শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫১ পি.এম
বাংলাদেশের নতুন করে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি সই হওয়ার পর মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি বিশেষ পোস্ট করেছেন।
এই পোস্টটি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের সাথে হওয়া বিমান ক্রয় চুক্তিকে বোয়িং কোম্পানির জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক’ দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের জন্য এটি একটি বিশাল সাফল্য বলেও অভিহিত করেছেন।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার বাংলাদেশ বোয়িংয়ের সাথে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার একটি সম্পূরক চুক্তি সই করে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমান পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে। ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সহায়তায় বাংলাদেশ ও তুরস্ক একত্রে মোট ১১১টি বোয়িং বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছে, যার সাথে ৫০টি বিমান কেনার অতিরিক্ত বিকল্প সুযোগও রাখা হয়েছে।
এই বিশাল রপ্তানি চুক্তি আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ট্রাম্প মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তি দেশজুড়ে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিকের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। মার্কিন উৎপাদন খাত ও শ্রমিকদের সমর্থনের ওপর তিনি জোর দিয়ে বলেন, বোয়িং এবং তিনি যা শুরু করেছেন, বাজার আজ সেটাই স্বীকৃতি দিচ্ছে। আমেরিকায় তৈরি ও মার্কিন শ্রমিকদের কাজের সুযোগ করে দিলে যেকোনো প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে দক্ষ ধাত্রীসেবা বা মিডওয়াইফারির কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যা প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে সহায়ক হবে। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের একটি সাইড ইভেন্টে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
এই সাইড ইভেন্টটি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৭-এ অনুষ্ঠিত হয়, যা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের কার্যক্রমের অংশ।
‘অঙ্গীকার থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীসেবার (মিডওয়াইফারি) সমন্বয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দক্ষ ধাত্রীসেবার কার্যকর সমন্বয় এবং প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন অঙ্গীকারকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতীয় নেতৃত্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে পাঁচটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল ওনারশিপ ইন প্র্যাকটিস: স্ট্রেনদেনিং ইনক্লুসিভ স্টেট ইনস্টিটিউশনস থ্রু ইন্টারন্যাশনাল পিসবিল্ডিং সাপোর্ট’ শীর্ষক বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত দুই দশকে স্থানীয় জনগণ, জাতীয় সরকার এবং জাতিসংঘের যৌথ প্রচেষ্টায় সহিংসতা প্রতিরোধ ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি শান্তি বিনির্মাণ কমিশনকে এসব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক সম্মান অর্জন করেছে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের পাঁচটি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—স্থানীয় শিল্পকে বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করে নারী ও যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শান্তিরক্ষা থেকে শান্তি বিনির্মাণে রূপান্তরে পিবিসির পরামর্শমূলক ভূমিকা জোরদার করা, নারী-শান্তি-নিরাপত্তা ও যুব-শান্তি-নিরাপত্তা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা, ২০২৫ সালের শান্তি বিনির্মাণ কাঠামো পর্যালোচনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
বক্তব্যের শেষে তিনি জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে বাংলাদেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা বাংলাদেশ চেয়েছে। একইসঙ্গে, গাম্বিয়ার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চলমান মামলার আইনি তহবিল ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক সমন্বয় বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন।
তিনি তুরস্কের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং নতুন ওআইসি মহাসচিব ও আগামী চেয়ার হিসেবে ইরাককে স্বাগত জানান।
হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, সংঘাত, দখল, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক শান্তি ও মানবিক মর্যাদাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এসব মোকাবিলায় ওআইসির ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি ওআইসি দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইসলামি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) বাজেট ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ ওআইসির ২০২৬-২০৩৫ কর্মপরিকল্পনায় খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দেয়।
বক্তব্যে তিনি ইসলামোফোবিয়া ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মোকাবিলায় ওআইসির ইসলামোফোবিয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থার ভূমিকা জোরদারের আহ্বান জানান।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমারেখার ভিত্তিতে আল-কুদস আল-শরিফকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
তিনি ওআইসি সনদের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মঞ্চে দাঁড়ান, তখন একটি চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তার বক্তব্য শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা দলবেধে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করতে শুরু করেন।
এই ঘটনাটি বিশ্বমঞ্চে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একটি তীব্র কূটনৈতিক বয়কটের ফলস্বরূপ, ফলে জাতিসংঘের প্রধান সম্মেলন কক্ষ মুহূর্তের মধ্যে প্রায় খালি হয়ে যায়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এবং প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নেতানিয়াহু যখন মঞ্চে উঠছেন, তখনই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা কক্ষ ছাড়তে শুরু করেন। যদিও কিছু ইসরায়েলি সমর্থক এবং কূটনীতিক সিটে বসে ছিলেন এবং নেতানিয়াহুর সমর্থনে সামান্য হাততালি দেন।
তবে, কক্ষের অধিকাংশ আসন তখন খালি ছিল, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও প্রতিবাদের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ