ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ভিশন


জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ভিশন

জাতিসংঘের মঞ্চে ভাষণ প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ভিশন বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪ টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তিনি ভাষণ দেন।

দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজের এবং সরকারের ভিশন তুলে ধরার সময় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হবে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম-খুন, অপহরণ, দুর্নীতি, লুটপাট এবং টাকা পাচারের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের জন্য সরকার রিকভারি, রস্টোরেশন, রিকনস্ট্রাকশন; অর্থাৎ ‘থ্রি আর’ কৌশল অনুসরণ করছে।

তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশের সামনে বর্তমানে এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকার কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তর করতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়।

তিনি বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতে চলতি অর্থবছরে ৪ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। তাই নারীরা সরকারের সব পরিকল্পনার অগ্রভাগে রয়েছেন। নারী শিক্ষা, নারীদের কর্মসংস্থান এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিষয়টিকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীদের জন্য নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে সরকার। স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনা-বেতনে শিক্ষার সুযোগও অবারিত করা হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়; সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে। সেই লক্ষ্য পূরণে ইতোমধ্যেই, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ই-হেলথ কার্ড এর মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে, সরকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে।

তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’-কে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করে। প্রতিটি সেক্টরে সহায়তার জন্য প্রবর্তন করা কার্ডগুলোকে সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেয়া ৩১ দফা কর্মসূচি সরকার বাস্তবায়ন করে চলেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির ‘লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড’— এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে বর্তমান সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির কমপক্ষে ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রমের পরোক্ষভাবে মিল রয়েছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহর এবং গ্রামের মধ্যে উন্নয়ন বৈষম্য দূর হবে। একইসঙ্গে ২০৩০ এজেন্ডার সব ক্ষেত্রে, জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্পোর্টসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নৈতিক মানসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে, কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষার উপর জোর দিয়ে শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই গড়বে আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ। আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়ো-টেকনোলোজি এবং বিজ্ঞানের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি। প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এর সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক। বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বকে সম্মান করে। একইসঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সরকারপ্রধান বলেন, বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে। সবার জন্য ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ এবং দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যাতে দেশে দেশে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো যায়, সেজন্য জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত দেশ’-এর তালিকা থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য সকল দেশের ক্ষেত্রে এই উত্তরণ প্রক্রিয়াটিকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক সহায়তা অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় প্রতিটি দেশ একে অপরের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ মনে করে, বিশেষ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য সহায়তা ও সম্প্রসারণ, কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একে অপরের সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করতে পারি।

তিনি বলেন, কোভিড মহামারি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। তবে, কোভিড বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে, বিশ্ব সমাজকে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই একের প্রতি অন্যের সহায়তা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা অপরিহার্য। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসা-সামগ্রী ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে এগুলো সবার জন্য সহজলভ্য হয়।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে ক্ষমতাহীন রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। জনগণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, কল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যে রাষ্ট্রে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে সমান অধিকার, সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ— সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং স্থিতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে আমরা অংশীদারিত্ব উদ্ভাবন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই।

তারেক রহমান বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, প্রতিটি শিশু তাদের সকল সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে— সর্বোপরি জনগণ পাবে নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা। এজন্যই আমরা বলি, ‘সবার আগে বাংলাদেশ......সবার জন্য বাংলাদেশ’।

এরপর প্রধানমন্ত্রী পুনরায় বিশ্ব মানবতার প্রতি বাংলাদেশের অকুন্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: নারী ও শিশুদের কল্যাণে ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়াবা সেবনের সময় হঠাৎ অভিযান, চারজন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ পি.এম


ইয়াবা সেবনের সময় হঠাৎ অভিযান, চারজন গ্রেপ্তার

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ইয়াবা সেবনের সময় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের প্রত্যেককে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের থানাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিম মল্লিক, পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রুবেল আহসান, যিনি ব্ল্যাক রুবেল নামেও পরিচিত, পাথরঘাটা উপজেলার মো. জসিম উদ্দিন এবং মঠবাড়িয়ার পশ্চিম মিঠাখালী এলাকার মনির হোসেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতাউর রাব্বীর নেতৃত্বে থানাপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় চারজনকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে তিনটি ইয়াবা বড়ি ও সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে চারজনের প্রত্যেককে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতাউর রাব্বী বলেন, "গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, "মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে রাজনৈতিক দল বা সামাজিক পরিচয়েরই হোন না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "দণ্ডপ্রাপ্ত চারজনকে আজ শুক্রবার জেলহাজতে পাঠানো হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নতুন আয়সীমা প্রকাশ করল ইউএসসিআইএস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ পি.এম


পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নতুন আয়সীমা প্রকাশ করল ইউএসসিআইএস

পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার জন্য গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় স্পনসরদের জন্য ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ২০২৬ সালের নতুন সর্বনিম্ন আয়সীমা ঘোষণা করেছে। মূলত ফর্ম আই-৮৬৪ বা ‘অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট’-এর আওতায় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ আয় প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থেকে নতুন এই আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ৪৮টি স্টেট, ওয়াশিংটন ডিসি, পুয়ের্তো রিকো, গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডসের জন্য দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে স্পনসরের ন্যূনতম বার্ষিক আয় ২৭ হাজার ৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা তিনজন হলে স্পনসরের জন্য ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার, চারজন হলে ৪১ হাজার ২৫০ ডলার এবং পাঁচজনের পরিবারের ক্ষেত্রে ৪৮ হাজার ৩৫০ ডলার আয় দেখাতে হবে।

একই অঞ্চলে ৬, ৭ ও ৮ সদস্যের পরিবারের জন্য স্পনসরের বাৎসরিক আয় যথাক্রমে ৫৫ হাজার ৪৫০, ৬২ হাজার ৫৫০ এবং ৬৯ হাজার ৬৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা আটজনের বেশি হলে প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য আরও ৭ হাজার ১০০ ডলার করে বাড়তি আয় যুক্ত করতে হবে।

হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে অন্যান্য স্টেটের তুলনায় এই আয়সীমা কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে। সেখানে দুই সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম আয় ৩১ হাজার ১১৩ ডলার এবং আট সদস্যের পরিবারের জন্য ৮০ হাজার ৮৮ ডলার আয় দেখাতে হবে। এই অঞ্চলে আটজনের পর প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য ৮ হাজার ১৬৩ ডলার করে যুক্ত হবে।

ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর সক্রিয় সদস্য যারা নিজ স্বামী বা স্ত্রী কিংবা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের স্পনসর করবেন, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ ১২৫ শতাংশের বদলে ১০০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার আয় প্রযোজ্য হবে। মূল স্পনসরের প্রয়োজনীয় আয় না থাকলে নির্দিষ্ট নিয়মে জয়েন্ট স্পনসর যুক্ত করা কিংবা নিজস্ব সম্পদ দেখিয়েও গ্রিন কার্ডের আবেদন সম্পন্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ককটেল বিস্ফোরণ ইস্যুতে মন্তব্য, পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: ডিএমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ পি.এম


ককটেল বিস্ফোরণ ইস্যুতে মন্তব্য, পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: ডিএমপি

রাজধানীতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্তব্য করার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া এই তথ্য জানান।

ডিএমপির অভিযানে বিস্ফোরক দ্রব্য ও মুখোশ উদ্ধারের বিষয় নিয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে যুগ্ম কমিশনার বলেন, "নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই কথা বলল কেন? আমার কাছে মনে হয়, অবশ্যই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।"

সম্প্রতি রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি জুলাই গণহত্যার বিচার, সংস্কার ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ইস্যুতে এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের রাজপথের আন্দোলন নিয়ে কথা বলেন।

ওই সময় কথার এক পর্যায়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বলতে শোনা যায়, "আমরা তো এই ৩ দাবিতে অনবরত রাজপথে আছি, সরকার তো এই দাবিগুলো মানছে না। ১১ দল জোটটা এই দাবিগুলো করে যাচ্ছে, এই দাবিগুলো মানলেই তো ককটেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে ২০৩২ সালে শেষ হতে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটির ট্রাস্ট ফান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে ২০৩২ সালে শেষ হতে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটির ট্রাস্ট ফান্ড

যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটির জন্য গঠিত ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। কংগ্রেস যদি সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে ২০৩২ সালে এই তহবিলের অর্থ সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, কর্মীদের বেতন থেকে সংগৃহীত পে-রোল ট্যাক্সের আয় এবং বর্তমান সুবিধা প্রদানের খরচের মধ্যে একটি বড় ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ ব্যবহার করা হলেও তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তহবিল শূন্য হয়ে গেলে, বর্তমান আইন অনুযায়ী সংগৃহীত রাজস্ব দিয়েই কেবল সুবিধা পরিশোধ করা সম্ভব হবে, যা সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের জন্য যথেষ্ট নয়।

যদি তহবিলের অর্থ ফুরিয়ে যায়, তাহলে অবসরপ্রাপ্তদের সুবিধার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন সিনেটর বিল ক্যাসিডি ও ডিক ডারবিনসহ অন্যান্য আইনপ্রণেতা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, মাসে গড়ে ২ হাজার ৮৬ ডলার সুবিধা পাওয়া একজন ব্যক্তি ভবিষ্যতে কয়েকশ ডলার পর্যন্ত কম সুবিধা পেতে পারেন।

কিন্তু কংগ্রেস যদি আইন সংশোধন করে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাহলে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। সংকট সমাধানের লক্ষ্যে ক্যাসিডি ও ডারবিন ‘প্রমিজ অ্যাক্ট’ (PROMISE Act) নামে একটি দ্বিদলীয় প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি বোর্ডের মাধ্যমে এমন একটি প্রস্তাব তৈরি করা, যা ট্রাস্ট ফান্ডকে অন্তত ৫০ বছর টেকসই রাখবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের মধ্যে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে বিভিন্ন মতপার্থক্য বিদ্যমান। কিছু ব্যক্তি উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর কর বাড়ানোর পক্ষে, আবার কিছু ব্যক্তি অবসরের বয়সসীমা বা সুবিধার কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা বলছেন। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে দেশটির লাখ লাখ অবসরপ্রাপ্ত মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%