০৮:৪৬ পি.এম
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন শনির আখড়ার আল আমিন টাওয়ারে অবস্থিত বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ‘পপুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হাসপাতাল’ এখন আর কোনো সাধারণ চিকিৎসাকেন্দ্র নয়; বরং এটি পরিণত হয়েছে একচ্ছত্র অপরাধের অভয়ারণ্যে। মুমূর্ষু রোগীর রক্তের ব্যবস্থা করায় সাধারণ যুবকের ওপর হামলা থেকে শুরু করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের চেম্বারে অবরুদ্ধ করে হত্যাচেষ্টা, জিম্মি করে চাঁদাবাজির ভিডিও ধারণ, শেয়ার জালিয়াতি, কোটি টাকা আত্মসাৎ, নারী কর্মীদের যৌন নির্যাতন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট দিয়ে ভুয়া রিপোর্টের মাধ্যমে নিরীহ রোগীদের জীবন বিপন্ন করার মতো একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং আদালতে জমা পড়া ভুক্তভোগীদের একাধিক এজাহার ও দালিলিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটির মালিক নাজমুল হুদা শামীম এবং তাঁর আশ্রিত সাইবার মাফিয়া চক্রের এক ভয়ঙ্কর অপরাধের সাম্রাজ্য উন্মোচিত হয়েছে।
১. মানবিক কাজের চরম প্রতিদান: রক্ত জোগাড় করায় মারধর ও ফোন ভাঙচুর: ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে। রাস্তায় অত্যন্ত সংকটাপন্ন ও অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে থাকা এক প্রসূতি নারীর মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন স্থানীয় ‘সারা এক্সপ্রেস’ বাস কাউন্টারের ম্যানেজার আহম্মেদ তুষার। তিনি জরুরি ভিত্তিতে প্রসূতিকে শনির আখড়ার পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যান এবং নিজের পরিচিতজনদের মাধ্যমে রক্তদাতার ব্যবস্থা করেন।
আরও পড়ুন: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমান অধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি সরকারের: এমপি রোকন
পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩৫,০০০ টাকা বিল দাবি করলে ভুক্তভোগী তুষার স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে অনুদান সংগ্রহ এবং নিজের বেতনের টাকা মিলিয়ে মোট ১৭,০০০ টাকা পরিশোধ করেন। রোগীর চরম অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বাকি টাকা মওকুফের অনুরোধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন হাসপাতালের মালিক নাজমুল হুদা শামীম। তিনি তুষারকে নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। এ সময় তুষারের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন আছড়ে ভেঙে ফেলা হয় এবং মানিব্যাগ থেকে নগদ ৮,৭০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তুষার বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় আনুষ্ঠানিক এজাহার দায়ের করেছেন।
২. সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে অবরুদ্ধ ও সাংবাদিকদের হত্যাচেষ্টা: তুষারের দায়েরকৃত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের বক্তব্য জানতে যান ‘ইরশাদ নিউজ মাল্টিমিডিয়া’র রিপোর্টার মো. খালিদ কাওসারসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী।
বক্তব্য জানতে চাইলেই হাসপাতালের মালিক নাজমুল হুদা শামীম সাংবাদিকদের ওপর হিংস্রভাবে চড়াও হন। তিনি টেবিলের ওপর থাকা কাচের গ্লাস ছুঁড়ে মারেন এবং হাসপাতালের স্টাফদের দিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। সাংবাদিক খালিদ কাওসারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাঁর বুকে লাথি মারা হয় এবং একটি গোপন কক্ষে টেনে নিয়ে গিয়ে চাইনিজ চাপাতি ও অস্ত্র উঁচিয়ে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ রেখে অস্ত্র ঠেকিয়ে খালিদকে জিম্মি করে মোবাইলে জোরপূর্বক একটি স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ করা হয়।
৩. অপরাধ ঢাকতে ‘হানিট্র্যাপ’ ও সাইবার মাফিয়া চক্রের অপপ্রচার: সাংবাদিকদের ওপর এহেন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা আড়াল করতে অভিযুক্ত নাজমুল হুদা শামীম তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি নামসর্বস্ব সাইবার সিন্ডিকেটকে মাঠে নামান। এই চক্রের সামনের সারিতে রয়েছেন ‘টাইম২৪ ইন্টারন্যাশনাল’-এর কথিত সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা জেসিকা এবং ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহিদ হাসান পিন্টু। চেনা ছক অনুযায়ী, জিম্মি অবস্থায় ধারণকৃত খণ্ডিত ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে এবং ভুয়া ফেসবুক পেজ ও আইডি (Jessica Asa Asa) থেকে সাংবাদিক খালিদ কাওসারের ছবি বিকৃত করে "চাঁদা নিতে গিয়ে ভুয়া সাংবাদিক আটক" শিরোনামে মনগড়া সংবাদ ছড়ানো হয়। শুধু তাই নয়, এই চক্রের কর্মী মাকসুদুর রহমান সহকর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপে বিকৃত ভিডিও পাঠিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনবরত ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন।
আরও পড়ুন: জিয়াউর রহমানের পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা চিরস্মরণীয়: ওয়াদুদ ভূঁইয়া
সূত্রে, এআই প্রযুক্তি ও ছবি-ভিডিও এডিটের মাধ্যমে সাইবার সন্ত্রাস: হুমকির মুখে গণমাধ্যম ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা:
অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, এই সাইবার মাফিয়া চক্রটি অপরাধ ঢাকতে ও ব্ল্যাকমেইল করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে। সাংবাদিকদের পেশাগত অবস্থান ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে তাঁরা ভুক্তভোগী সম্পাদক ও সাংবাদিকদের ছবি এবং ভিডিও এডিট করে কৃত্রিমভাবে ভুয়া ও আপত্তিকর কন্টেন্ট তৈরি করছে। পরবর্তীতে এসব এআই-জেনারেটেড ও এডিটেড ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অনবরত ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে এ ধরনের সাইবার হামলা চালানোয় তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
অপরাধ ঢাকতে তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই-এর এমন অপব্যবহার কেবল ব্যক্তি সাংবাদিকেরই নয়, বরং পুরো গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকার ওপর এক মারাত্মক আঘাত। ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রতিনিয়ত এ ধরনের সাইবার বুলিং, হানিট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইলিং বন্ধে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাটর্নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে (Cyber Crime Unit) দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে, এআই ও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট বানিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা চক্রটিকে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’-এর আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
পরবর্তীতে ‘দৈনিক স্বাধীন সংবাদ’ পত্রিকায় পপুলার হাসপাতালের এসব অপকর্ম নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হলে এই সাইবার চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মুখ ঢাকা এক নারীকে ক্যামেরার সামনে বসিয়ে বানোয়াট ভিডিও তৈরি করে ‘বিপুল সংবাদ’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক পেজে স্বাধীন সংবাদের সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আকাশের বিরুদ্ধে চাকরি ও আইডি কার্ডের প্রলোভনে অনৈতিক কুপ্রস্তাবের কাল্পনিক অভিযোগ তোলা হয়। ভিডিও সরিয়ে নেওয়ার শর্তে তাদের নিজস্ব বিজ্ঞাপনী নম্বর (০১৩২০৩৫৯০১২) থেকে সম্পাদকের কাছে ২,০০,০০০ (দুই লাখ) টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ বিষয়ে দৈনিক স্বাধীন সংবাদের পক্ষ থেকে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বরাবর আনুষ্ঠানিক আইনি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এর আগে গত ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই চক্রের মূল হোতা আয়েশা সিদ্দিকা জেসিকার বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১৩৮২) করেছিলেন সাংবাদিক কাউসার আহমেদ পনির।
৪. পূর্বেও চিকিৎসককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ব্ল্যাকমেইল ও ভিডিও বাণিজ্য: অনুসন্ধানে প্রাপ্ত একাধিক নথি ও গোপন ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষকে চেম্বারে ডেকে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা এই চক্রের দীর্ঘদিনের পরিচিত কৌশল। হাসপাতালের সাবেক অংশীদার আব্দুর রহিমের যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, নাজমুল হুদা শামীম হাসপাতালের একজন চিকিৎসককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ব্যক্তিগত কক্ষে জিম্মি করেন এবং বলপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, অসহায় এক ব্যক্তিকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে বলপূর্বক ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হচ্ছে। ঠিক একই ব্লু-প্রিন্ট সাংবাদিক খালিদ কাওসারের ওপরও প্রয়োগ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ধর্মমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও তথ্য উপস্থাপন নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদ
৫. কোটি টাকার শেয়ার আত্মসাৎ ও অংশীদারকে কুপিয়ে জখম
২০২৪ সালের ২৯ মে ‘শনিরআখড়া পপুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হাসপাতাল’-এর নিজস্ব ডেবিট ভাউচারে দেখা যায়, মো. আমিনুল ইসলাম সুমনের কাছ থেকে ২ আনা শেয়ার বাবদ নগদ ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়। একইভাবে অংশীদার আব্দুর রহিম হাসপাতালটিতে শেয়ার ও মালামাল বাবদ সর্বমোট ৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন।
কিন্তু শামীমের একক স্বেচ্ছাচারিতা, মাদকাসক্তি এবং চিকিৎসা প্রতারণা দেখে আব্দুর রহিম তাঁর বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শামীম তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মোস্তফাকে সঙ্গে নিয়ে রায়েরবাগে আব্দুর রহিমের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালান। তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়, যার দীর্ঘ চিকিৎসা চলে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে।
৬. নারী নার্স ও কর্মীদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও মধ্যরাতে কুপ্রস্তাব
যাত্রাবাড়ী থানায় হাসপাতালের ওটি নার্স ফারজানা আক্তারের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের মালিক শামীম ডিউটিরত অবস্থায় তাঁকে ব্যক্তিগত কক্ষে ডেকে নিয়ে অনৈতিক কুপ্রস্তাব দিতেন এবং সময় কাটানোর জন্য অনবরত চাপ সৃষ্টি করতেন। এতে রাজি না হওয়ায় ফারজানাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
একইভাবে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. গোলাম রাব্বানী রিংকুর থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, হাসপাতালের নারী টেকনোলজিস্ট মনিরা খাতুন মুন্নির বকেয়া ৬৪,৫০০ টাকা বেতন চাইতে গেলে শামীম অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভুক্তভোগী নারীকে মধ্যরাতে তাঁর কাছে আসার অবর্ণনীয় কুপ্রস্তাব দেন, যার অডিও রেকর্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: রুহুল কবির রিজভী: বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি
৭. মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট, চিকিৎসকের জাল স্বাক্ষর ও জীবনবিনাশী ভুয়া রিপোর্ট
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (DGHS) বরাবর খোদ হাসপাতালের পার্টনার ডা. মো. আরিফ হোসেনের লিখিত অভিযোগে (ডকেট নং: ৫৭-৬৪৫/২৩.১০.২০২৫) প্রতিষ্ঠানটির ভয়াবহ চিকিৎসা জালিয়াতির চিত্র উঠে এসেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়—
হাসপাতালটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই।
কোনো অনুমোদিত এমবিবিএস চিকিৎসক ছাড়াই মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার করে নামমাত্র রক্ত টেনে নার্স মুন্নিকে দিয়েই প্যাথলজি রিপোর্ট তৈরি করানো হয়।
সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মাজহারুল ইসলামের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে রোগীদের হাতে ডেলিভারি দেওয়া হতো।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান রুহুল কবির রিজভীর
ভুক্তভোগী রোগী নাদিয়া আক্তার ও ডা. মিরাজুল আমিন শিপন জানান, শনির আখড়া পপুলার হাসপাতালের ভুল ও কাল্পনিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ওষুধ সেবন করায় রোগীরা তীব্র ড্রাগ রিঅ্যাকশনের শিকার হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হন। অথচ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মাজহারুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি কখনো শনির আখড়ার এই পপুলার হাসপাতালে যাননি এবং তাঁর স্বাক্ষরটি সম্পূর্ণ জাল। এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরেও (DNCRP) মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালটিতে সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালদের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে আনা এবং অবৈধ গর্ভপাত করানোর মতো বহুবিধ গুরুতর অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।
৮. আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনের কাছে সাংবাদিক সমাজের কঠোর হুশিয়ারি:
সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন এবং সাইবার সন্ত্রাসের মাধ্যমে সম্মানহানির এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সচেতন নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকরা। অপরাধী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে যেসব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে-
১. থানায় মামলা ও জিডি: যাত্রাবাড়ী ও কদমতলী থানায় একাধিক ফৌজদারি এজাহার ও সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে।
২. র্যাবের কাছে অভিযোগ: র্যাব-১০ (RAB-10) এর অধিনায়ক বরাবর আহমদ তুষার ও সাংবাদিক খালিদ কাওসারের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
৩. প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঢাকা সিভিল সার্জন বরাবর প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করার আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে।
৪. আইনি নোটিশ: সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে টাইম২৪-এর ৫ জনের বিরুদ্ধে ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
৫. বিক্ষোভ ও মানববন্ধন: কদমতলী ও যাত্রাবাড়ীর সাংবাদিক সমাজ ‘শ্যামপুর-কদমতলী এ্যান্ড যাত্রাবাড়ী থানা প্রেসক্লাব’-এর ব্যানারে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে।
সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করা, সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো এবং সাইবার মাফিয়াতন্ত্র কায়েমকারী এই চক্রের মূল হোতা নাজমুল হুদা শামীম, আয়েশা সিদ্দিকা জেসিকা এবং জাহিদ হাসান পিন্টুকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও সাংবাদিক নেতারা। চলবে..........
আরও পড়ুন: শেরপুরে সীমান্তে ৫০ বোতল মাদকসহ ২ জন আটক
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন