১২:০৫ এম
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ক্রমাগত ভাঙনের ফলে বসতভিটা এবং ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত তিন দিন ধরে অন্তত ৫০টি পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অর্ধা ঘন্টার ব্যবধানে ২৫টি বাড়ির পাশাপাশি এ অবস্থার ফলস্বরূপ, নদীর পাড়ের লোকজন শত শত একর আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গত তিন দিনে এই ভাঙনের জন্য বিশারপাড়া আশ্রয়ন এলাকায় সোমবার ভোরবেলা ৩০ মিনিটের মধ্যে ২৫টি বাড়ীসহ ৫০টি পরিবার তাদের বাড়িঘর হারিয়েছে। এ ছাড়াও নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ছয়টি বৈদ্যুতিক লাইনের খুটি এবং হাজারো একর আবাদী জমি। বিভিন্ন স্থাপনা যেমন মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢ়ুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল বাজার, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র এর মধ্যে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের শাখাহাতী, কড়াইবরিশাল, বিশারপাড়া এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন চলছে। প্রতিদিনই নদী গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি এবং বসতভিটা। ইতোমধ্যে ৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে চলে গেছে, যার ফলে প্রায় ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের জমি এবং বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে। এলাকার আতিকুর রহমান, আনসার আলী, আ:হামিদ, বক্কর আলী, লাল মিয়া, শাহিন মিয়া, ফুলু মিয়া, মোনছোর মেম্বারসহ অনেকে তাদের ভিটেবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। বিশারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহিন মিয়া, তোফায়েল হোসেন, এবং মুকুল মিয়া বলেছেন, "ব্রহ্মপুত্র নদ আমাদের বসতবাড়ি কেড়ে নিয়েছে। সাজানো সংসার হারিয়ে ফেলেছি। লাখ লাখ টাকার সম্পদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। ত্রাণ চাই না, চাই নদীভাঙন থেকে স্থায়ী রক্ষা।"
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত দুই বছরে ইউনিয়নের প্রায় ৬৫০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে যে হারে ভাঙন চলছে, যদি দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ইউনিয়নের একটি বড় অংশ, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র এবং কড়াইবরিশাল বাজার নদীতে চলে যাবে। ইতোমধ্যে শত শত একর আবাদি জমিও নদীগর্ভে চলে গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বলেছেন, "ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এত ব্যাপক ভাঙন আসলে সামান্য কিছু দিয়ে রক্ষা করা কঠিন। ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে সহায়তা দেয়া হবে।" কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেছেন, "এত দীর্ঘ ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ জিও বস্তা দেয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। এজন্য ভাঙনের মুখে থাকা স্থাপনা গুলি সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন