ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মিষ্টি–গাজী নজরুলের আগে বিতর্কে জড়ানো এমপিদের শেষ পরিণতি


মিষ্টি–গাজী নজরুলের আগে বিতর্কে জড়ানো এমপিদের শেষ পরিণতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দুইজন সংসদ সদস্য বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছেন। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে নির্বাচিত গাজী নজরুল ইসলাম এবং বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

গাজী নজরুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও সংসদ সদস্য পদে তিনি বহাল আছেন।

অন্যদিকে, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। ঢাকার মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তার নাম আসার পর তিনি পদত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

সংসদ সদস্যদের বিতর্কে জড়ানোর কারণে পদত্যাগের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে অন্তত পাঁচজন সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার নজির রয়েছে। অন্তত চারজন সংসদ সদস্য দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। তবে এসব কারণে তাদের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা সৃষ্টি হয়নি। তবে দলবদল ও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার কারণে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে অতীতে অন্তত তিনজনের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের নজির রয়েছে।

মিষ্টি–গাজী নজরুলের আগে বিতর্কে জড়ানো সংসদ সদস্যদের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল তা তুলে ধরা হলো।

লতিফ সিদ্দিকী-

টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এর ফলস্বরূপ ১২ অক্টোবর তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। একই দিনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সভাপতিমণ্ডলীর পদ থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার দলীয় সদস্যপদও সাময়িক স্থগিত করা হয়।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবর লতিফ সিদ্দিকীর প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। দেশে ফেরার পর নভেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় তিনি নয় মাস কারাগারে ছিলেন। তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের চিঠি চালাচালি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে শুনানির উদ্যোগ নেয় কমিশন। ২০১৫ সালের আগস্টে সেই উদ্যোগের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে বিফল হন লতিফ সিদ্দিকী।

পরে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে লতিফ সিদ্দিকী জানান, শুনানির প্রয়োজন নেই এবং তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ইচ্ছার’ কথা উল্লেখ করেন। পরে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সংসদে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

মুরাদ হাসান-

২০২১ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে অশ্লীল মন্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এবং জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুরাদ হাসান। সমালোচনার মধ্যে তার ফোনালাপের একটি অডিও প্রকাশিত হয়। ওই ফোনালাপে তিনি এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে কথা বলার সময় অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন এবং তাকে হুমকিও দেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়েও তিনি আপত্তিকর বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

এসব ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন মুরাদ হাসান। জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। সে সময় তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি উঠেছিল। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছিল। কিন্তু মুরাদ হাসান সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল ছিলেন।

গোলাম মাওলা রনি-

আওয়ামী লীগের তৎকালীন সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিকে ২০১৩ সালে বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের দুজন সাংবাদিককে পেটানোর ঘটনায় কারাগারে যেতে হয়েছিল। পরবর্তী নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন পাননি। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়ন পান।

মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল-

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল। বিপুল অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নোমানকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়ে তিনি নিজের বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শহিদ ইসলাম কুয়েতে মানব পাচার ও ভিসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন, এই অভিযোগ আগে থেকেই ছিল। সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের জুনে তিনি কুয়েতে গ্রেপ্তার হন। পরে ঘুষ লেনদেনের মামলায় ২০২১ সালের ২৮ জানুয়ারি তাকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার জরিমানা করেন দেশটির আদালত। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সংসদ সদস্যের বিদেশের মাটিতে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শহিদ ইসলামের আসন শূন্য ঘোষণা করে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। অর্থাৎ তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান।

আবুল কাশেম-

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবুল কাশেম। তাকে ‘ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি’ উল্লেখ করে ২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন একই আসনে পরাজিত প্রার্থী বিএনপির মাহমুদুল হাসান। আবেদনে বলা হয়, সোনালী ব্যাংকে আবুল কাশেমের ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ টাকা ঋণ রয়েছে। ময়মনসিংহ টেলিফোন এক্সচেঞ্জে কাশেমের নামে ৩২ হাজার ১১০ টাকা ফোনের বিল বকেয়া রয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

শুনানি শেষে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল আবুল কাশেমকে সংসদ সদস্য ঘোষণা-সংক্রান্ত গেজেট অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কাশেম আপিল বিভাগে যান। ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ কাশেমের আপিল খারিজ করে দেন। ফলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায়।

মহীউদ্দীন খান আলমগীর-

‘ওয়ান–ইলেভেন’–এর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দুর্নীতির দায়ে ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতা মহীউদ্দীন খান আলমগীরের। ২০ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের অক্টোবরে তিনি মুক্তি পান। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু কারাদণ্ডের কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। পরে আইনি লড়াইয়ে তার প্রার্থিতা বহাল হয়।

এরপর নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হন মহীউদ্দীন খান আলমগীর। দণ্ডপ্রাপ্ত অবস্থায় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার অভিযোগে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের রায় মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে যায়। সেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

মেজর (অব.) জসিমউদ্দিন-

২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোলা-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মেজর (অব.) জসিমউদ্দিন। জসিমউদ্দিনকে ২০০৪ সালের আগস্টে সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছিল। তখনকার আইন অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হলে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করা যেত না। জসিমউদ্দিনের এই আইনি অযোগ্যতার বিষয়টি তুলে ধরে উচ্চ আদালতে রিট করেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বর্তমান সংসদের স্পিকার)। আইনি লড়াইয়ের পর উচ্চ আদালত জসিমউদ্দিনের সংসদ সদস্য পদ অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর নির্বাচন কমিশন তার আসন শূন্য ঘোষণা করে।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান-

কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ২০০০ সালে বিএনপি সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এ কারণে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার আসন শূন্য হয়ে যায়। আখতারুজ্জামান এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছিলেন। ২০০১ সালের জুলাই মাসে সপ্তম সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার আগপর্যন্ত তার আসনটি শূন্যই ছিল।

হাসিবুর রহমান (স্বপন)-

সিরাজগঞ্জ-৭ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সপ্তম সংসদে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন হাসিবুর রহমান (স্বপন)। ১৯৯৮ সালে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে উপমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান।

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন-

১৯৯৮ সালে রাজশাহী-৫ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। একপর্যায়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী হন। এ কারণে তার আসন শূন্য হয়ে যায়। তবে পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আবার সংসদ সদস্য হন।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও জাহিদুর রহমানের ঘটনা ২০১৮ সালের নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ বেশ নাটকীয় ছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে আটজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে তারা শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তবে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচিত ঐক্যফ্রন্টভুক্ত গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ২০১৯ সালের ৭ মার্চ শপথ নেন। সেদিনই গণফোরাম থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ২৫ এপ্রিল শপথ নেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী জাহিদুর রহমান। দুই দিন পর তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি তাদের সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকার ক্ষেত্রে বাধা হয়নি।

অবশ্য এই নির্বাচনের কয়েক মাস পর বিএনপি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দলের চারজন সংসদ সদস্য ২৯ এপ্রিল শপথ নেন। দলের তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বর্তমান রাষ্ট্রপতি) বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও শপথ নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। পরে তার আসনে উপনির্বাচনে জিতে শপথ নেন বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। একপর্যায়ে জাহিদুর রহমানের বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয় বিএনপি।

এইচ এম গোলাম রেজা-

মহাজোটের মনোনয়নে ২০০৮ সালে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির নেতা এইচ এম গোলাম রেজা। জীবনবৃত্তান্তে ও সংসদে অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ২০১২ সালের অক্টোবরে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়নি।

আবু হেনা-

অষ্টম সংসদ নির্বাচনে (২০০১-০৬) রাজশাহী-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন সাবেক আমলা আবু হেনা। ২০০৫ সালে তিনি এলাকায় প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে তৎকালীন বিএনপি সরকারের এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। মূলত নিজের এলাকার (রাজশাহীর বাগমারা) মানুষ উগ্রবাদীদের হাতে নির্যাতিত হওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এই বক্তব্যের পর আবু হেনাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে সংসদের তৎকালীন স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার সিদ্ধান্ত দেন, আবু হেনার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পতিত সরকার অন্ধকার ভবিষ্যৎ রেখে পালিয়ে গেছে: তিতুমীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৫ পি.এম


পতিত সরকার অন্ধকার ভবিষ্যৎ রেখে পালিয়ে গেছে: তিতুমীর

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর মন্তব্য করেছেন যে, পতিত সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে গেছে, যা যুবসমাজের জন্য অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তৈরি করেছে। "তারা এক অন্ধকার ভবিষ্যৎ রেখে পালিয়ে গেছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, পতিত সরকার জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা এবং সামনের দিকে অগ্রগতির কোনো চিন্তা না করে নিজেদের স্বার্থে একটি অর্থনীতি চালু রেখেছিল।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘শিক্ষা শিল্পের ঐক্যতান: কর্মসংস্থানের সমাধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এমতাজ হোসেন এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো ইদ্রিস আলী।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ, গবেষণা এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৬ পি.এম


নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে।

শনিবার (২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ঢাকাস্থ কচুয়া উপজেলা সমিতি আয়োজিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, ছাপা, বিতরণ ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেন।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পাঠ্যবইয়ের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। ইতোমধ্যে যেসব নিম্নমানের বই পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল ও নষ্ট করা হয়েছে। নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তক ছাপায় গুণগত মানে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না। কাগজ, কালি, ছাপাখানা ইত্যাদি বিষয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান দেশীয় মুদ্রণশিল্প গড়ে উঠুক, তাই এ বছর বিদেশি কোনো কোম্পানিকে মুদ্রণের কাজ দেওয়া হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পূর্বেও সময়মতো গুণগত মানের বই ছাপাতে পেরেছি, আশা করি আগামীতেও পারব ইনশাআল্লাহ।

মন্ত্রী আরও জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে ১৫০টি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালু করা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে।

মানসম্মত খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য কুপন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, মিড ডে মিল কর্মসূচিতে আগামীতে শিক্ষার্থীরা কুপন দিয়ে ক্যান্টিন থেকে নিজেদের খাবার কিনতে পারবে।

এছাড়াও খাদ্য তালিকায় আরও নতুন খাদ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে খাবার সরবরাহ প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণ করার ভাবনাও রয়েছে। এই ব্যবস্থা প্রথমে কয়েকটি জেলায় পাইলটিং করে পরবর্তীতে সারাদেশে বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রী এ সময় চতুর্থ শ্রেণিতে স্পোর্টস ও কালচারাল বই অন্তর্ভুক্তির কথা বলেন। তিনি জানান, আমরা কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করছি। পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই। প্রত্যেক উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন মন্ত্রী। এসব প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালু করা হবে। সৌদি আরবেও টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ করা হবে বলে তিনি জানান। আগামীতে পরীক্ষার দুই সেট প্রশ্ন দুই জায়গায় করা হবে বলে তিনি জানান। বিজি প্রেস ও আর্মি সিকিউরিটি প্রেস থেকে করা হবে। পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যাতে সময় হারিয়ে না যায়, সে জন্য পরীক্ষা সময়মতো নেওয়া হবে এবং বর্ষাকালীন দুর্যোগও পরিহার করা হবে।

তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরীখেই পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশকে এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ক্রস বর্ডার এডুকেশন সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছি। যেসব বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পাঁচশোর মধ্যে রয়েছে, তাদের বাংলাদেশে শাখা খুলতে চাইলে অনুমোদন দিতে বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করা হবে।

মন্ত্রী এ সময় কচুয়ার সামগ্রিক উন্নয়নে এ অঞ্চলের সকলকে শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দক্ষ জনবল তৈরি করতে হলে কারিগরি ও উৎপাদনমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই। তাই কচুয়ার শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনবল তৈরি করতে এখানে কারিগরি শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। কচুয়ার প্রতিটি সেক্টরের উন্নয়নে সেখানে সেডো মিনিস্টার ও কমিটি করা হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের সভাপতিত্বে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজমুন নাহার বেবি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কচুয়ার বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ, কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কচুয়ার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইইউর রাসায়নিক পণ্যে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৬ পি.এম


ইইউর রাসায়নিক পণ্যে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে চীন

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আমদানি করা একটি বহুল ব্যবহৃত শিল্প-রাসায়নিক পণ্যের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে।

এই তদন্ত শুরু হয় বেইজিংয়ে ইইউর বাণিজ্য বিষয়ক প্রধানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্থানীয় শিল্পের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ হলো, ইইউ থেকে কম দামে পি-নাইট্রোটলুইন আমদানি করে চীনের বাজারে অতিরিক্ত পণ্য প্রবাহিত হচ্ছে, যা স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পি-নাইট্রোটলুইন একটি রাসায়নিক উপাদান, যা রং, ওষুধ এবং কীটনাশক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

বেইজিং এবং ব্রাসেলসের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা ধীরে ধীরে বড় ধরনের বাণিজ্য সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

ইইউর ২৭টি দেশ চীনের বিপুল পরিমাণ রপ্তানির কারণে নিজেদের শিল্পকে রক্ষার চেষ্টা করছে।

সমালোচকদের মতে, চীনা কোম্পানিগুলো ব্যাপক সরকারি ভর্তুকির কারণে তুলনামূলক কম দামে পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হচ্ছে।

তবে বেইজিং এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। চীন বলেছে, তার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা শুধুমাত্র সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নয়।

ইইউ চীনা কোম্পানির ওপর বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে বেইজিং।

ইইউর বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচ এবং চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও আগামী বৃহস্পতিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন।

দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যিক ব্যবস্থা বৃদ্ধি ঠেকানো আলোচনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে।

এর আগে, সেপ্টেম্বরে চীনসহ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করা পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল ইইউ।

চীনের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত ১২ মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে তদন্তের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো যেতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, চীন বারবার ইইউকে তার নিজস্ব অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমস্যাগুলো সরাসরি মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছে।

একই সঙ্গে দুই পক্ষের উদ্বেগ আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সমাধানের ওপরও জোর দিয়েছে বেইজিং।

সূত্র: এএফপি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিঙ্গাপুরে সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন ডেটিং অ্যাপ চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৭ পি.এম


সিঙ্গাপুরে সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন ডেটিং অ্যাপ চালু

জনসংখ্যা সংকটে সিঙ্গাপুর, কারণ জন্মহার ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। চলতি বছরে রেকর্ড পরিমাণ কম জন্মহারের কারণে দেশটি সরকারি কর্মীদের জন্য একটি ডেটিং অ্যাপ চালু করেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সম্পর্ক ও পরিচয় গড়ে তোলার পাশাপাশি সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ‘ফার্স্ট ডেট’ নামের অ্যাপটি বর্তমানে শুধুমাত্র সিঙ্গাপুরের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য উন্মুক্ত। ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সি সরকারি কর্মীরা এই অ্যাপে নিবন্ধন করতে পারবেন।

অ্যাপটিতে ব্যবহারকারীদের পছন্দ, মূল্যবোধ এবং ব্যক্তিগত অগ্রাধিকার সম্পর্কে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এরপর একটি নোবেলজয়ী অ্যালগরিদম সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে একবারে একটি সম্ভাব্য জুটি বা ম্যাচ তৈরি করে।

প্রচলিত ডেটিং অ্যাপের মতো একের পর এক প্রোফাইল সোয়াইপ করার সুযোগ এখানে নেই। বরং ‘সোয়াইপ ফ্যাটিগ’ এড়ানোর পাশাপাশি অর্থপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে সহায়তা করাই অ্যাপটির লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

অ্যাপটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, জুটি তৈরিতে ‘গেইল-শ্যাপলে স্টেবল ম্যারিজ’ অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হচ্ছে। যখন কোনো জুটি ম্যাচ হয়, তখন তাদের সাক্ষাৎ বা ডেট করার জন্য তিন দিন সময় দেওয়া হয়। সম্পর্কের শুরুতে অস্বস্তি কাটাতে অ্যাপটিতে ‘ডেট কোয়েস্ট’ নামে বিভিন্ন কার্যক্রমের ধারণাও দেওয়া হয়েছে।

সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৯ বছর বয়সি কর্মী এলিজাবেথ জানিয়েছেন, অন্যান্য ডেটিং অ্যাপগুলোর তুলনায় এখানে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা খুব একটা আলাদা নয়। তবে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকায় তিনি স্বস্তি বোধ করছেন। কারণ, অ্যাপটির ব্যবহারকারীরা সবাই সরকারি চাকরিজীবী এবং জীবনসঙ্গী খুঁজছেন।

সিঙ্গাপুরে জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলার জন্য সরকারি উদ্যোগে ঘটকালির এটি প্রথম প্রচেষ্টা নয়। এর আগে ১৯৮৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের মধ্যে জুটি গঠনে উৎসাহ দিতে ‘সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ইউনিট’ নামে একটি ম্যাচমেকিং এজেন্সি চালু করেছিল দেশটির সরকার।

তবে কয়েক দশক পরেও দেশটির জন্মহার কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে ৩০ হাজারের কম শিশু জন্ম নিয়েছে, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ওই বছর নারীপ্রতি মোট জন্মহার বা টিএফআর কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৮৭-তে। জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে সাধারণত যে ২ দশমিক ১ টিএফআর প্রয়োজন, বর্তমান হার তার তুলনায় অনেক কম।

অন্যদিকে, দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। ২০২৫ সালে প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফলে কম জন্মহার এবং বাড়তে থাকা মৃত্যুহারের সমন্বয়ে জনসংখ্যাগত চাপ আরও তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সম্পর্ক ও পরিবার গঠনে উৎসাহ দিতে সরকারি পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ হিসেবে ডেটিং অ্যাপটি চালু করেছে সিঙ্গাপুর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%