বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৩ এম
সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন শেরপুর সদর উপজেলার যোগিনীমুরা গ্রামের বাসিন্দা আবেদ আলী টুনি।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন আবেদ আলী টুনির পরনের জীর্ণ পোশাক এবং সার্বিক অবস্থার দিকে লক্ষ্য করে মানবিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রয়োজনের বিষয়টি উপলব্ধি করেন।
এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় আবেদ আলী টুনিকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় নতুন পোশাক কেনার ব্যবস্থা করা হয়।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, "মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতার সুন্দরতম প্রকাশ।" তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষটির পাশে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘অপরাধের জন্য অনুতপ্ত’ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলতে থাকবে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া বক্তব্যে জোলফাগারি জানান, দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানি সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, এসব হামলায় মার্কিন অবকাঠামো, স্থাপনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিন কমান্ডার ও সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। তবে ইরানের এই ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মার্কিন কর্মকর্তা ইরানের বড় ধরনের মার্কিন হতাহতের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জোলফাগারি বলেন, ‘আমেরিকানদের বিরুদ্ধে এসব আক্রমণাত্মক অভিযান চলতে থাকবে, যতক্ষণ না তারা তাদের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়।’ তিনি সতর্ক করে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়ে গেলে ইরানের জবাব আরও ‘ভারী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক’ হবে।
এর আগে ১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকের মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে।
জোলফাগারি আরও বলেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করবে, তাদেরও এর ‘বিপজ্জনক পরিণতি’ মেনে নিতে হবে। এর ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আঞ্চলিকভাবে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ জেলার ডিলার পর্যায়ে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দের সার অগ্রিম ডিলারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে ডিলার পর্যায়ে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে কৃষকরা সরকারের নির্ধারিত মূল্যেই সার কিনে জমিতে প্রয়োগ করতে পারছেন। চলতি আমন মৌসুমে নওগাঁয় সারের কোনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়, সে জন্য চাহিদা অনুযায়ী সারের বরাদ্দ জেলা পর্যায়ে অগ্রিম নিয়ে আসা হয়েছে।
অন্যদিকে, জেলার কোনো সার ডিলার যেন বেশি দামে সার বিক্রি করতে না পারেন, সেই লক্ষ্যে জেলাজুড়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সারের বাজার প্রতিনিয়ত কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো: মনজুর হোসেন জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সমন্বয়ের ভিত্তিতে এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে চাহিদার ভিত্তিতে সার সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে, এই সরবরাহের ঘটনাকে অনেকেই সার পাচার বলে অপপ্রচার করার চেষ্টা করছেন।
জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমনধানের চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে জমিতে আমনধানের গাছ মাঝারি আকার ধারণ করেছে, তাই ইউরিয়া সারের প্রয়োজন রয়েছে। গত জুলাই মাসে নওগাঁর জন্য ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ৬৬৭৭ মেট্রিক টন, টিএসপি ১২৮৯ মেট্রিক টন, এমওপি ৩০৪১ মেট্রিক টন, ডিএপি ৩৯১৬ মেট্রিক টন। আগস্ট মাসে বরাদ্দ ছিল ইউরিয়া ৯৯৯১ মেট্রিক টন, টিএসপি ১০৯৭ মেট্রিক টন, এমওপি ২৭৭৫ মেট্রিক টন ও ডিএপি ২৮৫৩ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বর মাসের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে ইউরিয়া ৬৩৬৯ মেট্রিক টন, টিএসপি ৭৬৬ মেট্রিক টন, এমওপি ১৯৯৩ মেট্রিক টন ও ডিএপি সার ২৩১২ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দ ইতোমধ্যে জেলার সার ডিলারদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ডিলাররা তাদের বরাদ্দের সার উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে নওগাঁর ডিলার পর্যায়ে সারের কোনো সংকট নেই। বর্তমানে খোলাবাজারে ৫০ কেজি ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫০ টাকায়, ডিএপি ১০৫০ টাকায়, টিএসপি ১৩৫০ টাকায় ও এমওপি ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে, কৃষকদের জমিতে সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নিজ নিজ এলাকার উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সার ছিটানো উচিত। মৃত্তিকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সার ছিটানোর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে দেশের কৃষকরা জমিতে জৈব সার প্রয়োগ না করে বেশি রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন। যার ফলে জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার দেওয়ার কারণে মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। এভাবে বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। তাই জমিতে সার ছিটানোর বিষয়ে কৃষকদের কৃষি বিভাগের পরামর্শ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই বলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সিংগারপাড়ার আদর্শ কৃষক মোস্তাক হোসেন জানান, বর্তমানে ডিলারদের দোকানে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে। স্লিপের মাধ্যমে তারা ন্যায্য দামে সার পাচ্ছেন। তিনি বলেন, "সবার আগে কৃষকদের সচেতন হতে হবে। প্রয়োজন নেই তবুও আমরা কৃষকরা সার পাবো কি পাবো না এই গুজবে কান দিয়ে প্রয়োজনের চাইতে বাড়িতে অতিরিক্ত সার মজুত করছি।" এছাড়া প্রতিনিয়ত পুকুরগুলোতে সারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু পুকুরে ব্যবহৃত সারের কোনো আলাদা বরাদ্দ নেই। ফলে প্রতি মৌসুমে সারের কিছুটা অতিরিক্ত চাহিদা বাড়ছে। তাই পুকুরগুলোতে ব্যবহৃত সারের তালিকা নিয়ে আলাদা করে বরাদ্দ প্রদান করা হলে কৃষি জমির জন্য বরাদ্দকৃত সারের উপর চাপ কমবে এবং সারের কোনো কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হবে না। তাই সরকারের এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
সদর উপজেলার চকউজির গ্রামের কৃষক এবাদুল প্রামাণিক জানান, "আমরা কৃষকরা প্রতিযোগিতা করে জমিতে সার ছিটাই। আমরা কৃষি কর্মকর্তাদের নয় কীটনাশকের দোকানদারের পরামর্শে জমিতে সার ও কীটনাশক দিয়ে থাকি যা আমাদের জমির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ।" অপরদিকে, কৃষকদের খরচও বেড়ে যাচ্ছে। জমিতে অতিরিক্ত টিএসপি সার দেওয়ার কারণে জমিতে এত পরিমাণ ফসফরাসের মজুত হয়েছে যা প্রয়োজনের চাইতে অনেক বেশি। কিন্তু কৃষকরা মৃত্তিকা পরীক্ষা না করেই প্রতিযোগিতা করে জমিতে সার দিয়ে আসছেন, যার ফলে ব্যাপকভাবে জমির স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে। দিন যতই যাচ্ছে, ততই জমিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক দেওয়ার কারণে মাটি তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এমন খারাপ অভ্যাস থেকে কৃষকদের দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ছাড়া জমিতে সার ও কীটনাশক না দিতে কৃষকদের প্রতি অনুরোধ জানান এই কৃষক।
জেলার বদলগাছি উপজেলার কোলা-ভান্ডারপুর এলাকার কৃষক রমিজ উদ্দিন জানান, বর্তমানে তারা ডিলারদের দোকানে সরকারের বেধে দেওয়া দামেই চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন। তবে, সার নিয়ে যে সকল ব্যক্তিরা অযথা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং যে সকল দুষ্ট খুচরা সার বিক্রেতারা কৃষকদের জিম্মি করে দাম বেশি নেওয়ার আশায় অবৈধভাবে সার মজুত করছেন, তাদেরকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে দেশে সার নিয়ে আর কেউ গুজব সৃষ্টির সুযোগ পাবে না। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে থাকা কৃষি কর্মকর্তাদেরও আরো সক্রিয় হতে হবে। তাদেরকে স্বজনপ্রীতির ধারা থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ জানান এই কৃষক।
রাণীনগর উপজেলা বিএডিসি সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: রেজাউল ইসলাম জানান, প্রতিনিয়তই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারের বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। যার কারণে বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, "কোনো সার ব্যবসায়ী কৃষকদের যেন না ঠকান, সেই বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে সকল সদস্যদের কঠোর হুশিয়ারী প্রদান করা হয়েছে।" সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে গুজবহীন পরিবেশে সার বিতরণের জন্য তিনি কৃষক থেকে শুরু করে প্রতিটি মানুষের কাছ থেকে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রাণীনগর উপজেলা বিসিআইসি সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: আব্দুস সাত্তার শাহ জানান, বাজারে যখন ক্রেতারা কোনো একটি নির্দিষ্ট পণ্য প্রয়োজনের চাইতে বেশি কিনতে শুরু করেন, তখন সেই পণ্যের সরবরাহ কমে যায় এবং কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হয় বলে ক্রেতারা মনে করেন। তেমনি কৃষকরা ভবিষ্যতের কথা ভেবে বাড়িতে অতিরিক্ত সার মজুত করার কারণে এবং মাঝে মাঝে ডিপো থেকে সার সরবরাহের ক্রটির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়, এতে কৃষকরা মনে করেন দেশে সারের সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে, কৃষকরা বাড়িতে কীটনাশক মজুত করেন না বলে বাজারে কোনো কীটনাশকের সংকট হয় না। কৃষকদের সচেতন হয়ে এমন খারাপ অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান, "নিজে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেবো এবং অন্যদের পরামর্শ নিয়ে জমির প্রয়োজন অনুসারে সার ও কীটনাশক প্রয়োগে এগিয়ে আসুন।"
রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা শশাঙ্ক কুমার জানান, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ধানের জমির পরিমাণ নির্ধারণ করে এবং কোন জমিতে কতটুকু সারের প্রয়োজন, সেই জরিপ করার পর স্লিপের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে সব সময় কৃষকদের সচেতন করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। তবুও কিছু কিছু কৃষক গুজবে কান দিয়ে বাড়িতে অতিরিক্ত সার মজুত করার চেষ্টা করছেন। জমিতে সার বেশি দিলেই ফসল বেশি হবে, এমন ধারণা থেকে কৃষকদের বের করে আনতে এবং কৃষি বিষয়ে যে কোনো পরামর্শ কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে এই কর্মকর্তা জানান।
জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো: মনজুর হোসেন জানান, জেলায় কতটুকু সারের প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী চাহিদাপত্র তৈরি করে সরকারের কাছে প্রেরণ করা হয়। চলতি আমনধান মৌসুমে জেলায় চাহিদা অনুযায়ী সারের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সারের বরাদ্দ প্রতি মাসের চাহিদা অনুসারে পাওয়া যায়। নওগাঁয় যেন সারের কোনো সংকট সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দ আগেই নিয়ে এসে ডিলারদের মাঝে সার প্রদান করা হয়েছে। তবে সারের ব্যবহার নিয়ে কৃষকদের সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, আগের যুগের কৃষকরা বাড়িতে থাকা গৃহপালিত পশুর গোবর থেকে তৈরি জৈব সার বেশি বেশি জমিতে ব্যবহার করতেন। ফলে সেই উৎপাদিত ফসল ছিল বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যবান্ধব। জৈব সার ব্যবহারে পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি হয় না। রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হবে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে। তাহলে দেশের কৃষি আরো সমৃদ্ধশালী হওয়ার পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে এবং দীর্ঘদিন ধরে সুস্থ্য মাটি থেকে কৃষকরা ফসলের ফলনও ভালো পাবেন। তাই কৃষকসহ সকলকে সার নিয়ে কোনো গুজবে কান না দিতে এবং কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে সরকার যে সকল সার আমদানি করে কৃষকদের কাছে স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করছেন, সেই সকল সার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে পরিবেশকে রক্ষা করে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের অনুরোধ জানিয়েছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনকে কঠোরভাবে সারের বাজার মনিটরিং করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিনিয়তই উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে সার মজুতকারী ও বেশি দামে সার বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রেখেছে। জেলার বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় কিছু অতিলোভী খুচরা সার বিক্রেতারা কৃষকদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীতেও এই ধরণের অভিযান চলমান থাকবে। সার নিয়ে কোনো অরাজকতা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি কঠোর হুশিয়ারী প্রদান করেন। এছাড়া সার নিয়ে যে কোনো অভিযোগ থাকলে জেলাবাসীকে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ জানান এই কর্মকর্তা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে যে, অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার বিষয়ক শাখা একটি সতর্কবার্তায় এই নির্দেশনা প্রদান করে। ওই বার্তায় উল্লেখ করা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে এবং অপ্রত্যাশিতভাবে অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা এবং মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে হামলার চেষ্টা করতে পারে। এসব সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিজ নিজ দেশের সর্বশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে এবং প্রয়োজনে স্থানীয় মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ ও আলিম শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন। প্রাথমিক আবেদন ফি হিসেবে ২২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী, এবারের ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হবে না। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করে সম্পূর্ণ অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে। একাদশ ও আলিম শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমে দেশের সাধারণ, মাদ্রাসা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করতে পারবেন।
শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টালে গিয়ে আবেদন করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম রাখতে পারবেন। আবেদন করার আগে পছন্দের কলেজ, বিভাগ, আসনসংখ্যা ও যোগ্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা অনুসারে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির মোট আসনের ৭ শতাংশ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। অবশিষ্ট ৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। ফলে সাধারণ আসনে শিক্ষার্থীদের নির্বাচন হবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে।
ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি অনুযায়ী, ২ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত মূল আবেদন গ্রহণ করা হবে। পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফলে যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তিত হবে, তাদের আবেদন গ্রহণ এবং পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত থাকবে। প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে।
ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন করতে হবে। এ জন্য ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চয়ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্বাচিত কলেজ বা মাদ্রাসায় চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে। আলিম শ্রেণির ক্ষেত্রেও একই ভর্তি সময়সূচি অনুসরণ করা হবে।
ভর্তি-সংক্রান্ত আবেদন, ফল প্রকাশ ও নিশ্চয়নের সব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হবে। শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সময় নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার এবং দেওয়া তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ভর্তি পোর্টালেও সঠিক তথ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ