শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৪ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে অনুষ্ঠিত মেধা যাচাই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য মোট ৩৪১ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ‘সুপার ট্যালেন্ট’, ‘ট্যালেন্ট’ এবং ‘গোল্ডেন’—এই তিন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং গ্রাজুয়েশন ক্যাপ তুলে দেওয়া হয়।
এই বৃত্তির আয়োজন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার দাউদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিজয়নগর কিন্ডারগার্টেন ফোরামের ব্যবস্থাপনায় করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এন্টারপ্রাইজ এডভাইজার মো. কামরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দা শারমিন আক্তার, বিজয়নগর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ লুৎফর রহমান এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রাক্তন সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার এ. এ. কামরুল আলম চৌধুরী।
বিজয়নগর কিন্ডারগার্টেন ফোরামের সভাপতি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. জুহুর আহম্মেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম শাহেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে এই আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নৌ-পুলিশ বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতির পর, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, স্থানীয়রা পৃথক সময়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে মরদেহ দুটি ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নৌ-পুলিশের সদস্যরা মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন।
বরিশুর নৌ-পুলিশের এএসআই বাবুল মিয়া জানিয়েছেন, শনিবার বেলা ১২ টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে সংবাদ পাওয়ার পর, বুড়িগঙ্গা নদীর বেপারিঘাট বরাবর মাঝ নদী থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় অজ্ঞাতনামা (৪০) এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি দুই-তিন দিন আগের। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, হাসনাবাদ নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়রা বুড়িগঙ্গা নদীর দোলেশ্বর খেয়া ঘাট দিয়ে নৌকাযোগে নদী পারাপারের সময় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে হাসনাবাদ নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। নিহতের বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। তার পড়নে জিন্সের প্যান্ট ও ফুল হাতা শার্ট ছিল। পুলিশ জানায়, নিহতের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি তাদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক পৃথক আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজার নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
নিষিদ্ধ যুবলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার সময় ভিডিওটি আপলোড করা হয়। কিন্তু মিছিলটি মানিকগঞ্জের কোন স্থানে এবং কখন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওতে দেখা যায়, নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। স্লোগানগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘শেখ হাসিনার কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’, ‘পরশ ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ এবং ‘নিখিল ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’। এছাড়াও ‘মানিকগঞ্জ জেলা যুবলীগ, নেতা মোদের শেখ মুজিব’ স্লোগানটিও শোনা যায়।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, এ ধরনের কোনো মিছিলের বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য নেই। তিনি বলেন, "সারারাত আমি, সার্কেল এসপিসহ পুলিশের আটটি টহল দল দায়িত্বে ছিল। সদর থানা এলাকায় এমন মিছিল হওয়ার তথ্য আমাদের কাছে নেই।"
যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফেসবুকের মেসেঞ্জারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মিছিলের ভিডিওটি কবে এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সেটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরে একটি যাত্রীবাহী বাস চলন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে গেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে মিরপুর-১১ নম্বরের জমজম টাওয়ারের নিকট শিকড় পরিবহনের বাসটিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কাছে এই তথ্য পৌঁছায়।
ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এটি ধারণা করা হচ্ছে যে, বাসটির চলন্ত অবস্থায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ট্রান্সফরমার চুরি রোধে চরম ব্যর্থতা এবং চুরির ঘটনায় মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে অপসারণ করা হয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কঠোর নজরদারি ও আদেশের পর তাঁকে চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে বদলি করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন) নাজিমুল হক। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনার পাশাপাশি এটি রুটিন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে, ৯ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ আদালতে ওসি কামরুল হাসানকে ট্রান্সফরমার চুরির মতো গুরুতর অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি নির্দেশ দেন, বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা তাঁর সার্ভিস বুকে সংরক্ষণ করতে হবে এবং আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে অবহিত করতে হবে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে (এসপি)। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়া পল্লী বিদ্যুতের ২৩টি চুরির আবেদনের পরবর্তী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সরাসরি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার গত সাড়ে তিন মাসে এলাকায় ২৫টি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পৃথক পৃথক এজাহারের আবেদন করেন। কিন্তু ওসি মাত্র দুটি মামলা গ্রহণ করে বাকি ২৩টি আবেদন ঝুলিয়ে রাখেন। আদালত কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠালে ওসি দাবি করেন, আবেদনের মধ্যে বাদীর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় মামলা করা সম্ভব হয়নি। তবে নথি পর্যালোচনা করে আদালত দেখতে পান, ওসির দেওয়া জবাব ভিত্তিহীন। পল্লী বিদ্যুতের দেওয়া প্রতিটি আবেদনেই চুরির সঠিক স্থান, তারিখ এবং খোয়া যাওয়া ট্রান্সফরমারগুলোর সুনির্দিষ্ট পিন বা সিরিয়াল নম্বর স্পষ্ট ছিল।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গত ১ মে থেকে ১৮ আগস্টের মধ্যে সাড়ে তিন মাসে ২৫টি চুরির আবেদন করা হলেও আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রতিবেদন চাওয়ার আগে কোনো পদক্ষেপই নেননি ওসি কামরুল। এমনকি পরবর্তীতে কারণ দর্শানো ছাড়া অবশিষ্ট ২৩টি জিডি বা এজাহার আমলে নেওয়ার ন্যূনতম সদিচ্ছা দেখাননি তিনি।
আদালতের মতে, বিদ্যুতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পত্তি চুরির তথ্য পাওয়ার পরও এফআইআর না করা দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলার শামিল। ওসির এমন নির্লিপ্ততা ও নিষ্ক্রিয়তা মূলত অপরাধীদের উৎসাহিত করেছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত করে জনরোষ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করেছে।
আইনি বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ওসি কামরুল হাসান ‘পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল’-এর ২৪৩ ও ২৪৪ বিধি এবং ফৌজদারি কার্যবিধির (১৮৯৮) ১৫৪ নম্বর ধারা স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। তাঁর এ ধরনের বেআইনি নিষ্ক্রিয়তা দণ্ডবিধির ১৬৬ ও ২১৭ ধারা এবং দ্য পুলিশ অ্যাক্টের (১৮৬১) ২৯ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ।
আদালতের সুনির্দিষ্ট বার্তার পরপরই পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে তোলপাড় শুরু হয় এবং দ্রুততম সময়ে তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ