ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এসআরবি’র হাতে গ্রেপ্তার হলেন এরশাদ শিকদারের সহযোগী জয়নাল সরদার


এসআরবি’র হাতে গ্রেপ্তার হলেন এরশাদ শিকদারের সহযোগী জয়নাল সরদার

খুলনার কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের সহযোগী জয়নাল সরদার (৫৫) কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

জয়নাল সরদার ২৭ বছর ধরে পরিচয় বদলে ভারত ও কুয়েতে আত্মগোপনে ছিলেন। শনিবার রাতে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে এসআরবি-৮ তাকে গ্রেপ্তার করে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এসআরবি-৮-এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া অফিসার) ওয়ালিদ হাসান মিঠু প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এসআরবি-৮ এবং এসআরবি-৬-এর একটি দল খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। তারা হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি জয়নাল সরদারকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

জয়নাল সরদার বরিশালের গৌরনদী থানার বংকুরা গ্রামের মৃত আহম্মদ আলী সরদারের পুত্র।

জয়নাল সরদারের বিরুদ্ধে খুলনা জেলার রূপসা থানায় ১৯৯৯ সালে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। আদালতে মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে হত্যার অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় মরদেহ গুমের অপরাধে পৃথকভাবে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার নতুন ট্রেন্ড: পারফিউম নয়, ঘামের গন্ধেই প্রেমে পড়বেন নারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


এবার নতুন ট্রেন্ড: পারফিউম নয়, ঘামের গন্ধেই প্রেমে পড়বেন নারীরা

ডেটে যাওয়ার পূর্বে পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান, গোসল করা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা ছিল প্রচলিত প্রস্তুতির অংশ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন একটি প্রবণতা এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এই প্রবণতার নামকরণ করা হয়েছে ‘ফেরোমোন ম্যাক্সিং’। অনুসারীদের দাবি, সুগন্ধি ব্যবহার না করে শরীরের স্বাভাবিক ঘামের গন্ধই যৌন আকর্ষণ বাড়াতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ করে তরুণ পুরুষদের মধ্যে এই প্রবণতা নিয়ে আলোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘ফেরোমোন ম্যাক্সিং’-এর ধারণা অনুসারে, ডেটে যাওয়ার আগে গোসল না করা, সুগন্ধি ব্যবহার না করা কিংবা ঘামে ভেজা পোশাক পরিধান করার মতো পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কিছু নেটপ্রভাবী এমনকি দাবি করেছেন যে, নিজের প্রস্রাব পান করলেও ফেরোমোন বৃদ্ধি পেতে পারে।

তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

ফেরোমোন কী?

ফেরোমোন হলো একটি রাসায়নিক সংকেত, যা প্রাণীরা নিজেদের শরীর থেকে পরিবেশে ছড়িয়ে দেয় এবং একই প্রজাতির অন্যান্য প্রাণীর আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পিঁপড়ার চলাচলের পথ নির্ধারণ কিংবা কিছু পতঙ্গের সঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে এই ধরনের রাসায়নিক সংকেত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। বিজ্ঞানীরা এখনো কোনো নির্দিষ্ট রাসায়নিক যৌগ শনাক্ত করতে পারেননি, যা নিশ্চিতভাবে মানুষের ‘যৌন ফেরোমোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। মানুষের শরীর থেকে নিঃসৃত কোনো পদার্থ অন্য মানুষকে যৌনভাবে আকৃষ্ট করে—এমন চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণও নেই।

কোথা থেকে এল এই ধারণা?

‘ফেরোমোন ম্যাক্সিং’-এর আলোচনায় ১৯৯৫ সালের একটি গবেষণার উল্লেখ প্রায়শই করা হয়। ওই গবেষণায় কিছু পুরুষের ঘামে ভেজা টি-শার্ট নারীদের শোঁকানো হয়েছিল। সেখানে কিছু নির্দিষ্ট পুরুষের শরীরের গন্ধ নারীদের তুলনামূলকভাবে বেশি পছন্দ হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। গবেষণায় জিনগত পার্থক্যের সম্ভাব্য ভূমিকার কথাও আলোচনা করা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে আরও গবেষণা হয়েছে। ২০২০ সালের একটি গবেষণাসহ পরবর্তী গবেষণাগুলো মানুষের আকর্ষণকে কেবল শরীরের গন্ধ বা নির্দিষ্ট কোনো ‘ফেরোমোন’-এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার ধারণাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে।

শরীরের গন্ধ কি আকর্ষণে ভূমিকা রাখে?

শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ মানুষের পছন্দ ও অপছন্দে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। পরিচিত কারো শরীরের গন্ধ ভালো লাগতে পারে, আবার কোনো গন্ধ অপছন্দও হতে পারে। গন্ধের সঙ্গে স্মৃতি ও আবেগের সম্পর্কও বিদ্যমান।

কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, গোসল না করা বা দীর্ঘ সময় অপরিচ্ছন্ন থাকার মাধ্যমে যৌন আকর্ষণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। বরং ঘাম, মৃত ত্বক, ময়লা ও জীবাণু জমে শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। প্রথম সাক্ষাতে তা আকর্ষণের পরিবর্তে বিরক্তি বা অস্বস্তির কারণও হতে পারে।

নিজের প্রস্রাব পান করার মতো পরামর্শের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং প্রস্রাব শরীরের বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার একটি উপায়। এটিকে যৌন আকর্ষণ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের প্রেম বা আকর্ষণ কোনো একটি রাসায়নিক সূত্রে নির্ধারিত হয় না। ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক যোগাযোগ, আচরণ, রসবোধ ও মানসিক সংযোগ সবকিছুই এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

অতএব, ফেরোমোন ম্যাক্সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যতই আলোচিত হোক, ডেটে যাওয়ার আগে ইচ্ছাকৃতভাবে গোসল না করা বা অপরিচ্ছন্ন থাকার পক্ষে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। স্বাভাবিক গন্ধ থাকা স্বাভাবিক, তবে পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কার্নিশ বেয়ে চুরি করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৬ পি.এম


কার্নিশ বেয়ে চুরি করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

রাজধানীর একটি ভবনের কার্নিশে চুরি করতে ওঠার সময় এক যুবক নিচে পড়ে মারা গেছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে কামরাঙ্গীরচরের মাদবর বাজার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত যুবকের নাম হৃদয় (২৬), যিনি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলোছিয়া গ্রামের মো. শাহজাহানের পুত্র। বর্তমানে তিনি কামরাঙ্গীরচরের পাকাপোল এলাকায় বসবাস করতেন।

কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাকিব হোসাইন জানিয়েছেন, হৃদয় নামে ওই যুবক গত রাতে মাদবর বাজার এলাকার একটি তিনতলা ভবনের কার্নিশ বেয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। সম্ভবত পা পিছলে গিয়ে তিনি নিচে পড়ে মারা যান।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদয় ভবনটিতে চুরি করার উদ্দেশ্যে কার্নিশে উঠেছিলেন। এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

নিহত হৃদয়ের বড় ভাই মো. কাওসার জানিয়েছেন, হৃদয়ের তিন মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তিনি অটোরিকশা চালাতেন এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। শনিবার দুপুরে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৪ সাল থেকে ভোটার তালিকায় জেন-জিদের যুক্ত করছে না ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৬ পি.এম


২০২৪ সাল থেকে ভোটার তালিকায় জেন-জিদের যুক্ত করছে না ভারত

ভারতের ভোটার তালিকায় নতুন ভোটার হিসেবে জেন-জিদের অন্তর্ভুক্ত করার বার্ষিক হালনাগাদ প্রক্রিয়া থমকে গেছে। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণে ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে এই কার্যক্রম নির্ধারিত মে-জুন সময়সীমার মধ্যেও শুরু হয়নি বলে জানানো হয়েছে দ্য ইকোনমিক টাইমস ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের পর দেশজুড়ে নিয়মিত বার্ষিক ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়া আর চালু হয়নি। ২০২৫ সালে বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী নিয়মিত হালনাগাদ প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, বিশেষ নিবিড় সংশোধন চললেও নতুন ১৮ বছর বয়সী ভোটারদের তালিকায় যুক্ত করতে নিয়মিত হালনাগাদ প্রয়োজন।

ভারতে সাধারণত প্রতি বছর ভোটার তালিকার খসড়া প্রস্তুত ও সংশোধনের পর জানুয়ারির শুরুতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় নতুন ভোটার হিসেবে জেন-জিদের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি ভোটারদের তথ্যের ভুল, অসংগতি ও অমিলও যাচাই করা হয়। ১ জানুয়ারির পর ১৮ বছর পূর্ণ করা নাগরিকদের জন্য ১ এপ্রিল, ১ জুলাই ও ১ অক্টোবর—এই অতিরিক্ত যোগ্যতার তারিখগুলোও রাখা হয়েছে, যাতে ভোটার হওয়ার জন্য তাদের পুরো এক বছর অপেক্ষা করতে না হয়।

তবে ২০২৬-২৭ সালের হালনাগাদ প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় জেন-জিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৭ সালে যেসব রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, সেসব রাজ্যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের পর কমিশন জানিয়েছে, গত এক বছরে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পূর্ণ কমিশনের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মতপার্থক্যের প্রভাব কমিশনের প্রশাসনিক কাজেও পড়েছে। প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা ও উপ-নির্বাচন কমিশনারের বার্ষিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন প্রতিবেদনও আটকে থাকার কথা জানিয়েছে দ্য ইকোনমিক টাইমস।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সবসময়ই ‘কনসার্ট’ চলে বিশ্ববিদ্যালয়ে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৬ পি.এম


সবসময়ই ‘কনসার্ট’ চলে বিশ্ববিদ্যালয়ে!

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মশার উৎপাত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগের আতঙ্ক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

সম্প্রতি হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম সাকিব ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জানা গেছে, সাকিব ২১ সেপ্টেম্বর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে এবং শরীরের প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেছে।

মশার অস্বাভাবিক বিস্তারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে যত্রতত্র জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের আশপাশে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়া এবং বিভিন্ন জায়গার ড্রেনের খোলা অবস্থায় পানির প্রবাহ না থাকার কারণে সেখানে মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। পচনশীল আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার বংশবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে, যা পুরো ক্যাম্পাসের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, বিকেলের পর আবাসিক হল, রিডিং রুম, ডরমেটরি, দোকানপাট, ক্যাফেটেরিয়া এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির আশপাশে মশার কামড় অসহনীয় হয়ে উঠছে। এর ফলে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে, এমনকি অবসরে ক্যাম্পাসে আড্ডা দেওয়ার মুহূর্তও নষ্ট হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের শিক্ষার্থী রিফাইয়া ইসলাম সূচনা বলেন, "মশার উপদ্রব একদম অস্বাভাবিক। সবসময় মশার প্যানপ্যানানি শব্দ আছেই। মনে হয় যেন সব সময়ই কনসার্ট চলে বিশ্ববিদ্যালয়ে!" তিনি আরও জানান, সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। কয়েল জ্বালিয়ে বা মশারি টাঙানো ছাড়া পড়ালেখা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে কয়েল জ্বালিয়েও কোনো কাজ হয় না। রাতে ঘুমাতেও অনেক সমস্যা হচ্ছে। মশার কামড় থেকে বাঁচতে সব সময় সতর্ক থাকতে হচ্ছে। এভাবে নিয়মিত মশার উপদ্রবে থাকা খুবই বিরক্তিকর এবং পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যা হচ্ছে।

বিদ্রোহী হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, "আমরা যারা নিচের তলার রুমগুলোতে থাকি, তারা মশার সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছি।" তিনি বলেন, হলের চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এর মূল কারণ। এই বিষয়ে হল প্রশাসনের উদ্যোগ নেই বললেই চলে, ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মশাবাহিত রোগের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে।

শিউলিমালা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশানিধন স্প্রে করা এবং হলের নিচের ড্রেনসহ চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অতীব জরুরি।"

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের অতিরিক্ত চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাদেরকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি টাঙাতে হবে এবং বাসা-বাড়ি বা ক্যাম্পাসের টব ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা ময়লা পানি দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া, কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে পর্যাপ্ত ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, "সম্প্রতি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং একজন আক্রান্ত হওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদারকি করছে।" তিনি জানান, গত দুই মাস আগে মাত্র শিউলিমালা হলে ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সরঞ্জাম না থাকা এবং পৌরসভার নানান জটিলতার কারণে অন্যান্য হলে ওষুধ হলেও, সম্ভব হয়নি। তবে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুততম সময়ে বাকি হলগুলোতে পুনরায় সমন্বিতভাবে মশক নিধন কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে পৌরসভাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%