বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩২ পি.এম
ইরান কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পূর্ববর্তী দিনে প্রায় ৪ শতাংশ দাম বৃদ্ধির পর আবারও কমেছে অপরিশোধিত তেলের মূল্য।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ৯৪ সেন্ট বা দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০২ দশমিক ১৩ ডলারে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৫৯ সেন্ট বা দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছেছে।
ইরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সমাধানের জন্য তারা কূটনৈতিক আলোচনায় প্রস্তুত রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে কিভাবে এ ধরনের সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য বিদ্যমান।
ইরানের এই অবস্থানের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতি আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের দামের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব দেশে পড়াশোনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্তে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগও রয়েছে। তবে, দেশভেদে কাজের অনুমতি, সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা এবং মজুরির হার ভিন্নভাবে প্রযোজ্য।
শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ এবং গড় আয়ের দিক থেকে ইউরোপের ১০টি দেশের তালিকা নিচে উপস্থাপন করা হলো—
১. আইসল্যান্ড
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে সর্বাধিক ২২ দশমিক ৫ ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ পান। ঘণ্টাপ্রতি আয় ১৬ থেকে ১৮ ইউরোর মধ্যে হয়ে থাকে। এর ফলে মাসে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬০৬ ইউরো আয় করা সম্ভব, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার টাকার সমান।
২. নরওয়ে
নরওয়েতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে সর্বাধিক ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। ঘণ্টাপ্রতি গড় আয় প্রায় ১৬ দশমিক ৮৬ ইউরো। মাসে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৪৯০ ইউরো বা প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকার আয় হতে পারে।
৩. আয়ারল্যান্ড
শিক্ষাবর্ষ চলাকালীন সময়ে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা এবং ছুটির সময় সপ্তাহে সর্বাধিক ৪০ ঘণ্টা কাজের সুযোগ রয়েছে। ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি প্রায় ১৩ দশমিক ৫০ ইউরো। মাসে গড়ে প্রায় ১ হাজার ১৭০ ইউরো বা প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার আয় হতে পারে।
৪. ডেনমার্ক
ডেনমার্কে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। ঘণ্টাপ্রতি গড় আয় প্রায় ১৪ দশমিক ৭৪ ইউরো বা ১১০ ড্যানিশ ক্রোনা। মাসে গড়ে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ক্রোনা, অর্থাৎ ১ হাজার ১৩৮ ইউরো বা প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার আয় করা সম্ভব।
৫. যুক্তরাজ্য
অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সপ্তাহে সর্বাধিক ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি প্রায় ১২ দশমিক ২১ পাউন্ড বা ১৪ দশমিক ৯ ইউরো। মাসে প্রায় ৯৭৭ পাউন্ড বা ১ হাজার ১২৭ ইউরো আয় হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সমান।
৬. সুইডেন
সুইডেনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টার সীমা নেই। তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করেন। মাসিক গড় আয় প্রায় ১২ হাজার ৫০৩ সুইডিশ ক্রোনা বা ১ হাজার ১১৩ ইউরো, যা প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকার সমান।
৭. স্পেন
স্পেনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে সর্বাধিক ৩০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি প্রায় ৯ দশমিক ২৬ ইউরো। মাসে গড়ে প্রায় ১ হাজার ১১১ ইউরো বা প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার আয় হতে পারে।
৮. জার্মানি
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের শিক্ষার্থীরা জার্মানিতে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। ঘণ্টাপ্রতি গড় আয় প্রায় ১২ দশমিক ৮২ ইউরো। এতে মাসে প্রায় ১ হাজার ১১১ ইউরো বা প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার আয় করা সম্ভব।
৯. বেলজিয়াম
বেলজিয়ামে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবর্ষ চলাকালে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি প্রায় ১২ দশমিক ৮২ ইউরো। মাসে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫৩ ইউরো বা প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকার আয় হতে পারে।
১০. লুক্সেমবার্গ
লুক্সেমবার্গে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে সর্বাধিক ১৫ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। কর্মঘণ্টার সীমা তুলনামূলক কম হলেও ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি প্রায় ১৮ ইউরো। মাসে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০ ইউরো বা প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার টাকার আয় হতে পারে।
তবে উল্লেখ্য যে, এসব আয় গড় হিসাব। প্রকৃত আয় কাজের ধরন, কর্মঘণ্টা, কর, দক্ষতা এবং নিয়োগদাতার ওপর নির্ভর করে কম-বেশি হতে পারে। একইভাবে শিক্ষার্থীদের কাজের অনুমতি ও কর্মঘণ্টার নিয়মও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিশ্বমঞ্চে তার এই ভাষণ, যা জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে, বাংলাদেশের অর্থনীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। এছাড়াও, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তন, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বৈশ্বিক ইস্যুগুলোও তার বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণভাবে স্থান পাবে বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের মূল আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী এবারের সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানসহ বেশ কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সম্পন্ন করেছেন।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, দীর্ঘ আট বছরের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের জিয়া পরিবার। এই পরিবারের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে, এবং তার স্ত্রী খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন। এবার তাদের ছেলে তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।
তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন। এটি জাতিসংঘে তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণ হবে।
বিশ্বমঞ্চে একই পরিবারের একাধিক প্রজন্মের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার ঘটনা বিরল হলেও এটি একেবারে নজিরবিহীন নয়। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও আমেরিকার বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক পরিবারে এমন উদাহরণ বিদ্যমান।
জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাদশ বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। জাতিসংঘের সরকারি নথিতে ওই ভাষণের রেকর্ডও রয়েছে, যেখানে তাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একাধিকবার ভাষণ দিয়েছেন। ১৯৯৫ ও ২০০৫ সালের অধিবেশনের সরকারি নথিতে তার বক্তব্যের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।
স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ দেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৪ সালে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে তার মেয়ে শেখ হাসিনাও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একাধিকবার জাতিসংঘের একই মঞ্চে ভাষণ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বুশ পরিবারেও বাবা ও ছেলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিয়েছেন। জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪১তম প্রেসিডেন্ট, যিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে একাধিকবার জাতিসংঘে বক্তব্য দেন। তার ছেলে জর্জ ডব্লিউ বুশ ছিলেন ৪৩তম প্রেসিডেন্ট এবং ২০০১ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে প্রতি বছর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন।
শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েকে পরিবারেও রয়েছে একই ধরনের নজির। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এস ডব্লিউ আর ডি বন্দরনায়েকে ১৯৫৬ সালে জাতিসংঘে ভাষণ দেন। তার স্ত্রী সিরিমাভো বন্দরনায়েকে বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একাধিকবার বক্তব্য রাখেন। পরে তাদের মেয়ে চন্দ্রিকা বন্দরনায়েকে কুমারাতুঙ্গা শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে জাতিসংঘের মঞ্চে ভাষণ দেন।
পাকিস্তানের ভুট্টো পরিবারেও বাবা ও মেয়ের এমন নজির বিদ্যমান। জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি—দুই পরিচয়েই ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে জাতিসংঘে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তার মেয়ে বেনজীর ভুট্টো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৮৯ ও ১৯৯৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন।
ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ন পরিবারেও একই ধরনের উদাহরণ রয়েছে। দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট আহমদ সুকর্ণ ১৯৬০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১৫তম অধিবেশনে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ২০২৩ সালে ইউনেস্কো তার ওই ভাষণকে বিশ্বস্মৃতি কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করে। পরে তার মেয়ে মেঘবতী সুকর্নপুত্রি ইন্দোনেশিয়ার পঞ্চম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ২০০১ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন।
ইন্দোনেশিয়ার জোযোহাদিকুসুমো পরিবারেও রয়েছে এমন নজির। অধ্যাপক সুমিত্রো জোযোহাদিকুসুমো দেশটির স্বাধীনতার শুরুর দিকে জাতিসংঘে ইন্দোনেশিয়ার কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। পরে তার ছেলে প্রাবোও সুবিয়ান্তো ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথমবার ভাষণ দেবেন।
থাইল্যান্ডের শিনাওয়াত্রা পরিবারেও ভাই-বোনের জাতিসংঘের মঞ্চে উপস্থিতির নজির রয়েছে। থাকসিন শিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈঠকে থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন। তার বোন ইংলাক শিনাওয়াত্রাও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন।
মালয়েশিয়ার রাজাক পরিবারেও বাবা ও ছেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছেন। তুন আবদুল রাজাক ছিলেন দেশটির দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী। তার ছেলে নাজিব রাজাক ছিলেন ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। মালয়েশিয়ার সরকারি নথিতে নাজিবের ২০১০, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের সাধারণ পরিষদের ভাষণের রেকর্ড রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যেও এমন রাজনৈতিক পরিবারের নজির রয়েছে। জর্ডানের হাশেমি রাজপরিবারের বাদশাহ হুসেইন বিন তালাল এবং তার ছেলে বর্তমান বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ—দুজনই জাতিসংঘের মঞ্চে জর্ডানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
কাতারের আল থানি পরিবারেও বাবা ও ছেলে আমির হিসেবে জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছেন। সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি—দুজনই বিশ্বমঞ্চে কাতারের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
সিরিয়ার আসাদ পরিবারেও বাবা ও ছেলের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের নজির রয়েছে। হাফেজ আল-আসাদ ও তার ছেলে বাশার আল-আসাদ—দুজনই রাষ্ট্রপতি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
ভারতের নেহরু-গান্ধী পরিবারেও তিন প্রজন্মের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার জাতিসংঘের মঞ্চে দেখা গেছে। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৯৪৮ ও ১৯৬০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। তার মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৬৮ ও ১৯৮৫ সালে বক্তব্য রাখেন। পরে ইন্দিরার ছেলে রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৮৫ ও ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন।
আফ্রিকাতেও এমন কয়েকটি রাজনৈতিক পরিবারের উদাহরণ রয়েছে। গ্যাবনের বংগো পরিবার, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের কাবিলা পরিবার এবং টোগোর নাসিংবে পরিবারে বাবা ও ছেলে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সব মিলিয়ে, জাতিসংঘের মঞ্চে একই পরিবারের একাধিক প্রজন্মের উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে এমন পরিবারের উদাহরণও বিদ্যমান। এবার জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে তারেক রহমানের জাতিসংঘের মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার বিষয়টি সেই তালিকায় নতুন একটি অধ্যায় যোগ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিঙ্গাপুরে গণপরিবহনে উচ্চশব্দে গান বা অডিও বাজানো, সিটে পা তুলে বসা এবং অন্যান্য অশালীন আচরণের জন্য যাত্রীদের সর্বোচ্চ ৫০০ সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ৪৩ হাজার টাকার সমান। বাসে খাবার ও পানীয় গ্রহণ এবং ময়লা ফেলা সংক্রান্ত বিষয়েও জরিমানা প্রযোজ্য হবে।
সোমবার একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের ভূমি পরিবহন কর্তৃপক্ষ (এলটিএ) নতুন এই বিধিমালার ঘোষণা করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাস টার্মিনালে অন্য যাত্রীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করা অথবা বাস ও টার্মিনাল নোংরা করার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার জরিমানা করা হতে পারে।
এলটিএ জানিয়েছে, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো গণপরিবহনে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, বিবেচনা এবং আনন্দদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
আগে বাস চালকরা নিয়ম ভঙ্গকারী যাত্রীদের বাস থেকে নেমে যেতে বলার ক্ষমতা রাখতেন। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, টিকিট পরিদর্শক এবং অনুমোদিত বাসকর্মীরা সরাসরি জরিমানা ও নোটিশ জারি করতে পারবেন।
বাস চালকদের জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি, কারণ তাদের নিরাপত্তার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। যদি কোনো যাত্রী অসদাচরণ করে, তাহলে চালক তাকে বাস থেকে নেমে যেতে বলার অধিকার রাখেন। প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তাও নেওয়া যাবে।
যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে এলটিএ বলেছে, গণপরিবহন একটি যৌথ সামাজিক স্থান। তাই পরিচ্ছন্ন, মার্জিত এবং স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রত্যেক যাত্রীর দায়িত্ব রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ