ধর্মপাশা প্রতিনিধি: সজিব মিয়া।
০৩:৫৭ পি.এম
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে গাছতলা সড়কের দুর্গত অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন নিদারুণ দুর্ভোগ ভোগ করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কের উপর বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ এবং বৃষ্টির পানিতে তৈরি হওয়া জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কের মাধ্যমে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। তবে রাস্তার এমন মারাত্মক অবস্থার জন্য স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সময়মত তাদের প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছেন না। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে, এবং অনেক সময় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে যায়।
ব্যবসায়ীরাও জানাচ্ছেন, পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বর্ষাকালে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার কারণে গর্তগুলি বোঝা যাচ্ছে না, ফলে প্রায়ই রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবিতে বলেন, "ধর্মপাশা-গাছতলা সড়কটি আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। যদিও বছরের পর বছর এটি অবহেলিত আছে। দ্রুত সংস্কার না হলে জনগণের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।" এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং স্থায়ীভাবে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আর মাত্র দুই মাস পর বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল ২৬ বছর বয়সী ভারতীয় নাবিক অখিল জয়ানের। তিন মাস আগে বাগদান সেরে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অখিল, যা ইউক্রেনের ওডেসা বন্দরের কাছে ঘটে।
রোববার (১৯ জুলাই) ইউক্রেনে ওডেসা বন্দরের কাছে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় মোট ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। অন্যদিকে, একজন ভারতীয় নাবিক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত অখিল জয়ান কেরালার কাসারগড় জেলার ভেল্লারিকুন্ডুর বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। মাত্র তিন মাস আগে তার বাগদান হয়েছিল এবং পরিবার আগামী দুই মাসের মধ্যে তার বিয়ের আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শবি জোসেফ জানান, অখিল গত এক মাস আগে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন। তার বাবা একটি বৈদ্যুতিক পণ্যের দোকান চালান এবং মা একজন বিমা এজেন্ট। সম্প্রতি তার পরিবার নতুন একটি বাড়িও নির্মাণ করেছে। বাবা-মা, যেহেতু তার একমাত্র সন্তান, তাই তারা অনেকটাই তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
অখিলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে তার পরিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিধানসভা সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পাঠানো একটি ই-মেইলের মাধ্যমে পরিবার তার মৃত্যুর খবর জানতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজটি পরিচালনা করছিল মুম্বাইভিত্তিক ওশান গ্রেস শিপিং লিমিটেড।
এ ঘটনার পর কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় অনাবাসী কেরালাবিষয়ক দপ্তরকে রাশিয়ার কনস্যুলেট এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনে থাকা ভারতীয় মিশন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা দিতে কাজ করছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহত নাবিকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে নিরীহ নাবিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এবং আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ব্যাপার। এ ধরনের ঘটনা এড়ানো উচিত।
এদিকে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওডেসা বন্দরে হামলার একদিন পর সোমবারও রাশিয়ার আরেকটি হামলায় তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে অভিযান চালিয়ে বন্দুকবাহিনী ২০ কেজি ভারতীয় গাঁজা একটি অটোরিকশাসহ এক যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই দিনে আখাউড়ার সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৩৫ বোতল বিদেশি মদও উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (২০ জুলাই) রাত ৮টার দিকে সরাইল ব্যাটালিয়নের অধীন আলীনগর বিওপির একটি বিশেষ টহলদল বিজয়নগরের চাওড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় চম্পকনগর থেকে সিংগারবিল বাজারগামী একটি অটোরিকশাকে থামানোর সংকেত দেয়া হলে একজন পালিয়ে যান। পরে অটোরিকশার সিটের নিচে কসটেপ দিয়ে বিশেষভাবে মোড়ানো অবস্থায় ২০ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. রাফি (১৯) নামে একজন যুবককে আটক করা হয়েছে। তিনি বিজয়নগর উপজেলার কামালমোড়া গ্রামের বাসিন্দা। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি হলেন একই এলাকার মো. সজল মিয়া।
আটক রাফিকে উদ্ধার করা গাঁজা ও অটোরিকশাসহ বিজয়নগর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। একই সাথে পলাতক আসামির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে ফকিরমোড়া বিওপির টহলদল আখাউড়া উপজেলার হীরাপুর সীমান্ত এলাকায় একটি পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৩৫ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংসের জন্য বিটালিয়ন সদরে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সরাইল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, আখাউড়া এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মাদক-চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সুন্দরবনের নলিয়ানে ৩০ কেজি হরিণের মাংসসহ মেহেদী হাসান (৩০) নামের একজন মাংস ব্যবসায়ীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে এই তথ্যটি জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
তিনি বলেন, খুলনার দাকোপ থানার নলিয়ান ক্লোজার পাড়া এলাকায় সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর ২টায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট নলিয়ান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন, উল্লেখিত এলাকা থেকে প্রায় ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ৩০ কেজি হরিণের মাংসসহ দাকোপ থানার বাসিন্দা মেহেদী হাসানকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে, এই হরিণের মাংসটি এবং আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নলিয়ান ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুর, ২১ জুলাই, ২০২৬ : দিনাজপুর বীরগঞ্জ উপজেলার ৯নং সাতোর ইউনিয়ন পরিষদকে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ মুক্ত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বীরগঞ্জ উপজেলার ৯নং সাতোর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেয়া হয়।
‘বন্ধ হোক শিশুশ্রম, শিক্ষার আলোয় ভরে উঠুক শিশুর জীবন’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিশু ফোরাম ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এডিপি), ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং ৯নং সাতোর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন রাজা।
প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে বীরগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিবেদিতা দাস বলেন, "আমরা সরকারিভাবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত করতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও উঠান বৈঠকে চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এই ধরনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ওয়ার্ল্ড ভিসন বাংলাদেশ সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ওয়াল্ড ভিশন বাংলাদেশের জনসচেতনামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা এই বীরগঞ্জ উপজেলার ৯নং সাতোর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকাকে বাল্য বিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত শতভাগ কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছে" বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, "আগামীতে আমরা যেন ওয়াল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় পর্যায় ক্রমে জনসচেতনামূলক কার্যক্রম ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে বীরগঞ্জ উপজেলা সব কয়টি ইউনিয়ন বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করতে পারি এই প্রত্যাশা সবার কাছে আশা করছি।"
ওয়াল্ড ভিশন বাংলাদেশের প্রতিনিধি সেবাস্তে কিউলেস বলেন, "আমরা এই ইউনিয়নটিকে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত রাখতে জনসচেতনামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাব। যাতে পুনরায় এই ইউনিয়ানটিতে এই ধরনের কার্যক্রম আবার শুরু না হয়। সেই বিষয়টি বাস্তবায়নে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সেই সাথে আগামীতে বীরগঞ্জ উপজেলার সব কয়টি ইউনিয়নকে বাল্য বিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে পারি। এ জন্য এলাকার সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।"
আয়োজিত অনুষ্ঠানের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যন মো. জাকির হোসেন রাজা বলেন, "উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ যৌথভাবে এই উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণকে বাল্যবিবাহ এবং শিশু শ্রমের বিষয় সচেতনা বৃদ্ধি করতে সকলকে সুসংগঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে এই ইউনিয়নের বসবাসরত নাগরিকরা এ ধরনের কাজে বিরোধিতা করে আসছেন। গত ৬ মাসে এই ইউনিয়নে কোন বাল্যবিবাহ হয়নি। অপ্রাপ্ত বয়সের শিশুরা এখন স্কুল গামী এবং পড়াশোনা মুখী হয়েছে। এই ইউনিয়নের শিশুদের পড়াশোনার জন্য ওয়ার্ল্ড ভিশন তাদের সব ধরনের উপকরণ সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এভাবেই শিশুশ্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ