১০:১১ পি.এম
কক্সবাজার, ২৮ জুলাই, ২০২৬ : জেলার রামু উপজেলার সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে বনকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় ১০৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জনের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বাকি ৯০ জনকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে রামু থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের সমিতি পাড়ার মৃত হোছনের ছেলে জসিম উদ্দিন, মো. আলমের ছেলে শাহাব উদ্দিন, মো. হোছনের ছেলে আব্দুল্লাহ, তাজল মুল্লুকের ছেলে জয়নাল, আবুল হোসেনের ছেলে নাজির হোসেন নাজু, শহর আলীর ছেলে আবু তাহের, মো. হাছনের ছেলে রাসেল, মোহাম্মদ নুরের ছেলে ওবায়দুল হক, আমির হোসেনের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে সোনা মিয়া, আবুল কাসেমের ছেলে আবছার, আব্দুল্লার ছেলে আতিক উল্লাহ, এজাহার মিয়ার ছেলে হাবিব আহমদ, মেহের আলীর ছেলে মীর আহমদ, ছৈয়দ আহমদের ছেলে মোহাম্মদ নুর, আবুল হোসেনের ছেলে আমির হোসেন, জাগের হোসেনের ছেলে এনাম মিয়া এবং আবুল হোসেনের ছেলে ইসমাইল।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেছেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
আহত রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল আলম সাংবাদিকদের জানান, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে পানের বরজ নির্মাণের অভিযোগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বনবিভাগের লোকজন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন।
এ সময় স্থানীয় জসিম উদ্দিন, নাজির হোসেন ও সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে শতাধিক ব্যক্তি দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল আলমসহ বনরক্ষী হুমায়ুন কবির, বাগান মালি সাইদুল ইসলাম, কর্মচারী মো. সাজিদ এবং ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (ইআরটি) সদস্য মিজানুর রহমান আহত হন।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বন বিভাগের ঝিলংজা বিট কর্মকর্তা কামরুজ্জামান শোভন জানান, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের ব্যাপক জখম হয়েছে। এর মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা শরীফুল আলমের মাথায় ৯টি সেলাই করা হয়েছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, আহত বন কর্মীদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে কক্সবাজার বনভূমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন