ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচে মাটিকাটা নিয়ে যা জানালেন রেলমন্ত্রী


পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচে মাটিকাটা নিয়ে যা জানালেন রেলমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচের মাটিকাটার কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই। বরং এর ফলস্বরূপ ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল বেলা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেলব্রিজের ভায়াডাক্টের নিচে চলমান ডিমোবিলাইজেশন কার্যক্রমের পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মন্তব্য করেন, পদ্মা রেলসেতুর ভায়াডাক্টের নিচে মাটি অপসারণের প্রক্রিয়া রেললাইন বা কাঠামোর জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরির সম্ভাবনা নেই। বরং প্রকল্পের নিরাপত্তা, পরিবেশের স্বাভাবিক অবস্থার পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য কাজটি করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে যে, ভায়াডাক্টের নিচ থেকে মাটি কাটা হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে এবং এতে রেললাইনের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এরকম আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই। যে মাটি অপসারণ করা হচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণ প্রকল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী এবং প্রকল্পের নকশা অনুসারে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি আরো জানান, ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত নির্মিত ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্টের নির্মাণকাজের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুবিধার্থে বরং অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এভাবে ভায়াডাক্ট নির্মাণে একই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ওই অস্থায়ী ভরাট অপসারণ করে জায়গাটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। বর্তমানে এই প্রক্রিয়া চলছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ১৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার এলাকায় ইতোমধ্যে অস্থায়ী ভরাট অপসারণ করা হয়েছে আর এখনও প্রায় ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে। ঠিক এই সময়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, যা জনমনে অযথা উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

রেলমন্ত্রী বলেন, গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ ফুট মাটি অপসারণ করা হবে। এরপর ভূমি তার স্বাভাবিক স্তরে ফিরে যাবে। মূল মাটির স্তরের নিচে পাইল ক্যাপ রয়েছে যা প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট নিচে এবং পাইলের গভীরতা প্রায় ২০০ ফুট। অর্থাৎ সম্পূর্ণ কাঠামো প্রকৌশলগতভাবে খুবই নিরাপদ এবং এগুলো বিবেচনায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে। তাই মাটি অপসারণের প্রক্রিয়ায় ভায়াডাক্টের নিরাপত্তার মধ্যে কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই, বরং ইতিবাচক সম্পর্ক বিদ্যমান।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দৃষ্টিহীন তরুণের পাশে দাঁড়ালো ‘অ্যাশেজ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ এম


দৃষ্টিহীন তরুণের পাশে দাঁড়ালো ‘অ্যাশেজ’

ব্যান্ড ‘অ্যাশেজ’-এর গানে তরুণদের অনেকেই বুঁদ হয়ে থাকে। জীবনের নানা ধরনের ব্যর্থতা ও হতাশায় জুনায়েদ ইভানের কথা, সুর ও কণ্ঠ যেন তাদের সঙ্গ দেয়। এসবের মধ্যে মানবিক কাজেও ব্যান্ডটি সক্রিয়। দেশজুড়ে তাদের ব্লাড ব্যাংক আছে। সেখান থেকে স্বেচ্ছায় রক্তদান সেবা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া প্রায়ই অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় তারা এগিয়ে আসছে। এবার তাঁদের দায়িত্ব নিলো ‘অ্যাশেজ’ এক দৃষ্টিহীন তরুণকে সুস্থ করার। এ বিষয়ে জানান ব্যান্ডটির প্রধান জুনায়েদ ইভান। ফেসবুক বার্তায় ইভান লেখেন, ‘এবার একজন অন্ধ ছেলের জন্য কাজ করব। আমি তার সাথে দেখা করতে গিয়েছি। তাকে সুস্থ করতে চাই। গান লিখছি। কনসার্ট করব। প্রস্তুতি চলছে। সবার সহযোগিতা চাই।’ ইভানের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন অনেকে। ভক্তদের পাশাপাশি অভিনেতা-নির্মাতা জিয়াউল হক পলাশও বলেছেন, ‘ইভান ভাই, আমি আছি আপনার সাথে। যে কোনো প্রয়োজনে আমাদের ডাকবাক্স ফাউন্ডেশন (পলাশের সংগঠন) থাকবে আপনার সঙ্গে।’

এদিকে, দৃষ্টিহীন ওই তরুণের বিষয়ে ইভান জানান, সে একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। কিছু বছর আগে অসুস্থতার কারণে চোখের আলো হারিয়েছে। তার বাবা রিকশাচালক। তাই চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছেন না। ইভান বলেন, ‘ছেলেটি এবং তার মায়ের সাথে আমি কথা বলেছি। তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে বলেছি। চিকিৎসার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে বলেছি। এরপর আমাদের একজন প্রতিনিধি চিকিৎসকের সাথে কথা বলবেন এবং আমরা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চাই।’ শিল্পী আরও জানান, তারা চান এক মাসের মধ্যে ওই তরুণের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে। সরাসরি অর্থের জোগান না হলে কনসার্টের পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে। উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত শতাধিক ক্যানসার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের সহায়তা করেছে ‘অ্যাশেজ’, যা দেশের ব্যান্ড এবং গোটা শিল্পী সমাজের মধ্যে বিরল একটি ঘটনা। গানের পাশাপাশি ভীষণ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ইভান ও তার সতীর্থরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারিশ্রমিকের নতুন রেকর্ড গড়লেন আলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ এম


পারিশ্রমিকের নতুন রেকর্ড গড়লেন আলিয়া

যশরাজ ফিল্মসের বহুল প্রতীক্ষিত ‘স্পাই ইউনিভার্স’র নতুন সিনেমা ‘আলফা’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে।

অ্যাকশনধর্মী এই ছবিতে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে আলিয়া ভাটকে। মুক্তির আগেই ছবিটি নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনি সামনে এসেছে অভিনয়শিল্পীদের পারিশ্রমিকের তথ্য। আর তাতেই নতুন রেকর্ড গড়েছেন আলিয়া। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, ‘আলফা’ ছবির জন্য ২৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন আলিয়া ভাট। এই অঙ্কের মাধ্যমে তিনি পারিশ্রমিকের দিক থেকে দীপিকা পাড়ুকোন ও ক্যাটরিনা কাইফকে ছাড়িয়ে গেছেন।

একসময় বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন, ক্যাটরিনা কাইফ ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তবে দীর্ঘদিন ধরেই প্রিয়াঙ্কা হলিউডের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। অন্যদিকে, ক্যাটরিনা কাইফও বেশ কিছু সময় ধরে বড় পর্দায় অনিয়মিত। জানা গেছে, তিনি প্রতি ছবির জন্য প্রায় ১৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিতেন। আর ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’খ্যাত দীপিকা পাড়ুকোনের পারিশ্রমিক ছিল ২০ কোটির কিছু বেশি।

‘আলফা’ ছবিতে আলিয়ার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ববি দেওল। ‘অ্যানিম্যাল’ ছবির সাফল্যের পর তার ক্যারিয়ারে নতুন গতি এসেছে। এই ছবির জন্য তিনি প্রায় ৬ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পেয়েছেন বলে জানা গেছে। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে রয়েছেন শর্বরী ওয়াঘ। যশরাজ ফিল্মসের হাত ধরেই বলিউডে অভিষেক হওয়া এই অভিনেত্রী ‘আলফা’র জন্য প্রায় ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়েছেন। একই পরিমাণ পারিশ্রমিক পেয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অনিল কাপুরও।

দেশে ‘স্পাই ইউনিভার্স’-এর জনপ্রিয় চরিত্র কবির হিসেবে বিশেষ উপস্থিতিতে (ক্যামিও) দেখা যাবে হৃতিক রোশনকে। যদিও তার পারিশ্রমিকের অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে আলিয়া ভাটকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, এমন শক্তিশালী চরিত্রে তাকে মানাবে না। তবে নির্মাতারা ছবিটি নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী।

ববি দেওল, শর্বরী ওয়াঘ, অনিল কাপুর ও হৃতিক রোশনের উপস্থিতিতে নির্মিত ‘আলফা’ আগামীকাল শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ছবিটি যশরাজ ফিল্মসের ‘স্পাই ইউনিভার্স’র অন্যতম বড় সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জয়ার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানালেন চঞ্চল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ এম


জয়ার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানালেন চঞ্চল

গতকাল বুধবার ছিল দুই বাংলার গুণী অভিনেত্রী জয়া আহসানের জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে তার ভক্তদের পাশাপাশি তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বেশ কিছু কাছের মানুষও। জয়া আহসানের জন্মদিন উপলক্ষে দুটি ছবি পোস্ট করেছেন আরেক দাপুটে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। পোস্টে দেখা যাচ্ছে, স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে জয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে তিনি ব্যস্ত। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন বন্ধু। তুমি আমাদের গর্ব। তুমি জয়া আহসান একজনই।’ খুশির আবহে চঞ্চলের ওই পোস্টে অভিনেত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে আরও অনেকে।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, জয়া আহসানের আসল নাম জয়া মাসউদ এবং তিনি গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেছেন। তার বাবা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এবং মা শিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই নাচ, গান এবং ছবি আঁকায় তিনি হাতেখড়ি নেন। বড় হয়ে তিনি অভিনয়ে আসেন। ২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তিনি অভিষেক ঘটান। এরপর ‘ডুবসাঁতার’, ‘গেরিলা’, ‘চোরাবালি’, ‘জিরো ডিগ্রি’, ‘খাঁচা’, ‘দেবী’, ‘বিউটি সার্কাস’সহ আরও অনেক ছবিতে তাকে দেখা গেছে। ভারতে তিনি বিশেষভাবে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন ‘বিসর্জন’, ‘এক যে ছিল রাজা’, ‘বিজয়া’, ‘বিনিসুতোয়’, ‘অর্ধাঙ্গিনী’, ‘দশম অবতার’, ‘কড়ক সিং’-এর মতো ছবিতে। দেশে অভিনয়ের জন্য তিনি পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া নয়বার পেয়েছেন মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার।

ভারতের চলচ্চিত্র ক্ষেত্রেও তিনি তাক লাগিয়েছেন। তিনবার তিনি ফিল্মফেয়ার (বাংলা) পুরস্কারও জিতেছেন। বর্তমানে জয়া পশ্চিমবঙ্গে তার নতুন ছবি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন। কৌশিক গাঙ্গুলির পরিচালনায় ছবিটি ১০ জুলাই মুক্তি পাবে। এতে জয়ার সঙ্গে অভিনয় করছেন কৌশিক সেন ও চূর্ণী গাঙ্গুলির মতো তুখোড় অভিনয়শিল্পীরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের একাধিক বিভাগে সচিব না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১১ এম


সরকারের একাধিক বিভাগে সচিব না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি

সরকারের একাধিক বিভাগে সচিব না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি বিরাজ করছে। বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চারটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ প্রশাসনিক পদ শূন্য হিসাবে রয়েছে। অথচ বর্তমানে কার্যকর কোনো দপ্তরের দায়িত্ব ছাড়াই রয়েছেন ১০ জন সচিব। তাদের মধ্যে ৯ জনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। আর একজন সচিব পদে পদোন্নতি ও পদায়ন পেলেও এখনো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেননি। জনপ্রশাসন বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সচিব পদে বর্তমানে কোনো কর্মকর্তা কর্মরত নেই। ওসব দপ্তরের কার্যক্রম আপাতত পরিচালনা করছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত মোট ৮৪ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার মধ্যে বর্তমানে কোনো দপ্তরের দায়িত্বে নেই ১০ জন। তাদের মধ্যে ৯ জনকে সংযুক্ত রাখা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। আর এখনো কোনো দপ্তরে যোগদান করেননি একজন।

সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সচিব দায়িত্ব পালন করেন। ওই কর্মকর্তা প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আর্থিক শৃঙ্খলা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এমন পরিস্থিতিতে কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগে দীর্ঘ সময় পূর্ণকালীন সচিব না থাকলে তৈরি হয় প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতার ঝুঁকি। বর্তমানে সরকারের ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। কারণ তা সরকারপ্রধানের কার্যালয়। কিন্তু বর্তমান সরকার গঠনের পর দপ্তরে এখনো পর্যন্ত নিয়োগ হয়নি কোনো সচিব। তার অধীনস্থ দপ্তরগুলো হলো গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ), বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (পিইপিজেড), এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপি), জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)।

সূত্র আরো জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিশ্ব বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে। ওই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থাগুলো হলো বাংলাদেশ ট্রেড এবং ট্যারিফ কমিশন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর, আমদানি ও রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের অফিস, বাংলাদেশ চা বোর্ড, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট, বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল, দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশ, দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ এবং ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ। দায়িত্বরত বাণিজ্য সচিব গত ১৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করলে এখনো ওই পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। এতোদিন অতিরিক্ত সচিব ওই সময়ে মন্ত্রণালয়ে সচিবের চলতি দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু গত ঈদের ছুটির মধ্যে সরকার তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব থেকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেয়। কিন্তু তিনি এখনো ওই পদে যোগদান করেননি। ফলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের পদটি ফাঁকা রয়েছে এখনো। তাছাড়া বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সরকারের অন্যতম আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। তার অধীনে রয়েছে বিজেএমসি, বিটিএমসি, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, পাট অধিদপ্তর, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড, বস্ত্র অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পাট করপোরেশন, জেডিপিসি এবং লিকুইডেশন সেল। তবে বর্তমানে ওই মন্ত্রণালয়ে কর্মরত নেই কোনো সচিব। আর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনস্থ দপ্তরগুলো হলো বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটি, ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিসিএ), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি, বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড (বিডিসিসিএল), স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড এবং এজেন্সি টু ইনোভেট (এটুআই)। বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে কর্মরত নেই কোনো সচিব।

এদিকে জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সরকারের জন্য সিভিল সার্ভিসে দলাদলি, বিভাজন ও একে অন্যকে পেছনে ফেলার প্রবণতা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমলাতন্ত্রে যোগ্য ও উপযুক্ত কর্মকর্তাদের বাছাই, সঠিক পদায়ন এবং পুরো ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ প্রশাসনে এখনো ব্যাপক দলাদলি, নানা ধরনের লবিং এবং পদ-পদবিকে ঘিরে উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সিভিল সার্ভিসের ভেতরের বিভাজন ও দলাদলি মোকাবেলা করে প্রশাসনকে গুছিয়ে আনতে সরকারের সময় লাগবে।

অন্যদিকে জনপ্রশাসনের সার্বিক বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানান, সরকার মাত্র এসেছে। বর্তমান গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে দেখে-শুনে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো সততা, স্বচ্ছতা, মেধা ও দক্ষতাকে মূল্যায়ন করতে হবে। সে অনুযায়ী সব বিভাগে কাজ চলছে। তবে দীর্ঘদিন পরে সেটআপ করতে একটু সময় তো লাগবেই। সবকিছুই ঠিকভাবে চলছে। যেসব জায়গায় পদায়ন প্রয়োজন, সেভাবেই পদায়ন হচ্ছে। যেকোনো সময় খালি পদগুলো পূরণ হয়ে যাবে। একজন কর্মকর্তা এক জায়গায় গেলে আরেক জায়গা খালি হয়, কিন্তু কাজ তো বন্ধ নেই। প্রশাসন মোটামুটি সেটআপ হয়ে গেছে। সব জায়গায় ইতিবাচকভাবে কাজ চলছে। কোথাও কোনো ডেডলক নেই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%