ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জামায়াত নেতার কথা শুনে ব্যথিত হয়েছি: ইশরাক হোসেন


জামায়াত নেতার কথা শুনে ব্যথিত হয়েছি: ইশরাক হোসেন

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, যিনি সম্প্রতি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন, মন্তব্য করেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার মুখ থেকে একটি উক্তি শুনে আমি ব্যথিত হয়েছি। রাজনৈতিক দল থেকে ষড়যন্ত্রের শিকার হইনি।’

এই মন্তব্যটি তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে করেছেন।

তিনি জানান, তিনি তার রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার হননি। তবে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামের একজন নেতার উক্তি শুনে তিনি ব্যথিত হয়েছেন। ওই নেতা বলেছেন যে তিনি সন্ত্রাস করছেন এবং অস্ত্র উচিয়ে ধরেছেন। ইশরাক বলেন, “এটা আমি আর কিভাবে ব্যাখ্যা দিব যে দিনে দুপুরে আমি কি কাজে গিয়েছি, এখানে থানা পুলিশ ছিল, এত শত শত মানুষ ছিল। এখানে ৩০০ গ্রাম হেরোইন, কয়েক বোতল মদ, আরও অন্যান্য অনেক কিছু অবৈধ জিনিসপত্র উদ্ধার হয়েছে। আমি তো জীবন বাজি রেখে গিয়েছি।”

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি আরও বলেন, “অনেকে অনেক কথা বলে আমাকে। যদিও আমি কেয়ার করি না। কারণ ছাদের উপর থেকে গুলি করলে কার মাথায় পড়বে আমি জানি না। তারপরেও যখন ওনারদের মুখ থেকে সহযোগিতার আশ্বাসের বদলে এই ধরনের এলিগেশন শুনি, তখন আমার কাছে মনে হয় যে আসলে আর তাকাবোই না ওদিকে।”

ইশরাক বলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষের চাহিদা দেখেছি। ওইদিন সাধারণ মানুষ, এলাকাবাসী তারা হাততালি দিয়ে রীতিমত উল্লাস করেছে। অনেকদিন পর আমরা সাহস পেয়েছি। তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমি কাজ করে যাব।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সকল উপজেলায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সকল উপজেলায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

কিশোর গ্যাং প্রতিরোধের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই কমিটির সভাপতি হিসেবে ইউএনও এবং সদস্য সচিব হিসেবে থানার অফিসার ইনচার্জ দায়িত্ব পালন করবেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিটির কার্যপরিধি, সদস্য সংখ্যা এবং কবে নাগাদ কমিটি গঠন সম্পন্ন হবে, এসব বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হতে পারে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে এই কমিটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

ভারতের দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়েতে একটি বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডকে মূল সড়কের রাস্তা ভেবে দ্রুত গতিতে ধাক্কা দেওয়ার ফলে এক ট্রাকচালক প্রাণ হারিয়েছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) এই সড়ক দূর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

দুর্ঘটনাটি দেরাদুনের আশারোড়ি অংশে ঘটে, যা সংশ্লিষ্ট এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রাস্তার পাশে থাকা বিভ্রান্তিকর ওই বিলবোর্ডটির নাম, যেখানে গত কিছুদিন ধরে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বিলবোর্ডের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর নকশা বা অবস্থান নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিলবোর্ডটির কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে কি না- এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ বা যোগসূত্র এখনো মেলেনি।

উল্লেখ্য, এক্সপ্রেসওয়ের ওই নির্দিষ্ট অংশে গত এক মাসে অন্তত চার থেকে পাঁচটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী ও শিশুদের কল্যাণে ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


নারী ও শিশুদের কল্যাণে ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ইউনিসেফের সঙ্গে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা, কিশোরীদের ক্ষমতায়ন, শিশুসুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে আরও কার্যকর ও ফলাফলভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গতকাল বোরবার রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশে সফররত ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেলের সঙ্গে আলোচনাকালে এ প্রত্যাশার কথা জানান।

বৈঠকের সময় নারী ও শিশুর উন্নয়ন এবং কল্যাণে বাংলাদেশ ও ইউনিসেফের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে নারী ও শিশুর উন্নয়ন ও কল্যাণে ইউনিসেফের অবদানের প্রশংসা করে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার নারী ও শিশুর মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদারের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে সরকার স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করেছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শামা বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে তিনি দারিদ্র্য, সামাজিক রীতিনীতি, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং মেয়েদের সীমিত সুযোগসহ এর অন্তর্নিহিত আর্থসামাজিক কারণগুলো মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লিঙ্গভিত্তিক ঝুঁকি, অনলাইন হয়রানিসহ নারীর প্রতি সহিংসতা এবং কিশোর অপরাধের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ প্রসঙ্গে শামা নিউইয়র্কে মেটা’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন। অভিযোগের দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় কার্যালয় স্থাপনের বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া কিশোর অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া আরও বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও সুরক্ষা নিশ্চিতেও ইউনিসেফের সহায়তার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল শিশুমৃত্যু ও শিশুর খর্বাকৃতি হওয়ার হার কমানো, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও জন্মনিবন্ধন বাড়ানো এবং নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশন সুবিধার আওতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন।

তিনি সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের অব্যাহত সহায়তার আশ্বাস দেন।

ইউনিসেফের পক্ষ থেকে সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ, উপপ্রতিনিধি এমানুয়েল আবিরু এবং শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহেরিন ক্যাথরিন। একইসাথে, পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং মহাপরিচালক কাজী এহসানুল হকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩০ পি.এম


পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন

শরতের নীল আকাশ, সাগরের নীল জলরাশি এবং দিগন্তজোড়া বালুকাবেলা। সৈকতজুড়ে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি, সবুজ বনভূমিতে পাখির কলকাকলি এবং সাগরের ঢেউয়ের ছন্দ প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য পূজার ছুটিতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চর হেয়ারে ঘুরে আসার সুযোগ রয়েছে।

কোলাহলমুক্ত পরিবেশে সাগর, বন এবং নির্জন প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা এই দ্বীপে। প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বালুকাময় সৈকত, সবুজ বনায়ন এবং জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ চর হেয়ার প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে।

এ দ্বীপের সৌন্দর্য যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা একটি ছবি। এখানে নগরজীবনের ব্যস্ততা কিংবা যানবাহনের কোলাহল নেই। বরং সাগরের গর্জন, নির্মল বাতাস এবং দিগন্তের হাতছানি রয়েছে। পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের নিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে চর হেয়ার আপনার ভ্রমণতালিকার নতুন সংযোজন হতে পারে।

সৈকতজুড়ে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি

চর হেয়ারের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর বিস্তীর্ণ বালুকাময় সৈকত। সাগরের ঢেউ যখন একের পর এক আছড়ে পড়ে তীরে, তখন সৈকতজুড়ে দেখা মেলে লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি। কখনো দল বেঁধে বালুর ওপর ছুটে বেড়ায়, আবার মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে মুহূর্তেই ঢুকে পড়ে গর্তে। প্রকৃতির এই দৃশ্য পর্যটকদের জন্য বাড়তি আনন্দ নিয়ে আসে।

সৈকতে দাঁড়িয়ে উপভোগ করা যায় বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি। ভোরের আলোতে সাগরের দিগন্তে সূর্যোদয় এবং বিকেলের রঙিন আকাশে সূর্যাস্ত দ্বীপটির সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

শুধু সৈকত নয়, দ্বীপের ভেতরে রয়েছে সবুজ বনভূমি। ঝাউ, কেওড়া, গেওয়া, বাইন এবং গোলপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালায় ঘেরা বনাঞ্চলে দেখা মেলে নানা ধরনের পাখির। শীতের মৌসুমে পরিযায়ী পাখির আনাগোনা বাড়লে দ্বীপের প্রকৃতি নতুন রূপ ধারণ করে।

নির্জন প্রকৃতিতে তাঁবুতে রাত কাটানোর সুযোগও রয়েছে।

চর হেয়ারে দিনের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি রয়েছে তাঁবু ও কটেজে রাত কাটানোর সুযোগ। সাগরের ঢেউয়ের শব্দ এবং খোলা আকাশের নিচে নির্জন পরিবেশে রাতযাপন পর্যটকদের জন্য একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা হতে পারে।

পর্যটকদের বসার জন্য সৈকতে ছাতার ব্যবস্থা রয়েছে। বনভূমির ভেতরে দোলনায় বসে সময় কাটানোর সুযোগও রয়েছে। সাগরের পাড়ে ছবি তোলা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ—সব মিলিয়ে এক দিনের ভ্রমণ কিংবা পরিকল্পিত রাতযাপনের জন্য আকর্ষণীয় স্থান এই দ্বীপ।

কোথায় অবস্থিত চর হেয়ার?

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়ন থেকে দক্ষিণে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চর হেয়ার। বঙ্গোপসাগর-সংলগ্ন এই দ্বীপের পূর্ব দিকে রয়েছে সোনার চর, পশ্চিমে চর তুফানিয়া, উত্তরে টাইগার দ্বীপ এবং আশপাশে রয়েছে চর কাশেমসহ বেশ কয়েকটি উপকূলীয় চর।

রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। চরমোন্তাজ থেকেও নৌযানে দ্বীপটিতে যাওয়া সম্ভব। তবে নৌযানের ধরন, আবহাওয়া এবং যাত্রাপথ অনুযায়ী যাতায়াতের সময়ের তারতম্য হতে পারে।

সাগরের তাজা মাছসহ খাবারের আয়োজন

চর হেয়ার ভ্রমণে পর্যটকদের জন্য রয়েছে সাগরের তাজা মাছ, মুরগি, ভাতসহ বিভিন্ন খাবারের প্যাকেজ। আগাম যোগাযোগের মাধ্যমে থাকা, খাওয়া, ট্রলার সার্ভিস, তাঁবু এবং কটেজের ব্যবস্থাও করা যায়।

নৌযান, থাকা-খাওয়া, তাঁবু ও কটেজ

তবে ভ্রমণের আগে তাঁবু এবং কটেজের ভাড়া, খাবারের প্যাকেজ এবং নৌযানের ভাড়া সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। দ্বীপে প্রয়োজনীয় দোকানপাট এবং চিকিৎসাসুবিধা সীমিত থাকায় ব্যক্তিগত ওষুধ, পর্যাপ্ত পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে রাখা উচিত।

যেভাবে যাবেন চর হেয়ারে

ঢাকা থেকে নৌপথে: ঢাকার সদরঘাট থেকে চরমোন্তাজগামী লঞ্চে যাত্রা করা যায়। চরমোন্তাজ পৌঁছে স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা বা নৌযানচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ট্রলার কিংবা স্পিডবোটে চর হেয়ারে যাওয়া সম্ভব।

সড়ক ও নৌপথে: ঢাকা থেকে বাসে পটুয়াখালী এসে গলাচিপা এবং পানপট্টি হয়ে চরমোন্তাজের দিকে যাওয়া যায়। পানপট্টি থেকে নৌপথে চরমোন্তাজ পৌঁছে সেখান থেকে ট্রলার বা স্পিডবোটে চর হেয়ারে যেতে পারবেন।

কুয়াকাটা থেকে: কুয়াকাটা থেকেও সাগরপথে চর হেয়ারে যাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। তবে আবহাওয়া, সাগরের পরিস্থিতি এবং নৌযানের প্রাপ্যতার ওপর যাত্রা নির্ভর করবে। তাই ভ্রমণের আগে স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা বা নৌযানচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সময়সূচি, ভাড়া এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

পর্যটন বিকাশে কাজ করছে পিকেএসএফ এবং সিডিএইচসি।

রাঙ্গাবালীর চর হেয়ারকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার (সিডিএইচসি)।

তাদের উদ্যোগে পর্যটনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছেন। পাশাপাশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, তাঁবু এবং কটেজসহ বিভিন্ন পর্যটনসুবিধা এবং সৌন্দর্যবর্ধক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।

এসব উদ্যোগের ফলে চর হেয়ারে পর্যটকদের অবস্থান এবং সময় কাটানোর সুযোগ বাড়ছে। একইসঙ্গে পর্যটনসংশ্লিষ্ট সেবার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের আয় এবং কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পর্যটকদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য সেবাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পরিকল্পিতভাবে এসব উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা গেলে চর হেয়ারকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হতে পারে। একইসঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ দ্বীপটি দেশের পর্যটন মানচিত্রে পরিচিতি পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা, প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ চর হেয়ারকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন উপযোগী করে গড়ে তোলা গেলে রাঙ্গাবালীর পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। এতে স্থানীয় নৌযানচালক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা জরুরি। এজন্য প্রয়োজন নিরাপদ নৌযোগাযোগ, পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থাপনা।

সব মিলিয়ে, পূজার ছুটিতে চেনা পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর চর হেয়ার হতে পারে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। সাগরের ঢেউ, বালুকাময় সৈকত, সবুজ বন এবং লাল কাঁকড়ার রাজ্যে প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ নিয়ে দক্ষিণের এই দ্বীপ ভ্রমণপিপাসুদের জন্য অপেক্ষা করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%