ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘মডেল খাল’ কর্মসূচির মাধ্যমে নদী ও খাল পুনঃখননে নতুন সম্ভাবনা


‘মডেল খাল’ কর্মসূচির মাধ্যমে নদী ও খাল পুনঃখননে নতুন সম্ভাবনা

সরকার নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখননের পর সেগুলোকে শুধুমাত্র পানি নিষ্কাশনের কাজে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ রক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ-সহনশীল জীবিকায়ন এবং অতিদরিদ্র জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদে পরিণত করার জন্য একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

‘শুধু খাল খনন নয়; খননকৃত খালের বহুমুখী ব্যবহার’—এই ধারণাকে সামনে রেখে দেশের ৮টি বিভাগে ২০টি নির্বাচিত সরকারি খালকে পরীক্ষামূলক ‘মডেল খাল’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উপকারভোগী হিসেবে প্রায় ২ হাজার ৪০০ অতিদরিদ্র পরিবারকে যুক্ত করার প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে।

আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লালমনিরহাটে নতুন এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত ধারণাপত্রে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু মন্তব্য করেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারাদেশে খাল খননের বিপ্লব শুরু করেছিলেন, কিন্তু বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অবহেলা ও অবৈধ দখলে অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে যায়। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকারের ৪টি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার মধ্যে ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৭ হাজার কিলোমিটার খনন কাজ করবে। গত অর্থবছরে আমাদের লক্ষ্যমাত্রার ১২০০ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধু পানি নিষ্কাশন নয়—খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ, পানিতে হাঁস ও মৎস্য চাষ এবং কুটির শিল্পের সুযোগ তৈরি করে এসব খালের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই। এজন্য আমরা ‘মডেল খাল’ কর্মসূচির ধারণা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

কেন এই ‘মডেল খাল’ কর্মসূচি?

ধারণাপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, নদী-নালা ও খাল পুনঃখননের চলমান কর্মসূচির পাশাপাশি দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি এসব জলসম্পদকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো খালের পানি ধারণক্ষমতা ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহ অক্ষুণ্ন রেখে খালপাড়ে সামাজিক বনায়ন, হাঁস ও মাছ পালন, মৌসুমি সবজি চাষ এবং জনসাধারণের বৈধ ব্যবহার নিশ্চিত করা, পাশাপাশি নৌচলাচল, অতিদরিদ্র জনগণের জীবিকা ও কর্মসংস্থান তৈরি করা।

এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তাকে কেবল সাহায্য বা ভাতা-নির্ভর না রেখে উৎপাদনশীল জীবিকার মাধ্যমে মানুষকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং দুর্যোগ-সহনশীল অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করতেই এ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইনগত, প্রশাসনিক ও কারিগরি এখতিয়ার অক্ষুণ্ন রেখেই পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালার আলোকে এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী, দেশের কৃষিজমিতে সেচসুবিধা বৃদ্ধি, পানিসম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষি উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা, খাল, জলাধার খনন, পুনঃখনন কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’র অনুসরণ করে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশের হারিয়ে যাওয়া নদী, খাল ও প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধারের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সরকারি খাল পুনঃখনন শেষ হওয়ার পর সেগুলোর নিয়মিত তদারকি ও সমন্বিত সামাজিক ব্যবহারের অভাবে যেন খালগুলো পুনরায় অবৈধ দখল, আবর্জনা ফেলা বা পলি জমে ভরাট না হয়—সেজন্যই এই পুনঃখননকৃত খালের ওপর ভিত্তি করে ‘মডেল খাল’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘খালপাড়ের উপকারভোগী দরিদ্র জনগণ যখন নিজেদের আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, তখন দরদ দিয়ে তারা নিজেরা খাল পাহারা দেবেন ও রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন কর্মচঞ্চলতা সৃষ্টি করবে।’

প্রকল্পের আওতা ও উপকারভোগী নির্বাচন হবে যেভাবে

প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দেশের ৮টি বিভাগের ২০টি নির্বাচিত খালকে মডেল হিসেবে নিয়ে পাইলটিং করা হবে। এর মধ্যে—ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে ৩টি করে এবং রংপুর, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২টি করে খাল নির্বাচন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

প্রতি খালের গড় দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার ধরে আনুমানিক মোট ৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খালের বহুমুখী ব্যবহারকে পাইলটিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে, ইতোমধ্যে পুনঃখনন হয়েছে—এমন খালকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মডেল খাল হিসেবে নির্বাচন করা হবে না। প্রতিটি জেলার প্রাপ্ত প্রস্তাবনার মধ্য থেকে জিপিএস স্থানাঙ্ক, জমির খতিয়ান, দখল পরিস্থিতি, পানি প্রবাহ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের চাষাবাদের উপযোগিতা যাচাই করে চূড়ান্ত ২০টি খাল নির্বাচন করা হবে।

রূপরেখায় আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি), নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রতিবন্ধী সদস্যসম্পন্ন দরিদ্র পরিবার থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

মডেল খালের বহুমুখী ব্যবহার ও ‘জোন’ বিন্যাস

ধারণাপত্রে খালের পরিবেশ ও স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি অক্ষুণ্ন রেখে এলাকাভিত্তিক ‘জোন’ বিন্যাসের মাধ্যমে এর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

পরিকল্পনা অনুযায়ী, খালের নির্দিষ্ট অংশ স্থানীয় জনসাধারণ ও গবাদিপশুর গোসল, গৃহস্থালি কাজে পানি সংগ্রহের জন্য ‘পাবলিক জোন’ হিসেবে উন্মুক্ত থাকবে। খালের গভীর ও উপযোগী অংশে দেশীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শে নিয়ন্ত্রিত হাঁস পালনে ‘প্রোডাকশন জোন’ এবং নৌযান চলাচলের সুযোগ থাকা খালে স্বাচ্ছন্দ্য চলাচলের জন্য ‘ন্যাভিগেশন চ্যানেল’ রাখা হবে।

এ ছাড়া খালের দুই পাড়ের মাটি ধস রোধে জলসহিষ্ণু ও ফলজ গাছের ‘সোশ্যাল ফরেস্ট্রি’ এবং পাড়ের ঢালু অংশে মাচা পদ্ধতিতে মৌসুমি সবজি চাষের সুযোগ রাখা হবে।

কর্মসংস্থান, স্থায়ী জীবিকা ও সমবায় পদ্ধতি

প্রস্তাবনায় ২০টি মডেল খালে প্রায় ২ হাজার ৪০০ অতিদরিদ্র উপকারভোগী পরিবারকে সম্পৃক্ত করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যেখানে অন্তত ৫০ শতাংশ নারী সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

তবে কোনো উপকারভোগী বা সমবায়কে খাল বা খালের পাড়ের জমি কিংবা সরকারি অবকাঠামোর ওপর স্থায়ী স্বত্ব দেওয়া হবে না; কেবল শর্তসাপেক্ষ ও অ-হস্তান্তরযোগ্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।

অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন হবে যেভাবে

ধারণাপত্র অনুযায়ী, কোনো পৃথক বৃহৎ প্রকল্প ছাড়াই বিদ্যমান সরকারি কাঠামোর আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় এটি বাস্তবায়িত হবে।

প্রাথমিক বিনিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা কোনো স্থায়ী অনুদান বা দীর্ঘমেয়াদি ভর্তুকি নয়, বরং একটি ঘূর্ণায়মান তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে। সরকারের প্রাথমিক সহায়তায় উৎপাদন শুরুর পর অর্জিত আয় থেকে স্থানীয় সমবায়গুলো নিজস্ব পরিচালনায় ব্যয় বহন করবে, যা সরকারি আর্থিক নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় স্টিয়ারিং কমিটি থাকবে। কর্মসূচি পাইলট পর্যায়ে ১২ মাস পরিচালনার পর একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে এই মডেল সারাদেশে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘মডেল খালের মূল ভিত্তি হলো স্থানীয় নিবন্ধিত হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সুসংগঠিত করে সমবায় সমিতি গঠন করা। কর্মসূচির শুরুর প্রথম দুই বছর সরকার প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ, উৎপাদন উপকরণ, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পরীক্ষামূলক পর্ব শেষে এসব খালের উৎপাদন, আর্থিক আয় ও তৈরি হওয়া সম্পদের ওপর সমবায়ের স্থানীয়দের সরাসরি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, যা তাদেরকে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে।’ সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গেতাফেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বার্সেলোনার টানা আট জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


গেতাফেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বার্সেলোনার টানা আট জয়

আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতি শেষে মাঠে ফিরে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বার্সেলোনা। গেতাফেকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে লা লিগায় টানা আট জয়ে শীর্ষস্থানকে আরও মজবুত করেছে হান্সি ফ্লিকের দল।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কাম্প ন্যুয়ে বার্সেলোনার হয়ে গোল করেছেন অ্যান্থনি গর্ডন, গাব্রিয়েল জেসুস ও জুল কুন্দে। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জেসুস। দ্বিতীয়ার্ধের ৭৩ মিনিটে কুন্দের গোলে জয় নিশ্চিত হয় কাতালান ক্লাবটির।

হালকা চোটের কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থায় অধিনায়ক রাফিনিয়াকে ছাড়াই মাঠে নামে বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরুতেই প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়ের বাধা কাটিয়ে শট নেন গর্ডন। বলটি এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জালে প্রবেশ করে।

বার্সেলোনার জার্সিতে এটি ইংলিশ উইঙ্গারের প্রথম গোল। চলতি লিগে এখন পর্যন্ত তার চারটি অ্যাসিস্টও রয়েছে। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সর্বশেষ চার ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। ম্যাচের অধিকাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখে গেতাফের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে বার্সেলোনা। ৩০ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগান জেসুস।

ডি-বক্সের কাছে বল হারান গেতাফের ডিফেন্ডার রোমেরো। সেই সুযোগে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শক্তিশালী শটে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। চলতি মৌসুমে আর্সেনাল ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া জেসুসের এটি পাঁচ ম্যাচে তৃতীয় গোল।

বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমেনি স্বাগতিকদের। ৫৩ মিনিটে জেরার্দ মার্তিনের ক্রস থেকে হেড করে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি জেসুস। চার মিনিট পর দানি ওলমোর নিচু শট ঠেকিয়ে দেন গেতাফের গোলরক্ষক।

অবশেষে ৭৩ মিনিটে তৃতীয় গোলের দেখা পায় বার্সেলোনা। ডান দিক থেকে লামিন ইয়ামালের বাড়ানো ক্রসে কাছ থেকে পা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান ফরাসি ডিফেন্ডার জুল কুন্দে।

ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন ইয়ামাল। তবে বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁ পায়ের শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

এই জয়ে লা লিগার প্রথম আট ম্যাচের সবকটিতে জিতে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

লা লিগায় নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা শুরুর রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছে বার্সেলোনা। এর আগে ২০১৩-১৪ মৌসুমে কোচ জেরার্দো মার্তিনোর অধীনেও লিগের প্রথম আট ম্যাচে জয় পেয়েছিল দলটি। চলতি মৌসুমে প্রথম আট ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে মোট ৩৪ গোল করেছে ফ্লিকের শিষ্যরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলে মেরুজ্যোতি দেখা যেতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলে মেরুজ্যোতি দেখা যেতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের আকাশে এ সপ্তাহান্তে মেরুজ্যোতির (Northern lights) বর্ণিল আলোর দেখা মিলতে পারে। সূর্য থেকে শক্তিশালী কণার নির্গমনের ফলে ভূচৌম্বকীয় ঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় রোববার (১১ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই আলোর প্রদর্শন ঘটতে পারে। তবে আবহাওয়া, মেঘ এবং কৃত্রিম আলোর উপস্থিতির কারণে সব স্থানে মেরুজ্যোতি দেখা নাও যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের মহাকাশ আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র রোববার মাঝারি মাত্রার ভূচৌম্বকীয় ঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাস অনুসারে, ৭ ও ৮ অক্টোবর সূর্য থেকে দুটি বিশাল পদার্থ ও চৌম্বকক্ষেত্রের উদগিরণ ঘটেছে। এগুলোকে করোনাল মাস ইজেকশন বলা হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, দ্রুতগতির উদগিরণটি পৃথিবীর দিকে আসার পথে আগেরটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে। এর ফলে সৃষ্ট ভূচৌম্বকীয় ঝড় মেরুজ্যোতি দেখার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে পশ্চিমে আইডাহো অঙ্গরাজ্য পর্যন্ত বিস্তৃত কিছু অঞ্চলে মেরুজ্যোতি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্য-পশ্চিমের ওপরের অংশের বাসিন্দাদের এ দৃশ্য দেখার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তবে কোন অঙ্গরাজ্যে নিশ্চিতভাবে মেরুজ্যোতি দেখা যাবে, তা বলা যাচ্ছে না। ঝড়ের প্রকৃত শক্তি, আকাশে মেঘের উপস্থিতি এবং শহরের কৃত্রিম আলো এ দৃশ্য দেখার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিষ্কার ও কম আলোকদূষণযুক্ত স্থান থেকে আকাশ পর্যবেক্ষণের সুযোগ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

কেন দেখা যায় মেরুজ্যোতি?

সূর্য থেকে আসা বৈদ্যুতিক আধানযুক্ত কণা পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র ও বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করলে আকাশে নানা রঙের আলোর সৃষ্টি হয়। এ প্রাকৃতিক আলোকচ্ছটাকেই মেরুজ্যোতি (Northern lights) বলা হয়।

সূর্য থেকে করোনাল মাস ইজেকশনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পদার্থ ও চৌম্বকক্ষেত্র পৃথিবীর দিকে আসতে পারে। এগুলো পৃথিবীর চৌম্বক পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করলে ভূচৌম্বকীয় ঝড় তৈরি হয়। ঝড়ের শক্তি বেশি হলে মেরুজ্যোতি সাধারণ সময়ের তুলনায় আরও দক্ষিণের এলাকাতেও দেখা যেতে পারে।

ভূচৌম্বকীয় ঝড়ের মাত্রা নির্ধারণে জি-১ থেকে জি-৫ পর্যন্ত পাঁচটি ধাপ ব্যবহার করা হয়। জি-১ হলো দুর্বল মাত্রার ঝড়, আর জি-৫ হলো চরম মাত্রার ঝড়। ঝড়ের মাত্রা যত বাড়ে, মেরুজ্যোতি তত দূরের অঞ্চলেও দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

সূত্র: ইউএসএ টুডে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালদ্বীপে বাংলাদেশি যুবক সজীবের রহস্যজনক মৃত্যু, তিন রুমমেট লাপাত্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


মালদ্বীপে বাংলাদেশি যুবক সজীবের রহস্যজনক মৃত্যু, তিন রুমমেট লাপাত্তা

মালদ্বীপে মো. সজীব (২৭) নামের এক বাংলাদেশি যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে তার তিন রুমমেটকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

লাপাত্তা থাকা তিনজনের মধ্যে দুজন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং একজন নেপালের নাগরিক। সজীবের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে স্বজনদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। তবে, মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

নিহত সজীব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া উত্তরপাড়া এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে সজীবের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছায়। তার চাচাতো ভাই মো. সোহেল এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সজীবকে তার কক্ষে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে মালদ্বীপের পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।

নিহতের পরিবারের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় সজীবের সঙ্গে একই কক্ষে থাকা তিন প্রবাসী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সজীবের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন স্বজনেরা। তাদের আশঙ্কা, তাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে, এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

মালদ্বীপের পুলিশের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি। ফলে সজীবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

সজীব অবিবাহিত ছিলেন। তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছিল না বলে দাবি করেন স্বজনরা। তিনি প্রায় তিন বছর আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা আনার আশায়।

সজীবের আকস্মিক মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার মহালক্ষ্মীপাড়া উত্তরপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও এলাকাবাসী তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে সজীবের পরিবার।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


আজ টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়

বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোরের কিছু এলাকায় আজ রোববার (১১ অক্টোবর) গাছের ডালপালা কর্তন এবং বিদ্যুৎ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এ তথ্য শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায় নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের ৪ ও ১০ নম্বর ফিডারের আওতাধীন এলাকায় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ছাতিয়ানগাছা, শ্রীখণ্ডি, ভবানীপুর ও হারোয়া এলাকার গ্রাহকদের কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গাছের ডালপালা কর্তন এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায়, নির্ধারিত কাজের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে বিদ্যুৎ বন্ধের সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেকোনো সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে।

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%