রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৫ পি.এম
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আলোচিত প্রেমের ঘটনায়, মিষ্টি আক্তার ও সেনাসদস্য জীবন মিয়ার মধ্যে ১০ দিন ধরে চলা অনশনের পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রেমিক জীবন মিয়া তার প্রেমিকা মিষ্টি আক্তারকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোয় মামলাটি রুজু করা হয়।
বিয়ের দাবিতে স্থানীয় জনগণের মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং সড়ক অবরোধের পর বিভিন্ন সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান আসেনি। এ অবস্থায় প্রেমিকা মিষ্টি আক্তারের বাবা বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে, মিষ্টি আক্তারের বাবা খশরু মিয়া অপহরণ, মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলাটি করেন।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সূত্রে জানা গেছে, মামলায় সেনাসদস্য জীবন মিয়াকে প্রধান আসামি করে মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে মিষ্টি আক্তারকে অপহরণ, মারপিট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, মিষ্টি আক্তার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর সাপমারী গ্রামের খশরু মিয়ার মেয়ে এবং তিনি ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, জীবন মিয়া উপজেলার তারাটিয়া-পোড়াভিটা জলব্রিজ এলাকার ফেলু মিয়ার ছেলে এবং সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে কর্মরত রয়েছেন।
মিষ্টির পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর ধরে মিষ্টি ও জীবন মিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ১০ সেপ্টেম্বর, জীবন মিয়া মিষ্টি আক্তারকে তার বাড়িতে নিয়ে যায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে। এরপর সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মিষ্টি বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় তার উপর শারীরিক নির্যাতনসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এদিকে, জীবন মিয়া পলাতক থাকায় তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর মিষ্টি ১০ দিন ধরে জীবন মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করেন। দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা ও বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। একপর্যায়ে, মিষ্টির নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিয়ের দাবিতে স্বজন ও স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন।
পরে ১৫ সেপ্টেম্বর, মিষ্টির পক্ষে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করে দেওয়ানগঞ্জ-রৌমারী সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মিষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিষয়টির আইনগত সমাধানের দাবি জানান।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মিষ্টি ও জীবন মিয়ার প্রেমের ঘটনায় মিষ্টির বাবা খসরু মিয়া থানায় মামলা করেছেন।
মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশের মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি বাংলাদেশে আনা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশ্বমানের চিকিৎসার পরিবেশ ও ব্যবস্থা তৈরি করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "নারীদের হরমোনজনিত ও বিপাকীয় জটিলতা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বন্ধ্যাত্বের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উন্নত দেশগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই সমস্যায় আক্রান্ত নারীদের সন্তান ধারণের পথ সুগম হয়েছে।
তিনি জানান, চীনসহ অন্যান্য উন্নত দেশের আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন নারীর মধ্যে ৮ থেকে ১০ জন পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে ভুগছেন। এই স্বাস্থ্য সমস্যাটি নারীদের হরমোন ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যে বিঘ্ন ঘটায়, যা পরবর্তীতে সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের তারকা দম্পতি দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং দ্বিতীয় সন্তানের মা-বাবা হয়েছেন। ১৯ সেপ্টেম্বর তাদের ঘরে এসেছে একটি কন্যাসন্তান। এই সুখবরটি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন।
পোস্টে একটি শিশুর পায়ের ছবি প্রকাশ করে লেখা হয়েছে, ‘আমাদের কন্যাশিশুকে স্বাগতম।’ সেখানে সন্তানের জন্মতারিখ হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।
সুখবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর দীপিকা ও রণবীরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলিউডের অনেক তারকা। কৃতি শ্যানন, সোনম কাপুর আহুজা এবং সোনু সুদসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের শুভকামনা জানিয়েছেন।
দীপিকা ও রণবীরের সম্পর্কের শুরু সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘রামলীলা’ সিনেমার শুটিংয়ের সময়। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানা যায়। কিছু বছর একসঙ্গে থাকার পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে তারা বিয়ে করেন।
ওই বছরের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর ইতালির লেক কোমোর ভিলা দেল বালবিয়ানেলোতে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়। ঘরোয়া আয়োজনে হওয়া সেই বিয়েতে কোকণি ও সিন্ধি—দুই সংস্কৃতির রীতিও অনুসরণ করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম সন্তানের মা-বাবা হন দীপিকা ও রণবীর। তাদের মেয়ের নাম দুয়া পাড়ুকোন সিং।
এরপর ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল তারা দ্বিতীয়বার মা-বাবা হওয়ার খবর জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ে দুয়াকে সঙ্গে নিয়ে একটি পোস্টের মাধ্যমে সুখবরটি প্রকাশ করেন। তখনই তারা জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরেই তাদের দ্বিতীয় সন্তান পৃথিবীতে আসবে।
সন্তানের জন্মের আগে দীপিকা ও রণবীর মাতৃত্বকালীন ফটোশুটের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। সেসব ছবিতে দীপিকার বেবি বাম্পের পাশাপাশি রণবীরকেও দেখা যায়।
অবশেষে ১৯ সেপ্টেম্বর তাদের পরিবারে নতুন সদস্যের আগমন ঘটেছে। সংক্ষিপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে কন্যাসন্তানকে স্বাগতম জানিয়েছেন এই তারকা দম্পতি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জ্বালানি তেল এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষকদের জন্য সেচ ব্যয় একটি বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঝিনাইদহের প্রান্তিক কৃষকেরা সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা খুঁজে পেয়েছেন।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সোলার পাম্প স্থাপন করে সেচ খরচ কমানোর পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধান করে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩টি, কোটচাঁদপুরে ১টি এবং মহেশপুরে ৩২টি পাম্প রয়েছে। ধাপে ধাপে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও সোলার পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় এসব সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প স্থাপন করা হচ্ছে।
সোলার পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকেরা জানান, প্রচলিত ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থার তুলনায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পে পরিচালন ব্যয় অনেক কম। এতে নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্য কৃষকদের জমিতে সেচ দিয়ে বাড়তি উপার্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে মহেশপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় ফুলচাষীদের জন্য এ উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, সোলার পাম্প স্থাপনে তার ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে আরআরএফের ‘স্মার্ট’ প্রকল্প থেকে ৪৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন তিনি।
মহেশপুরের কৃষক সাদিকুল রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় আরআরএফ প্রথমবারের মতো ফুলচাষিদের নিয়ে কাজ করছে। প্রকল্পের ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে সোলার পাম্প স্থাপন করেছেন তিনি। নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্য ১৫ বিঘা জমিতেও সেচ দিচ্ছেন।
ফুলচাষি গফুর মিয়া জানান, সোলার পাম্প স্থাপনের পর তার তেল ও বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে না। নিজের জমির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি উপার্জন করতে পারছেন তিনি।
আরআরএফের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ড. অসিত বরণ মণ্ডল বলেন, পিকেএসএফের সহায়তায় ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সামনে আরও ১০০টির বেশি পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হলেও সোলার পাম্পে খরচ হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা। এতে কৃষকদের সেচ খরচ কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সকালে এক কাপ গরম কফি ছাড়া অনেকের দিন শুরু হওয়া সম্ভব নয়। কিছু মানুষ কড়া কফি পছন্দ করেন, আবার অন্যরা কফিতে দুধ ও চিনি মিশিয়ে পান করেন। তবে কফিতে দুধ মেশানো নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে—এটি শরীরের জন্য উপকারী, নাকি ক্ষতিকর?
অনেকে মনে করেন, দুধ দিয়ে কফি খেলে ওজন বৃদ্ধি পায় বা হজমের সমস্যা দেখা দেয়। আবার কিছু মানুষের কাছে দুধ মেশানো কফি তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক। বিশেষজ্ঞদের মতামত ও বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কফির সঙ্গে কতটা দুধ, চিনি ও অন্যান্য উপাদান যোগ করা হচ্ছে, তার ওপরই পানীয়টির প্রভাব অনেকাংশে নির্ভর করে।
দুধ মেশালে যে উপকার হতে পারে—
পেটের অস্বস্তি কমাতে পারে
কফিতে থাকা ক্যাফেইন ও অম্লীয় উপাদান অনেকের ক্ষেত্রে খালি পেটে অস্বস্তি বা অ্যাসিডিটি সৃষ্টি করতে পারে। কফিতে দুধ মেশালে এর তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে। তাই যাদের কফি খেলে পেটে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য দুধ মেশানো কফি তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হতে পারে।
প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে
ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় কফিতে থাকা পলিফেনল এবং দুধের প্রোটিনের পারস্পরিক প্রভাব নিয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, পলিফেনল ও প্রোটিনের অ্যামিনো অ্যাসিড একসঙ্গে কাজ করলে শরীরের প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন এবং এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
বাড়ে পুষ্টিগুণ
শুধু কফির তুলনায় দুধ যোগ করলে পানীয়টিতে অতিরিক্ত পুষ্টি যুক্ত হয়। দুধ থেকে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২। ফলে পরিমিত দুধ মিশিয়ে কফি খেলে শরীর কিছু অতিরিক্ত পুষ্টি পেতে পারে।
কখন দুধ কফি সমস্যা তৈরি করতে পারে?
দুধ কফি স্বাস্থ্যকর হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করে কীভাবে কফিটি তৈরি করছেন তার ওপর।
কফিতে বেশি চিনি, মিষ্টি সিরাপ, ক্রিম বা অন্য মিষ্টি উপাদান যোগ করলে এর ক্যালরি দ্রুত বেড়ে যায়। নিয়মিত এমন কফি পান করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে।
আবার যাদের দুধের শর্করা হজমে সমস্যা হয়, তারা দুধ কফি পান করলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা পেটের অস্বস্তিতে ভুগতে পারেন। এমন ক্ষেত্রে দুধের বিকল্প ব্যবহার করা যেতে পারে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। তাই দুধ মেশানো হয়েছে বলে ইচ্ছেমতো কফি পান করা নিরাপদ নয়।
ওজন বাড়তে পারে কখন?
কফিতে ফুল-ফ্যাট দুধ ও অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার করলে পানীয়টির ক্যালরি অনেক বেড়ে যেতে পারে। যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য নিয়মিত এমন কফি পান করা সমস্যার কারণ হতে পারে।
তাহলে কফি খেলে চিনির পরিমাণ কম রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কম চর্বিযুক্ত দুধ ব্যবহার করা ভালো।
দুধ কফি নাকি কালো কফি?
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিমিত কফি সাধারণত খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। দুধ যোগ করলে কফিতে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম বাড়ে। তবে বেশি চিনি ও ক্রিম যোগ করলে ক্যালরিও বাড়ে।
আবার কালো কফিই যে সবার জন্য বেশি উপকারী, এমনটাও বলা যায় না। কফির সঙ্গে দুধ মেশালে কফির কিছু উদ্ভিজ্জ উপাদানের কার্যকারিতায় কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে গবেষণার ফল এখনো একেবারে একমত নয়।
তাহলে কফি খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ এবং কফি তৈরির পদ্ধতি।
কার জন্য কোনটি?
যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, চিনি কমাতে চান বা কফির স্বাভাবিক স্বাদ পছন্দ করেন, তারা কালো কফি বেছে নিতে পারেন।
অন্যদিকে যারা কফির সঙ্গে কিছুটা প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পেতে চান কিংবা দুধ মেশানো কফি বেশি পছন্দ করেন, তারা পরিমিত দুধ দিয়ে কফি পান করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, দুধ দিয়ে কফি খাওয়া নিজে থেকেই ক্ষতিকর কোনো অভ্যাস নয়। তবে কফিতে কতটা দুধ, চিনি ও অন্যান্য উপাদান যোগ করছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। পরিমিত দুধ ও কম চিনি দিয়ে কফি খেলে অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য এটি দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
অ্যাসিডিটি, দুধ হজমে সমস্যা বা ক্যাফেইনে সংবেদনশীলতা থাকলে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে কফির পরিমাণ কমানো ভালো। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ