ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মহাকাশে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট-১


মহাকাশে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট-১

বাংলাদেশের কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ বা বিএস-১ মহাকাশে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। ভারতের একটি পুরোনো স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ বিপজ্জনকভাবে বিএস-১-এর কাছে চলে আসায়, স্যাটেলাইটটিকে সামান্য সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে, ধ্বংসাবশেষটি মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে পাশ কাটিয়ে গেলে শঙ্কা কেটে যায়।

ঘটনাটি শুরু হয় ৯ আগস্ট সন্ধ্যায়। গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনে জরুরি সতর্কবার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘স্পেস ট্র্যাকার’ জানায়, বিএস-১-এর কক্ষপথের খুব কাছ দিয়ে মহাকাশ বর্জ্য ধেয়ে আসছে।

বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন। কারণ, মহাকাশে দুটি স্যাটেলাইট বা বড় বস্তুর সংঘর্ষ হলে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ তৈরি হতে পারে। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সচল একটি স্যাটেলাইট ও রাশিয়ার নিষ্ক্রিয় একটি স্যাটেলাইটের সংঘর্ষে এমন ঘটনা ঘটেছিল।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

বিএস-১-এর ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কয়েক দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও হিসাব-নিকাশ চলে। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, ওই চার দিন চরম উদ্বেগের মধ্যে কাটে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলীকে কাজে যুক্ত করা হয়, এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখেন।

পরে জানা যায়, বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসা মহাকাশ বর্জ্যটি ১৯৮২ সালে উৎক্ষেপণ করা ভারতের নিষ্ক্রিয় ‘ইনস্যাট-১এ’ স্যাটেলাইটের একটি অংশ। এর আগে ২০২১ ও ২০২৫ সালে বিএস-১ একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।

শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট নিখুঁত হিসাব-নিকাশের পর বিএস-১-এর কক্ষপথে সামান্য পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কৌশলে স্যাটেলাইটটিকে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর শুরু হয় অপেক্ষার পালা। শেষ পর্যন্ত, মহাকাশ বর্জ্যটি বিএস-১-কে মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে পাশ কাটিয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের স্যাটেলাইটটি বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বিপদ কেটে যাওয়ার পর বিএস-১-কে আবার তার নির্ধারিত কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের এই সফল পদক্ষেপ মহাকাশে স্যাটেলাইট পরিচালনা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে ওঠে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলারোয়ায় একই পরিবারের ১৫ জন অচেতন, ঘটনা কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


কলারোয়ায় একই পরিবারের ১৫ জন অচেতন, ঘটনা কী

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারের ১৫ জন নারী-পুরুষ চেতনানাশক বিষাক্ত স্প্রের কারণে অসচেতন হয়ে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এটি বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের দামোদরকাঠি গ্রামের দাউদের বাড়িতে ঘটে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দাউদ, রিপন ও পারভীন খাতুন নামে তিনজন বাড়ির আঙিনায় কাজ করার সময় মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে কলারোয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর দিনভর নারী-পুরুষ ও শিশু সহ একের পর এক ১৫ জনকে অচেতন অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় রাত ৯টা পর্যন্ত।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে রয়েছেন- পারভীন খাতুন, আবু দাউদ, সিনথিয়া, আবু রায়হান, হাফিজুর রহমান, মেসের আলী, সকিনা খাতুন, রিপন হোসেন, আসমা খাতুন, মমতাজ বেগম, শিশু মেহনাজ, খালিদ হোসেন, সিয়াম হোসেন ও শামীমা খাতুন।

এলাকাবাসীর ধারণা, মাদকাসক্ত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা একটি বিশেষ স্প্রে ব্যবহার করে অজ্ঞান করে বাড়ির জিনিসপত্র চুরি করতে পারে। এর আগে ওই গ্রামে এভাবে বাড়ির লোকজনকে অজ্ঞান করে দুটি মোটরসাইকেল ও একটি ইজিবাইক চুরি হয়।

উপজেলা প্রশাসন এবং কলারোয়া থানা পুলিশকে এলাকাবাসী মাদকাসক্ত যুবকদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, তারা যেকোনো ধরনের চেতনানাশক বিষাক্ত স্প্রের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাঁশবাগানে যুবককে বলাৎকার, ভিডিওধারণ করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


বাঁশবাগানে যুবককে বলাৎকার, ভিডিওধারণ করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার নয়াপাড়া রশীদপুর এলাকায় এক যুবককে জিম্মি করে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবি করেছে।

ভুক্তভোগী যুবক মিলন হোসেন অভিযোগ দায়ের করেছেন সলঙ্গা থানায়। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন— হাটিকুমরুল ইউনিয়নের নয়াপাড়া রশীদপুর গ্রামের হৃদয় হোসেন, শফি আহামেদ, নাঈম আহামেদ, সিয়াম হোসেন, মনিরুল ইসলাম, কাইয়ুম, তুহিন ও শফিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী যুবক নয়াপাড়া রশীদপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। রাতে স্থানীয় একটি দোকানের পাশে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে কৌশলে তাকে কাছের একটি নির্জন বাঁশবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম ভীতি প্রদর্শন করে সহযোগীদের নিয়ে তাকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ বলাৎকার করে।

একই সময়ে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সম্পূর্ণ ঘটনার দৃশ্য ধারণ করে। ভুক্তভোগী যুবকের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ‘ইমো’ অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর আত্মীয়ের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার পর পারিবারিকভাবে এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে শনিবার (২৮শে সেপ্টেম্বর) সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। তিনি বলেন, "আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ তারা হাতে পেয়েছেন। তিনি বলেন, "বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্যামনগরের চিংড়ি হ্যাচারিতে ২৫০ কিলোওয়াট সৌর প্যানেল, উৎপাদন ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


শ্যামনগরের চিংড়ি হ্যাচারিতে ২৫০ কিলোওয়াট সৌর প্যানেল, উৎপাদন ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি বাগদা চিংড়ির রেণু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের হ্যাচারিতে নতুন প্রযুক্তির ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশ।

প্রকল্পটি থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইউনিট বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের একটি দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন চায়না জেনিক্সগ্রিনের পরিচালক ডন, জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) সাতক্ষীরা অঞ্চলের কর্মকর্তা সোয়াইব হোসেন এবং সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মো. গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

পরিদর্শনের সময় সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক (অপারেশনস) সাজেদুল করিম মন্তব্য করেন, “বাগদা চিংড়ির হ্যাচারিতে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশে এটাই প্রথম। এতে সৌর প্যানেলগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী একপাশে ভাঁজ করে সরিয়ে নেওয়া যাবে। ফলে হ্যাচারির ট্যাংক শুকানোর সময় পুরো জায়গা খালি করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রকল্পে একটি ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ না থাকলেও হ্যাচারিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি দেশের অন্যান্য চিংড়ি হ্যাচারির জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।

হ্যাচারির মালিক আব্দুল আজিজ জানান, “নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে দিতে পারবেন তিনি। এতে বিদ্যুৎ খরচ কমবে এবং প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও জানান, প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। আগে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হ্যাচারির ছাউনি খুলে পুকুর ও ট্যাংক রোদে শুকাতে হতো। নতুন প্রযুক্তির প্যানেল ব্যবহারের ফলে কাজটি সহজ হবে এবং হ্যাচারির কার্যক্রমও স্বাভাবিক থাকবে।

সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। বড় প্রতিষ্ঠান ও কারখানা নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর বাড়তি সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে পারবে। সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দামে সেই বিদ্যুৎ কিনবে।”

তিনি আরও বলেন, “ওশান হ্যাচারিতে স্থায়ী প্যানেলের বদলে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনের সময় প্যানেল সরিয়ে পুকুর ও ট্যাংকে সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছানো যায়। শ্যামনগরের অন্যান্য হ্যাচারিতেও এমন প্রকল্প বাস্তবায়নের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।”

পরিদর্শনকালে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিশেষ প্যানেল স্থাপন পদ্ধতি, হ্যাচারির উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের সমন্বয়, বিদ্যুৎ সংযোগ ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বোরো ফসল নিয়ে কৃষকদের শঙ্কা, সার সংকটে হয়রানির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


বোরো ফসল নিয়ে কৃষকদের শঙ্কা, সার সংকটে হয়রানির অভিযোগ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রবি ও বোরো মৌসুমের প্রেক্ষাপটে সার সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। কৃষকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও এক বস্তা সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক স্থানে সার নিতে গিয়ে ডিলারদের লোকজনের হাতে হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে কৃষকরা বোরো ও রবি ফসলের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল শাহী বাজারের মেসার্স সাফী এন্টারপ্রাইজের সামনে বুধবার সকালে সার নিতে আসেন শতাধিক কৃষক, নারী-পুরুষ উভয়েই। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দোকানের শাটার খোলেনি। এ সময় কৃষকদের সঙ্গে ডিলারের লোকজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটে।

চকপুর গ্রামের কৃষাণী শামসুন নাহার বেওয়া জানান, তিনি প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে রবিশস্য ও বোরো ধান চাষ করেন। তার স্বামী ও সন্তান কেউ না থাকায় কৃষিকাজই তার প্রধান আয়ের উৎস। সারের প্রয়োজনেই তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সার না পাওয়ার কারণে তিনি খালি হাতে বাড়ি ফেরার আশঙ্কা করছেন।

খরমকুড়ি গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ডিলারের ছেলের কাছ থেকে নানা অবান্তর কথা ও গালাগালি শুনতে হয়েছে। তারা সার নিতে গ্রাম থেকে ৫০০ টাকা ভাড়ায় ভ্যান এনেছিলেন। পরে চার বস্তা সারের টাকা জমা দিয়ে তাদের মাত্র দুই বস্তা দেওয়া হয়। তবে জমা টাকা কিংবা ফেরত দেওয়ার কোনো রসিদ তাদের দেয়া হয়নি।

বুধবার আবার বাকি সার নিতে গেলে ডিলারের ছেলে ও তার লোকজন খারাপ ব্যবহার করেন বলেও তারা অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার মিজানুর রহমান।

সিংড়ার কৃষকরা জানান, টিএসপি সারের চাহিদা বেশি থাকায় অনেকেই তা পাচ্ছেন না। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ডিএপি সার নিতে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার নিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।

সিধাখালী গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান জিয়া অভিযোগ করেন, তাকে সার দেওয়া হয়নি। অথচ সার দেওয়া হয়েছে বলে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভাগনাগরকান্দি গ্রামের কৃষক আবুল বাসার বলেন, জমিতে সরিষা, ভুট্টা ও আলু চাষের উপযোগী সময় চলে এসেছে। কিন্তু দুদিন ধরে ডিলারের দোকানে ঘুরেও সার পাননি। তার অভিযোগ, সার না পাওয়ার পাশাপাশি ডিলারের লোকজনের দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন কৃষকরা।

এদিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরেও সার নিতে গিয়ে কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নে ডিলার আবদুর রাজ্জাকের দোকানের সামনে বুধবার সকাল থেকে কৃষকরা জড়ো হতে থাকেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে সার সংকটের কথা বলে আসছিলেন ডিলার। বুধবার সার দেওয়ার খবর পেয়ে সকাল থেকেই শত শত কৃষক দোকানের সামনে অবস্থান নেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক কৃষকের উপস্থিতি দেখে ডিলার সার বিক্রি বন্ধ করে পুলিশে খবর দেন।

এতে অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কয়েকজন কৃষক সারের গোডাউনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। সেখানে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রবীর বিশ্বাস এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. লুৎফে আল মুঈজও উপস্থিত হন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ওই ডিলার ৭০৬ বস্তা সার বরাদ্দ পেয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের সার বিতরণের সময় কয়েকশ কৃষক একসঙ্গে ভিড় করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে কয়েকজন কৃষক গোডাউনের দরজা-জানালা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। পরে গ্রাম পুলিশ দিয়ে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়।

কৃষকদের দাবি, সময়মতো সার না পেলে রবি ও বোরো মৌসুমের আবাদ ব্যাহত হবে। তাই তারা দ্রুত সার সংকটের সমাধান এবং ডিলারদের বিরুদ্ধে ওঠা হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%