ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

উত্তপ্ত ভারতের রাজপথ, কৃষকদের বিক্ষোভ শুরু


উত্তপ্ত ভারতের রাজপথ, কৃষকদের বিক্ষোভ শুরু

প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে সংযুক্ত মহাসমাবেশে অংশ নিতে দিল্লির দিকে যাত্রা করেছেন ভারতের শত শত কৃষক। তারা পাঞ্জাব থেকে যাত্রা শুরু করেছেন এবং পরে হরিয়ানার প্রবেশ পথ শম্ভু সীমান্তে পুলিশ দ্বারা আটকে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে এটি জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে ব্যারিকেড স্থাপনের ঘটনা ২০২৪ সালের ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের স্মৃতি উসকে দিয়েছে। যে সময় কংক্রিটের ব্লক, লোহার পেরেক এবং একাধিক স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে সীমান্ত এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছিল, যাতে কৃষকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকানো যায়।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, যাতায়াতের সুযোগ না পাওয়ায় কৃষকরা শম্ভু সীমান্তে সমাবেশ করতে বাধ্য হয়েছেন। এই সময় তারা হরিয়ানা ও পাঞ্জাব উভয় সরকারের ওপর অভিযোগ এনেছেন, যে তাদের দিল্লিতে সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করা হচ্ছে।

বিকেইউ (শহীদ ভগৎ সিং)-এর নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেন कि হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে ঢুকে ব্যারিকেড তৈরি করেছে। তিনি বলেন, পাঞ্জাব সরকার এই পদক্ষেপ ঠেকাতে কিছুই করছে না এবং নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

পাঞ্জাবের কৃষকদের আটকে দেওয়া হলেও হরিয়ানার আম্বালা, কুরুক্ষেত্রসহ বিভিন্ন জেলার স্থানীয় কৃষকেরা দিল্লির উদ্দেশে তাদের যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।

‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ ব্যানারে আয়োজিত এই কিসান মহাপঞ্চায়েতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন অংশগ্রহণ করছে। তাদের মূল দাবি হলো, প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করা।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

কিসান মজদুর সংঘর্ষ কমিটির (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের জানান, কেএমএসসি, কিসান মজদুর মোর্চা (পাঞ্জাব), আজাদ কিসান মোর্চা এবং বিকেইউ একতা সংঘর্ষের সদস্যরা পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকা থেকে রওনা দিতেও শেষ পর্যন্ত শম্ভু সীমান্তেই আটকে যান।

পান্ধের আরও বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ভারত-মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে উল্লিখিত হয়েছে যে, দুই দেশ অবশ্যই ওই বছরের শরতের মধ্যে বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি দাবি করেছেন, এই চুক্তি শুধুমাত্র বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আওতায় কৃষি, দুগ্ধজাত পণ্য, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি ক্রয়, মেধাস্বত্ব এবং সেবা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

কৃষক নেতারা অভিযোগ করছেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কৃষি এবং দুগ্ধ খাতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার চেয়ে আসছে। বিশেষত সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, ইথানল, আপেল, বাদাম, দুগ্ধজাত পণ্য, পোলট্রি এবং মৎস্যপণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল করার দাবি বারবার উঠছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

কৃষক সংগঠনগুলোর উদ্বেগ হচ্ছে যে, মার্কিন ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে কোটি কোটি ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষক প্রতিযোগিতায় টেকসই হতে পারবে না। একইসাথে তারা অভিযোগ করছেন, চুক্তির খসড়া এবং শর্তাবলি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব প্রকাশ পাচ্ছে।

সংগঠনগুলোর দাবি, ভারতের শুধু দুগ্ধ খাতে প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা নির্ভরশীল। যদি এই খাতে ক্ষতি হয়, তাহলে কৃষক, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান এবং গ্রামীণ অর্থনীতি একটি বড় ধাক্কা খেতে পারে।

এই কারণে ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির সমস্ত নথি জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছে। সেইসাথে কৃষক, শ্রমিক, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর না করার জন্যও আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর ১২০ মোড়ে থাকছে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


রাজধানীর ১২০ মোড়ে থাকছে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল

রাজধানীর ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এরইমধ্যে ১২টি পয়েন্টে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আগামী মাসখানেকের মধ্যে এ সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে ট্রাফিক বিভাগ।

একই সঙ্গে যানজট কমাতে গত প্রায় এক বছরে নগরীর ৭৫টি পয়েন্টে সড়ক ডাইভারশন ও প্রকৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারিসহ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএমপির।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে ডিএমপি ট্রাফিকে প্রায় ৪ হাজার ১০০ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তবে ছুটি, প্রশিক্ষণ ও অসুস্থতার কারণে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ সদস্য রাজধানীর ৬৬৮টি ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে প্রায় ২৫টি পয়েন্টে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। এসব পয়েন্টে তিন পালায় ডিউটি চলে। বাকি অধিকাংশ পয়েন্টে দুই পালায় দায়িত্ব পালন করা হয়।

আনিছুর রহমান বলেন, সীমিত জনবল দিয়েই রাজধানীর যানজট কমাতে গত প্রায় এক বছরে ৭৫টি পয়েন্টে ডাইভারশন ও বিভিন্ন ধরনের মডিফিকেশন করা হয়েছে। কোথাও ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে, কোথাও সড়কের চলাচল ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের পর এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের যানজট বা নতুন কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে এমন কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। বরং মাঠপর্যায়ে যানজট কমার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে আসাদ গেটের ওপাশে চার রাস্তার মোড়ে আগে প্রায়ই যানজট লেগে থাকত এবং সেখানে ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করতে হতো। পরে ওই মোড়ে সরাসরি চলাচল বন্ধ করে বাম দিকে ঘুরে অল্প দূরে ইউটার্ন নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বাম লেন সব সময় সচল থাকছে এবং যানবাহনের চাকা আর থেমে থাকছে না। ওই জংশন পরিচালনায় ৮ জন পর্যন্ত সদস্য কমানো সম্ভব হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, একই ধরনের ডাইভারশন ও মডিফিকেশন মোহাম্মদপুরের বসিলা, বনানীর কাকলী, মিরপুরের ইসিবি চত্বর ও কালশী ফ্লাইওভারের নিচেও করা হয়েছে। তার মতে, রাজধানী ঢাকা একটি অত্যন্ত জনবহুল মেগাসিটি। এখানে শুধু ট্রাফিক সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সড়কের নকশা বিশ্লেষণ করে বৈজ্ঞানিকভাবে ডাইভারশন ও মডিফিকেশন করা গেলে সেটিই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়। এ কারণে ৭৫টি স্থানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সামনে আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে বর্তমান জনবল দিয়েই আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, কোথায় কখন যানজট বেশি হয়, সে বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কোথাও পিক আওয়ার, কোথাও অফ-পিক আওয়ার। সে অনুযায়ী সদস্য মোতায়েন করা হয়। তবে শুধু ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ ব্যবস্থার সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে যুক্ত করতে হবে। সেটিই হবে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধান।

আনিছুর রহমান বলেন, রাজধানীতে পর্যায়ক্রমে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে ১২টি পয়েন্টে এ ব্যবস্থা রয়েছে। আগামী মাসখানেকের মধ্যে তা ৬০টি পয়েন্ট অতিক্রম করবে। এরপর আগামী ছয় মাসে রাজধানীর প্রধান ১২০টি পয়েন্টকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সিগন্যালগুলো ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী সিগন্যালের সময় পরিবর্তন করা সম্ভব। তবে উন্নত দেশগুলোতে একটি অ্যালগরিদমের মাধ্যমে পুরো সিস্টেম পরিচালিত হয়। একটি সিগন্যাল আরেকটি সিগন্যালের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কতটি যানবাহন এসেছে, তার ভিত্তিতে ৪০, ৬০, ৮০ সেকেন্ড বা কতক্ষণ সিগন্যাল চালু থাকবে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয় এবং পাশের জংশনের সঙ্গেও সমন্বয় করা হয়।

বর্তমানে সেমি-অটোমেটিক ব্যবস্থা চালুর কারণ ব্যাখ্যা করে আনিছুর রহমান বলেন, উন্নত দেশগুলোর সড়ক অত্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে পরিকল্পিত ও প্রকৌশলগতভাবে নির্মিত। কোথায় কীভাবে মোড় হবে, কত ডিগ্রি কোণে বাঁক থাকবে, কোথায় উঁচু বা নিচু হবে-সবই পরিকল্পনা অনুযায়ী করা হয়। বাংলাদেশের সড়কব্যবস্থা শুরু থেকেই সে ধরনের পরিকল্পনায় গড়ে ওঠেনি। তাই উন্নত দেশের মডেল পুরোপুরি এখানে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

বর্তমান ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আনিছুর রহমান বলেন, গত দুই মাসে নগরবাসীর কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সহযোগিতা পাওয়া গেছে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন, সিগন্যাল অনুসরণ করছেন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখছেন। এর ফলে আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার ঘটনা অনেকাংশে কমেছে।

তবে তিনি বলেন, ঢাকার সব সমস্যা শেষ হয়ে যায়নি। ভারী বৃষ্টিপাত হলেই এখনো সড়ক অচল হয়ে যায়। আবার সড়ক অবরোধ করে মিছিল, মিটিং ও বিক্ষোভও যান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। তাই ঢাকার যানজটকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তেজগাঁওয়ের সমস্যা মতিঝিলকে, আবার মিরপুরের সমস্যা ওয়ারীকেও প্রভাবিত করে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের সময়ও অনেক ক্ষেত্রে অটোমেটিক সিস্টেম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন ম্যানুয়ালি সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তবে ভবিষ্যতে পুরোপুরি অটোমেটিক ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। তবে এর বাস্তবায়ন রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।

যানজট নিরসনে শুধু ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে আনিছুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা এবং সড়ক ব্যবহারকারী প্রত্যেক মানুষেরই দায়িত্ব রয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দেশের বড় সমস্যা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। অনেক সময় প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছাড়াই রাতারাতি রাস্তা কেটে উন্নয়নকাজ শুরু করা হয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে আগাম যোগাযোগও করে না।

তিনি বলেন, অনেক সময় সকালে দেখা যায়, রাতের বেলায় রাস্তা কেটে রাখা হলেও দিনের বেলায় সেখানে কোনো কাজই হচ্ছে না। এতে যান চলাচলে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। আবার বিভিন্ন সংস্থা কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় ট্রাফিক সিগন্যালের কেবল কেটে ফেলায় পুরো সিগন্যাল ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করাও জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানসিক সমস্যাগ্রস্ত নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৭৫ বছরের বৃদ্ধ আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


মানসিক সমস্যাগ্রস্ত নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৭৫ বছরের বৃদ্ধ আটক

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ধর্ষণের অভিযোগে একজন বৃদ্ধকে আটক করেছে পুলিশ। ওই নারীর বয়স ২৫ বছর এবং তিনি মানসিক একটি সমস্যা সহনশীল। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২০ জুলাই) সময়ে, উপজেলার কোকডহড়া ইউনিয়নের কুটুরিয়া গ্রামে।

যিনি আটক হয়েছেন, তার নাম আমির হোসেন এবং বয়স ৭৫ বছর। তিনি একই গ্রামের মৃত নয়ন উদ্দিন মিয়ার পুত্র। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে কুকডহড়া ইউনিয়নের কুটুরিয়া গ্রামে ভুক্তভোগী নারী প্লাস্টিকের বোতল কুড়াচ্ছিলেন। এই সময় অভিযুক্ত আমির হোসেন তাকে ফুসলিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। বিষয়টি এলাকার বাসিন্দা ইয়ার আলী লক্ষ্য করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগীর বাবাকে জানান।

ভুক্তভোগীর বাবার খবর পেয়ে দ্রুত আমির হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান, মূল ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে প্রায় কিছু সময় ডাকাডাকির পর বাড়ির গেট খোলা হলে, স্বজনরা রান্নাঘরের ভেতর থেকে মানসিক সমস্যাযুক্ত ওই যুবতীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাইয়ুম খান সিদ্দিকী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ অভিযান চালিয়েছে এবং অভিযুক্ত আমির হোসেনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্মপাশা-গাছতলা সড়কের বেহাল দশা: শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসায় চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ধর্মপাশা প্রতিনিধি: সজিব মিয়া।

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


ধর্মপাশা-গাছতলা সড়কের বেহাল দশা: শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসায় চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে গাছতলা সড়কের দুর্গত অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন নিদারুণ দুর্ভোগ ভোগ করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কের উপর বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ এবং বৃষ্টির পানিতে তৈরি হওয়া জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কের মাধ্যমে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। তবে রাস্তার এমন মারাত্মক অবস্থার জন্য স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সময়মত তাদের প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছেন না। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে, এবং অনেক সময় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যায়।

ব্যবসায়ীরাও জানাচ্ছেন, পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বর্ষাকালে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার কারণে গর্তগুলি বোঝা যাচ্ছে না, ফলে প্রায়ই রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবিতে বলেন, "ধর্মপাশা-গাছতলা সড়কটি আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। যদিও বছরের পর বছর এটি অবহেলিত আছে। দ্রুত সংস্কার না হলে জনগণের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।" এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং স্থায়ীভাবে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের স্বপ্ন অপূর্ণ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত নাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


বিয়ের স্বপ্ন অপূর্ণ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত নাবিক

আর মাত্র দুই মাস পর বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল ২৬ বছর বয়সী ভারতীয় নাবিক অখিল জয়ানের। তিন মাস আগে বাগদান সেরে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অখিল, যা ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের কাছে ঘটে।

রোববার (১৯ জুলাই) ইউক্রেনে ওডেসা বন্দরের কাছে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। অন্যদিকে, একজন ভারতীয় নাবিক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত অখিল জয়ান কেরালার কাসারগড় জেলার ভেল্লারিকুন্ডুর বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। মাত্র তিন মাস আগে তার বাগদান হয়েছিল এবং পরিবার আগামী দুই মাসের মধ্যে তার বিয়ের আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শবি জোসেফ জানান, অখিল গত এক মাস আগে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন। তার বাবা একটি বৈদ্যুতিক পণ্যের দোকান চালান এবং মা একজন বিমা এজেন্ট। সম্প্রতি তার পরিবার নতুন একটি বাড়িও নির্মাণ করেছে। বাবা-মা, যেহেতু তার একমাত্র সন্তান, তাই তারা অনেকটাই তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

অখিলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে তার পরিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিধানসভা সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে পরিবার তার মৃত্যুর খবর জানতে পারে।

তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজটি পরিচালনা করছিল মুম্বাইভিত্তিক ওশান গ্রেস শিপিং লিমিটেড।

এ ঘটনার পর কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় অনাবাসী কেরালাবিষয়ক দপ্তরকে রাশিয়ার কনস্যুলেট এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনে থাকা ভারতীয় মিশন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা দিতে কাজ করছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহত নাবিকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে নিরীহ নাবিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এবং আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ব্যাপার। এ ধরনের ঘটনা এড়ানো উচিত।

এদিকে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওডেসা বন্দরে হামলার একদিন পর সোমবারও রাশিয়ার আরেকটি হামলায় তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%