বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:০৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র গভীর আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। এটি প্রথমবারের মতো দেখা যাচ্ছে যে দেশটির জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন বা ৪০ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মূলত মার্কিন সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়, ঋণের সুদ এবং বাজেট ঘাটতি মেটাতে ধার নেওয়ার কারণে ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়ছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) পূর্বাভাস দিয়েছে যে ২০৩৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রায় ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এমন তথ্য প্রকাশ করেছে।
ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ দৈনিক ঋণ ও নগদ হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ ৪০ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটির পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে থাকা ঋণের পরিমাণ ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার।
এখনকার রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক দশকেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন দেশটির মোট ঋণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু এরপরের সময়ের মধ্যে ঋণ বেড়ে গেছে প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি ঘটেছে করোনাভাইরাস মহামারির সময়, যা মাত্র দুই বছরের মধ্যে হয়েছে। মহামারি মোকাবিলায় বিপুল পরিমাণ সরকারি ব্যয় ও ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন—এখন দুই প্রশাসনের ভূমিকা ছিল।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দুই প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজস্বনীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি কর ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা বাকি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে দায়ী।
কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজেট পর্যবেক্ষক বিভিন্ন সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে আসছিল। বর্তমানে আর্থিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন না হলে দেশটি আরও বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্রমবর্ধমান ঋণ এবং সর্বশেষ রেকর্ড মাইলফলকটি ইতোমধ্যে আমেরিকানদের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে। এর ফলে মর্টগেজ ও গাড়ির মতো জিনিসের জন্য ঋণের খরচ বাড়ছে, এবং বিনিয়োগের জন্য কম অর্থ হাতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মজুরি কমছে, সেইসঙ্গে পণ্য ও পরিষেবার দামও বাড়ছে।
দলনিরপেক্ষ সংস্থা কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের (CRFB) প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিয়াস বলেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ শুধুমাত্র সরকারের হিসাবের খাতায় সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের ওপরও গিয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, যে পরিমাণ ঋণ সরকার নেবে, মূল্যস্ফীতির চাপ ততই বাড়বে। একই সঙ্গে বাজেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমে যাবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জরুরি পরিস্থিতি কিংবা বিদেশে অস্থিতিশীলতার সময় যুক্তরাষ্ট্র আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
ম্যাকগিনিয়াস আরও বলছেন, মাত্র পাঁচ মাসেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন থেকে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গত ২০ বছরেরও কম সময়ে দেশটির ঋণ প্রায় চারগুণ হয়েছে। অথচ প্রথমবার ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ হতে যুক্তরাষ্ট্রের সময় লেগেছিল ১৯৮১ সাল পর্যন্ত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সরকারি বন্ডের সুদও বাড়ছে। সম্প্রতি ২৫ বিলিয়ন ডলারের ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড নিলামে ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ সুদে বিক্রি হয়েছে।
এর কিছুদিন পর, মঙ্গলবার দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিপুল পরিমাণ সরকারি বন্ড বাজারে ছাড়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা বেশি ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগের জন্য বাড়তি মুনাফা দাবি করছেন।
বন্ডের দাম ও সুদের হার সাধারণত বিপরীতমুখী থাকে। অর্থাৎ বন্ডের চাহিদা কমলে দাম কমে এবং এর ফলে সুদের হার বেড়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদ কমানোর লক্ষ্যে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, ১০ থেকে ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় বা বাইব্যাক কার্যক্রমের আকার দ্বিগুণ করা হবে। প্রতিটি কার্যক্রমে অন্তত ৪ বিলিয়ন ডলারের বন্ড পুনঃক্রয় করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ উঠলে এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ঋণের খরচেও পড়বে। বিশেষ করে বাড়ি কেনার বন্ধকী ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ব্যবসায়িক ঋণের সুদের হার বেড়ে যেতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন, সরকারি ঋণ ও সুদ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও গভীর আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘মিথ্যা সাময়িক, কিন্তু সত্য চিরস্থায়ী’ এই সংক্ষিপ্ত পোস্টটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূরের মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দেওয়া এই পোস্টে তিনি কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার নাম উল্লেখ করেননি। তবে শুধু কয়েকটি শব্দের এই বার্তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে একাধিক কৌতূহল ও জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার প্রেক্ষিতে শাবনূরের এই পোস্টের সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট নিয়েও নানা আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যদিও শাবনূর নিজে পোস্টটি সালমান শাহর মৃত্যুর মামলা কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না বলতে পারেননি।
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এই ঘটনায় শাবনূরের নামও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও শাবনূর বরাবরই সেগুলো অস্বীকার করে আসছেন।
এদিকে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন একটি তৎপরতা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পুলিশ অভিনেতা ডন হক নামের অন্যতম অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তাকে আদালতে হাজির করার পর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের শুনানির ফলাফল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী সাংবাদিকদের সামনে ডনের পূর্বের জবানবন্দির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ওই জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সালমান শাহর মৃত্যুর দিন তার বাসায় সামিরা, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মতে, জবানবন্দিতে সালমান শাহকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অচেতন করার ঘটনা, পরবর্তীতে ইনজেকশন দেওয়া এবং মৃত্যুর পর মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগের কথাও রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দড়িটি ডন নিজের কোমরে বেঁধে সালমান শাহর বাসায় নিয়ে গিয়েছিল বলেও জবানবন্দিতে বলা হয়েছে।
কিন্তু এসব অভিযোগ এবং জবানবন্দির তথ্য বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং মামলাটি নিয়ে তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য দাবি দীর্ঘদিনের। তার ভক্ত এবং বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার সুস্পষ্ট তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য প্রকাশের দাবি জানানো হচ্ছে। এই নিয়ে যখন শাবনূরের সংক্ষিপ্ত পোস্ট নতুন জল্পনাকে উস্কে দিচ্ছে।
সালমান শাহের সঙ্গে শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে নব্বইয়ের দশক থেকেই নানা আলোচনা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এমন গুঞ্জনও বিদ্যমান ছিল। কিন্তু শাবনূর বরাবরই বলেছেন, তিনি সালমান শাহকে ভাইয়ের মতো দেখতেন। সম্প্রতি, সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীও শাবনূরের ধারণার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেছেন যে, তার ছেলে শাবনূরকে বোনের মতোই দেখতেন।
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে সালমান শাহ বড় পর্দায় অভিষিক্ত হন। পরে ‘তুমি আমার’ সিনেমায় শাবনূরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন। সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছিল।
শুধু চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন, যার মধ্যে ১৪টি সিনেমায় তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। ‘সুজন সখী’, ‘বিচার হবে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘মহামিলন’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’সহ তাদের অভিনীত বেশিরভাগ সিনেমা দর্শকপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছিল।
সালমান শাহের মৃত্যু মামলাটি নিয়ে যখন নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক তখন শাবনূরের রহস্যময় পাঁচ শব্দের পোস্টটি জনমনে আরও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। তবে পোস্টটির প্রকৃত উদ্দেশ্য বা প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আপাতত শাবনূর কিছু জানাননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিদায় নিয়েছেন বঙ্গভবন থেকে।
তিনি বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে বঙ্গভবন ত্যাগ করেন।
একটি ভিডিওর মাধ্যমে দেখা যায়, বঙ্গভবন থেকে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনের গাড়িবহর বের হচ্ছে। এর আগে, কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে বিদায় জানান।
বিদায় নেওয়ার পূর্বে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। Hাফিজ উদ্দিন সালাম গ্রহণ করেন এবং উপস্থিত সবার সঙ্গে বিদায়ী শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন। বিদায় অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রপতির সামরিক এবং বেসামরিক সচিব এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।
বিদায় নেওয়ার সময় হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সরকারের সাফল্য কামনা করেন। এরপর যথাযথ প্রটোকলের সঙ্গে তিনি বঙ্গভবন এলাকা ত্যাগ করেন।
অন্যদিকে, ৩৫ বছর পর দুপুর ২টায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধী জোট জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অলি আহমেদ।
পূর্বে, গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করার পর, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ী-ফরিদপুর ও দৌলতদিয়া-ফরিদপুর রুটে প্রায় সাড়ে ৪৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর এখন বাস চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এ রুটে বাস চলাচল শুরু হয়। তবে গোল্ডেন লাইন পরিবহন নিয়ে রাজবাড়ীর পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ এখনো পুরোপুরি মেটেনি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার পর গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস চলাচলকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ী-ফরিদপুর ও দৌলতদিয়া-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে দুই জেলার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে, বাধ্য হয়ে যাত্রীরা মাহেন্দ্র, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।
রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। তবে গোল্ডেন লাইন নিয়ে বিরোধ এখনও সমাধান হয়নি। প্রশাসনের আশ্বাসে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজবাড়ীর উপর দিয়ে গোল্ডেন লাইনের চারটি ট্রিপ চললে আপত্তি নেই; এর বেশি ট্রিপ চালাতে দেওয়া হবে না।
সুকুমার ভৌমিক জানান, মঙ্গলবারের ঘটনার পর ফরিদপুরে রাজবাড়ীর একটি বাসের গ্লাস ভাঙচুর, চালক ও হেলপারকে মারধর করা এবং ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসন বাস চলাচলের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ায় তারা পুনরায় বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা গেছে, বিগত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস চলাচল নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। সে সময় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পরিবহন মালিক সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চারটি ট্রিপ চলবে। উভয় পক্ষই ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।
তবে ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর গোল্ডেন লাইন পরিবহন ওই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ধীরে ধীরে ট্রিপ বাড়াতে থাকে বলে অভিযোগ করেন রাজবাড়ী পরিবহন মালিক গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, কিছু কিছু দিন রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে ২৮টি পর্যন্ত ট্রিপ চালানো হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ীতে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চারটি বাস চলাচলের পর অতিরিক্ত বাস চলাচলে শ্রমিকরা বাধা দেন। এর জেরে ফরিদপুরে রাজবাড়ীর বাস আটকে দেওয়া হয়। এ সময় রেখা পরিবহনের একটি বাস ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. মাহমুদুল হক জুয়েলও সকাল থেকে বাস চলাচল শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়ে গেলেও গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চলাচল নিয়ে বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। আপাতত বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে বিরোধের স্থায়ী সমাধান করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার একটি খনিতে টাংস্টেন রয়েছে। এই খনি আবার চালু হচ্ছে, কারণ এটি যুদ্ধের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাতুসমৃদ্ধ।
কিং আইল্যান্ডে অবস্থিত এই খনির নাম ডলফিন মাইন। এটি বিশ্বের অন্যতম বড় টাংস্টেনের ভাণ্ডার হিসেবেও পরিচিত। টাংস্টেন একটি শক্তিশালী ধাতু। এই ধাতু দিয়ে তৈরি হয় শক্তিশালী বর্ম-ভেদী গুলি এবং সাঁজোয়া যানের বর্ম।
শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে খনিটি বারবার চালু ও বন্ধ হয়েছে। যুদ্ধ এলেই খনিটি চালু হয়েছে, আবার শান্তি ফিরলে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা বড় লাভের প্রত্যাশায় খনিটির দিকে নজর দিচ্ছেন। তারা ধারণা করছেন, সামনে টাংস্টেনের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয়তার কারণে ১৯১৭ সালে ডলফিন মাইনটি প্রথম চালু হয়। তবে তিন বছর পর যুদ্ধ থেমে যায় এবং টাংস্টেনের বাজারে বড় পরিবর্তন ঘটে। ফলে খনিটি বন্ধ হয়ে যায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা শুরু হলে ১৯৩৮ সালে খনিটি আবার চালু হয়। এরপর কোরিয়া যুদ্ধ ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও খনিটি কখনও বন্ধ হওয়ার এবং কখনও চালু হওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় অস্ত্র তৈরির প্রবণতা বাড়ায় খনিটি কিছুদিন সচল ছিল। কিন্তু ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর ভেঙে যাওয়ার পর খনিটি একরকম প্রত্যাবর্তনের আশায় বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর প্রায় তিন দশক ধরে খনির খোলা গর্তে পানি জমে ছিল। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে খনিটি আবার চালুর কাজ শুরু করা হয়। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযান শুরু করেন।
এখন ২০২৬ সালে এসে খনিতে টাংস্টেন উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চলছে। বর্তমান যুদ্ধগুলোর কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়াই এই উদ্যোগের প্রধান কারণ। সেপ্টেম্বর মাসে মাটির নিচ থেকে প্রথম আকরিক তোলা ও সরবরাহের কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।
এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন চীনের চেয়ে বেশি হারে বিরল খনিজ সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কারণ বিশ্বের বেশিরভাগ টাংস্টেন উৎপাদন করে চীন নিজ দেশ থেকে।
প্রতিবেশী চীন সম্প্রতি তাদের সামরিক শক্তি অনেক বাড়িয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বড় যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন আগেই সতর্ক করে জানিয়েছে, চীন যথেষ্ট সামর্থ্য অর্জনের পর দশকের মধ্যেই তাইওয়ানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রও এখন যুদ্ধের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাতু সংগ্রহের দৌড়ে যোগ দিয়েছে। সম্প্রতি দেশটি কাজাখস্তানে বিশ্বের অন্যতম বড় অব্যবহৃত টাংস্টেন ভাণ্ডার থেকে খনিজ তোলার জন্য ১৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এই টাংস্টেন। ইরানের সঙ্গে মাসের পর মাস যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এই ঘাটতির কথা অস্বীকার করছে, তবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে। আর এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর খনিতে বিনিয়োগ বাড়ছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ