোনো আইন বা বিধি লঙ্ঘন করেননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ব্যক্তিগত পরিচয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে বিচার বিভাগে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের এক স্মারকে বলা হয়েছিল, পেশাগত জীবনের বাইরে থেকে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত পরিচয়ে কোনো দলীয় রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না। এই নীতি ২০২২ সাল থেকে কার্যকর ছিল।
স্মারকে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল, কোনো অঙ্গরাজ্যে প্রাথমিক বা সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
নতুন নির্দেশনার ফলে বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হলো।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন